📄 আবূ লুবাবার তাওবা প্রসংগে
এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে অনুরোধ জানিয়ে পাঠাল যে, বনু আমর ইব্ন আওফ গোত্রের আবু লুবাবা ইব্ন আবদুল মুনযিরকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। তার সাথে আমরা পরামর্শ করব। উল্লেখ্য বনূ আমর গোত্র ছিল আওস গোত্রের মিত্র।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু লুবাবাকে তাদের কাছে পাঠালেন। তাকে দেখামাত্র পুরুষগণ তাকে অভিবাদন জানাতে ছুটে আসল, আর নারী ও শিশুরা তার সামনে গিয়ে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ জানাল। তাদের সে বুকফাটা কান্না দেখে তাঁর অন্তর গলে গেল। তারা বলল: হে আবু লুবাবা। আপনি কি বলেন, আমরা কি মুহাম্মদের নির্দেশমত দুর্গ হতে নেমে আসব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে সাথে গলদেশের দিকেও ইঙ্গিত করলেন, অর্থাৎ পরিণাম যবাই।
আবু লুবাবা বলেন: আল্লাহর কসম! সেস্থান হতে আমি এক কদমও নড়িনি, এর মধ্যেই আমার উপলব্ধি হল-আমি আল্লাহ্ ও রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি।
আবূ লুবাবা সেই অবস্থাতেই সোজা মসজিদে নব্বীতে চলে গেলেন, আর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর' সংগে দেখা করলেন না। তিনি মসজিদের খুঁটির সাথে নিজেকে শক্ত করে বাঁধলেন।
বললেন: যাবত না আল্লাহ্ আমার এ অপরাধ ক্ষমা করেন, আমি এস্থান ত্যাগ করব না। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন: আমি জীবনে বনু কুরায়যার মাটি আর মাড়াবো না, আর যে মাটিতে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, সেখানে কখনও নিজের মুখ দেখাবো না-।
ইন হিশাম বলেন: সুফিয়ান ইব্ন উয়ায়না (র) ইসমাঈল ইব্ন খালিদের সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু কাতাদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু লুবাবা সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ -
অর্থ: হে মু'মিনগণ! জেনে শুনে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সংগে বিশ্বাস ভংগ করবে না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও না (৮: ২৭)।
ইব্ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘক্ষণ আবু লুবাবার প্রতীক্ষায় থাকার পর যখন এ খবর তাঁর কাছে পৌঁছলো, তখন তিনি বললেন সে যদি আমার কাছে আসত তা হলে অবশ্যই আমিই তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতাম। তা না করে সে যখন নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা যাবত না তাঁর তওবা কবুল করবেন, আমি তার বাঁধন খুলতে যাব না।
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াযীদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন কুসায়ত আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, শেষ রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উম্মু সালমা (রা)-এর গৃহে থাকা অবস্থায় আবূ লুবাবার তাওবা কবুল হওয়ার আয়াত নাযিল হয়। উম্মু সালমা (রা) বলেন, আমি শেষ রাতে দেখি রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাসছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি হাসছেন কেন? আল্লাহ্ আপনার মুখে সব সময় হাসি রাখুন। তিনি বললেন: আবু লুবাবার তাওবা কবুল হয়েছে।
তখন উম্মু সালমা (রা) বললেন: আমি কি আবু লুবাবাকে এ সুসংবাদ দেব না? ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি ইচ্ছা করলে দিতে পার। রাবী বলেন: তখন উন্মু সালমা (রা) তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন, হে আবু লুবাবা! সুসংবাদ নাও-আল্লাহ্ তোমার তাওবা কবুল করেছেন। এ সময় পর্দার বিধান নাযিল হয়নি। তার এ ঘোষণা শোনামাত্র দলে দলে লোক তাঁর বাঁধন খুলে দিতে ছুটল। তিনি বললেন না আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজ হাতে আমাকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়র না। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন ফজরের সালাত আদায়ের জন্য বের হলেন, তখন তিনি নিজ হাতে তাঁর বাঁধন খুলে দিলেন।
ইন হিশাম বলেন: আমার কাছে কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, আবু লুবাবা মোট ছয় দিন খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। সালাতের ওয়াক্ত হলে তাঁর স্ত্রী এসে তাঁকে খুলে দিতেন। এরপর সালাত শেষে তিনি নিজে আবার নিজকে বেঁধে রাখতেন।
তাঁর তাওবা কবুল হওয়া সম্পর্কে যে আয়াত নাযিল হয়, তা নিম্নরূপ:
وَأَخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلاً صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّنَا عَسَى اللهُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ -
অর্থ: এবং অপর কতক লোক নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা এ সৎকর্মের সাথে অপর অসৎকর্ম মিশ্রিত করে ফেলেছে। আল্লাহ্ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৯: ১০২)।
এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে অনুরোধ জানিয়ে পাঠাল যে, বনু আমর ইব্ন আওফ গোত্রের আবু লুবাবা ইব্ন আবদুল মুনযিরকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। তার সাথে আমরা পরামর্শ করব। উল্লেখ্য বনূ আমর গোত্র ছিল আওস গোত্রের মিত্র।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু লুবাবাকে তাদের কাছে পাঠালেন। তাকে দেখামাত্র পুরুষগণ তাকে অভিবাদন জানাতে ছুটে আসল, আর নারী ও শিশুরা তার সামনে গিয়ে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ জানাল। তাদের সে বুকফাটা কান্না দেখে তাঁর অন্তর গলে গেল। তারা বলল: হে আবু লুবাবা। আপনি কি বলেন, আমরা কি মুহাম্মদের নির্দেশমত দুর্গ হতে নেমে আসব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে সাথে গলদেশের দিকেও ইঙ্গিত করলেন, অর্থাৎ পরিণাম যবাই।
আবু লুবাবা বলেন: আল্লাহর কসম! সেস্থান হতে আমি এক কদমও নড়িনি, এর মধ্যেই আমার উপলব্ধি হল-আমি আল্লাহ্ ও রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি।
আবূ লুবাবা সেই অবস্থাতেই সোজা মসজিদে নব্বীতে চলে গেলেন, আর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর' সংগে দেখা করলেন না। তিনি মসজিদের খুঁটির সাথে নিজেকে শক্ত করে বাঁধলেন।
বললেন: যাবত না আল্লাহ্ আমার এ অপরাধ ক্ষমা করেন, আমি এস্থান ত্যাগ করব না। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন: আমি জীবনে বনু কুরায়যার মাটি আর মাড়াবো না, আর যে মাটিতে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, সেখানে কখনও নিজের মুখ দেখাবো না-।
ইন হিশাম বলেন: সুফিয়ান ইব্ন উয়ায়না (র) ইসমাঈল ইব্ন খালিদের সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু কাতাদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু লুবাবা সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ -
অর্থ: হে মু'মিনগণ! জেনে শুনে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সংগে বিশ্বাস ভংগ করবে না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও না (৮: ২৭)।
ইব্ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘক্ষণ আবু লুবাবার প্রতীক্ষায় থাকার পর যখন এ খবর তাঁর কাছে পৌঁছলো, তখন তিনি বললেন সে যদি আমার কাছে আসত তা হলে অবশ্যই আমিই তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতাম। তা না করে সে যখন নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা যাবত না তাঁর তওবা কবুল করবেন, আমি তার বাঁধন খুলতে যাব না।
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াযীদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন কুসায়ত আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, শেষ রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উম্মু সালমা (রা)-এর গৃহে থাকা অবস্থায় আবূ লুবাবার তাওবা কবুল হওয়ার আয়াত নাযিল হয়। উম্মু সালমা (রা) বলেন, আমি শেষ রাতে দেখি রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাসছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি হাসছেন কেন? আল্লাহ্ আপনার মুখে সব সময় হাসি রাখুন। তিনি বললেন: আবু লুবাবার তাওবা কবুল হয়েছে।
তখন উম্মু সালমা (রা) বললেন: আমি কি আবু লুবাবাকে এ সুসংবাদ দেব না? ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি ইচ্ছা করলে দিতে পার। রাবী বলেন: তখন উন্মু সালমা (রা) তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন, হে আবু লুবাবা! সুসংবাদ নাও-আল্লাহ্ তোমার তাওবা কবুল করেছেন। এ সময় পর্দার বিধান নাযিল হয়নি। তার এ ঘোষণা শোনামাত্র দলে দলে লোক তাঁর বাঁধন খুলে দিতে ছুটল। তিনি বললেন না আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজ হাতে আমাকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়র না। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন ফজরের সালাত আদায়ের জন্য বের হলেন, তখন তিনি নিজ হাতে তাঁর বাঁধন খুলে দিলেন।
ইন হিশাম বলেন: আমার কাছে কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, আবু লুবাবা মোট ছয় দিন খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। সালাতের ওয়াক্ত হলে তাঁর স্ত্রী এসে তাঁকে খুলে দিতেন। এরপর সালাত শেষে তিনি নিজে আবার নিজকে বেঁধে রাখতেন।
তাঁর তাওবা কবুল হওয়া সম্পর্কে যে আয়াত নাযিল হয়, তা নিম্নরূপ:
وَأَخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلاً صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّنَا عَسَى اللهُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ -
অর্থ: এবং অপর কতক লোক নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা এ সৎকর্মের সাথে অপর অসৎকর্ম মিশ্রিত করে ফেলেছে। আল্লাহ্ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৯: ১০২)।
📄 বনূ হাদলের কতিপয় লোকের ইসলাম গ্রহণ
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর বনু কুরায়যা যে রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশমত দুর্গ হতে নেমে এসে আত্মসমর্পণ করে, সে রাতে সালাবা ইব্ন সায়া, উসায়দ ইব্ন সায়া ও আসাদ ইবন উবায়দা ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁরা বনু কুরায়যা বা বনু নাযীর গোত্রের লোক ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন বনু হাদল গোত্রের লোক। উক্ত গোত্রদ্বয়ের আরও উপর থেকে তাদের বংশধারা নেমে এসেছে। উভয়ের ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ এক।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর বনু কুরায়যা যে রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশমত দুর্গ হতে নেমে এসে আত্মসমর্পণ করে, সে রাতে সালাবা ইব্ন সায়া, উসায়দ ইব্ন সায়া ও আসাদ ইবন উবায়দা ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁরা বনু কুরায়যা বা বনু নাযীর গোত্রের লোক ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন বনু হাদল গোত্রের লোক। উক্ত গোত্রদ্বয়ের আরও উপর থেকে তাদের বংশধারা নেমে এসেছে। উভয়ের ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ এক।
📄 আমর ইব্ন সূ'দা কুরাযীর ঘটনা
বনু কুরায়যার আমর ইব্ন সু'দা সে রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রহরীদের সামনে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। প্রহরীদের নেতা ছিলেন মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা)। তিনি আমরকে যেতে দেখে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। সে নিজ পরিচয় দিল। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে বিশ্বাসঘাতকতায় সে বনু কুরায়যার সমর্থন করেনি, বরং প্রতিবাদ করে বলেছিল: আমি কস্মিনকালেও মুহাম্মদের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) তাকে চিনতে পেরে বলে উঠেন, হে আল্লাহ্! মহৎ লোকদের ত্রুটি মার্জনার সুযোগ হতে আমাকে বঞ্চিত কর না। এই বলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সে ঐ রাতে মদীনায় মসজিদে নববীর দরজা পর্যন্ত যায়। তারপর উধাও হয়ে যায়। আজও কেউ বলতে পারে না সে কোথায় গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তার কথা বলা হলে তিনি মন্তব্য করেন: সে বিশ্বাস রক্ষা করেছিল বলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিষ্কৃতি দেন। অপর এক বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করার পর বনু কুরায়যার যাদেরকে বাঁধা হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও একজন ছিল। পরে দড়িটা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু সে কোথায় উধাও হয় তা কেউ জানে না। একথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কানে গেলে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন। আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন প্রকৃত অবস্থা কি।
বনু কুরায়যার আমর ইব্ন সু'দা সে রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রহরীদের সামনে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। প্রহরীদের নেতা ছিলেন মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা)। তিনি আমরকে যেতে দেখে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। সে নিজ পরিচয় দিল। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে বিশ্বাসঘাতকতায় সে বনু কুরায়যার সমর্থন করেনি, বরং প্রতিবাদ করে বলেছিল: আমি কস্মিনকালেও মুহাম্মদের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) তাকে চিনতে পেরে বলে উঠেন, হে আল্লাহ্! মহৎ লোকদের ত্রুটি মার্জনার সুযোগ হতে আমাকে বঞ্চিত কর না। এই বলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সে ঐ রাতে মদীনায় মসজিদে নববীর দরজা পর্যন্ত যায়। তারপর উধাও হয়ে যায়। আজও কেউ বলতে পারে না সে কোথায় গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তার কথা বলা হলে তিনি মন্তব্য করেন: সে বিশ্বাস রক্ষা করেছিল বলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিষ্কৃতি দেন। অপর এক বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করার পর বনু কুরায়যার যাদেরকে বাঁধা হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও একজন ছিল। পরে দড়িটা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু সে কোথায় উধাও হয় তা কেউ জানে না। একথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কানে গেলে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন। আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন প্রকৃত অবস্থা কি।
📄 বনু কুরায়যার ব্যাপারে সা'দ (রা)-এর ফয়সালা
রাবী বলেন, তারা সকলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করলো। আওস গোত্র দ্রুত ছুটে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এরা আমাদের মিত্র খাযরাযের নয়। তাদের মিত্রদের সাথে অতীতে আপনি যে আচরণ করেছেন, তা সুবিদিত। উল্লেখ্য বনূ কায়নুকা গোত্র ছিল খাযরাজ গোত্রের মিত্র। এর আগে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে অবরোধ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা আত্মসমর্পণ করে। আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায় ইব্ন সাল্ল তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে সুপারিশ করায়, তিনি তাদের মাফ করেছেন।
আওস গোত্রের কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তোমাদের গোত্রের একজনই যদি তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তোমরা খুশী হবে তো? তারা বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন, সে তোমাদের সা'দ ইব্ন মু'আয। তাঁর উপরই ফয়সালার ভার অর্পণ করা হলো।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ ইব্ন মু'আয (রা)-কে যিনি খন্দকের যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন, আসলাম গোত্রের এক মহিয়সী নারী রুফায়দার তাঁবুতে রেখেছিলেন। মসজিদে নববীর কাছে: তার তাঁবু খাটান ছিল। সেখানে তিনি আহতদের সেবা করতেন। আর্ত মুসলিমদের যত্ন করাকে তিনি সওয়াবের অসিলা বলে মনে করতেন। খন্দকের যুদ্ধে সা'দ (রা) তীরবিদ্ধ হলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর লোকদেরকে বলেছিলেন: সা'দকে রুফায়দার তাঁবুতে রাখ। তাহলে আমার কাছে হবে। আমি সহজে তাঁর খোঁজ-খবর নিতে পারব।
রাসূলুল্লাহ্ যখন সা'দ (রা)-এর উপর বনু কুরায়যার ফয়সালার ভার ন্যস্ত করলেন, তখন তাঁর গোত্রের লোক এসে তাঁকে গাধার পিঠে সওয়ার করিয়ে নিয়ে গেল। তারা গাধাটির পিঠে নরম চামড়ার গদি এঁটে দিয়েছিল। তিনি ছিলেন মোটা তাজা সুদর্শন পুরুষ। তারা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হলো। তারা তাঁকে বলছিল: হে আবু আমর! আপন মিত্রদের প্রতি সদয় হও।' রাসূলুল্লাহ্ (সা) এজন্যই তোমার উপর ফয়সালার দায়িত্ব দিয়েছেন, যাতে তুমি তাদের প্রতি সদয় আচরণ কর। তারা যখন তার সংগে বেশী পীড়াপীড়ি শুরু করে দিল, তখন তিনি বললেন: আমি সা'দ তো এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যখন আল্লাহ্র ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা আমার গায়ে লাগে না। একথা শুনে তার গোত্রের যারা তাঁর সংগে ছিল, তাদের অনেকে বনু আবদুল আশহাল গোত্রের কাছে চলে গেল। সা'দের উক্তি দ্বারা তারা বুঝে ফেলল বনু কুরায়জার মৃত্যু অবধাবিত। সা'দ পৌঁছার আগেই তারা তাদের কাছে সে কথা প্রাচার করে দিল।
সা'দ (রা) যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও মুসলিমদের কাছে পৌঁছলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : قوموا إلى سيدكم উঠে তোমাদের নেতাকে স্বাগত জানাও। কুরায়শ মুহাজিরগণ বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ নির্দেশ আনসারদের প্রতি। আনসারগণ বললেন: বরং তিনি সকলকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং তারা সকলে উঠে তাকে স্বাগত জানালেন। তাঁরা বললেন: হে আবূ আমর! রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার মিত্রদের ব্যাপারে ফয়সালা দেওয়ার ভার তোমার উপর ন্যস্ত করেছেন।
সা'দ বললেন: তোমরা কি আল্লাহ্র নামে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ যে, আমার ফয়সালাই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। তারা বলল : হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যে দিকে উপবিষ্ট ছিলেন, সেদিকে ইশারা করে বললেন (সমীহের কারণে তিনি তাঁর দিকে তাকাতে পারছিলেন না) : তিনিও কি এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা) জবাব দিলেন: হ্যাঁ আমাদেরও এই প্রতিশ্রুতি। তখন সা'দ (রা) তাঁর রায় ঘোষণা করলেন: সকল পুরুষকে হত্যা করা হবে, ধন-সম্পদ গনীতমরূপে বণ্টন করা হবে এবং নারী ও শিশুদের গোলাম-বাঁদীতে পরিণত করা হবে।
ইবন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা (র) আবদুর রহমান ইব্ন আমর ইব্ন সা'দ ইব্ন মু'আয (র)-এর সূত্রে আলকামা ইব্ন ওয়াক্কাস লায়সী (র) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ (রা)-এর ফয়সালা শুনে বললেন: তোমার ফয়সালা সপ্তাকাশের উপরে ঘোষিত আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী হয়েছে।
ইবন হিশাম বলেন: আমার কাছে নির্ভরযোগ্য জনৈক আলিম বর্ণনা করেছেন যে, বনূ কুরায়যাকে অবরোধ করে রাখা অবস্থায় আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা) চিৎকার করে বললেন, হে ঈমানদার সেনাদল! আমরা হামযার মত শাহাদতের পেয়ালা পান করব, অথবা ওদের দুর্গ জয় করব। এই বলে তিনি ও যুবায়র ইব্ন আওয়াম সামনে অগ্রসর হলেন। তখন ইয়াহুদীরা বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা সা'দ ইব্ন মু'আয়ের ফয়সালা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করছি।
রাবী বলেন, তারা সকলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করলো। আওস গোত্র দ্রুত ছুটে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এরা আমাদের মিত্র খাযরাযের নয়। তাদের মিত্রদের সাথে অতীতে আপনি যে আচরণ করেছেন, তা সুবিদিত। উল্লেখ্য বনূ কায়নুকা গোত্র ছিল খাযরাজ গোত্রের মিত্র। এর আগে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে অবরোধ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা আত্মসমর্পণ করে। আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায় ইব্ন সাল্ল তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে সুপারিশ করায়, তিনি তাদের মাফ করেছেন।
আওস গোত্রের কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তোমাদের গোত্রের একজনই যদি তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তোমরা খুশী হবে তো? তারা বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন, সে তোমাদের সা'দ ইব্ন মু'আয। তাঁর উপরই ফয়সালার ভার অর্পণ করা হলো।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ ইব্ন মু'আয (রা)-কে যিনি খন্দকের যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন, আসলাম গোত্রের এক মহিয়সী নারী রুফায়দার তাঁবুতে রেখেছিলেন। মসজিদে নববীর কাছে: তার তাঁবু খাটান ছিল। সেখানে তিনি আহতদের সেবা করতেন। আর্ত মুসলিমদের যত্ন করাকে তিনি সওয়াবের অসিলা বলে মনে করতেন। খন্দকের যুদ্ধে সা'দ (রা) তীরবিদ্ধ হলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর লোকদেরকে বলেছিলেন: সা'দকে রুফায়দার তাঁবুতে রাখ। তাহলে আমার কাছে হবে। আমি সহজে তাঁর খোঁজ-খবর নিতে পারব।
রাসূলুল্লাহ্ যখন সা'দ (রা)-এর উপর বনু কুরায়যার ফয়সালার ভার ন্যস্ত করলেন, তখন তাঁর গোত্রের লোক এসে তাঁকে গাধার পিঠে সওয়ার করিয়ে নিয়ে গেল। তারা গাধাটির পিঠে নরম চামড়ার গদি এঁটে দিয়েছিল। তিনি ছিলেন মোটা তাজা সুদর্শন পুরুষ। তারা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হলো। তারা তাঁকে বলছিল: হে আবু আমর! আপন মিত্রদের প্রতি সদয় হও।' রাসূলুল্লাহ্ (সা) এজন্যই তোমার উপর ফয়সালার দায়িত্ব দিয়েছেন, যাতে তুমি তাদের প্রতি সদয় আচরণ কর। তারা যখন তার সংগে বেশী পীড়াপীড়ি শুরু করে দিল, তখন তিনি বললেন: আমি সা'দ তো এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যখন আল্লাহ্র ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা আমার গায়ে লাগে না। একথা শুনে তার গোত্রের যারা তাঁর সংগে ছিল, তাদের অনেকে বনু আবদুল আশহাল গোত্রের কাছে চলে গেল। সা'দের উক্তি দ্বারা তারা বুঝে ফেলল বনু কুরায়জার মৃত্যু অবধাবিত। সা'দ পৌঁছার আগেই তারা তাদের কাছে সে কথা প্রাচার করে দিল।
সা'দ (রা) যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও মুসলিমদের কাছে পৌঁছলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : قوموا إلى سيدكم উঠে তোমাদের নেতাকে স্বাগত জানাও। কুরায়ש মুহাজিরগণ বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ নির্দেশ আনসারদের প্রতি। আনসারগণ বললেন: বরং তিনি সকলকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং তারা সকলে উঠে তাকে স্বাগত জানালেন। তাঁরা বললেন: হে আবূ আমর! রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার মিত্রদের ব্যাপারে ফয়সালা দেওয়ার ভার তোমার উপর ন্যস্ত করেছেন।
সা'দ বললেন: তোমরা কি আল্লাহ্র নামে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ যে, আমার ফয়সালাই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। তারা বলল : হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যে দিকে উপবিষ্ট ছিলেন, সেদিকে ইশারা করে বললেন (সমীহের কারণে তিনি তাঁর দিকে তাকাতে পারছিলেন না) : তিনিও কি এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা) জবাব দিলেন: হ্যাঁ আমাদেরও এই প্রতিশ্রুতি। তখন সা'দ (রা) তাঁর রায় ঘোষণা করলেন: সকল পুরুষকে হত্যা করা হবে, ধন-সম্পদ গনীতমরূপে বণ্টন করা হবে এবং নারী ও শিশুদের গোলাম-বাঁদীতে পরিণত করা হবে।
ইবন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা (র) আবদুর রহমান ইব্ন আমর ইব্ন সা'দ ইব্ন মু'আয (র)-এর সূত্রে আলকামা ইব্ন ওয়াক্কাস লায়সী (র) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ (রা)-এর ফয়সালা শুনে বললেন: তোমার ফয়সালা সপ্তাকাশের উপরে ঘোষিত আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী হয়েছে।
ইবন হিশাম বলেন: আমার কাছে নির্ভরযোগ্য জনৈক আলিম বর্ণনা করেছেন যে, বনূ কুরায়যাকে অবরোধ করে রাখা অবস্থায় আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা) চিৎকার করে বললেন, হে ঈমানদার সেনাদল! আমরা হামযার মত শাহাদতের পেয়ালা পান করব, অথবা ওদের দুর্গ জয় করব। এই বলে তিনি ও যুবায়র ইব্ন আওয়াম সামনে অগ্রসর হলেন। তখন ইয়াহুদীরা বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা সা'দ ইব্ন মু'আয়ের ফয়সালা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করছি।