📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দাহ্ইয়া কালবীর আকৃতিতে জিবরাঈল (আ)-এর আগমন

📄 দাহ্ইয়া কালবীর আকৃতিতে জিবরাঈল (আ)-এর আগমন


বনু কুরাযায় পৌঁছার আগে সাওরায়ন নামক স্থানে একদল সাহাবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কি তোমাদের পাশ দিয়ে কাউকে যেতে দেখেছ? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! একটি খচ্চরে সওয়ার হয়ে দাহইয়া ইব্‌ খালীফা কালবীকে আমাদের পাশ দিয়ে যেতে দেখেছি। খচ্চরটির উপর জিন-আঁটা ছিল এবং তার উপর রেশমী চাদর ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, সেই-ই তো জিবরাঈল। বনু কুরায়যাকে ভীত-সন্ত্রস্ত ও তাদের দুর্গগুলো কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে পাঠান হয়েছে।

বনু কুরাযায় পৌঁছার আগে সাওরায়ন নামক স্থানে একদল সাহাবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কি তোমাদের পাশ দিয়ে কাউকে যেতে দেখেছ? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! একটি খচ্চরে সওয়ার হয়ে দাহইয়া ইব্‌ খালীফা কালবীকে আমাদের পাশ দিয়ে যেতে দেখেছি। খচ্চরটির উপর জিন-আঁটা ছিল এবং তার উপর রেশমী চাদর ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, সেই-ই তো জিবরাঈল। বনু কুরায়যাকে ভীত-সন্ত্রস্ত ও তাদের দুর্গগুলো কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে পাঠান হয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু কুরায়যার অবরোধ

📄 বনু কুরায়যার অবরোধ


রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু কুরায়যার লোকালয়ে পৌঁছে তাদের 'আনা' নামক একটি কুয়ার পাশে শিবির স্থাপন করলেন। ইবন হিশাম বলেন: কুয়াটার নাম আন্নী।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর সাহাবিগণও এসে তাঁর সাথে মিলিত হলেন, তন্মধ্যে কতিপয় লোক এমনও ছিলেন, যারা এখানে পৌঁছান ইশার পরে, কিন্তু আসরের সালাত বনু কুরায়যায় এসে আদায় করার নির্দেশ থাকায় তাঁরা রাস্তায় তা আদায় করেননি। সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে, গিয়ে তাদের দেরি হয়ে যায়। আবার নির্দেশের অন্যথা হয়ে যাবে এ আশংকায় তাঁরা রাস্তায় আসরের সালাত আদায় করেননি। শেষ পর্যন্ত ইশার সালাত আদায়ের পর তারা তা আদায় করে নেন। কিন্তু এজন্য না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিতাবে, আর না রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদেরকে কোন তিরস্কার করেন।
এ ঘটনা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা ইসহাক ইব্‌ন ইয়াসার। তিনি শুনেছেন মা'বাদ ইব্‌ন কা'ব ইবন মালিক আনসারীর কাছে।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু কুরায়যার লোকালয়ে পৌঁছে তাদের 'আনা' নামক একটি কুয়ার পাশে শিবির স্থাপন করলেন। ইবন হিশাম বলেন: কুয়াটার নাম আন্নী।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর সাহাবিগণও এসে তাঁর সাথে মিলিত হলেন, তন্মধ্যে কতিপয় লোক এমনও ছিলেন, যারা এখানে পৌঁছান ইশার পরে, কিন্তু আসরের সালাত বনু কুরায়যায় এসে আদায় করার নির্দেশ থাকায় তাঁরা রাস্তায় তা আদায় করেননি। সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে, গিয়ে তাদের দেরি হয়ে যায়। আবার নির্দেশের অন্যথা হয়ে যাবে এ আশংকায় তাঁরা রাস্তায় আসরের সালাত আদায় করেননি। শেষ পর্যন্ত ইশার সালাত আদায়ের পর তারা তা আদায় করে নেন। কিন্তু এজন্য না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিতাবে, আর না রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদেরকে কোন তিরস্কার করেন।
এ ঘটনা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা ইসহাক ইব্‌ন ইয়াসার। তিনি শুনেছেন মা'বাদ ইব্‌ন কা'ব ইবন মালিক আনসারীর কাছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি কা'ব ইব্‌ন আসাদের উপদেশ

📄 নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি কা'ব ইব্‌ন আসাদের উপদেশ


রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘ পঁচিশ দিন যাবত তাদের অবরোধ করে রাখেন। ফলে, তারা চরম সংকটের সম্মুখীন হয়। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করে দেন।
উল্লেখ্য যে, হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাব কা'ব ইব্‌ন আসাদকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিল। কুরায়শ ও গাতফানরা চলে যাওয়ার পর সে বনূ কুরায়যার সাথে তাদের দুর্গে গিয়ে ঠাঁই নেয়।
বনু কুরায়যা যখন বুঝে ফেলল রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বিপর্যস্ত না করে ফিরবেন না; তখন কা'ব ইব্‌ন আসাদ তাদের লক্ষ্য করে বললেন: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা যে অবস্থার সম্মুখীন হয়েছ, তা তো তোমরা দেখতেই পাচ্ছ। আমি তোমাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব রাখছি, যেটি খুশি গ্রহণ করতে পার।
তারা জিজ্ঞাসা করল: কি সে প্রস্তাব। কা'ব বললেন: এসো, আমরা এই ব্যক্তির আনুগত্য করি এবং তাঁকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করে নেই। আল্লাহর কসম! তোমাদের কাছে এটা পরিষ্কার যে, তিনি একজন প্রেরিত নবী। তাওরাতে তোমরা যে নবীর উল্লেখ পাও, ইনিই তিনি। এ পথ অবলম্বন করলে- তোমাদের জান-মাল ও স্ত্রী-পুত্র সব নিরাপদ হয়ে যাবে।
তারা বলল: আমরা কস্মিনকালেও তাওরাতের বিধি-বিধান ত্যাগ করব না এবং তার বদলে অন্য কিছু গ্রহণ করব না।
কা'ব বললেন: যদি তোমরা এটা মানতে অস্বীকার কর, তবে এসো, আমরা নিজ হাতে আমাদের শিশু ও নারীদের হত্যা করি, এরপর অস্ত্র সজ্জিত হয়ে মুহাম্মদ ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ি। আমরা তাদের হত্যা করব এই জন্য, যাতে যুদ্ধকালে আমাদের কোন পিছুটান না থাকে। এভাবে আমরা লড়াই করতে থাকব—যতক্ষণ না আল্লাহ্ আমাদের ও মুহাম্মদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। আমরা যদি ধ্বংস হই, তবে এমনভাবে ধ্বংস হব, যাতে আমাদের কোন বংশধর বাকি থাকবে না, যার উপর আমাদের কোনরূপ আশংকা থাকবে। পক্ষান্তরে যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে নারী ও শিশুর কোন অভাব হবে না।
তারা বলল: আমরা ঐ নিরীহদের হত্যা করব? ওদের হত্যা করে আর বেঁচে থাকার কি সার্থকতা?
কা'ব বললেন: এটাও গ্রহণ না করলে শেষ বিকল্প শোন, আজ শনিবারের রাত। আজ মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা আমাদের পক্ষ হতে নিজেদের নিরাপদ মনে করবে। চলো, অতর্কিত আক্রমণ করে তাঁদের খতম করে দেই।
তারা বলল: আমরা পবিত্র শনিবারের অমর্যাদা করব আর এর পবিত্রতা নষ্ট করব? অথচ তোমরা জান, এর অমর্যাদা করে আমাদের পূর্বপুরুষগণ কি ভীষণ শাস্তি ভোগ করেছিল। তাদের চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এ কাজ করলে আমাদেরও সেই দশা হবে। তখন কা'ব উষ্মা প্রকাশ করে বললেন: তোমাদের মধ্যে একটি লোকও এমন নাই, যে মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অন্তত একটি রাতও কোন বিষয়ে মনস্থির করে ঘুমিয়েছে।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘ পঁচিশ দিন যাবত তাদের অবরোধ করে রাখেন। ফলে, তারা চরম সংকটের সম্মুখীন হয়। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করে দেন।
উল্লেখ্য যে, হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাব কা'ব ইব্‌ন আসাদকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিল। কুরায়শ ও গাতফানরা চলে যাওয়ার পর সে বনূ কুরায়যার সাথে তাদের দুর্গে গিয়ে ঠাঁই নেয়।
বনু কুরায়যা যখন বুঝে ফেলল রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বিপর্যস্ত না করে ফিরবেন না; তখন কা'ব ইব্‌ন আসাদ তাদের লক্ষ্য করে বললেন: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা যে অবস্থার সম্মুখীন হয়েছ, তা তো তোমরা দেখতেই পাচ্ছ। আমি তোমাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব রাখছি, যেটি খুশি গ্রহণ করতে পার।
তারা জিজ্ঞাসা করল: কি সে প্রস্তাব। কা'ব বললেন: এসো, আমরা এই ব্যক্তির আনুগত্য করি এবং তাঁকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করে নেই। আল্লাহর কসম! তোমাদের কাছে এটা পরিষ্কার যে, তিনি একজন প্রেরিত নবী। তাওরাতে তোমরা যে নবীর উল্লেখ পাও, ইনিই তিনি। এ পথ অবলম্বন করলে- তোমাদের জান-মাল ও স্ত্রী-পুত্র সব নিরাপদ হয়ে যাবে।
তারা বলল: আমরা কস্মিনকালেও তাওরাতের বিধি-বিধান ত্যাগ করব না এবং তার বদলে অন্য কিছু গ্রহণ করব না।
কা'ব বললেন: যদি তোমরা এটা মানতে অস্বীকার কর, তবে এসো, আমরা নিজ হাতে আমাদের শিশু ও নারীদের হত্যা করি, এরপর অস্ত্র সজ্জিত হয়ে মুহাম্মদ ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ি। আমরা তাদের হত্যা করব এই জন্য, যাতে যুদ্ধকালে আমাদের কোন পিছুটান না থাকে। এভাবে আমরা লড়াই করতে থাকব—যতক্ষণ না আল্লাহ্ আমাদের ও মুহাম্মদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। আমরা যদি ধ্বংস হই, তবে এমনভাবে ধ্বংস হব, যাতে আমাদের কোন বংশধর বাকি থাকবে না, যার উপর আমাদের কোনরূপ আশংকা থাকবে। পক্ষান্তরে যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে নারী ও শিশুর কোন অভাব হবে না।
তারা বলল: আমরা ঐ নিরীহদের হত্যা করব? ওদের হত্যা করে আর বেঁচে থাকার কি সার্থকতা?
কা'ব বললেন: এটাও গ্রহণ না করলে শেষ বিকল্প শোন, আজ শনিবারের রাত। আজ মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা আমাদের পক্ষ হতে নিজেদের নিরাপদ মনে করবে। চলো, অতর্কিত আক্রমণ করে তাঁদের খতম করে দেই।
তারা বলল: আমরা পবিত্র শনিবারের অমর্যাদা করব আর এর পবিত্রতা নষ্ট করব? অথচ তোমরা জান, এর অমর্যাদা করে আমাদের পূর্বপুরুষগণ কি ভীষণ শাস্তি ভোগ করেছিল। তাদের চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এ কাজ করলে আমাদেরও সেই দশা হবে। তখন কা'ব উষ্মা প্রকাশ করে বললেন: তোমাদের মধ্যে একটি লোকও এমন নাই, যে মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অন্তত একটি রাতও কোন বিষয়ে মনস্থির করে ঘুমিয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ লুবাবার তাওবা প্রসংগে

📄 আবূ লুবাবার তাওবা প্রসংগে


এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে অনুরোধ জানিয়ে পাঠাল যে, বনু আমর ইব্‌ন আওফ গোত্রের আবু লুবাবা ইব্‌ন আবদুল মুনযিরকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। তার সাথে আমরা পরামর্শ করব। উল্লেখ্য বনূ আমর গোত্র ছিল আওস গোত্রের মিত্র।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু লুবাবাকে তাদের কাছে পাঠালেন। তাকে দেখামাত্র পুরুষগণ তাকে অভিবাদন জানাতে ছুটে আসল, আর নারী ও শিশুরা তার সামনে গিয়ে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ জানাল। তাদের সে বুকফাটা কান্না দেখে তাঁর অন্তর গলে গেল। তারা বলল: হে আবু লুবাবা। আপনি কি বলেন, আমরা কি মুহাম্মদের নির্দেশমত দুর্গ হতে নেমে আসব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে সাথে গলদেশের দিকেও ইঙ্গিত করলেন, অর্থাৎ পরিণাম যবাই।
আবু লুবাবা বলেন: আল্লাহর কসম! সেস্থান হতে আমি এক কদমও নড়িনি, এর মধ্যেই আমার উপলব্ধি হল-আমি আল্লাহ্ ও রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি।
আবূ লুবাবা সেই অবস্থাতেই সোজা মসজিদে নব্বীতে চলে গেলেন, আর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর' সংগে দেখা করলেন না। তিনি মসজিদের খুঁটির সাথে নিজেকে শক্ত করে বাঁধলেন।
বললেন: যাবত না আল্লাহ্ আমার এ অপরাধ ক্ষমা করেন, আমি এস্থান ত্যাগ করব না। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন: আমি জীবনে বনু কুরায়যার মাটি আর মাড়াবো না, আর যে মাটিতে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, সেখানে কখনও নিজের মুখ দেখাবো না-।
ইন হিশাম বলেন: সুফিয়ান ইব্‌ন উয়ায়না (র) ইসমাঈল ইব্‌ন খালিদের সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবু কাতাদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু লুবাবা সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ -
অর্থ: হে মু'মিনগণ! জেনে শুনে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সংগে বিশ্বাস ভংগ করবে না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও না (৮: ২৭)।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘক্ষণ আবু লুবাবার প্রতীক্ষায় থাকার পর যখন এ খবর তাঁর কাছে পৌঁছলো, তখন তিনি বললেন সে যদি আমার কাছে আসত তা হলে অবশ্যই আমিই তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতাম। তা না করে সে যখন নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা যাবত না তাঁর তওবা কবুল করবেন, আমি তার বাঁধন খুলতে যাব না।
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াযীদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুসায়ত আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, শেষ রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উম্মু সালমা (রা)-এর গৃহে থাকা অবস্থায় আবূ লুবাবার তাওবা কবুল হওয়ার আয়াত নাযিল হয়। উম্মু সালমা (রা) বলেন, আমি শেষ রাতে দেখি রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাসছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি হাসছেন কেন? আল্লাহ্ আপনার মুখে সব সময় হাসি রাখুন। তিনি বললেন: আবু লুবাবার তাওবা কবুল হয়েছে।
তখন উম্মু সালমা (রা) বললেন: আমি কি আবু লুবাবাকে এ সুসংবাদ দেব না? ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি ইচ্ছা করলে দিতে পার। রাবী বলেন: তখন উন্মু সালমা (রা) তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন, হে আবু লুবাবা! সুসংবাদ নাও-আল্লাহ্ তোমার তাওবা কবুল করেছেন। এ সময় পর্দার বিধান নাযিল হয়নি। তার এ ঘোষণা শোনামাত্র দলে দলে লোক তাঁর বাঁধন খুলে দিতে ছুটল। তিনি বললেন না আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজ হাতে আমাকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়র না। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন ফজরের সালাত আদায়ের জন্য বের হলেন, তখন তিনি নিজ হাতে তাঁর বাঁধন খুলে দিলেন।
ইন হিশাম বলেন: আমার কাছে কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, আবু লুবাবা মোট ছয় দিন খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। সালাতের ওয়াক্ত হলে তাঁর স্ত্রী এসে তাঁকে খুলে দিতেন। এরপর সালাত শেষে তিনি নিজে আবার নিজকে বেঁধে রাখতেন।
তাঁর তাওবা কবুল হওয়া সম্পর্কে যে আয়াত নাযিল হয়, তা নিম্নরূপ:
وَأَخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلاً صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّنَا عَسَى اللهُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ -
অর্থ: এবং অপর কতক লোক নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা এ সৎকর্মের সাথে অপর অসৎকর্ম মিশ্রিত করে ফেলেছে। আল্লাহ্ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৯: ১০২)।

এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে অনুরোধ জানিয়ে পাঠাল যে, বনু আমর ইব্‌ন আওফ গোত্রের আবু লুবাবা ইব্‌ন আবদুল মুনযিরকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। তার সাথে আমরা পরামর্শ করব। উল্লেখ্য বনূ আমর গোত্র ছিল আওস গোত্রের মিত্র।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু লুবাবাকে তাদের কাছে পাঠালেন। তাকে দেখামাত্র পুরুষগণ তাকে অভিবাদন জানাতে ছুটে আসল, আর নারী ও শিশুরা তার সামনে গিয়ে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ জানাল। তাদের সে বুকফাটা কান্না দেখে তাঁর অন্তর গলে গেল। তারা বলল: হে আবু লুবাবা। আপনি কি বলেন, আমরা কি মুহাম্মদের নির্দেশমত দুর্গ হতে নেমে আসব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সে সাথে গলদেশের দিকেও ইঙ্গিত করলেন, অর্থাৎ পরিণাম যবাই।
আবু লুবাবা বলেন: আল্লাহর কসম! সেস্থান হতে আমি এক কদমও নড়িনি, এর মধ্যেই আমার উপলব্ধি হল-আমি আল্লাহ্ ও রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি।
আবূ লুবাবা সেই অবস্থাতেই সোজা মসজিদে নব্বীতে চলে গেলেন, আর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর' সংগে দেখা করলেন না। তিনি মসজিদের খুঁটির সাথে নিজেকে শক্ত করে বাঁধলেন।
বললেন: যাবত না আল্লাহ্ আমার এ অপরাধ ক্ষমা করেন, আমি এস্থান ত্যাগ করব না। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন: আমি জীবনে বনু কুরায়যার মাটি আর মাড়াবো না, আর যে মাটিতে আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, সেখানে কখনও নিজের মুখ দেখাবো না-।
ইন হিশাম বলেন: সুফিয়ান ইব্‌ন উয়ায়না (র) ইসমাঈল ইব্‌ন খালিদের সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবু কাতাদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু লুবাবা সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ -
অর্থ: হে মু'মিনগণ! জেনে শুনে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সংগে বিশ্বাস ভংগ করবে না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও না (৮: ২৭)।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘক্ষণ আবু লুবাবার প্রতীক্ষায় থাকার পর যখন এ খবর তাঁর কাছে পৌঁছলো, তখন তিনি বললেন সে যদি আমার কাছে আসত তা হলে অবশ্যই আমিই তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতাম। তা না করে সে যখন নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা যাবত না তাঁর তওবা কবুল করবেন, আমি তার বাঁধন খুলতে যাব না।
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াযীদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুসায়ত আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, শেষ রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উম্মু সালমা (রা)-এর গৃহে থাকা অবস্থায় আবূ লুবাবার তাওবা কবুল হওয়ার আয়াত নাযিল হয়। উম্মু সালমা (রা) বলেন, আমি শেষ রাতে দেখি রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাসছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি হাসছেন কেন? আল্লাহ্ আপনার মুখে সব সময় হাসি রাখুন। তিনি বললেন: আবু লুবাবার তাওবা কবুল হয়েছে।
তখন উম্মু সালমা (রা) বললেন: আমি কি আবু লুবাবাকে এ সুসংবাদ দেব না? ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি ইচ্ছা করলে দিতে পার। রাবী বলেন: তখন উন্মু সালমা (রা) তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন, হে আবু লুবাবা! সুসংবাদ নাও-আল্লাহ্ তোমার তাওবা কবুল করেছেন। এ সময় পর্দার বিধান নাযিল হয়নি। তার এ ঘোষণা শোনামাত্র দলে দলে লোক তাঁর বাঁধন খুলে দিতে ছুটল। তিনি বললেন না আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজ হাতে আমাকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়র না। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন ফজরের সালাত আদায়ের জন্য বের হলেন, তখন তিনি নিজ হাতে তাঁর বাঁধন খুলে দিলেন।
ইন হিশাম বলেন: আমার কাছে কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, আবু লুবাবা মোট ছয় দিন খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। সালাতের ওয়াক্ত হলে তাঁর স্ত্রী এসে তাঁকে খুলে দিতেন। এরপর সালাত শেষে তিনি নিজে আবার নিজকে বেঁধে রাখতেন।
তাঁর তাওবা কবুল হওয়া সম্পর্কে যে আয়াত নাযিল হয়, তা নিম্নরূপ:
وَأَخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلاً صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّنَا عَسَى اللهُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ -
অর্থ: এবং অপর কতক লোক নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা এ সৎকর্মের সাথে অপর অসৎকর্ম মিশ্রিত করে ফেলেছে। আল্লাহ্ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৯: ১০২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00