📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুশরিকদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর

📄 মুশরিকদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর


তাদের মতানৈক্যের কথা যথাসময়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌঁছে গেল। তিনি জানতে পারলেন, আল্লাহ্ তা'আলা কিভাবে সম্মিলিত বাহিনীর ঐক্য চূর্ণ করে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বস্ত সাহাবী হুযায়ফা ইব্‌ন ইয়ামানকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন দেখ এসো, এদের রাতে কি ঘটেছে।
ইবন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্‌ন্ন কা'ব কুরাজীর সূত্রে ইয়াযীদ ইব্‌ন যিয়াদ বর্ণনা করেন, কৃষ্ণার জনৈক ব্যক্তি হুযায়ফা ইব্‌ন ইয়ামান (রা)-কে জিজ্ঞাসা করেছিল, হে আবূ আবদুল্লাহ্! আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে দেখেছেন? তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ বৎস। সে বলল তা আপনারা কিভাবে চলতেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমাদের সে জীবন ছিল ভীষণ কষ্টের।
লোকটি বলল: আল্লাহর কসম! আমরা তাঁকে পেলে পায়ে ধূলো লাগতে দিতাম না; মাথায় করে রাখতাম।
হুযায়ফা (রা) বললেন: ভাতিজা, আল্লাহর কসম, আমার চোখে এখনও ভাসছে সেই রাত্রের কথা-রাসূলুল্লাহ্ (সা) দীর্ঘক্ষণ ধরে সালাত আদায় করলেন। এরপর আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন: কে আছ শত্রু শিবিরে গিয়ে তাদের গতিবিধি দেখবে এবং ফিরে এসে আমাদেরকে তা অবগত করবে? তিনি এই ফিরে আসার সাথে শর্ত লাগিয়ে বললেন: আমি আল্লাহ্ কাছে প্রার্থনা করব, এটা যে করবে সে যেন জান্নাতে আমার সঙ্গী হয়।
তখন প্রচণ্ড ভয়-ত্রাসে সকলে কম্পমান। সেই সাথে দুর্দান্ত ক্ষুধা, অসহনীয় শৈত্য প্রবাহ। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ কথায় সাহস করে কেউ দাঁড়াল না। এরপর তিনি আমাকেই ডাকলেন।
• অগত্যা আমাকে উঠতেই হলো। তিনি বললেন: হে হুযায়ফা। তুমি গিয়ে তাদের শিবিরে প্রবেশ কর এবং লক্ষ্য করে দেখ, তারা কি করছে। সাবধান, আমার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত আর কোন কিছু করবে না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবু সুফিয়ান কর্তৃক প্রস্থানের নির্দেশ

📄 আবু সুফিয়ান কর্তৃক প্রস্থানের নির্দেশ


হুযায়ফা (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশমত আমি কাফিরদের শিবিরে চলে গেলাম। তখন ঝড়ো-হাওয়া ও আল্লাহ্র সৈন্যগণ তাদের অবস্থা কাহিল করে তুলছিল। তাদের হাড়ি-পাতিল, আগুন, তাঁবু কিছুই আর স্থির থাকল না। সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল।
এক পর্যায়ে আবূ সুফিয়ান দাঁড়িয়ে গেল। সে কুরায়שদের সম্বোধন করে বলল: তোমরা সতর্ক হও, প্রত্যেকে তার পাশের লোককে চিনে নেও। হুযায়ফা (রা) বলেন: আমি আমার পাশের লোকের হাত ধরে বললাম, ভাই তুমি কে? সে বলল: আমি অমুকের পুত্র অমুক।
তারপর আবু সুফিয়ান বলল: হে কুরায়ש সম্প্রদায়! আল্লাহর কসম, তোমরা কোন স্থায়ী নিবাসে আসনি। আমাদের উট-ঘোড়া সব মারা পড়েছে। বনু কুরায়যা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাদের পক্ষ হতে আমরা অপ্রীতিকর সংবাদ পাচ্ছি। এদিকে ঝড়-ঝাপটায় আমাদের যা দশা তা তো দেখছই। আগুন জ্বালান যাচ্ছে না, হাড়ি-পাতিল সব উড়ে যাচ্ছে। তাঁবু ধরে রাখা যাচ্ছে না। সুতরাং চলো ফিরে যাই। আমি রওনা হলাম।
এই বলে আবু সুফিয়ান তার উটের কাছে গেল। উটটি বাঁধা ছিল। সে তার উপর বসে পড়ল। তারপর তাকে আঘাত করতেই সেটি তাকে নিয়ে তিনবার লাফিয়ে উঠল। কিন্তু আল্লাহ্র কসম। এতদসত্ত্বেও তার রশি ছিড়লো না, সেটি সেখানেই থেকে গেল।
যদি রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমার থেকে এ মর্মে অংগীকার না নিতেন, তা হলে আমি একটা মাত্র তীরেই আবু সুফিয়ানের দফা রফা করে দিতাম।
হুযায়ফা (রা) বলেন: এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি তখন তাঁর কোন স্ত্রীর ইয়ামনী চাদর গায়ে জড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। সেটা ছিল 'মারজিল' নামক চাদর।
ইব্‌ন হিশام বলেন: মারজিল হচ্ছে ইয়ামানের তৈরি এক প্রকার কারুকার্য খচিত চাদর।
হুযায়ফা (রা) বলেন: আমাকে দেখে তিনি তার পায়ের দিকে বসতে বললেন এবং চাদরটির এক প্রান্ত আমার উপর ছুঁড়ে দিলেন। আমি তা জড়িয়ে বসে থাকলাম। তিনি রুকু সিজদা দিয়ে সালাম ফেরালেন। এরপর আমি তাঁকে কুরায়שদের খবর জানালাম।
কুরায়শদের এ সংবাদ শুনে গাতফান গোত্রও তাদের দেশে ফিরে গেল।
*ইব্‌ন ইসহাক বলেন: সকালবেলা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ও মুসলিমদের নিয়ে খন্দক প্রান্তর ত্যাগ করলেন এবং মদীনায় এসে অস্ত্র তুলে রাখলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00