📄 হাসান (রা)-এর কবিতা
হাসান ইবন সাবিত (রা) তাদের নিন্দায় আরও বলেন:
لحى الله الحيانا فليست دمائهم * لنا من قتيلى غدرة بوفاء
" লিহয়ান গোত্রকে আল্লাহ্ চরম শাস্তি দিন। তাদের সকলের রক্ত আমাদের কাছে সেই দু'জনের রক্তের সমান নয়, যাদেরকে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করেছে।
همو قتلوا يوم الرجيع ابن حرة * اخا ثقة في وده وصفاء
11 ** রাজী'র দিন তারা হত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তিকে, যিনি ছিলেন এক স্বাধীন নারীর পুত্র; ভালবাসা ও নিষ্ঠায় অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন।
فلوا قتلوا يوم الرجيع باسرهم * بذى الدبر ما كانوا له بكفاء
রাজী'র ঘটনায় নিহত যু'দ-দাবর'-এর একার বদলে যদি তাদের সকলকেও হত্যা করা হয়, তবু ও-তার যথার্থ প্রতিকার হবে না।
قتيل حمته الدبر بين بيوتهم * لدى اهل كفر ظاهر وجفاء
তিনি নিহত হওয়ার পর বোলতার ঝাঁক তাদের বসতিতে তাদেরই চোখের সামনে তাঁর লাশ হিফাজত করেছিল। বস্তুতঃ তাদের কুফরি গোপন নয়, বরং তারা প্রকাশ্য পাপাচারী।
فقد قتلت لحيان اكرم منهم * وباعوا خبيبا ويلهم بلقاء
লিহয়ান গোত্র হত্যা করেছে তাদের চাইতে উত্তম মানুষ। আর তারা বিক্রয় করেছে খুবায়বকে তুচ্ছ বিনিময়ে তারা শোচনীয়ভাবে ধ্বংস হোক।
فأبى للحيان على كل حالة * على ذكر هم في الذكر كل عفاء
ধিক্কার সর্বাবস্থায় বনূ লিহয়ানের জন্য ইতিহাসের পাতা হতে তাদের স্মৃতি মুছে যাক।
قبيلة باللوم والغدر تفترى * فلم تمس يخفى لؤمها بخفاء
এরা একটি নীচাশয় গোত্র, যারা বিশ্বাসঘাতকতায় একে অপরকে উৎসাহ যোগায়। ফলে তাদের নীচতা আর মোটেই গোপন থাকে না।
فلوا قتلوا لم توف منه دماؤهم * بلى ان قتل القا تلبه شفائی
তাদের সকলকে যদি হত্যা করা হয়, তবু তাদের সকলের রক্ত দ্বারা তাঁর রক্তের ক্ষতিপূরণ হবে না। হ্যাঁ, সে ঘাতকদের হত্যা করতে পারলে আমার অন্তর কিছু শান্তি পেত।
فإلا امت اذعر هذيلا بغارة * كفادي الجهام المعتدى بإفاء
আমার যদি মৃত্যু না হয়, তবে আমি এক প্রত্যুষে হুযায়ল গোত্রের উপর এমন এক আক্রমণ চালাব, যা হবে মুষলধারায় বর্ষণের মত। তারপর আমি মালে গনীমত নিয়ে ফিরে আসব।
بامر رسول الله والامر امره * يبي للحيان الغناء بفناء
আর তা করব আল্লাহ্র রাসূলের নির্দেশে। তাঁর নির্দেশই তো চূড়ান্ত নির্দেশ। লিহয়ান গোত্রের বিশ্বাসঘাতকেরা খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছিল।
يصبح قوما بالرجيع كانهم * جداء شتاء تبن غير دفاء .
প্রভাত হতেই তারা রাজী'তে এসে সেই মহান লোকদের উপর হামলা করল। তখন তাদের মনে হচ্ছিল শীতকালীন ছাগ ছানা তুল্য কাপুরুষ, যারা সারারাত একটুও তাপের পরশ পায়নি।
হাসান (রা) তাদের ব্যঙ্গ করে আরও বলেন:
فلا والله ما درى هذيل * اصاف ماء زمزم ام مشوب
ولا لهم اذا اعتمروا وحجوا * من الحجرين والمسعى نصيب
ولكن الرجيع لهم مختل به اللوم المبين والعيوب
كانهم لدى الكنان اصلا * هم غروا بذمتهم خبيبا
تيوس بالحجاز لها نبيب * فبئس العهد عهدهم الكذوب *
না, না আল্লাহর কসম, বনু হুযায়ল জানে না- যমযমের পানি পরিষ্কার না ঘোলা।
নিষ্ফল তাদের হাজ্জ ও উমরা এবং হাজারে আসওয়াদের চুম্বন, বৃথা মাকামে ইবরাহীমের সালাত, সাফা-মারওয়ার প্রদক্ষিণ।
হ্যাঁ, রাজী'তে তারা বেশ কামিয়েছে, অনেক নিন্দাবাক্য, প্রচুর কলঙ্ক। দেদার কলঙ্ক।
তারা তো গৃহকোণে লুকিয়ে রাখা রাতের খাবার তুল্য (এক লোকমাতেই যা সাবাড় হয়ে যায়)। আর তারা যখন হিজাযে আসে তখন কুরবানীর বকরীর মত চিৎকার করতে।
তারা দায়িত্ব নেওয়া সত্ত্বেও খুবায়বের সাথে প্রতারণা করেছে। তাদের অংগীকার অতি নিকৃষ্ট, তা তো নির্জলা মিথ্যা।
ইব্ন হিশাম বলেন: শেষোক্ত পংক্তিটি আবূ যায়দ আনসারীর।
টিকাঃ
১. কাফিরদের হাত থেকে আসিম (রা)-এর লাশ রক্ষায় আল্লাহ্ তা'আলা এক ঝাঁক বোলতা নিযুক্ত করেছিলেন। তাই তাঁর উপাধি যু'দ দার হয়েছে।
হাসান ইবন সাবিত (রা) তাদের নিন্দায় আরও বলেন:
لحى الله الحيانا فليست دمائهم * لنا من قتيلى غدرة بوفاء
" লিহয়ান গোত্রকে আল্লাহ্ চরম শাস্তি দিন। তাদের সকলের রক্ত আমাদের কাছে সেই দু'জনের রক্তের সমান নয়, যাদেরকে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করেছে।
همو قتلوا يوم الرجيع ابن حرة * اخا ثقة في وده وصفاء
11 ** রাজী'র দিন তারা হত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তিকে, যিনি ছিলেন এক স্বাধীন নারীর পুত্র; ভালবাসা ও নিষ্ঠায় অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন।
فلوا قتلوا يوم الرجيع باسرهم * بذى الدبر ما كانوا له بكفاء
রাজী'র ঘটনায় নিহত যু'দ-দাবর'-এর একার বদলে যদি তাদের সকলকেও হত্যা করা হয়, তবু ও-তার যথার্থ প্রতিকার হবে না।
قتيل حمته الدبر بين بيوتهم * لدى اهل كفر ظاهر وجفاء
তিনি নিহত হওয়ার পর বোলতার ঝাঁক তাদের বসতিতে তাদেরই চোখের সামনে তাঁর লাশ হিফাজত করেছিল। বস্তুতঃ তাদের কুফরি গোপন নয়, বরং তারা প্রকাশ্য পাপাচারী।
فقد قتلت لحيان اكرم منهم * وباعوا خبيبا ويلهم بلقاء
লিহয়ান গোত্র হত্যা করেছে তাদের চাইতে উত্তম মানুষ। আর তারা বিক্রয় করেছে খুবায়বকে তুচ্ছ বিনিময়ে তারা শোচনীয়ভাবে ধ্বংস হোক।
فأبى للحيان على كل حالة * على ذكر هم في الذكر كل عفاء
ধিক্কার সর্বাবস্থায় বনূ লিহয়ানের জন্য ইতিহাসের পাতা হতে তাদের স্মৃতি মুছে যাক।
قبيلة باللوم والغدر تفترى * فلم تمس يخفى لؤمها بخفاء
এরা একটি নীচাশয় গোত্র, যারা বিশ্বাসঘাতকতায় একে অপরকে উৎসাহ যোগায়। ফলে তাদের নীচতা আর মোটেই গোপন থাকে না।
فلوا قتلوا لم توف منه دماؤهم * بلى ان قتل القا تلبه شفائی
তাদের সকলকে যদি হত্যা করা হয়, তবু তাদের সকলের রক্ত দ্বারা তাঁর রক্তের ক্ষতিপূরণ হবে না। হ্যাঁ, সে ঘাতকদের হত্যা করতে পারলে আমার অন্তর কিছু শান্তি পেত।
فإلا امت اذعر هذيلا بغارة * كفادي الجهام المعتدى بإفاء
আমার যদি মৃত্যু না হয়, তবে আমি এক প্রত্যুষে হুযায়ল গোত্রের উপর এমন এক আক্রমণ চালাব, যা হবে মুষলধারায় বর্ষণের মত। তারপর আমি মালে গনীমত নিয়ে ফিরে আসব।
بامر رسول الله والامر امره * يبي للحيان الغناء بفناء
আর তা করব আল্লাহ্র রাসূলের নির্দেশে। তাঁর নির্দেশই তো চূড়ান্ত নির্দেশ। লিহয়ান গোত্রের বিশ্বাসঘাতকেরা খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছিল।
يصبح قوما بالرجيع كانهم * جداء شتاء تبن غير دفاء .
প্রভাত হতেই তারা রাজী'তে এসে সেই মহান লোকদের উপর হামলা করল। তখন তাদের মনে হচ্ছিল শীতকালীন ছাগ ছানা তুল্য কাপুরুষ, যারা সারারাত একটুও তাপের পরশ পায়নি।
হাসান (রা) তাদের ব্যঙ্গ করে আরও বলেন:
فلا والله ما درى هذيل * اصاف ماء زمزم ام مشوب
ولا لهم اذا اعتمروا وحجوا * من الحجرين والمسعى نصيب
ولكن الرجيع لهم مختل به اللوم المبين والعيوب
كانهم لدى الكنان اصلا * هم غروا بذمتهم خبيبا
تيوس بالحجاز لها نبيب * فبئس العهد عهدهم الكذوب *
না, না আল্লাহর কসম, বনু হুযায়ল জানে না- যমযমের পানি পরিষ্কার না ঘোলা।
নিষ্ফল তাদের হাজ্জ ও উমরা এবং হাজারে আসওয়াদের চুম্বন, বৃথা মাকামে ইবরাহীমের সালাত, সাফা-মারওয়ার প্রদক্ষিণ।
হ্যাঁ, রাজী'তে তারা বেশ কামিয়েছে, অনেক নিন্দাবাক্য, প্রচুর কলঙ্ক। দেদার কলঙ্ক।
তারা তো গৃহকোণে লুকিয়ে রাখা রাতের খাবার তুল্য (এক লোকমাতেই যা সাবাড় হয়ে যায়)। আর তারা যখন হিজাযে আসে তখন কুরবানীর বকরীর মত চিৎকার করতে।
তারা দায়িত্ব নেওয়া সত্ত্বেও খুবায়বের সাথে প্রতারণা করেছে। তাদের অংগীকার অতি নিকৃষ্ট, তা তো নির্জলা মিথ্যা।
ইব্ন হিশাম বলেন: শেষোক্ত পংক্তিটি আবূ যায়দ আনসারীর।
টিকাঃ
১. কাফিরদের হাত থেকে আসিম (রা)-এর লাশ রক্ষায় আল্লাহ্ তা'আলা এক ঝাঁক বোলতা নিযুক্ত করেছিলেন। তাই তাঁর উপাধি যু'দ দার হয়েছে।
📄 খুবায়ব (রা) ও তাঁর সংগীদের জন্য মাতম
ইবন ইসহাক বলেন: খুবায়ব (রা) ও তাঁর সংগীদের হত্যার পর, তাদের জন্য নিম্নলিখিত কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছিল। ইবন হিশাম বলেন: এই কবিতাগুলো আবূ আযফার গিফারী (রা)-এর রচিত। তিনি খুবায়ব (রা)-এর হত্যার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন:
হে চক্ষু! তুমি ক্রন্দন করো, আর তোমার অশ্রু প্রবাহিত হতে দাও, এমনভাবে ক্রন্দন করো যেন তোমার অন্তর শান্ত হয়।
এমন বীরদের জন্য ক্রন্দন করো, যারা শাহাদাত বরণ করেছে। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে।
খুবায়ব, যাকে মক্কার কাফিররা হত্যা করেছে, তার জন্য ক্রন্দন করো। তারা তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে, কারণ সে ইসলাম গ্রহণ করেছিল।
তারা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করেছিল, আর সে আল্লাহ্র পথে ধৈর্য ধারণ করেছিল।
তারা তাকে অপমান করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সে সম্মানিতই রয়েছিল।
আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, আর তাকে যারা হত্যা করেছে, তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।