📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 গোপন ষড়যন্ত্র

📄 গোপন ষড়যন্ত্র


এরপর তারা পরস্পর মিলিত হলো। তারা বলল : দেখ এরূপ সুযোগ আর হাতে আসবে না। উল্লেখ্য, এ সময় নবী (সা) তাদের একটি ঘরের দেয়ালের পাশে উপবিষ্ট ছিলেন। তারা বলল: কে আছে, যে এই ঘরের ছাদে উঠে তার উপর একটি পাথর গড়িয়ে দিবে এবং এ ভাবে তার কবল থেকে আমাদেরকে নিষ্কৃতি দিবে? আমর ইব্‌ন জিহাশ ইব্‌ন কা'ব নামক তাদের একজন লোক এতে সাড়া দিল। সে বলল: আমি প্রস্তুত। প্রস্তাব মত সে পাথর গড়িয়ে দেওয়ার জন্য ছাদে উঠল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তো নীচে উপবিষ্ট। তাঁর সংগে ছিলেন আবু বকর, উমর ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমসহ কতিপয় সাহাবী।
ঠিক এই মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আসমান থেকে ওহী আসল। তাদের দূরভিসন্ধি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখান থেকে উঠে সোজা মদীনায় চলে গেলেন। সাহাবিগণ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও যখন দেখলেন, তিনি ফিরে আসছেন না, তখন তাঁরা তাঁর সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন। পথে মদীনা হতে আগমনরত এক ব্যক্তির সাথে তাদের সাক্ষাৎ হল। সাহাবিগণ তার কাছে নবী (সা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: এইমাত্র তাঁকে মদীনায় প্রবেশ করতে দেখলাম। তাঁরা দ্রুত গিয়ে তাঁর সাথে মিলিত হলেন। তিনি তাদেরকে প্রকৃত ঘটনা জানালেন এবং বললেন : ইয়াহুদীরা কি ষড়যন্ত্র করেছিল! তিনি তাদেরকে বনূ নাযীরের উপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 অবরোধ এবং খেজুর বৃক্ষ কর্তন

📄 অবরোধ এবং খেজুর বৃক্ষ কর্তন


ইবন হিশাম বলেন: নবী (সা) ইবন উম্মু মাকতূমকে মদীনার ভারপ্রাপ্ত শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর তিনি সদলবলে বনূ নাজীরের এলাকায় পৌঁছলেন এবং সেখানে ছাউনি স্থাপন করলেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এ ঘটনা হিজরী চতুর্থ সনের রবিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয়। নবী (সা) তাদের ছয়দিন অবরোধ করে রাখলেন। এ সময় মদ পানের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: বনূ নাযীর তাদের দুর্গসমূহে আশ্রয় নিল। রাসূল করীম (সা) তাদের খেজুর বাগান কেটে ফেলতে ও তা জ্বালিয়ে দিতে আদেশ করলেন। তা দেখেই ইয়াহুদীরা চিৎকার করে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি তো নাশকতামূলক কাজ করতে নিষেধ করতেন এবং কেউ করলে তার নিন্দা করতেন। এখন যে নিজেই খেজুর বাগান কাটছেন এবং তাতে অগ্নি সংযোগ করছেন?

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কিছু সংখ্যক মুনাফিকের প্ররোচনা

📄 কিছু সংখ্যক মুনাফিকের প্ররোচনা


এ সময় আওফ ইব্‌ন খাযরাজ গোত্রের কতিপয় ব্যক্তি যথা-আল্লাহ্ দুশমন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইব্‌ন সালুল, ওয়াদীআ মালিক ইব্‌ন আবু কাওকাল, সুওয়ায়দ, দাইস প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ বনু নাযীরের কাছে এই মর্মে বার্তা পাঠাল যে, তোমরা অবিচল থাক এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। আমরা কিছুতেই তোমাদের পরিহার করব না। তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হলে আমরা তোমাদের সক্রিয় সহযোগিতা করব। তোমাদের বহিষ্কার করা হলে আমরাও তোমাদের সাথে বের হয়ে যাব। সে মতে বনূ নাযীর তাদের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কোন সাহায্য করতে পারলো না। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে অনুরোধ জানাল, যেন বিনা রক্তপাতে তাদেরকে বহিষ্কৃত করা হয়। এই শর্তে যে, তারা তাদের অস্ত্র-শস্ত্র মুসলমানদের হাতে সমর্পণ করে কেবল সেই পরিমাণ অস্থাবর সম্পত্তি সাথে নিয়ে যাবেন, যা তাদের উট বহন করতে পারে। তিনি তাদের আবেদন রক্ষা করলেন। তারা উটের পিঠে বহনযোগ্য মালামাল নিয়ে গেল। তাদের এক একজন কড়িকাঠ থেকে শুরু করে পুরো ঘরটাই ভেঙে উটের পিঠে তুলে নেয়। এরপর তাদের কতক খায়বরে এবং কতক শামে চলে যায়।
যারা খায়বরে চলে যায়, তাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিল সাল্লাম ইব্‌ন আবূ হুকায়ক, কিনানা ইব্‌ন রাবী ইব্‌ন আবূ হুকায়কা ও হুয়ায়্য ইব্‌ন আখতাব। তারা সেখানে গেলে, স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের নেতৃত্ব মেনে নিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ নাযীর সম্পর্কে কুরআনে যা নাযিল হয়

📄 বনূ নাযীর সম্পর্কে কুরআনে যা নাযিল হয়


বনু নাযীর প্রসঙ্গে পূর্ণ সূরা হাশর অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বনু নাযীরের উপর যে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেন এবং স্বীয় রাসূলকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেভাবে তাদেরকে দমন করেন, এ সূরায় তা বিধৃত হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন:
هُوَ الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَن يَخْرُجُوا وَظَنُّوا أَنَّهُمْ مَا نِعَتُهُمْ حُصُونَهُمْ مِّنَ اللَّهِ فَأَتَاهُمُ اللهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوا وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُمْ بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِي الْمُؤْمِنِينَ ، فَاعْتَبِرُوا يَأْولِي الْأَبْصَارِ ، وَلَوْلَا أَنْ كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ الجَلاءَ لَعَذِّبَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابُ النَّارِ ... مَا قَطَعْتُمْ مِّن لِّينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةِ عَلَى أصولها فَبَاذْنِ اللهِ وَلِيُخْرَى الفَاسِقِينَ .
তিনিই কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফির তাদেরকে প্রথম সমাবেশেই তাদের আবাসভূমি হতে বিতাড়িত করেছিলেন। তোমরা কল্পনাও করনি যে, তারা নির্বাসিত হবে এবং তারা মনে করেছিল তাদের দুর্ভেদ্য দুর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহ্ হতে রক্ষা করবে। কিন্তু আল্লাহর শাস্তি এমন এক দিক হতে আসল যা তাদের ধারণাতীত এবং তাদের অন্তরে তা ত্রাসের সঞ্চার করল। তারা ধ্বংস করে ফেলল। নিজেদের ঘর-বাড়ি নিজেদের হাতে এবং মু'মিনদের হাতেও। অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। আল্লাহ্ (তাঁর পক্ষ হতে তাদের শাস্তি স্বরূপ) তাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত না করলে তাদেরকে পৃথিবীতে অন্য শাস্তি দিতেন এবং (সেই সঙ্গে) পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। এটা এই জন্য যে, তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল এবং কেউ আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করলে আল্লাহ্ তো শাস্তি দানে কঠোর। তোমরা যে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলেছ এবং যেগুলো কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে। তা এই জন্য যে, আল্লাহ্ পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন (৫৯: ২-৫)।
اللينة অর্থ আজওয়া ব্যতীত অন্যান্য খেজুর গাছ। فباذن الله অর্থাৎ খেজুর গাছ কাটা কোন নাশকতামূলক কাজ ছিল না, বরং তা কাটা হয়েছিল আল্লাহর নির্দেশে এবং এতদদ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেছিলেন।
ইবন হিশাম বলেন : اللينة শব্দটি الالوان হতে উদ্ভূত। বারনিয়্যা ও আজওয়া ব্যতীত অন্যান্য খেজুর গাছকে 'লীনা' বলা হয়। আবু উবায়দা এরূপই বর্ণনা করেছেন। যু'র-রিম্মা বলেন:
كان فتودي فوقها عش طائر * على لينة سوقاء تهفو جنوبها
আমার তৈজসপত্র হাওদার উপর যেন একটি পাখির বাসা, যা স্থাপিত খেজুর গাছের শক্ত ডালের উপর, যার চারদিক থরথর করে কাঁপে।'
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْ جَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
আল্লাহ্ তাদের (অর্থাৎ বনু নাযীরের) নিকট হতে তাঁর রাসূলকে যে 'ফায়' দিয়েছেন তার জন্য তোমরা অশ্বে কিংবা উষ্ট্রে আরোহণ করে যুদ্ধ করনি। আল্লাহ্ তো যার উপর ইচ্ছা তাঁর রাসূলদেরকে কর্তৃত্ব দান করেন। আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান (৫৯:৬)।
ইবন হিশাম বলেন : اوجفتم অর্থ তোমরা অভিযান করেছ এবং সফরের কষ্ট স্বীকার করেছ। আমির ইব্‌ন সাসা'আ গোত্রীয় তামীম ইব্‌ন উবায়্য ইব্‌ন মুকবিল বলেন:
مداويد بالبيض الحديث صقالها * عن الركب احيانا اذا الركب اوجفوا
সে সদ্য শাণিত তরবারি দ্বারা নিজ বাহিনীকে শত্রু হতে রক্ষা করে যখন সে বাহিনী অভিযান চালায়।
এটি তার যুদ্ধকালীন সময়ের একটি কবিতার অংশবিশেষ।
আবূ যায়দ তাঈ, যার নাম হলো হারমালা ইন্ন মুনযির বলেন:
مستفات كانهن قنا الهند * لطول الوجيف جدب المرود ...
তা রশি দ্বারা বাঁধা, যেন তা হিন্দুস্তানের বর্শা, বিশুষ্ক চারণভূমিতে দীর্ঘক্ষণ বিচরণের কারণে।
আবু যায়দের প্রকৃত নাম হারমালা ইন্ন মুনযির। এটি তার একটি কবিতার অংশবিশেষ।
ইবন হিশাম বলেন, السناف অর্থ রশি, উঠের পেটে বাঁধা কাপড়ের থলে। الوجيف অর্থ হৃৎপিণ্ডের বা কলিজার স্পন্দন।
কায়স ইব্‌ন খাতীম জাফারী তার একটি কবিতায় বলেন:
انا وان قدموا التي علموا * اكبادنا من ورائهم تجف
তারা যা জানে তা যদি অগ্রবর্তী করে, তবে তাদের পশ্চাতে আমাদের কলিজা শুকিয়ে যাবে।
এরপর আল্লাহ্ বলেন:
مَا أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاء مِنْكُم وَمَا أَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا -
আল্লাহ্ এই জনপদবাসীদের নিকট হতে তার রাসূলকে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের স্বজনদের এবং ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্ত ও পথচারীদের, যাতে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান, কেবল তাদের মধ্যেই ঐশ্বর্য আবর্তন না করে। রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক (৫৯: ৭)।
ইবন ইসহাক বলেন:
مَا أَفَاءُ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ .
-এর অর্থ, মুসলিমগণ যেসব এলাকায় সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে জয় করে, সেখান থেকে তারা যা লাভ করে, তা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ...।
এ আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করার নিয়ম শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আল্লাহ্ বলেন:
الم تَرَ إِلَى الَّذِينَ نَافَقُوا يَقُولُونَ لِاخْوَانِهِمُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ .
তুমি কি দেখনি মুনাফিকদেরকে (অর্থাৎ আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়্য ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এবং তাদের অনুরূপ চরিত্রের লোকদেরকে), তারা কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে, তাদেরকে (অর্থাৎ বনূ নযীরকে) বলে (৫৯: ১১)।
এরপর আল্লাহ্ বলেন:
كَمَثَلِ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ قَرِيبًا ذَاقُوا وَبَالَ أَمْرِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ، كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنْسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِئُ مِنْكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
তাদের তুলনা, তাদের অব্যবহতি পূর্বে যারা নিজেদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করেছে তারা (অর্থাৎ বনূ কায়নুকা) তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। এদের তুলনা শয়তানের মত, যে মানুষকে বলে কুফরী কর, এরপর যখন সে কুফরী করে শয়তান তখন বলে: তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি। ফলে তাদের উভয়েরই পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেথায় তারা স্থায়ী হবে এবং এটাই যালিমদের কর্মফল (৫৯: ১৫-১৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00