📄 সালাতুল খাওফ
ইবন হিশাম বলেন: জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) হতে বর্ণিত যে, তিনি সালাতুল খাওফ সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একদল সাহাবীকে নিয়ে দু'রাক'আত সালাত আদায় করে সালাম ফেরান। তখন অন্য একদল ছিল শত্রুর মুখোমুখী। এরপর তারা চলে আসল এবং তিনি তাদেরকে নিয়ে আবার দু'রাকআত সালাত আদায় করে সালাম ফেরান।
ইব্ন হিশাম বলেন: আবদুল ওয়ারিস আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, আইউব বর্ণনা করেন আবূ যুবায়র হতে এবং তিনি জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে দুই কাতারে বিন্যস্ত করে আমাদের সকলকে নিয়ে প্রথম রাক'আতের রুকু' করলেন। তারপর তিনি সিজদায় গেলেন একং প্রথম কাতারের লোকেরাও তার অনুসরণ করল। তারা সিজদা হতে মাথা তুললে পরবর্তী কাতারের লোকেরা নিজ নিজ সিজদা আদায় করল। এরপর প্রথম কাতার পেছনে সরে আসল এবং পেছনের' কাতার সামনে তাদের স্থানে চলে গেল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সকলকে নিয়ে রুকূ' করলেন। তারপর তিনি সিজদায় গেলেন এবং তাঁর কাছের লোকেরাও সিজদা করল। তাঁরা সিজদা হতে মাথা তুললে পেছনের কাতারের লোকেরা নিজেদের সিজদা সম্পন্ন করল। এভাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের সকলকে নিয়ে একসাথে রুকূ' করল এবং উভয় কাতারই দু'টি সিজদা নিজ নিজভাবে আদায় করল।
ইব্ন হিশাম বলেন: আবদুল ওয়ারিছ ইব্ন সাঈদ তানূরী বর্ণনা করেন যে, আইউব, নাফি' থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সালাতুল খাওফে একদল মুজাহিদ ইমামের সাথে দাঁড়াবে, আরেক দল থাকবে শত্রুর মুখোমুখী। ইমাম তাদের নিয়ে সিজদাসহ এক রাক'আত আদায় করবেন। এরপর সে দল পেছনে সরে শত্রুর মুখোমুখী হবে এবং অন্যদল সামনে চলে আসবে। ইমাম তাদের নিয়ে সিজদাসহ এক রাক'আত আদায় করবেন। এরপর উভয় দল আলাদা-আলাদা ভাবে এক রাকা'আত আদায় করে নিবে। এভাবে তাদের, ইমামের সাথে হবে এক রাক'আত এবং ইমাম থেকে আলাদা ভাবে হবে এক রাক'আত।
ইবন ইসহাক বলেন, আমার কাছে আমর ইবন উবায়দ, হাসান বসরী থেকে এবং তিনি জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, বনু মুহারিব গোত্রের গাওরোছ নামক জনৈক ব্যক্তি গাতফান ও মুহারিব গোত্রকে বলল: আমি তোমাদের পক্ষ থেকে মুহাম্মদকে হত্যা করে ফেলব কি? তারা বলল: অবশ্যই, তবে কি উপায়ে? সে বলল অতর্কিত আক্রমণ করে? রাবী বলেন তখন লোকটি দুরভিসন্ধি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হল। আর এ সময় তিনি বসা ছিলেন এবং তাঁর তরবারিটি ছিল তাঁর কোলের উপরে। সে বলল: হে মুহাম্মদ। আপনার তরবারিটি দেখতে পারি? তিনি বললেন: দেখ। তাঁর তরবারিটি ছিল রূপার কারুকার্য খচিত। ইব্ন হিশাম এরূপ বলেছেন। তরবারিটি হাতে নিয়ে সে ঘুরাতে লাগল। কিন্তু যখনই সে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়, তখনই আল্লাহ্ তার অন্তরে ভীতি সঞ্চার করেন। শেষ পর্যন্ত সে বলে হে মুহাম্মদ! আপনি আমাকে ভয় পান না? তিনি বললেন: মোটেই না, কেন তোমাকে ভয় পাব? সে বলল: বাহ্ আমার হাতে তরবারি রয়েছে আর আপনি আমাকে ভয় পাচ্ছে না? তিনি বললেন না, আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে তোমার হাত থেকে রক্ষা করবেন। অবশেষে সে বিনাবাক্যে তরবারিটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে ফিরিয়ে দিল। এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَتَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْهَمَّ قَوْمٌ أَنْ يَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ فَكَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ ۖ وَاتَّقُوا اللهَ ۚ وَعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ -
হে মু'মিনগণ! তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন এক সম্প্রদায় তোমাদের বিরুদ্ধে হাত তুলতে চেয়েছিল। তখন আল্লাহ্ তাদের হাত সংযত করেছিলেন এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর আল্লাহ্রই প্রতি মু'মিনগণ নির্ভর করুক (৫: ১১)।
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াযীদ ইব্ন রূমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উল্লেখিত আয়াত বনূ নাযীর গোত্রের আমর ইব্ন জিহাশ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত করেছিল, সে সম্পর্কেই নাযিল হয়। প্রকৃত অবস্থা আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন।