📄 রাজী'র ঘটনা সম্পর্কে অবতীর্ণ কুরআনের আয়াত
ইবন ইসহাক বলেন: এ অভিযান সম্পর্কে কুরআনের যে আয়াত নাযিল হয়, সে সম্বন্ধে যায়দ ইবন সাবিত পরিবারের জনৈক আযাদকৃত গোলাম, ইব্ন আব্বাস (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম ইকরিমা অথবা সাঈদ ইব্ন জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন যে, ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন: মারসাদ ও আসিম যে অভিযানে ছিলেন সেটি যখন বিপদগ্রস্ত হল তখন মুনাফিকরা বলতে লাগল: ধিক ঐ পাগলদের জন্য, যারা ধ্বংস হলো। না তারা ঘরে বসে থাকল, আর না তারা তাদের নেতার বার্তা পৌঁছাতে পারল। আল্লাহ্ তা'আলা মুনাফিকদের এই উক্তি এবং সাহাবিগণ শাহাদতের বিনিময়ে যে মহামর্যাদার অধিকারী হলেন সে সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللهَ عَلَى مَا فِي قَلْبِهِ وَهُوَ الدُّ الخِصَامُ
মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার কথাবার্তা (অর্থাৎ তার মৌখিক ইসলাম প্রকাশ) তোমাকে চমৎকৃত করে এবং তার অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে সে আল্লাহকে সাক্ষী রাখে (বস্তুত তার অন্তর তার মৌখিক কথার পরিপন্থী)। আসলে সে কিন্তু ঘোর বিরোধী। (অর্থাৎ তোমার সাথে যখন কথাবার্তা ও আলোচনা করে তখন তর্ক-বিতর্কের আশ্রয় নেয়)। (২: ২০৪)।
ইবন হিশাম বলেন: لادا অর্থ বিতণ্ডাপ্রবণ, তর্ক-বিতর্কে যে অনমনীয়। এর বহুবচন' কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : وَتُنْذَرَبَه قَوْمًا لدا অর্থাৎ তুমি এর দ্বারা বিতণ্ডাপ্রবণ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার (১৯: ৯৭)।
মুহাল্লাল ইবন রাবী'আ তাগলিবী, যার আসল নাম ইমরাউল কায়স, কারও মতে 'আদী ইবন রাবী'আ তিনি তার একটি গীতি কবিতায় বলেন:
ان تحت الاحجار حدا ولينا * وخصيما الد ذا معلاق
পাথরের নীচে আছে তীক্ষ্ণতা ও নম্রতা, আর আছে বিতণ্ডাপ্রবণ প্রতিপক্ষ, যে দলীল প্রমাণে বিরোধীকে ঘায়েল করে।
এ কবিতাটির অপর এক বর্ণনায় امعلاق; এর স্থলে زامغلاق বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিতণ্ডাপ্রবণ।
ইব্ন ইসহাক বলেন, এরপর আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ الْفَسَادَ
"যখন সে প্রস্থান করে (অর্থাৎ তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায়) তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত্র ও জীব-জন্তুর বংশ নিপাতের চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহ্ অশান্তি পছন্দ করেন না (অর্থাৎ তার কর্মকাণ্ড আল্লাহ্ ভালবাসেন না এবং তা তাঁর মনঃপূত নয়) (২: ২০৫)।
وَإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللَّهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالْإِثْمِ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ وَلِبِئْسَ الْمِهَادُ ، وَمِنَ النَّاسِ مَن يُشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرَضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُفٌ بِالْعِبَادِ .
যখন তাকে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপানুষ্ঠানে লিপ্ত করে। সুতরাং জাহান্নামই তার জন্য যোগ্য। নিশ্চায়ই তা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল। আর মানুষের মধ্যে অনেকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভার্থে আত্ম-বিক্রয় করে থাকে। আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র অর্থাৎ তারা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করে এবং তাঁর হক আদায়ে যত্নবান থেকে নিজেদেরকে তাঁর কাছে বিক্রয় করে দিয়েছে। পরিশেষে তারা এভাবে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। এর দ্বারা রাজী'র ঘটনায় শাহাদত প্রাপ্ত সাহাবা-ই কিরামকে বোঝান হয়েছে (২: ২০৬-২০৭)।
ইব্ন হিশাম বলেন : بشرى نفسه অর্থ আত্ম-বিক্রয় করে। شروا অর্থাৎ তারা বিক্রয় করল। যায়দ ইবন রাবী'আ ইন্ন মুফাররিগ হিময়ারী বলেন:
وشريت بردا ليتني * من بعد برد كنت هامه
আমি বুরদাকে বিক্রয় করে ফেললাম। হায়, বুরদা চলে যাওয়ার পর আমি যদি হামাহ (পাখী) হয়ে যেতাম।
এটা যায়দের একটি শোকগাথার অংশ বিশেষ। বুরদা ছিল তার গোলাম, যাকে সে বিক্রয় করেছিল।
شری শব্দটি ক্রয় করা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। কবি বলেন,
فقلت لها لا تجزعي ام مالك * على ابنيك ان عبد لئيم شراهما
আমি তাকে বললাম, হে উম্মু মালিক, তুমি তোমার পুত্রদ্বয়ের জন্য অস্থির হয়ো না; যদিও কোন ইতর লোক তাদের কিনে থাকে।
ইবন ইসহাক বলেন: এ অভিযান সম্পর্কে কুরআনের যে আয়াত নাযিল হয়, সে সম্বন্ধে যায়দ ইবন সাবিত পরিবারের জনৈক আযাদকৃত গোলাম, ইব্ন আব্বাস (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম ইকরিমা অথবা সাঈদ ইব্ন জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন যে, ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন: মারসাদ ও আসিম যে অভিযানে ছিলেন সেটি যখন বিপদগ্রস্ত হল তখন মুনাফিকরা বলতে লাগল: ধিক ঐ পাগলদের জন্য, যারা ধ্বংস হলো। না তারা ঘরে বসে থাকল, আর না তারা তাদের নেতার বার্তা পৌঁছাতে পারল। আল্লাহ্ তা'আলা মুনাফিকদের এই উক্তি এবং সাহাবিগণ শাহাদতের বিনিময়ে যে মহামর্যাদার অধিকারী হলেন সে সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللهَ عَلَى مَا فِي قَلْبِهِ وَهُوَ الدُّ الخِصَامُ
মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার কথাবার্তা (অর্থাৎ তার মৌখিক ইসলাম প্রকাশ) তোমাকে চমৎকৃত করে এবং তার অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে সে আল্লাহকে সাক্ষী রাখে (বস্তুত তার অন্তর তার মৌখিক কথার পরিপন্থী)। আসলে সে কিন্তু ঘোর বিরোধী। (অর্থাৎ তোমার সাথে যখন কথাবার্তা ও আলোচনা করে তখন তর্ক-বিতর্কের আশ্রয় নেয়)। (২: ২০৪)।
ইবন হিশাম বলেন: لادا অর্থ বিতণ্ডাপ্রবণ, তর্ক-বিতর্কে যে অনমনীয়। এর বহুবচন' কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : وَتُنْذَرَبَه قَوْمًا لدا অর্থাৎ তুমি এর দ্বারা বিতণ্ডাপ্রবণ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার (১৯: ৯৭)।
মুহাল্লাল ইবন রাবী'আ তাগলিবী, যার আসল নাম ইমরাউল কায়স, কারও মতে 'আদী ইবন রাবী'আ তিনি তার একটি গীতি কবিতায় বলেন:
ان تحت الاحجار حدا ولينا * وخصيما الد ذا معلاق
পাথরের নীচে আছে তীক্ষ্ণতা ও নম্রতা, আর আছে বিতণ্ডাপ্রবণ প্রতিপক্ষ, যে দলীল প্রমাণে বিরোধীকে ঘায়েল করে।
এ কবিতাটির অপর এক বর্ণনায় امعلاق; এর স্থলে زامغلاق বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিতণ্ডাপ্রবণ।
ইব্ন ইসহাক বলেন, এরপর আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ الْفَسَادَ
"যখন সে প্রস্থান করে (অর্থাৎ তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায়) তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত্র ও জীব-জন্তুর বংশ নিপাতের চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহ্ অশান্তি পছন্দ করেন না (অর্থাৎ তার কর্মকাণ্ড আল্লাহ্ ভালবাসেন না এবং তা তাঁর মনঃপূত নয়) (২: ২০৫)।
وَإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللَّهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالْإِثْمِ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ وَلِبِئْسَ الْمِهَادُ ، وَمِنَ النَّاسِ مَن يُشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرَضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُفٌ بِالْعِبَادِ .
যখন তাকে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপানুষ্ঠানে লিপ্ত করে। সুতরাং জাহান্নামই তার জন্য যোগ্য। নিশ্চায়ই তা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল। আর মানুষের মধ্যে অনেকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভার্থে আত্ম-বিক্রয় করে থাকে। আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র অর্থাৎ তারা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করে এবং তাঁর হক আদায়ে যত্নবান থেকে নিজেদেরকে তাঁর কাছে বিক্রয় করে দিয়েছে। পরিশেষে তারা এভাবে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। এর দ্বারা রাজী'র ঘটনায় শাহাদত প্রাপ্ত সাহাবা-ই কিরামকে বোঝান হয়েছে (২: ২০৬-২০৭)।
ইব্ন হিশাম বলেন : بشرى نفسه অর্থ আত্ম-বিক্রয় করে। شروا অর্থাৎ তারা বিক্রয় করল। যায়দ ইবন রাবী'আ ইন্ন মুফাররিগ হিময়ারী বলেন:
وشريت بردا ليتني * من بعد برد كنت هامه
আমি বুরদাকে বিক্রয় করে ফেললাম। হায়, বুরদা চলে যাওয়ার পর আমি যদি হামাহ (পাখী) হয়ে যেতাম।
এটা যায়দের একটি শোকগাথার অংশ বিশেষ। বুরদা ছিল তার গোলাম, যাকে সে বিক্রয় করেছিল।
شری শব্দটি ক্রয় করা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। কবি বলেন,
فقلت لها لا تجزعي ام مالك * على ابنيك ان عبد لئيم شراهما
আমি তাকে বললাম, হে উম্মু মালিক, তুমি তোমার পুত্রদ্বয়ের জন্য অস্থির হয়ো না; যদিও কোন ইতর লোক তাদের কিনে থাকে।
📄 রাজী'র হৃদয়বিদারক ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন: এ ঘটনায় আবৃত্ত কবিতাবলী নিম্নে উদ্ধৃত করা গেল। খুবায়ব (রা) যখন শুনলেন, কাফিররা তাকে শূলবিদ্ধ করতে সমবেত হয়েছে, তখন তিনি আবৃত্তি করেন:
لقد جمع الاحزاب حولى والبوا * قبائلهم واستجمعوا كل مجمع
আমার পাশে সম্প্রদায়গুলো সমবেত হয়েছে। তারা তাদের সকল গোত্রকে এখানে জমায়েত করেছে।
كلهم مبدى العداوة جاهد * على لأني في وثاق بمضيع
তারা সকলে আমার প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করছে, করছে নির্যাতন, আমি যে তাদের যজ্ঞস্থলে বন্দী।
وقد جمعوا ابناء هم ونساءهم * وقربت من جدع طويل ممنع
তারা তাদের সন্তান-সন্ততি ও নারীদেরও জমায়েত করেছে এবং আমাকে (শূলে চড়ানোর জন্য) দীর্ঘ, মজবুত ডালের নিকটবর্তী করা হয়েছে।
الى الله اشكو غرهتي ثم كرهتي * وما ارصد الاحزاب لي عند مصرعي
আমার অসহায়ত্ব ও বিপদের ফরিয়াদ শুধু আল্লাহকেই জানাই, আর শত্রুদল এ যজ্ঞস্থলে আমার জন্য যে আয়োজন করেছে তারও।
فذا العرش صبرني على ما يراد بي * فقد بضعوا لحمى وقد يأس مطمعي
হে আরশের অধিপতি! আমার প্রতি তাদের যে অভিপ্রায়, তাতে আমার ধৈর্যের ক্ষমতা দিন। তারাতো আমার গোশতকে টুকরো টুকরো করার ইরাদা করেছে, এখন আমার জীবনের আশা নিরাশায় রূপান্তরিত হয়েছে।
وذاك في ذات الا له وان يشأ * يبارك على اوصال شلو ممزع
আর এ সব তো আল্লাহ্রই উদ্দেশ্যে, তিনি চাইলে আমার ছিন্ন ভিন্ন দেহেও বরকত দিতে পারেন।
وقد خيروني الكفر والموت دونه * وقد هملت عيناي من غير مجزع
তারা আমাকে কুফ্রী কিংবা মৃত্যু-এর যে কোন একটি বেছে নিতে বলেছে। আর আমার দু'চোখ অশ্রু বহাচ্ছে, তবে তা মৃত্যুর ভয়ে না (বরং আল্লাহ্র ভয়ে)।
ومابي حذار الموت اني لميت * ولكن حذارى جحم نار ملفع
আমি মৃত্যুকে ভয় করি না, আমি তো একদিন মরবই আমি তো জাহান্নামের লেলিহান আগুনকে ভয় করি, যা আচ্ছন্ন করবে।
فوالله ما ارجو اذام مسلما * علی ای جنب كان في الله مصرعي
আল্লাহ্র কসম! আমি কিছুই পরওয়া করি না, যখন আমি মুসলিম হিসেবেই মারা যাচ্ছি। যে দিকেই মুখ করে থাকি না কেন, আল্লাহরই উদ্দেশ্যে আমার এ মরণ।
فلست بمبد للعدو تخشعا * ولا جزعا اني الى الله مرجعی
আমি শত্রুর সামনে কোন ধরনের দুর্বলতা ও অস্থিরতা প্রকাশকারী নই, নিশ্চয়ই আল্লাহরই কাছে আমার প্রত্যাবর্তন।
ইব্ন হিশাম বলেন: কাব্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ অবশ্য এ কবিতাকে খুবায়ব (রা)-এর বলে স্বীকার করেন না।
ইবন ইসহাক বলেন: এ ঘটনায় আবৃত্ত কবিতাবলী নিম্নে উদ্ধৃত করা গেল। খুবায়ব (রা) যখন শুনলেন, কাফিররা তাকে শূলবিদ্ধ করতে সমবেত হয়েছে, তখন তিনি আবৃত্তি করেন:
لقد جمع الاحزاب حولى والبوا * قبائلهم واستجمعوا كل مجمع
আমার পাশে সম্প্রদায়গুলো সমবেত হয়েছে। তারা তাদের সকল গোত্রকে এখানে জমায়েত করেছে।
كلهم مبدى العداوة جاهد * على لأني في وثاق بمضيع
তারা সকলে আমার প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করছে, করছে নির্যাতন, আমি যে তাদের যজ্ঞস্থলে বন্দী।
وقد جمعوا ابناء هم ونساءهم * وقربت من جدع طويل ممنع
তারা তাদের সন্তান-সন্ততি ও নারীদেরও জমায়েত করেছে এবং আমাকে (শূলে চড়ানোর জন্য) দীর্ঘ, মজবুত ডালের নিকটবর্তী করা হয়েছে।
الى الله اشكو غرهتي ثم كرهتي * وما ارصد الاحزاب لي عند مصرعي
আমার অসহায়ত্ব ও বিপদের ফরিয়াদ শুধু আল্লাহকেই জানাই, আর শত্রুদল এ যজ্ঞস্থলে আমার জন্য যে আয়োজন করেছে তারও।
فذا العرش صبرني على ما يراد بي * فقد بضعوا لحمى وقد يأس مطمعي
হে আরশের অধিপতি! আমার প্রতি তাদের যে অভিপ্রায়, তাতে আমার ধৈর্যের ক্ষমতা দিন। তারাতো আমার গোশতকে টুকরো টুকরো করার ইরাদা করেছে, এখন আমার জীবনের আশা নিরাশায় রূপান্তরিত হয়েছে।
وذاك في ذات الا له وان يشأ * يبارك على اوصال شلو ممزع
আর এ সব তো আল্লাহ্রই উদ্দেশ্যে, তিনি চাইলে আমার ছিন্ন ভিন্ন দেহেও বরকত দিতে পারেন।
وقد خيروني الكفر والموت دونه * وقد هملت عيناي من غير مجزع
তারা আমাকে কুফ্রী কিংবা মৃত্যু-এর যে কোন একটি বেছে নিতে বলেছে। আর আমার দু'চোখ অশ্রু বহাচ্ছে, তবে তা মৃত্যুর ভয়ে না (বরং আল্লাহ্র ভয়ে)।
ومابي حذار الموت اني لميت * ولكن حذارى جحم نار ملفع
আমি মৃত্যুকে ভয় করি না, আমি তো একদিন মরবই আমি তো জাহান্নামের লেলিহান আগুনকে ভয় করি, যা আচ্ছন্ন করবে।
فوالله ما ارجو اذام مسلما * علی ای جنب كان في الله مصرعي
আল্লাহ্র কসম! আমি কিছুই পরওয়া করি না, যখন আমি মুসলিম হিসেবেই মারা যাচ্ছি। যে দিকেই মুখ করে থাকি না কেন, আল্লাহরই উদ্দেশ্যে আমার এ মরণ।
فلست بمبد للعدو تخشعا * ولا جزعا اني الى الله مرجعی
আমি শত্রুর সামনে কোন ধরনের দুর্বলতা ও অস্থিরতা প্রকাশকারী নই, নিশ্চয়ই আল্লাহরই কাছে আমার প্রত্যাবর্তন।
ইব্ন হিশাম বলেন: কাব্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ অবশ্য এ কবিতাকে খুবায়ব (রা)-এর বলে স্বীকার করেন না।
📄 খুবায়ব (রা)-এর জন্য শোকগাথা
হাসান ইব্ন সাবিত (রা) খুবায়ব (রা)-এর প্রতি এভাবে শোক প্রকাশ করেন:
مابال عينك لا ترقا مدامعها * سحا على الصدر مثل اللؤلؤ القلق
على حبيب فتى الفتيان قد علموا * لا فشل حين تلقاه ولا نزق
فاذهب حبيب جزاك الله طيبة * وجنة الخلد عند الحور في الرفق
* ماذا تقولون ان قال النبي لكم
فيما قتلتم شهيد الله في رجل * * حين الملئكة الأبرار في الافق
طاغ قد أوعث في البلدان والرفق
(হাসান!) কি হল তোমার চোখের, অশ্রু যে বাঁধা মানছে না বুকের উপর দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে, যেন তা ভাঙা মুক্তোর ধারা।
এ অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে খুবায়বের শোকে যে সেইসব যুবকদের মধ্যমণি, যারা জানে, আল্লাহর সাথে মিলনের পর থাকবে না কোন ব্যর্থতা, আর না কোন কালিমা।
হে খুবায়ব! তুমি চলে যাও আল্লাহ্ তোমাকে উত্তম বদলা দিন। তোমাকে দান করুন স্থায়ী জান্নাত, সাথীদের সাথে হুরের সাহচর্যে, তোমরা সেদিন কি জবাব দেবে, যেদিন দিক-দিগন্তে সমবেত পবিত্র ফেরেশতাদের সামনে আল্লাহর নবী তোমাদের জিজ্ঞাসা করবেন:
কি কারণে তোমরা আল্লাহ্ শহীদকে ঐ ব্যক্তির বদলে হত্যা করলে, যে এমন একজন আল্লাহদ্রোহী যে ব্যক্তি শহরে ও গ্রামে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল?'
ইবন হিশাম বলেন, কোন কোন বর্ণনায় الرفق এর স্থলে الطرق বলা হয়েছে, অর্থাৎ পথে-ঘাটে। কবিতাটির অবশিষ্টাংশ এখানে উদ্ধৃত করা হল না। তাতে হাসান (রা) উক্ত আল্লাহদ্রোহীর নিন্দাবাদ করেছেন।
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান ইন্ন সাবিত (রা) খুবায়র (রা)-এর শাহাদতে ক্রন্দন করে আরও বলেন:
یا عین جودي بدمع منك منكب * * * * * * وابكي خبيبا مع الفتيان لم يوب
صقرا توسط في الانصار منصبه * سمح السجية محضا غير مؤتشب
قدهاج عينى على علا تعبر تها * اذ قبل نص الى جدع من الخشب
يأيها الراكب الغادي لطيته * ابلغ لديك وعيدا ليس بالكذب
بني كهيبة ان الحرب قد لقحت * محلوبها الصاب اذ تمرى المحتلب
فيها اسوذ بني النجار تقدمهم * شهب الاسنة في معصو صب لجب
হে চোখ! অশ্রু বহাও অবিশ্রান্ত ধারায়। খুবায়বের জন্য কাঁদ, সে যুবকদের সাথে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।
খুবায়বের জন্য কাঁদ, মর্যাদায় যে ছিল আনসারদের মধ্যমণি। আর অত্যন্ত উদার চরিত্রের এবং নির্ভেজাল কুলীন।
কেঁদে কেঁদে তো আমার চোখ শুকিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু যখন বলা হলো: খুবায়বকে শূলে চড়ান হয়েছে, তখন আবার সে শুকনো চোখে অশ্রুর জোয়ার এলো।
হে ভোরের যাত্রী! তুমি সে ইতরদেরকে আমার এ বার্তা পৌঁছে দাও, যা মিথ্যা নয়।
তাদের বলে দাও, যুদ্ধের আগুন জ্বলবেই এবং এর দুধ হবে হানজাল (ফল) অপেক্ষাও তেতো যখন দোহনকারী তা দোহাবে।
সে যুদ্ধে নাজ্জার গোত্রের দু'টি সিংহ থাকবে, যাদের সামনে থাকবে উল্কাপিণ্ডতুল্য তীর ও তরবারিধারী এক বিশাল সেনাবাহিনী।
টিকাঃ
১. এ দ্বারা হারিসকে বোঝান হয়েছে। বদর যুদ্ধে খুবায়র (রা)-এর হাতে সে নিহত হয়েছিল।
হাসান ইব্ন সাবিত (রা) খুবায়ব (রা)-এর প্রতি এভাবে শোক প্রকাশ করেন:
مابال عينك لا ترقا مدامعها * سحا على الصدر مثل اللؤلؤ القلق
على حبيب فتى الفتيان قد علموا * لا فشل حين تلقاه ولا نزق
فاذهب حبيب جزاك الله طيبة * وجنة الخلد عند الحور في الرفق
* ماذا تقولون ان قال النبي لكم
فيما قتلتم شهيد الله في رجل * * حين الملئكة الأبرار في الافق
طاغ قد أوعث في البلدان والرفق
(হাসান!) কি হল তোমার চোখের, অশ্রু যে বাঁধা মানছে না বুকের উপর দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে, যেন তা ভাঙা মুক্তোর ধারা।
এ অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে খুবায়বের শোকে যে সেইসব যুবকদের মধ্যমণি, যারা জানে, আল্লাহর সাথে মিলনের পর থাকবে না কোন ব্যর্থতা, আর না কোন কালিমা।
হে খুবায়ব! তুমি চলে যাও আল্লাহ্ তোমাকে উত্তম বদলা দিন। তোমাকে দান করুন স্থায়ী জান্নাত, সাথীদের সাথে হুরের সাহচর্যে, তোমরা সেদিন কি জবাব দেবে, যেদিন দিক-দিগন্তে সমবেত পবিত্র ফেরেশতাদের সামনে আল্লাহর নবী তোমাদের জিজ্ঞাসা করবেন:
কি কারণে তোমরা আল্লাহ্ শহীদকে ঐ ব্যক্তির বদলে হত্যা করলে, যে এমন একজন আল্লাহদ্রোহী যে ব্যক্তি শহরে ও গ্রামে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল?'
ইবন হিশাম বলেন, কোন কোন বর্ণনায় الرفق এর স্থলে الطرق বলা হয়েছে, অর্থাৎ পথে-ঘাটে। কবিতাটির অবশিষ্টাংশ এখানে উদ্ধৃত করা হল না। তাতে হাসান (রা) উক্ত আল্লাহদ্রোহীর নিন্দাবাদ করেছেন।
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান ইন্ন সাবিত (রা) খুবায়র (রা)-এর শাহাদতে ক্রন্দন করে আরও বলেন:
یا عین جودي بدمع منك منكب * * * * * * وابكي خبيبا مع الفتيان لم يوب
صقرا توسط في الانصار منصبه * سمح السجية محضا غير مؤتشب
قدهاج عينى على علا تعبر تها * اذ قبل نص الى جدع من الخشب
يأيها الراكب الغادي لطيته * ابلغ لديك وعيدا ليس بالكذب
بني كهيبة ان الحرب قد لقحت * محلوبها الصاب اذ تمرى المحتلب
فيها اسوذ بني النجار تقدمهم * شهب الاسنة في معصو صب لجب
হে চোখ! অশ্রু বহাও অবিশ্রান্ত ধারায়। খুবায়বের জন্য কাঁদ, সে যুবকদের সাথে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।
খুবায়বের জন্য কাঁদ, মর্যাদায় যে ছিল আনসারদের মধ্যমণি। আর অত্যন্ত উদার চরিত্রের এবং নির্ভেজাল কুলীন।
কেঁদে কেঁদে তো আমার চোখ শুকিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু যখন বলা হলো: খুবায়বকে শূলে চড়ান হয়েছে, তখন আবার সে শুকনো চোখে অশ্রুর জোয়ার এলো।
হে ভোরের যাত্রী! তুমি সে ইতরদেরকে আমার এ বার্তা পৌঁছে দাও, যা মিথ্যা নয়।
তাদের বলে দাও, যুদ্ধের আগুন জ্বলবেই এবং এর দুধ হবে হানজাল (ফল) অপেক্ষাও তেতো যখন দোহনকারী তা দোহাবে।
সে যুদ্ধে নাজ্জার গোত্রের দু'টি সিংহ থাকবে, যাদের সামনে থাকবে উল্কাপিণ্ডতুল্য তীর ও তরবারিধারী এক বিশাল সেনাবাহিনী।
টিকাঃ
১. এ দ্বারা হারিসকে বোঝান হয়েছে। বদর যুদ্ধে খুবায়র (রা)-এর হাতে সে নিহত হয়েছিল।
📄 খুবায়ব (রা)-এর শাহাদতের সময় উপস্থিত কাফিরবৃন্দ
ইবন হিশাম বলেন: এ শোকগাথাটি আগেরটার মত। কাব্য বিশারদদের অনেকে এদু'টিকে হাসান (রা)-এর কাসীদা বলে স্বীকার করেন না। খুবায়ব (রা) সম্পর্কে রচিত তাঁর কিছু শ্লোক আমি এখানে পূর্বোক্ত কারণে উল্লেখ করিনি।
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান ইব্ন সাবিত (রা) আরও বলেন:
لو كان في الدار قرم ماجد بطل * ألوى من القوم صقر خاله انس
اذن وجدت خبيبا مجلسا فسحا * ولم يشد عليك السجن والحرس
ولم تسقك الى التنعيم زعنفة * من القبائل منهم من نفت عدس
وانت ضيم لها في الدار محتبس * دلوك غدرا وهم فيها أولو خلف
যদি এ বসতিতে সম্প্রদায়ের মর্যাদাবান ও সাহসী ব্যক্তি থাকত, বাজপক্ষীর মত ক্ষীপ্র হত যার আক্রমণ এবং যিনি আনাসের ভাগ্নে, তা হলে হে খুবায়ব! তুমি পেতে এক প্রশস্ত অবস্থান।
কেউ তোমাকে বন্দী করতে আসত না এবং তুমি অন্তরীণ হতে না,
তোমাকে তানঈমে টেনে হিঁচড়ে নিতে পারত না, সেই সব লোক যারা নিজেদের মিথ্যা বংশ পরিচয় দেয় (তারা বলে আমরা আদাস গোত্রীয়) অথচ আদাস গোত্রের প্রধান পুরুষগণ তাদের অস্বীকার করে।
তারা তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আসলে বিশ্বাসঘাতকতাই তাদের চরিত্র। আহা, বন্দী অবস্থায় তুমি তো তাদের মাঝে অসহায় হয়ে পড়েছিলে।
ইব্ন হিশাম বলেন: আনাস হচ্ছেন সুলায়ম গোত্রীয় জনৈক বধির ব্যক্তি এবং মুতঈম ইব্ন 'আদী ইব্ন নাওফাল ইব্ন আব্দ মানাফ-এর মামা।
(نفت عدس -)আদাস গোত্র প্রত্যাখ্যান করেছে) এ কথার দ্বারা হুজায়র ইব্ন আবূ ইহাবকে বোঝান হয়েছে। কারও মতে আ'শ ইব্ন যুরারা ইব্ন নাব্বাশ আসাদীকে বোঝান হয়েছে। সে ছিল বনূ নাওফাল ইব্ন আব্দ মানাফের মিত্র।
ইবন ইসহাক বলেন: খুবায়ব (রা)-কে শহীদ করার সময় কুরায়শ গোত্রের যারা সমেবত হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছিল তারা হলো: ইকরামা ইব্ন আবু জাহল, সাঈদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু কায়স ইব্ন আবদ উদ্দ, বনু যুহরার মিত্র আখনাস ইব্ন শারীক সাকাফী, বন্ উমাইয়া ইব্ন আব্দ শামসের মিত্র উবায়দা ইব্ন্ন হাকীম ইবন উমাইয়া ইব্ন হারিছা ইব্ন আওকাস সুলামী, উমাইয়ার ইব্ন আবূ উদ্বা ও হাফ্রামীর পুত্রগণ।
ইবন হিশাম বলেন: এ শোকগাথাটি আগেরটার মত। কাব্য বিশারদদের অনেকে এদু'টিকে হাসান (রা)-এর কাসীদা বলে স্বীকার করেন না। খুবায়ব (রা) সম্পর্কে রচিত তাঁর কিছু শ্লোক আমি এখানে পূর্বোক্ত কারণে উল্লেখ করিনি।
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান ইব্ন সাবিত (রা) আরও বলেন:
لو كان في الدار قرم ماجد بطل * ألوى من القوم صقر خاله انس
اذن وجدت خبيبا مجلسا فسحا * ولم يشد عليك السجن والحرس
ولم تسقك الى التنعيم زعنفة * من القبائل منهم من نفت عدس
وانت ضيم لها في الدار محتبس * دلوك غدرا وهم فيها أولو خلف
যদি এ বসতিতে সম্প্রদায়ের মর্যাদাবান ও সাহসী ব্যক্তি থাকত, বাজপক্ষীর মত ক্ষীপ্র হত যার আক্রমণ এবং যিনি আনাসের ভাগ্নে, তা হলে হে খুবায়ব! তুমি পেতে এক প্রশস্ত অবস্থান।
কেউ তোমাকে বন্দী করতে আসত না এবং তুমি অন্তরীণ হতে না,
তোমাকে তানঈমে টেনে হিঁচড়ে নিতে পারত না, সেই সব লোক যারা নিজেদের মিথ্যা বংশ পরিচয় দেয় (তারা বলে আমরা আদাস গোত্রীয়) অথচ আদাস গোত্রের প্রধান পুরুষগণ তাদের অস্বীকার করে।
তারা তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আসলে বিশ্বাসঘাতকতাই তাদের চরিত্র। আহা, বন্দী অবস্থায় তুমি তো তাদের মাঝে অসহায় হয়ে পড়েছিলে।
ইব্ন হিশাম বলেন: আনাস হচ্ছেন সুলায়ম গোত্রীয় জনৈক বধির ব্যক্তি এবং মুতঈম ইব্ন 'আদী ইব্ন নাওফাল ইব্ন আব্দ মানাফ-এর মামা।
(نفت عدس -)আদাস গোত্র প্রত্যাখ্যান করেছে) এ কথার দ্বারা হুজায়র ইব্ন আবূ ইহাবকে বোঝান হয়েছে। কারও মতে আ'শ ইব্ন যুরারা ইব্ন নাব্বাশ আসাদীকে বোঝান হয়েছে। সে ছিল বনূ নাওফাল ইব্ন আব্দ মানাফের মিত্র।
ইবন ইসহাক বলেন: খুবায়ব (রা)-কে শহীদ করার সময় কুরায়শ গোত্রের যারা সমেবত হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছিল তারা হলো: ইকরামা ইব্ন আবু জাহল, সাঈদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু কায়স ইব্ন আবদ উদ্দ, বনু যুহরার মিত্র আখনাস ইব্ন শারীক সাকাফী, বন্ উমাইয়া ইব্ন আব্দ শামসের মিত্র উবায়দা ইব্ন্ন হাকীম ইবন উমাইয়া ইব্ন হারিছা ইব্ন আওকাস সুলামী, উমাইয়ার ইব্ন আবূ উদ্বা ও হাফ্রামীর পুত্রগণ।