📄 আলী (রা) বনু কুরায়যার কটুক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে অবহিত করেন
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী (রা)-কে তাঁর পতাকা নিয়ে আগেই পাঠিয়ে দিলেন। বাকি সকলেও দ্রুত রওনা হলেন, আলী (রা) সবার আগে পৌঁছে গেলেন। তিনি দুর্গগুলোর কাছাকাছি পৌঁছে শুনতে পেলেন, তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে অশ্রাব্য গলাবাজি করছে। তিনি দ্রুত ফিরে আসলেন এবং পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি ইতর প্রকৃতির লোকগুলোর নিকটবর্তী হবেন না। তিনি বললেন: কেন? সম্ভবতঃ তুমি আমার প্রতি তাদের কোন কটুক্তি শুনেছ।
তিনি বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমাকে দেখলে তারা ওসব আর মুখে আনবে না। তিনি তাদের দুর্গগুলোর নিকটবর্তী হয়ে বললেন: হে বানরের জ্ঞাতিগোষ্ঠী! আল্লাহ্ তা'আলা কি তোমাদের লাঞ্ছিত করেন নি? তিনি কি তোমাদের প্রতি আযাব নাযিল করেন নি? তারা বলল: হে আবুল কাসিম! তা তো আপনার অজানা নয়।
📄 দাহ্ইয়া কালবীর আকৃতিতে জিবরাঈল (আ)-এর আগমন
বনু কুরাযায় পৌঁছার আগে সাওরায়ন নামক স্থানে একদল সাহাবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কি তোমাদের পাশ দিয়ে কাউকে যেতে দেখেছ? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! একটি খচ্চরে সওয়ার হয়ে দাহইয়া ইব্ খালীফা কালবীকে আমাদের পাশ দিয়ে যেতে দেখেছি। খচ্চরটির উপর জিন-আঁটা ছিল এবং তার উপর রেশমী চাদর ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, সেই-ই তো জিবরাঈল। বনু কুরায়যাকে ভীত-সন্ত্রস্ত ও তাদের দুর্গগুলো কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে পাঠান হয়েছে।
বনু কুরাযায় পৌঁছার আগে সাওরায়ন নামক স্থানে একদল সাহাবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কি তোমাদের পাশ দিয়ে কাউকে যেতে দেখেছ? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! একটি খচ্চরে সওয়ার হয়ে দাহইয়া ইব্ খালীফা কালবীকে আমাদের পাশ দিয়ে যেতে দেখেছি। খচ্চরটির উপর জিন-আঁটা ছিল এবং তার উপর রেশমী চাদর ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, সেই-ই তো জিবরাঈল। বনু কুরায়যাকে ভীত-সন্ত্রস্ত ও তাদের দুর্গগুলো কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে পাঠান হয়েছে।
📄 বনু কুরায়যার অবরোধ
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু কুরায়যার লোকালয়ে পৌঁছে তাদের 'আনা' নামক একটি কুয়ার পাশে শিবির স্থাপন করলেন। ইবন হিশাম বলেন: কুয়াটার নাম আন্নী।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর সাহাবিগণও এসে তাঁর সাথে মিলিত হলেন, তন্মধ্যে কতিপয় লোক এমনও ছিলেন, যারা এখানে পৌঁছান ইশার পরে, কিন্তু আসরের সালাত বনু কুরায়যায় এসে আদায় করার নির্দেশ থাকায় তাঁরা রাস্তায় তা আদায় করেননি। সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে, গিয়ে তাদের দেরি হয়ে যায়। আবার নির্দেশের অন্যথা হয়ে যাবে এ আশংকায় তাঁরা রাস্তায় আসরের সালাত আদায় করেননি। শেষ পর্যন্ত ইশার সালাত আদায়ের পর তারা তা আদায় করে নেন। কিন্তু এজন্য না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিতাবে, আর না রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদেরকে কোন তিরস্কার করেন।
এ ঘটনা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা ইসহাক ইব্ন ইয়াসার। তিনি শুনেছেন মা'বাদ ইব্ন কা'ব ইবন মালিক আনসারীর কাছে।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু কুরায়যার লোকালয়ে পৌঁছে তাদের 'আনা' নামক একটি কুয়ার পাশে শিবির স্থাপন করলেন। ইবন হিশাম বলেন: কুয়াটার নাম আন্নী।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর সাহাবিগণও এসে তাঁর সাথে মিলিত হলেন, তন্মধ্যে কতিপয় লোক এমনও ছিলেন, যারা এখানে পৌঁছান ইশার পরে, কিন্তু আসরের সালাত বনু কুরায়যায় এসে আদায় করার নির্দেশ থাকায় তাঁরা রাস্তায় তা আদায় করেননি। সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে, গিয়ে তাদের দেরি হয়ে যায়। আবার নির্দেশের অন্যথা হয়ে যাবে এ আশংকায় তাঁরা রাস্তায় আসরের সালাত আদায় করেননি। শেষ পর্যন্ত ইশার সালাত আদায়ের পর তারা তা আদায় করে নেন। কিন্তু এজন্য না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিতাবে, আর না রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদেরকে কোন তিরস্কার করেন।
এ ঘটনা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা ইসহাক ইব্ন ইয়াসার। তিনি শুনেছেন মা'বাদ ইব্ন কা'ব ইবন মালিক আনসারীর কাছে।
📄 নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি কা'ব ইব্ন আসাদের উপদেশ
রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘ পঁচিশ দিন যাবত তাদের অবরোধ করে রাখেন। ফলে, তারা চরম সংকটের সম্মুখীন হয়। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করে দেন।
উল্লেখ্য যে, হুয়াঈ ইব্ন আখতাব কা'ব ইব্ন আসাদকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিল। কুরায়শ ও গাতফানরা চলে যাওয়ার পর সে বনূ কুরায়যার সাথে তাদের দুর্গে গিয়ে ঠাঁই নেয়।
বনু কুরায়যা যখন বুঝে ফেলল রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বিপর্যস্ত না করে ফিরবেন না; তখন কা'ব ইব্ন আসাদ তাদের লক্ষ্য করে বললেন: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা যে অবস্থার সম্মুখীন হয়েছ, তা তো তোমরা দেখতেই পাচ্ছ। আমি তোমাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব রাখছি, যেটি খুশি গ্রহণ করতে পার।
তারা জিজ্ঞাসা করল: কি সে প্রস্তাব। কা'ব বললেন: এসো, আমরা এই ব্যক্তির আনুগত্য করি এবং তাঁকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করে নেই। আল্লাহর কসম! তোমাদের কাছে এটা পরিষ্কার যে, তিনি একজন প্রেরিত নবী। তাওরাতে তোমরা যে নবীর উল্লেখ পাও, ইনিই তিনি। এ পথ অবলম্বন করলে- তোমাদের জান-মাল ও স্ত্রী-পুত্র সব নিরাপদ হয়ে যাবে।
তারা বলল: আমরা কস্মিনকালেও তাওরাতের বিধি-বিধান ত্যাগ করব না এবং তার বদলে অন্য কিছু গ্রহণ করব না।
কা'ব বললেন: যদি তোমরা এটা মানতে অস্বীকার কর, তবে এসো, আমরা নিজ হাতে আমাদের শিশু ও নারীদের হত্যা করি, এরপর অস্ত্র সজ্জিত হয়ে মুহাম্মদ ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ি। আমরা তাদের হত্যা করব এই জন্য, যাতে যুদ্ধকালে আমাদের কোন পিছুটান না থাকে। এভাবে আমরা লড়াই করতে থাকব—যতক্ষণ না আল্লাহ্ আমাদের ও মুহাম্মদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। আমরা যদি ধ্বংস হই, তবে এমনভাবে ধ্বংস হব, যাতে আমাদের কোন বংশধর বাকি থাকবে না, যার উপর আমাদের কোনরূপ আশংকা থাকবে। পক্ষান্তরে যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে নারী ও শিশুর কোন অভাব হবে না।
তারা বলল: আমরা ঐ নিরীহদের হত্যা করব? ওদের হত্যা করে আর বেঁচে থাকার কি সার্থকতা?
কা'ব বললেন: এটাও গ্রহণ না করলে শেষ বিকল্প শোন, আজ শনিবারের রাত। আজ মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা আমাদের পক্ষ হতে নিজেদের নিরাপদ মনে করবে। চলো, অতর্কিত আক্রমণ করে তাঁদের খতম করে দেই।
তারা বলল: আমরা পবিত্র শনিবারের অমর্যাদা করব আর এর পবিত্রতা নষ্ট করব? অথচ তোমরা জান, এর অমর্যাদা করে আমাদের পূর্বপুরুষগণ কি ভীষণ শাস্তি ভোগ করেছিল। তাদের চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এ কাজ করলে আমাদেরও সেই দশা হবে। তখন কা'ব উষ্মা প্রকাশ করে বললেন: তোমাদের মধ্যে একটি লোকও এমন নাই, যে মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অন্তত একটি রাতও কোন বিষয়ে মনস্থির করে ঘুমিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘ পঁচিশ দিন যাবত তাদের অবরোধ করে রাখেন। ফলে, তারা চরম সংকটের সম্মুখীন হয়। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করে দেন।
উল্লেখ্য যে, হুয়াঈ ইব্ন আখতাব কা'ব ইব্ন আসাদকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিল। কুরায়শ ও গাতফানরা চলে যাওয়ার পর সে বনূ কুরায়যার সাথে তাদের দুর্গে গিয়ে ঠাঁই নেয়।
বনু কুরায়যা যখন বুঝে ফেলল রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বিপর্যস্ত না করে ফিরবেন না; তখন কা'ব ইব্ন আসাদ তাদের লক্ষ্য করে বললেন: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা যে অবস্থার সম্মুখীন হয়েছ, তা তো তোমরা দেখতেই পাচ্ছ। আমি তোমাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব রাখছি, যেটি খুশি গ্রহণ করতে পার।
তারা জিজ্ঞাসা করল: কি সে প্রস্তাব। কা'ব বললেন: এসো, আমরা এই ব্যক্তির আনুগত্য করি এবং তাঁকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করে নেই। আল্লাহর কসম! তোমাদের কাছে এটা পরিষ্কার যে, তিনি একজন প্রেরিত নবী। তাওরাতে তোমরা যে নবীর উল্লেখ পাও, ইনিই তিনি। এ পথ অবলম্বন করলে- তোমাদের জান-মাল ও স্ত্রী-পুত্র সব নিরাপদ হয়ে যাবে।
তারা বলল: আমরা কস্মিনকালেও তাওরাতের বিধি-বিধান ত্যাগ করব না এবং তার বদলে অন্য কিছু গ্রহণ করব না।
কা'ব বললেন: যদি তোমরা এটা মানতে অস্বীকার কর, তবে এসো, আমরা নিজ হাতে আমাদের শিশু ও নারীদের হত্যা করি, এরপর অস্ত্র সজ্জিত হয়ে মুহাম্মদ ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ি। আমরা তাদের হত্যা করব এই জন্য, যাতে যুদ্ধকালে আমাদের কোন পিছুটান না থাকে। এভাবে আমরা লড়াই করতে থাকব—যতক্ষণ না আল্লাহ্ আমাদের ও মুহাম্মদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। আমরা যদি ধ্বংস হই, তবে এমনভাবে ধ্বংস হব, যাতে আমাদের কোন বংশধর বাকি থাকবে না, যার উপর আমাদের কোনরূপ আশংকা থাকবে। পক্ষান্তরে যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে নারী ও শিশুর কোন অভাব হবে না।
তারা বলল: আমরা ঐ নিরীহদের হত্যা করব? ওদের হত্যা করে আর বেঁচে থাকার কি সার্থকতা?
কা'ব বললেন: এটাও গ্রহণ না করলে শেষ বিকল্প শোন, আজ শনিবারের রাত। আজ মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা আমাদের পক্ষ হতে নিজেদের নিরাপদ মনে করবে। চলো, অতর্কিত আক্রমণ করে তাঁদের খতম করে দেই।
তারা বলল: আমরা পবিত্র শনিবারের অমর্যাদা করব আর এর পবিত্রতা নষ্ট করব? অথচ তোমরা জান, এর অমর্যাদা করে আমাদের পূর্বপুরুষগণ কি ভীষণ শাস্তি ভোগ করেছিল। তাদের চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এ কাজ করলে আমাদেরও সেই দশা হবে। তখন কা'ব উষ্মা প্রকাশ করে বললেন: তোমাদের মধ্যে একটি লোকও এমন নাই, যে মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অন্তত একটি রাতও কোন বিষয়ে মনস্থির করে ঘুমিয়েছে।