📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ আমিরের দিয়্যাতের ব্যাপার

📄 বনূ আমিরের দিয়্যাতের ব্যাপার


ইবন ইসহাক বলেন: বনু আমিরের দুইজন ব্যক্তির দিয়্যাত (রক্তপণ) পরিশোধের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু নাযীর গোত্রের নিকট গিয়েছিলেন। এই দুই ব্যক্তিকে আমর ইবন উমাইয়া যামরী ভুলবশত হত্যা করেছিলেন।

ইবন ইসহাক বলেন: বনু আমিরের দুইজন ব্যক্তির দিয়্যাত (রক্তপণ) পরিশোধের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু নাযীর গোত্রের নিকট গিয়েছিলেন। এই দুই ব্যক্তিকে আমর ইবন উমাইয়া যামরী ভুলবশত হত্যা করেছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 গোপন ষড়যন্ত্র

📄 গোপন ষড়যন্ত্র


এরপর তারা পরস্পর মিলিত হলো। তারা বলল : দেখ এরূপ সুযোগ আর হাতে আসবে না। উল্লেখ্য, এ সময় নবী (সা) তাদের একটি ঘরের দেয়ালের পাশে উপবিষ্ট ছিলেন। তারা বলল: কে আছে, যে এই ঘরের ছাদে উঠে তার উপর একটি পাথর গড়িয়ে দিবে এবং এ ভাবে তার কবল থেকে আমাদেরকে নিষ্কৃতি দিবে? আমর ইব্‌ন জিহাশ ইব্‌ন কা'ব নামক তাদের একজন লোক এতে সাড়া দিল। সে বলল: আমি প্রস্তুত। প্রস্তাব মত সে পাথর গড়িয়ে দেওয়ার জন্য ছাদে উঠল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তো নীচে উপবিষ্ট। তাঁর সংগে ছিলেন আবু বকর, উমর ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমসহ কতিপয় সাহাবী।
ঠিক এই মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আসমান থেকে ওহী আসল। তাদের দূরভিসন্ধি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখান থেকে উঠে সোজা মদীনায় চলে গেলেন। সাহাবিগণ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও যখন দেখলেন, তিনি ফিরে আসছেন না, তখন তাঁরা তাঁর সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন। পথে মদীনা হতে আগমনরত এক ব্যক্তির সাথে তাদের সাক্ষাৎ হল। সাহাবিগণ তার কাছে নবী (সা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: এইমাত্র তাঁকে মদীনায় প্রবেশ করতে দেখলাম। তাঁরা দ্রুত গিয়ে তাঁর সাথে মিলিত হলেন। তিনি তাদেরকে প্রকৃত ঘটনা জানালেন এবং বললেন : ইয়াহুদীরা কি ষড়যন্ত্র করেছিল! তিনি তাদেরকে বনূ নাযীরের উপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 অবরোধ এবং খেজুর বৃক্ষ কর্তন

📄 অবরোধ এবং খেজুর বৃক্ষ কর্তন


ইবন হিশাম বলেন: নবী (সা) ইবন উম্মু মাকতূমকে মদীনার ভারপ্রাপ্ত শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর তিনি সদলবলে বনূ নাজীরের এলাকায় পৌঁছলেন এবং সেখানে ছাউনি স্থাপন করলেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এ ঘটনা হিজরী চতুর্থ সনের রবিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয়। নবী (সা) তাদের ছয়দিন অবরোধ করে রাখলেন। এ সময় মদ পানের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: বনূ নাযীর তাদের দুর্গসমূহে আশ্রয় নিল। রাসূল করীম (সা) তাদের খেজুর বাগান কেটে ফেলতে ও তা জ্বালিয়ে দিতে আদেশ করলেন। তা দেখেই ইয়াহুদীরা চিৎকার করে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনি তো নাশকতামূলক কাজ করতে নিষেধ করতেন এবং কেউ করলে তার নিন্দা করতেন। এখন যে নিজেই খেজুর বাগান কাটছেন এবং তাতে অগ্নি সংযোগ করছেন?

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কিছু সংখ্যক মুনাফিকের প্ররোচনা

📄 কিছু সংখ্যক মুনাফিকের প্ররোচনা


এ সময় আওফ ইব্‌ন খাযরাজ গোত্রের কতিপয় ব্যক্তি যথা-আল্লাহ্ দুশমন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইব্‌ন সালুল, ওয়াদীআ মালিক ইব্‌ন আবু কাওকাল, সুওয়ায়দ, দাইস প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ বনু নাযীরের কাছে এই মর্মে বার্তা পাঠাল যে, তোমরা অবিচল থাক এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। আমরা কিছুতেই তোমাদের পরিহার করব না। তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হলে আমরা তোমাদের সক্রিয় সহযোগিতা করব। তোমাদের বহিষ্কার করা হলে আমরাও তোমাদের সাথে বের হয়ে যাব। সে মতে বনূ নাযীর তাদের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কোন সাহায্য করতে পারলো না। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে অনুরোধ জানাল, যেন বিনা রক্তপাতে তাদেরকে বহিষ্কৃত করা হয়। এই শর্তে যে, তারা তাদের অস্ত্র-শস্ত্র মুসলমানদের হাতে সমর্পণ করে কেবল সেই পরিমাণ অস্থাবর সম্পত্তি সাথে নিয়ে যাবেন, যা তাদের উট বহন করতে পারে। তিনি তাদের আবেদন রক্ষা করলেন। তারা উটের পিঠে বহনযোগ্য মালামাল নিয়ে গেল। তাদের এক একজন কড়িকাঠ থেকে শুরু করে পুরো ঘরটাই ভেঙে উটের পিঠে তুলে নেয়। এরপর তাদের কতক খায়বরে এবং কতক শামে চলে যায়।
যারা খায়বরে চলে যায়, তাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিল সাল্লাম ইব্‌ন আবূ হুকায়ক, কিনানা ইব্‌ন রাবী ইব্‌ন আবূ হুকায়কা ও হুয়ায়্য ইব্‌ন আখতাব। তারা সেখানে গেলে, স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের নেতৃত্ব মেনে নিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00