📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও মাখশী যামরী

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও মাখশী যামরী


এদিকে নবী (সা) আবু সুফিয়ান প্রদত্ত নির্ধারিত সময়ের জন্য বদর প্রান্তরে অপেক্ষা করতে লাগলেন। এমনি সময়ে একদিন মাখশী ইব্‌ন আমর যামরী এসে তাঁর সংগে সাক্ষাৎ করল। ওয়াদ্দান অভিযানে এই ব্যক্তিই বনু যামরার পক্ষে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে চুক্তি সম্পন্ন করেছিল। সে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি কি এই জলাশয়ের তীরে কুরায়শদের মুখোমুখী হতে এসেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে যামরা গোত্রের নেতা! এতদসত্ত্বেও তুমি যদি চাও, তা হলে তোমাদের ও আমাদের মাঝে যে সন্ধি চুক্তি আছে, তা প্রত্যাহার করে নিতে পারি। এরপর যুদ্ধের মাধ্যমেই আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন। সে বলল: না, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ্র কসম! আপনার সংগে আমাদের তেমন কিছু করার প্রয়োজন নেই। এরপরও রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু সুফিয়ানের জন্য যথারীতি অপেক্ষা করতে লাগলেন। এ সময় মা'বাদ ইব্‌ন আবূ মা'বাদ খুযাঈ একদিন তাঁর কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে সেখানে অবস্থানরত দেখতে পেয়ে নিম্নের কবিতাটি আবৃত্তি করতে করতে দ্রুত উট হাঁকিয়ে চলে গেল:
قد نفرت من رفقتى محمد * وعجوة من يثرب كالعنجد
تهوى على دين ابيها الانلد * قد جعلت ماء قديد موعدى
وما ، ضجنان لها ضعى الغد
আমার উটনী মুহাম্মদের উভয় সঙ্গীদল হতে বিতৃষ্ণ হয়ে ধেয়ে চলছে। সে বিতৃষ্ণ ইয়াসরিবের কালো কিসমিস সদৃশ খেজুরের প্রতিও। সে তার বাপ-দাদাদের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী ছুটে চলেছে, আজকের মধ্যেই সে আমাকে কুদায়দ জলাশয়ের তীরে পৌঁছে দেবে এবং কাল দুপুরের আগেই সে দাজনানের' জলাশয়ে পৌঁছে যাবে।
এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) নিম্নের কবিতাটি আবৃত্তি করেন। কিন্তু ইব্‌ন হিশাম বলেন: এ কবিতাটিতে আবু যায়দ আনসারী আমাকে কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর কবিতা বলে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন।
وعدنا ابا سفيان بدرا فلم فاقسم لو وافيتنا فلقيتنا
تركنا به اوصال عتبة وابنه عصيتم رسول الله اف لدينكم
فافي وان عنفتموني القائل اطعناه لم نعدله فينا بغيره
* * * * * *
الميعاده صدقا وما كان وافيا لابت ذميما وافتقدت المواليا
وعمرا ابا جهل تركناه ثاويا وامركم السيئ الذي كان غاويا
فدى لرسول الله اهلي وماليا شهابا لنا في ظلمة الليل هاديا
আমরা ওয়াদা করেছিলাম আবু সুফিয়ানের সংগে বদর প্রান্তরে মুখোমুখী হওয়ার, কিন্তু আমরা তাকে ওয়াদা রক্ষায় সত্যবাদী পেলাম না, সে তার ওয়াদা রক্ষা করেনি।
আমি কসম করে বলছি, হে আবু সুফিয়ান! যদি তুমি ওয়াদা রক্ষা করে আমাদের মুখোমুখী হতে, তা হলে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে তোমাকে ফিরে যেতে হত এবং তুমি তোমার মিত্রদের হারাতে।
আমরা বদর প্রান্তরে উতবা ও তার ছেলেকে টুকরো টুকরো করে ফেলে রেখেছি। এখানেই আমরা রেখে গিয়েছি (আমর) আবূ জাহলের লাশ।
হে কুরায়শ! তোমরা আল্লাহর রাসূলের নাফরমানী করলে; ধিক তোমাদের ধর্মমতকে, আর ধিক তোমাদের সব ঘৃণ্য বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের।
শোন! তোমরা আমাকে যতই ধিক্কার দাও, তবু বলব, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর জন্য আমার ধনজন সবই উৎসর্গিত।
আমরা তার আনুগত্য করেছি। আমরা আমাদের কাউকে তাঁর সমতুল্য জ্ঞান করি না। বস্তুত তিনি একটি ধ্রুবতারা। তিনি অন্ধকার রাতে আমাদের পথ-নির্দেশ করেন।

টিকাঃ
১. কুদায়দ-মক্কার নিকটবর্তী একটি জলাশয় এবং দাজনান মক্কার কাছাকাছি একটি পাহাড়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দুমাতুল জানদাল অভিযান

📄 দুমাতুল জানদাল অভিযান


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় প্রর্তাবর্তন করেন। তিনি যিলহাজ্জ মাস পর্যন্ত এখানেই কাটান। এ বছর হজ্জের কতৃত্ব মুশরিকদের হাতেই ছিল। এটা হিজরী চতুর্থ সনের কথা। এরপর তিনি দুমাতুল জানদালের' অভিযান পরিচালনা করেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এটা ছিল রবিউল উলা মাস। এসময় সিবাআ ইব্‌ন উরফুতা গিফারী (রা)-কে মদীনার অস্থায়ী শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হয়।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) সেখানে পৌঁছার পূর্বেই মদীনায় ফিরে আসেন। এ অভিযানে তিনি কোন শত্রুদলের সম্মুখীন হননি। এরপর বছরের বাকি দিনগুলো তিনি মদীনাতেই অতিবাহিত করেন।

টিকাঃ
১. দুমাতুল জানদাল মদীনা হতে উত্তর দিকে অবস্থিত একটি জায়গার নাম। মদীনা হতে এর দুরত্ব ১৫ দিনের পথ। হযরত ইসমাঈল (আ)-এর পুত্র দুর্মী এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। তিনি এখানে অবস্থান করেছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00