📄 খুবায়ব (রা) ও তাঁর সংগীদের শাহাদত প্রসংগে
আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইব্ন হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিয়াদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ বাক্কায়ী, মুহাম্মদ ইব্ন্ন ইসহাক মুত্তালিবী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আসিম ইবন উমর ইব্ন কাতাদা বর্ণনা করেন: উহুদ যুদ্ধের পর আল ও কারাহ্ গোত্রের একদল লোক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়।
ইব্ন হিশাম বলেন: আল ও কারা হচ্ছে হাওন ইব্ন খুযায়মা ইন্ন মুদরিকার শাখা গোত্র।
ইবন হিশাম বলেন: 'হাওনকে হুনও বলা হয়।
ইবন ইসহাক বলেন: তারা এসে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমাদের গোত্রে ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে। কাজেই আপনার সাহাবীদের থেকে কিছু লোক আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিন। তাঁরা আমাদেরকে দীনের বিধি-বিধান শিক্ষা দেবেন, আমাদের কুরআন পড়াবেন এবং ইসলামের বিস্তারিত তালীম দেবেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের কথামত ছয়জন সাহাবীকে পাঠিয়ে দিলেন। তাঁরা হচ্ছেন: মারছাদ ইব্ন আবূ মারছাদ গানাবী (রা) খালিদ ইব্ন বুকায়র লায়সী (রা), আসিম ইন্ন সাবিত ইব্ন আবুল আকলাহ (রা), খুবায়ব ইব্ন 'আদী (রা), যায়দ ইব্ন দাসিনা (রা) ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন তারিক। মারসাদ (রা) ছিলেন হামযা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব (রা)-এর মিত্র, খালিদ (রা) ছিলেন 'আদী ইব্ন কা'ব গোত্রের মিত্র, আসিম (রা) ছিলেন বনূ আম্ম ইন্ন আওফ ইব্ন মালিক ইব্ন আওসের মিত্র, খুবায়ব (রা) ছিলেন জাহাবা ইব্ন কুলফা ইন্ন আমর ইব্ন আওফ গোত্রের লোক, যায়দ (রা) ছিলেন বনূ বায়াযা ইব্ন আম্ম ইন্ন যুরায়ক ইব্ন আব্দ হারিসা ইবন মালিক ইব্ন গাব ইব্ন জুশাম ইব্ন খাযরাজ গোত্রের লোক এবং আবদুল্লাহ্ (রা) ছিলেন বনু যাফর ইবন খাযরাজ ইব্ন আমর ইব্ন মালিক ইব্ন আওসের মিত্র।
আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইব্ন হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিয়াদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ বাক্কায়ী, মুহাম্মদ ইব্ন্ন ইসহাক মুত্তালিবী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আসিম ইবন উমর ইব্ন কাতাদা বর্ণনা করেন: উহুদ যুদ্ধের পর আল ও কারাহ্ গোত্রের একদল লোক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়।
ইব্ন হিশাম বলেন: আল ও কারা হচ্ছে হাওন ইব্ন খুযায়মা ইন্ন মুদরিকার শাখা গোত্র।
ইবন হিশাম বলেন: 'হাওনকে হুনও বলা হয়।
ইবন ইসহাক বলেন: তারা এসে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমাদের গোত্রে ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে। কাজেই আপনার সাহাবীদের থেকে কিছু লোক আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিন। তাঁরা আমাদেরকে দীনের বিধি-বিধান শিক্ষা দেবেন, আমাদের কুরআন পড়াবেন এবং ইসলামের বিস্তারিত তালীম দেবেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের কথামত ছয়জন সাহাবীকে পাঠিয়ে দিলেন। তাঁরা হচ্ছেন: মারছাদ ইব্ন আবূ মারছাদ গানাবী (রা) খালিদ ইব্ন বুকায়র লায়সী (রা), আসিম ইন্ন সাবিত ইব্ন আবুল আকলাহ (রা), খুবায়ব ইব্ন 'আদী (রা), যায়দ ইব্ন দাসিনা (রা) ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন তারিক। মারসাদ (রা) ছিলেন হামযা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব (রা)-এর মিত্র, খালিদ (রা) ছিলেন 'আদী ইব্ন কা'ব গোত্রের মিত্র, আসিম (রা) ছিলেন বনূ আম্ম ইন্ন আওফ ইব্ন মালিক ইব্ন আওসের মিত্র, খুবায়ব (রা) ছিলেন জাহাবা ইব্ন কুলফা ইন্ন আমর ইব্ন আওফ গোত্রের লোক, যায়দ (রা) ছিলেন বনূ বায়াযা ইব্ন আম্ম ইন্ন যুরায়ক ইব্ন আব্দ হারিসা ইবন মালিক ইব্ন গাব ইব্ন জুশাম ইব্ন খাযরাজ গোত্রের লোক এবং আবদুল্লাহ্ (রা) ছিলেন বনু যাফর ইবন খাযরাজ ইব্ন আমর ইব্ন মালিক ইব্ন আওসের মিত্র।
📄 আফ্ল ও কারাহ গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতা
রাসূলুল্লাহ্ (সা) মারসাদ ইব্ন আবূ মারসাদ (রা)-কে তাদের আমীর বানিয়ে দেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে রওনা হন। হিজাযের প্রান্তভাগে হাআর উপকণ্ঠে হুযায়ল গোত্রের একটি জলাশয়ের নাম রাজী'। তারা সেখানে পৌঁছলে আল ও কারাহ্ গোত্রের লোকেরা তাঁদের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করল। তারা বনূ হুযায়লকেও সাহায্যের জন্য ডাকল। দেখতে না দেখতে তরবারিধারী লোকজন সাহাবীদের ঘিরে ফেললো। তাঁরা সওয়ারী হতে অবতরণ করারও অবকাশ পাননি। এ অবস্থাতেই তাঁরা তরবারি হাতে নিয়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। শত্রুরা বলল: আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদের হত্যা করতে চাই না। আসলে আমরা তোমাদের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের থেকে কিছু অর্থ আদায় করতে চাই। আমরা আল্লাহ্ নামে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তোমাদেরকে হত্যা করব না।
একথা শুনে মারসাদ ইব্ন আবূ মারসাদ (রা), খালিদ ইব্ন বুকায়র (রা) ও আসিম ইব্ন সাবিত (রা) বললেন: আল্লাহ্র কসম! আমরা কোন মুশরিকের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি কখনো গ্রহণ করব না। তখন আসিম (রা) আবৃত্তি করলেন:
ما علتى وانا جلد نابل * والقوس فيها وترعنابل
تزل عن صفحتها المعابل * الموت حق والحياة باطل
وكل ما حم الاله نازل * بالمرء والمرء اليه آئل
ان لم اقا تلكم فامی هابل
আমার কিসের দুর্বলতা, যেখানে আমি একজন শক্তিমান বর্শাধারী? আমার রয়েছে ধনুক, অতি মজবুত তার ছিলা। তার থেকে নিক্ষিপ্ত হয় দীর্ঘ ফলাবিশিষ্ট তীর। প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুই পরম সত্য, জীবন সে তো মিথ্যা। আল্লাহ্ যা স্থির করেছেন, তা মানুষের জন্য অবধারিত। শেষ পর্যন্ত মানুষ তো তাঁরই নিকট ফিরে যাবে। শোন, আমি যদি তোমাদের সাথে লড়াই না করি, তবে আমার মা হোক সন্তানহারা।
ইবন হিশাম বলেন : هابل অর্থ সন্তানহারা। আসিম ইব্ন সাবিত (রা) আরও বলেন:
ابو سليمان وريش المقعد * وضالة مثل الجحيم الموقد
اذا النواجي افترش لم ارعد * ومجناً من جلد ثوراجرد
ومؤمن بما على محمد
আমি আবু সুলায়মান, আমি মুকআদ (জনৈক তীর প্রস্তুতকারক)-এর তীরের পালক। আমি দালা বৃক্ষ দ্বারা নির্মিত কামান, যা জাহান্নামের আগুনের মত লেলিহান। যখন দ্রুতগামী উটও ভয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে, তখনও আমার মধ্যে কম্পন সৃষ্টি হয় না। আমি গরুর পশমহীন চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ঢাল। আর আমি মুহাম্মদ (সা)-এর প্রতি অবতীর্ণ কিতাবে বিশ্বাসী। তিনি আরও বলেন:
ابو سليمان ومثل رامى * وكان قومى معشرا كرام
আমি আবু সুলায়মান, আমার মত তীরন্দাজ আর কে আছে? আমার গোত্র অতি মর্যাদাবান ও সম্মানী।
আসিম (রা)-এর উপনাম ছিল আবূ সুলায়মান। এরপর তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে করতে শহীদ হয়ে যান, এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ও শাহাদত লাভ করেন।
আসিম (রা)-এর শাহাদাতের পর হুযায়ল গোত্রের লোকেরা চাইল। তাঁর মাথা নিয়ে সুলাফা বিন্ত সা'দ ইব্ন শাহীদের কাছে বিক্রয় করবে। সুলাফার দুই পুত্র উহুদ যুদ্ধে আসিমের হাতে নিহত হয়েছিল। তাই সে মানত করেছিল, যদি সে আসিমের মাথা হস্তগত করতে পারে, তবে সে তার মাথার খুলিতে মদ পান করবে। কিন্তু এক ঝাঁক বোলতা হুযায়ল গোত্রের ইচ্ছায় বাঁধ সাধল। তারা আসিমের লাশ ঘিরে রাখল। দুর্বৃত্তরা বলল: এখন রেখে দাও। সন্ধ্যাবেলা এসব চলে যাবে। তখন আমরা মাথা কেটে নিয়ে যাব। কিন্তু এরই মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা সেখানে বান ছুটিয়ে দিলেন। তার তোড়ে আসিমের লাশ ভাসিয়ে নিয়ে গেল। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দু'আ করেছিলেন যেন কোন মুশরিক তাঁর লাশ স্পর্শ করতে না পারে এবং তিনিও যেন কোনদিন কোন মুশরিককে স্পর্শ না করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, মুশরিকের দেহ অপবিত্র। উমর ইবন খাত্তাব (রা) যখন শুনলেন, বোলতারা আসিমের লাশ হিফাযত করেছে, তখন তিনি বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মু'মিন বান্দাকে এভাবেই রক্ষা করেন। আসিম মানত করেছিলেন, কোন মুশরিক যেন তার গায়ে হাত লাগাতে না পারে, আর তিনি নিজেও কোন মুশরিককে জীবনে স্পর্শ করবেন না। আল্লাহ্ তা'আলা মৃত্যুর পরও তাঁকে তেমনি রক্ষা করেছেন, যেমন তিনি তাঁকে জীবদ্দশায় রক্ষা করেছিলেন।
আর যায়দ ইব্ন দাসিনা (রা), খুবায়ব ইবন 'আদী (রা) ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন তারিক (রা) কঠোর পন্থা অবলম্বন না করে নমনীয়তা প্রদর্শন করলেন এবং বেঁচে থাকার প্রতি আগ্রহী হলেন। সে মতে তাঁরা আত্মসমর্পণ করলেন। শত্রুরা তাঁদেরকে বন্দী করে মক্কার পথে অগ্রসর হল। উদ্দেশ্য, সেখানে নিয়ে তাদেরকে বিক্রি করবে। জাহরান নামক স্থানে পৌঁছলে আবদুল্লাহ্ ইব্ন তারিক (রা) রশি থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলেন এবং তরবারি উঁচিয়ে রুখে দাঁড়ালেন। শত্রুরা খানিক দূরে সরে তাঁর প্রতি পাথর ছুড়তে লাগল এবং শেষ পর্যন্ত এভাবেই তাঁকে শহীদ করে দিল। এই জাহরানেই তাঁর কবর রয়েছে।
বাকি খুবায়ব ইব্ন আদী (রা) ও যায়দ ইব্ন দাসিনা (রা)-কে তারা মক্কায় নিতে সক্ষম হল।
ইবন হিশাম বলেন: মক্কায় কুরায়শদের কাছে হুযায়ল গোত্রের দু'জন বন্দী ছিল। তাদের বিনিময়ে তারা খুবায়ব ও 'আদীকে বিক্রি করে দেয়।
ইবন ইসহাক বলেন: বনু নাওফলের মিত্র হুজায়র ইব্ন আবু ইহাব উকবা ইব্ন হারিস ইবন আমির ইবন নাওফলের পক্ষে খুবায়ব (রা)-কে ক্রয় করল। হুজায়রের পিতা আবু ইহাব ছিল উকবার পিতা হারিস ইব্ন আমিরের বৈপিত্রেয় ভাই। খুবায়ব (রা)-কে হত্যা করে উকবা তার পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিবে।
ইবন হিশাম বলেন: হারিস ইব্ন আমির ছিল আবূ ইহাবের মামা, আর আবু ইহাব ছিল উসায়দ ইব্ন আমর ইবন তামীম গোত্রের লোক। কারও মতে সে বনূ তামীমের শাখা আদাস ইব্ন যায়দ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন দারিম গোত্রের লোক।
ইবন ইসহাক বলেন: সাওয়ান ইবন উমাইয়া তার পিতা উমাইয়া ইব্ন খালফের হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যায়দ ইব্ন দাছিনা (রা)-কে কিনে নেয়। সে তাকে হত্যা করার জন্য নিজ মাওলা (আযাদকৃত দাস) নিসতাসের সাথে হারাম এলাকার বাইরে তান'ঈমে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে আবু সুফিয়ানসহ কুরায়শ গোত্রের কতিপয় লোক উপস্থিত ছিল। যায়দ (রা)-কে যখন হত্যা করার জন্য সামনে আনা হয়, তখন আবু সুফিয়ান তাকে বলল: হে যায়দ! আল্লাহর কসম, বল তো, তোমার এ স্থলে যদি এখন মুহাম্মদ থাকত এবং তোমার বদলে আমরা তাঁকে হত্যা করতাম, আর তুমি নিজ পরিবারবর্গের কাছে নিরাপদ চলে যেতে, সে কি তুমি পছন্দ করতে না? তিনি বললেন: আল্লাহ্র কসম, তিনি এখন যেখানে আছেন সেখানেও যদি তার গায়ে একটি কাটা ফুঁটে তাঁকে ক্লেশ দেয়, আর আমি আমার পরিবার পরিজনের মাঝে বসে থাকি, সেও আমার পছন্দ নয়। একথা শুনে আবু সুফিয়ান বলল: মুহাম্মদের সাথীরা তাঁকে যেমন ভালবাসে, এমন ভালবাসতে আমি আর কাউকে কখনও দেখিনি। এরপর নিসতাস তাঁকে শহীদ করে দিল। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।
বাকি থাকলেন খুবায়ব ইবন 'আদী (রা)। হুজায়র ইব্ন আবূ ইহাবের দাসী মাবিয়্যার সূত্রে যিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নুজায়হ আমার (ইন্ন হিশামের) কাছে বর্ণনা করেন যে, মাবিয়্যা (র.) বলেন: খুবায়ব আমার কাছে, আমার একটি ঘরে বন্দী ছিলেন। আমি একদিন তার কাছে উপস্থিত হই। দেখি যে তাঁর হাতে এক থোকা আংগুর, মানুষের মাথার মত বড়। তিনি তা থেকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছেন। আমার জানা মতে আল্লাহর এ যমীনে তখন কোথাও আংগুর ছিল না।
ইব্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইবন উমর ইব্ন্ন কাতাদা (র) ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু নুজায়হ (র) উভয়ে বর্ণনা করেন যে, মাবিয়্যা বলেছেন: হত্যার খানিক পূর্বে খুবায়ব আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে একটা ক্ষুর পাঠিয়ে দিও। মৃত্যুর আগে একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে নেই। আমি পাড়ার একটি শিশুকে দিয়ে তাঁর কাছে একটি ক্ষুর পাঠিয়ে দিলাম। শিশুটির তাঁর কাছে প্রবেশ করতেই আমার চেতনা হল। বললাম আমি এ কি করলাম? লোকটি তো শিশুটিকে হত্যা করে আগেই নিজের হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে বসতে পারে। কিন্তু না, খুবায়ব শিশুটির হাত থেকে ক্ষুর নিয়ে বলল তোমার মা তোমাকে পাঠিয়ে নিশ্চয়ই আশংকায় আছে। ভাবছে আমি এই ক্ষুর দিয়ে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি। এই বলে তিনি শিশুটিকে পাঠিয়ে দিলেন।
ইন্ন হিশাম বলেন: কারও মতে শিশুটি তারই পুত্র ছিল।
ইন্ন ইসহাক বলেন: এরপর তারা খুবায়বকে নিয়ে বের হলো। তানঈমে পৌছে তারা যখন তাঁকে শূলবিদ্ধ করতে চাইল, তখন তিনি তাদের বললেন: তোমরা আমাকে দু'রাকআত সালাত আদায় করার সুযোগ দিবে কি? তারা বলল: অসুবিধা নেই, আদায় করে নাও। তিনি মনের খুশু-খুযুর সাথে অতি সুন্দভাবে দু'রাকআত সালাত আদায় করে নিলেন। এরপর তাদের সামনে অগ্রসর হয়ে বললেন: আল্লাহ্র কসম, তোমরা হয়ত ভাববে আমি মৃত্যুর ভয়ে সালাত দীর্ঘ করছি, তা না হলে আমি আরও দীর্ঘ সালাতে রত হতাম। মুসলিমদের জন্য নিহত হওয়ার আগে দু'রাকআত সালাত আদায় করা সুন্নত। এ রীতি সর্বপ্রথম খুবায়ব ইবন 'আদী (রা)-ই চালু করেন।
তারপর তারা তাঁকে শূলে চড়াল। তারা বাঁধা শেষ করলে তিনি দু'আ করলেন: 'হে আল্লাহ্! আমরা আপনার রাসূলের বার্তা পৌছে দিয়েছি। আপনিও আমাদের সাথে এদের আচরণের সংবাদ আপনার রাসূলের কাছে পৌঁছে দিন। হে আল্লাহ্! এদের সকলকে গুনে গুনে এক এক করে খতম করে দিন। কাউকে নিস্তার দিবেন না।' অবশেষে তারা তাঁকে হত্যা করল। আল্লাহ্ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। মু'আবিয়া ইব্ন আবু সুফিয়ান (রা) বলতেন: সেদিন খুবায়বের হত্যা কার্য দেখতে যারা সমবেত হয়েছিল, আমিও তাদের একজন ছিলাম। পিতা আবু সুফিয়ানের সাথে আমি গিয়েছিলাম। খুবায়বের অভিসম্পাত লাগার ভয়ে তিনি আমাকে মাটিতে শুইয়ে দিয়েছিলেন। তখন ধারণা করা হত, কারও প্রতি অভিসম্পাত করা হলে তৎক্ষণাৎ সে যদি মাটিতে শুয়ে পড়ে, তবে সে অভিসম্পাত তাকে স্পর্শ করে না।
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াহইয়া ইব্ন আব্বাদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন্ন যুবায়র তার পিতা আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উকবা ইব্ন হারিসকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ্র কসম! আমি খুবায়বকে হত্যা করিনি। কারণ তখনও আমার সে বয়স হয়নি। হ্যাঁ, আবদুদ্দার গোত্রীয় মায়সারা আমার হাতে বর্শা তুলে দেয় এবং সে আমার হাত ও বর্শা ধরে আঘাত করে খুবায়বকে হত্যা করে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার জনৈক সাথী বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রা) বনু জুমাহ এর সাঈদ ইবন আমির ইবন হিযয়াম (রা)-কে শামের এক অংশের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি মাঝে মধ্যে লোকের সামনে হঠাৎ মুর্ছা যেতেন। একথা উমর (রা)-কে জানান হলো। বলা হলো: সাঈদ আসরগ্রস্ত। উমর (রা) এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। বললেন: হে সাঈদ! তোমার মাঝে মধ্যে এসব কি হয়? তিনি বললেন: হে আমীরুল মু'মিনীন! আল্লাহর কসম, আমার কোন অসুখ নেই। তবে আসল ব্যাপার এই যে, খুবায়ব ইবন 'আদীকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমি উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ছিলাম। আমি তাঁর বদদু'আ শুনেছিলাম। তাই যে কোন মজলিশে সে কথা আমার মনে পড়লেই আমি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলি। একথা শোনার পর উমর (রা)-এর কাছে তাঁর মর্যাদা বেড়ে যায়।
ইব্ন হিশাম বলেন: আশহুরে হারাম (নিষিদ্ধ মাসসমূহ) পার হওয়া পর্যন্ত খুবায়ব (রা) তাদের কাছে বন্দী থাকেন। এরপর তারা তাঁকে হত্যা করে।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) মারসাদ ইব্ন আবূ মারসাদ (রা)-কে তাদের আমীর বানিয়ে দেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে রওনা হন। হিজাযের প্রান্তভাগে হাআর উপকণ্ঠে হুযায়ল গোত্রের একটি জলাশয়ের নাম রাজী'। তারা সেখানে পৌঁছলে আল ও কারাহ্ গোত্রের লোকেরা তাঁদের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করল। তারা বনূ হুযায়লকেও সাহায্যের জন্য ডাকল। দেখতে না দেখতে তরবারিধারী লোকজন সাহাবীদের ঘিরে ফেললো। তাঁরা সওয়ারী হতে অবতরণ করারও অবকাশ পাননি। এ অবস্থাতেই তাঁরা তরবারি হাতে নিয়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। শত্রুরা বলল: আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদের হত্যা করতে চাই না। আসলে আমরা তোমাদের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের থেকে কিছু অর্থ আদায় করতে চাই। আমরা আল্লাহ্ নামে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তোমাদেরকে হত্যা করব না।
একথা শুনে মারসাদ ইব্ন আবূ মারসাদ (রা), খালিদ ইব্ন বুকায়র (রা) ও আসিম ইব্ন সাবিত (রা) বললেন: আল্লাহ্র কসম! আমরা কোন মুশরিকের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি কখনো গ্রহণ করব না। তখন আসিম (রা) আবৃত্তি করলেন:
ما علتى وانا جلد نابل * والقوس فيها وترعنابل
تزل عن صفحتها المعابل * الموت حق والحياة باطل
وكل ما حم الاله نازل * بالمرء والمرء اليه آئل
ان لم اقا تلكم فامی هابل
আমার কিসের দুর্বলতা, যেখানে আমি একজন শক্তিমান বর্শাধারী? আমার রয়েছে ধনুক, অতি মজবুত তার ছিলা। তার থেকে নিক্ষিপ্ত হয় দীর্ঘ ফলাবিশিষ্ট তীর। প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুই পরম সত্য, জীবন সে তো মিথ্যা। আল্লাহ্ যা স্থির করেছেন, তা মানুষের জন্য অবধারিত। শেষ পর্যন্ত মানুষ তো তাঁরই নিকট ফিরে যাবে। শোন, আমি যদি তোমাদের সাথে লড়াই না করি, তবে আমার মা হোক সন্তানহারা।
ইবন হিশাম বলেন : هابل অর্থ সন্তানহারা। আসিম ইব্ন সাবিত (রা) আরও বলেন:
ابو سليمان وريش المقعد * وضالة مثل الجحيم الموقد
اذا النواجي افترش لم ارعد * ومجناً من جلد ثوراجرد
ومؤمن بما على محمد
আমি আবু সুলায়মান, আমি মুকআদ (জনৈক তীর প্রস্তুতকারক)-এর তীরের পালক। আমি দালা বৃক্ষ দ্বারা নির্মিত কামান, যা জাহান্নামের আগুনের মত লেলিহান। যখন দ্রুতগামী উটও ভয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে, তখনও আমার মধ্যে কম্পন সৃষ্টি হয় না। আমি গরুর পশমহীন চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ঢাল। আর আমি মুহাম্মদ (সা)-এর প্রতি অবতীর্ণ কিতাবে বিশ্বাসী। তিনি আরও বলেন:
ابو سليمان ومثل رامى * وكان قومى معشرا كرام
আমি আবু সুলায়মান, আমার মত তীরন্দাজ আর কে আছে? আমার গোত্র অতি মর্যাদাবান ও সম্মানী।
আসিম (রা)-এর উপনাম ছিল আবূ সুলায়মান। এরপর তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে করতে শহীদ হয়ে যান, এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ও শাহাদত লাভ করেন।
আসিম (রা)-এর শাহাদাতের পর হুযায়ল গোত্রের লোকেরা চাইল। তাঁর মাথা নিয়ে সুলাফা বিন্ত সা'দ ইব্ন শাহীদের কাছে বিক্রয় করবে। সুলাফার দুই পুত্র উহুদ যুদ্ধে আসিমের হাতে নিহত হয়েছিল। তাই সে মানত করেছিল, যদি সে আসিমের মাথা হস্তগত করতে পারে, তবে সে তার মাথার খুলিতে মদ পান করবে। কিন্তু এক ঝাঁক বোলতা হুযায়ল গোত্রের ইচ্ছায় বাঁধ সাধল। তারা আসিমের লাশ ঘিরে রাখল। দুর্বৃত্তরা বলল: এখন রেখে দাও। সন্ধ্যাবেলা এসব চলে যাবে। তখন আমরা মাথা কেটে নিয়ে যাব। কিন্তু এরই মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা সেখানে বান ছুটিয়ে দিলেন। তার তোড়ে আসিমের লাশ ভাসিয়ে নিয়ে গেল। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দু'আ করেছিলেন যেন কোন মুশরিক তাঁর লাশ স্পর্শ করতে না পারে এবং তিনিও যেন কোনদিন কোন মুশরিককে স্পর্শ না করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, মুশরিকের দেহ অপবিত্র। উমর ইবন খাত্তাব (রা) যখন শুনলেন, বোলতারা আসিমের লাশ হিফাযত করেছে, তখন তিনি বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মু'মিন বান্দাকে এভাবেই রক্ষা করেন। আসিম মানত করেছিলেন, কোন মুশরিক যেন তার গায়ে হাত লাগাতে না পারে, আর তিনি নিজেও কোন মুশরিককে জীবনে স্পর্শ করবেন না। আল্লাহ্ তা'আলা মৃত্যুর পরও তাঁকে তেমনি রক্ষা করেছেন, যেমন তিনি তাঁকে জীবদ্দশায় রক্ষা করেছিলেন।
আর যায়দ ইব্ন দাসিনা (রা), খুবায়ব ইবন 'আদী (রা) ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন তারিক (রা) কঠোর পন্থা অবলম্বন না করে নমনীয়তা প্রদর্শন করলেন এবং বেঁচে থাকার প্রতি আগ্রহী হলেন। সে মতে তাঁরা আত্মসমর্পণ করলেন। শত্রুরা তাঁদেরকে বন্দী করে মক্কার পথে অগ্রসর হল। উদ্দেশ্য, সেখানে নিয়ে তাদেরকে বিক্রি করবে। জাহরান নামক স্থানে পৌঁছলে আবদুল্লাহ্ ইব্ন তারিক (রা) রশি থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলেন এবং তরবারি উঁচিয়ে রুখে দাঁড়ালেন। শত্রুরা খানিক দূরে সরে তাঁর প্রতি পাথর ছুড়তে লাগল এবং শেষ পর্যন্ত এভাবেই তাঁকে শহীদ করে দিল। এই জাহরানেই তাঁর কবর রয়েছে।
বাকি খুবায়ব ইব্ন আদী (রা) ও যায়দ ইব্ন দাসিনা (রা)-কে তারা মক্কায় নিতে সক্ষম হল।
ইবন হিশাম বলেন: মক্কায় কুরায়শদের কাছে হুযায়ল গোত্রের দু'জন বন্দী ছিল। তাদের বিনিময়ে তারা খুবায়ব ও 'আদীকে বিক্রি করে দেয়।
ইবন ইসহাক বলেন: বনু নাওফলের মিত্র হুজায়র ইব্ন আবু ইহাব উকবা ইব্ন হারিস ইবন আমির ইবন নাওফলের পক্ষে খুবায়ব (রা)-কে ক্রয় করল। হুজায়রের পিতা আবু ইহাব ছিল উকবার পিতা হারিস ইব্ন আমিরের বৈপিত্রেয় ভাই। খুবায়ব (রা)-কে হত্যা করে উকবা তার পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিবে।
ইবন হিশাম বলেন: হারিস ইব্ন আমির ছিল আবূ ইহাবের মামা, আর আবু ইহাব ছিল উসায়দ ইব্ন আমর ইবন তামীম গোত্রের লোক। কারও মতে সে বনূ তামীমের শাখা আদাস ইব্ন যায়দ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন দারিম গোত্রের লোক।
ইবন ইসহাক বলেন: সাওয়ান ইবন উমাইয়া তার পিতা উমাইয়া ইব্ন খালফের হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যায়দ ইব্ন দাছিনা (রা)-কে কিনে নেয়। সে তাকে হত্যা করার জন্য নিজ মাওলা (আযাদকৃত দাস) নিসতাসের সাথে হারাম এলাকার বাইরে তান'ঈমে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে আবু সুফিয়ানসহ কুরায়শ গোত্রের কতিপয় লোক উপস্থিত ছিল। যায়দ (রা)-কে যখন হত্যা করার জন্য সামনে আনা হয়, তখন আবু সুফিয়ান তাকে বলল: হে যায়দ! আল্লাহর কসম, বল তো, তোমার এ স্থলে যদি এখন মুহাম্মদ থাকত এবং তোমার বদলে আমরা তাঁকে হত্যা করতাম, আর তুমি নিজ পরিবারবর্গের কাছে নিরাপদ চলে যেতে, সে কি তুমি পছন্দ করতে না? তিনি বললেন: আল্লাহ্র কসম, তিনি এখন যেখানে আছেন সেখানেও যদি তার গায়ে একটি কাটা ফুঁটে তাঁকে ক্লেশ দেয়, আর আমি আমার পরিবার পরিজনের মাঝে বসে থাকি, সেও আমার পছন্দ নয়। একথা শুনে আবু সুফিয়ান বলল: মুহাম্মদের সাথীরা তাঁকে যেমন ভালবাসে, এমন ভালবাসতে আমি আর কাউকে কখনও দেখিনি। এরপর নিসতাস তাঁকে শহীদ করে দিল। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।
বাকি থাকলেন খুবায়ব ইবন 'আদী (রা)। হুজায়র ইব্ন আবূ ইহাবের দাসী মাবিয়্যার সূত্রে যিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নুজায়হ আমার (ইন্ন হিশামের) কাছে বর্ণনা করেন যে, মাবিয়্যা (র.) বলেন: খুবায়ব আমার কাছে, আমার একটি ঘরে বন্দী ছিলেন। আমি একদিন তার কাছে উপস্থিত হই। দেখি যে তাঁর হাতে এক থোকা আংগুর, মানুষের মাথার মত বড়। তিনি তা থেকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছেন। আমার জানা মতে আল্লাহর এ যমীনে তখন কোথাও আংগুর ছিল না।
ইব্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইবন উমর ইব্ন্ন কাতাদা (র) ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু নুজায়হ (র) উভয়ে বর্ণনা করেন যে, মাবিয়্যা বলেছেন: হত্যার খানিক পূর্বে খুবায়ব আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে একটা ক্ষুর পাঠিয়ে দিও। মৃত্যুর আগে একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে নেই। আমি পাড়ার একটি শিশুকে দিয়ে তাঁর কাছে একটি ক্ষুর পাঠিয়ে দিলাম। শিশুটির তাঁর কাছে প্রবেশ করতেই আমার চেতনা হল। বললাম আমি এ কি করলাম? লোকটি তো শিশুটিকে হত্যা করে আগেই নিজের হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে বসতে পারে। কিন্তু না, খুবায়ব শিশুটির হাত থেকে ক্ষুর নিয়ে বলল তোমার মা তোমাকে পাঠিয়ে নিশ্চয়ই আশংকায় আছে। ভাবছে আমি এই ক্ষুর দিয়ে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি। এই বলে তিনি শিশুটিকে পাঠিয়ে দিলেন।
ইন্ন হিশাম বলেন: কারও মতে শিশুটি তারই পুত্র ছিল।
ইন্ন ইসহাক বলেন: এরপর তারা খুবায়বকে নিয়ে বের হলো। তানঈমে পৌছে তারা যখন তাঁকে শূলবিদ্ধ করতে চাইল, তখন তিনি তাদের বললেন: তোমরা আমাকে দু'রাকআত সালাত আদায় করার সুযোগ দিবে কি? তারা বলল: অসুবিধা নেই, আদায় করে নাও। তিনি মনের খুশু-খুযুর সাথে অতি সুন্দভাবে দু'রাকআত সালাত আদায় করে নিলেন। এরপর তাদের সামনে অগ্রসর হয়ে বললেন: আল্লাহ্র কসম, তোমরা হয়ত ভাববে আমি মৃত্যুর ভয়ে সালাত দীর্ঘ করছি, তা না হলে আমি আরও দীর্ঘ সালাতে রত হতাম। মুসলিমদের জন্য নিহত হওয়ার আগে দু'রাকআত সালাত আদায় করা সুন্নত। এ রীতি সর্বপ্রথম খুবায়ব ইবন 'আদী (রা)-ই চালু করেন।
তারপর তারা তাঁকে শূলে চড়াল। তারা বাঁধা শেষ করলে তিনি দু'আ করলেন: 'হে আল্লাহ্! আমরা আপনার রাসূলের বার্তা পৌছে দিয়েছি। আপনিও আমাদের সাথে এদের আচরণের সংবাদ আপনার রাসূলের কাছে পৌঁছে দিন। হে আল্লাহ্! এদের সকলকে গুনে গুনে এক এক করে খতম করে দিন। কাউকে নিস্তার দিবেন না।' অবশেষে তারা তাঁকে হত্যা করল। আল্লাহ্ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। মু'আবিয়া ইব্ন আবু সুফিয়ান (রা) বলতেন: সেদিন খুবায়বের হত্যা কার্য দেখতে যারা সমবেত হয়েছিল, আমিও তাদের একজন ছিলাম। পিতা আবু সুফিয়ানের সাথে আমি গিয়েছিলাম। খুবায়বের অভিসম্পাত লাগার ভয়ে তিনি আমাকে মাটিতে শুইয়ে দিয়েছিলেন। তখন ধারণা করা হত, কারও প্রতি অভিসম্পাত করা হলে তৎক্ষণাৎ সে যদি মাটিতে শুয়ে পড়ে, তবে সে অভিসম্পাত তাকে স্পর্শ করে না।
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াহইয়া ইব্ন আব্বাদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন্ন যুবায়র তার পিতা আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উকবা ইব্ন হারিসকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ্র কসম! আমি খুবায়বকে হত্যা করিনি। কারণ তখনও আমার সে বয়স হয়নি। হ্যাঁ, আবদুদ্দার গোত্রীয় মায়সারা আমার হাতে বর্শা তুলে দেয় এবং সে আমার হাত ও বর্শা ধরে আঘাত করে খুবায়বকে হত্যা করে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার জনৈক সাথী বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রা) বনু জুমাহ এর সাঈদ ইবন আমির ইবন হিযয়াম (রা)-কে শামের এক অংশের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি মাঝে মধ্যে লোকের সামনে হঠাৎ মুর্ছা যেতেন। একথা উমর (রা)-কে জানান হলো। বলা হলো: সাঈদ আসরগ্রস্ত। উমর (রা) এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। বললেন: হে সাঈদ! তোমার মাঝে মধ্যে এসব কি হয়? তিনি বললেন: হে আমীরুল মু'মিনীন! আল্লাহর কসম, আমার কোন অসুখ নেই। তবে আসল ব্যাপার এই যে, খুবায়ব ইবন 'আদীকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমি উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ছিলাম। আমি তাঁর বদদু'আ শুনেছিলাম। তাই যে কোন মজলিশে সে কথা আমার মনে পড়লেই আমি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলি। একথা শোনার পর উমর (রা)-এর কাছে তাঁর মর্যাদা বেড়ে যায়।
ইব্ন হিশাম বলেন: আশহুরে হারাম (নিষিদ্ধ মাসসমূহ) পার হওয়া পর্যন্ত খুবায়ব (রা) তাদের কাছে বন্দী থাকেন। এরপর তারা তাঁকে হত্যা করে।
📄 রাজী'র ঘটনা সম্পর্কে অবতীর্ণ কুরআনের আয়াত
ইবন ইসহাক বলেন: এ অভিযান সম্পর্কে কুরআনের যে আয়াত নাযিল হয়, সে সম্বন্ধে যায়দ ইবন সাবিত পরিবারের জনৈক আযাদকৃত গোলাম, ইব্ন আব্বাস (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম ইকরিমা অথবা সাঈদ ইব্ন জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন যে, ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন: মারসাদ ও আসিম যে অভিযানে ছিলেন সেটি যখন বিপদগ্রস্ত হল তখন মুনাফিকরা বলতে লাগল: ধিক ঐ পাগলদের জন্য, যারা ধ্বংস হলো। না তারা ঘরে বসে থাকল, আর না তারা তাদের নেতার বার্তা পৌঁছাতে পারল। আল্লাহ্ তা'আলা মুনাফিকদের এই উক্তি এবং সাহাবিগণ শাহাদতের বিনিময়ে যে মহামর্যাদার অধিকারী হলেন সে সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللهَ عَلَى مَا فِي قَلْبِهِ وَهُوَ الدُّ الخِصَامُ
মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার কথাবার্তা (অর্থাৎ তার মৌখিক ইসলাম প্রকাশ) তোমাকে চমৎকৃত করে এবং তার অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে সে আল্লাহকে সাক্ষী রাখে (বস্তুত তার অন্তর তার মৌখিক কথার পরিপন্থী)। আসলে সে কিন্তু ঘোর বিরোধী। (অর্থাৎ তোমার সাথে যখন কথাবার্তা ও আলোচনা করে তখন তর্ক-বিতর্কের আশ্রয় নেয়)। (২: ২০৪)।
ইবন হিশাম বলেন: لادا অর্থ বিতণ্ডাপ্রবণ, তর্ক-বিতর্কে যে অনমনীয়। এর বহুবচন' কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : وَتُنْذَرَبَه قَوْمًا لدا অর্থাৎ তুমি এর দ্বারা বিতণ্ডাপ্রবণ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার (১৯: ৯৭)।
মুহাল্লাল ইবন রাবী'আ তাগলিবী, যার আসল নাম ইমরাউল কায়স, কারও মতে 'আদী ইবন রাবী'আ তিনি তার একটি গীতি কবিতায় বলেন:
ان تحت الاحجار حدا ولينا * وخصيما الد ذا معلاق
পাথরের নীচে আছে তীক্ষ্ণতা ও নম্রতা, আর আছে বিতণ্ডাপ্রবণ প্রতিপক্ষ, যে দলীল প্রমাণে বিরোধীকে ঘায়েল করে।
এ কবিতাটির অপর এক বর্ণনায় امعلاق; এর স্থলে زامغلاق বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিতণ্ডাপ্রবণ।
ইব্ন ইসহাক বলেন, এরপর আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ الْفَسَادَ
"যখন সে প্রস্থান করে (অর্থাৎ তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায়) তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত্র ও জীব-জন্তুর বংশ নিপাতের চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহ্ অশান্তি পছন্দ করেন না (অর্থাৎ তার কর্মকাণ্ড আল্লাহ্ ভালবাসেন না এবং তা তাঁর মনঃপূত নয়) (২: ২০৫)।
وَإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللَّهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالْإِثْمِ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ وَلِبِئْسَ الْمِهَادُ ، وَمِنَ النَّاسِ مَن يُشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرَضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُفٌ بِالْعِبَادِ .
যখন তাকে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপানুষ্ঠানে লিপ্ত করে। সুতরাং জাহান্নামই তার জন্য যোগ্য। নিশ্চায়ই তা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল। আর মানুষের মধ্যে অনেকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভার্থে আত্ম-বিক্রয় করে থাকে। আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র অর্থাৎ তারা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করে এবং তাঁর হক আদায়ে যত্নবান থেকে নিজেদেরকে তাঁর কাছে বিক্রয় করে দিয়েছে। পরিশেষে তারা এভাবে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। এর দ্বারা রাজী'র ঘটনায় শাহাদত প্রাপ্ত সাহাবা-ই কিরামকে বোঝান হয়েছে (২: ২০৬-২০৭)।
ইব্ন হিশাম বলেন : بشرى نفسه অর্থ আত্ম-বিক্রয় করে। شروا অর্থাৎ তারা বিক্রয় করল। যায়দ ইবন রাবী'আ ইন্ন মুফাররিগ হিময়ারী বলেন:
وشريت بردا ليتني * من بعد برد كنت هامه
আমি বুরদাকে বিক্রয় করে ফেললাম। হায়, বুরদা চলে যাওয়ার পর আমি যদি হামাহ (পাখী) হয়ে যেতাম।
এটা যায়দের একটি শোকগাথার অংশ বিশেষ। বুরদা ছিল তার গোলাম, যাকে সে বিক্রয় করেছিল।
شری শব্দটি ক্রয় করা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। কবি বলেন,
فقلت لها لا تجزعي ام مالك * على ابنيك ان عبد لئيم شراهما
আমি তাকে বললাম, হে উম্মু মালিক, তুমি তোমার পুত্রদ্বয়ের জন্য অস্থির হয়ো না; যদিও কোন ইতর লোক তাদের কিনে থাকে।
ইবন ইসহাক বলেন: এ অভিযান সম্পর্কে কুরআনের যে আয়াত নাযিল হয়, সে সম্বন্ধে যায়দ ইবন সাবিত পরিবারের জনৈক আযাদকৃত গোলাম, ইব্ন আব্বাস (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম ইকরিমা অথবা সাঈদ ইব্ন জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন যে, ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন: মারসাদ ও আসিম যে অভিযানে ছিলেন সেটি যখন বিপদগ্রস্ত হল তখন মুনাফিকরা বলতে লাগল: ধিক ঐ পাগলদের জন্য, যারা ধ্বংস হলো। না তারা ঘরে বসে থাকল, আর না তারা তাদের নেতার বার্তা পৌঁছাতে পারল। আল্লাহ্ তা'আলা মুনাফিকদের এই উক্তি এবং সাহাবিগণ শাহাদতের বিনিময়ে যে মহামর্যাদার অধিকারী হলেন সে সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللهَ عَلَى مَا فِي قَلْبِهِ وَهُوَ الدُّ الخِصَامُ
মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার কথাবার্তা (অর্থাৎ তার মৌখিক ইসলাম প্রকাশ) তোমাকে চমৎকৃত করে এবং তার অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে সে আল্লাহকে সাক্ষী রাখে (বস্তুত তার অন্তর তার মৌখিক কথার পরিপন্থী)। আসলে সে কিন্তু ঘোর বিরোধী। (অর্থাৎ তোমার সাথে যখন কথাবার্তা ও আলোচনা করে তখন তর্ক-বিতর্কের আশ্রয় নেয়)। (২: ২০৪)।
ইবন হিশাম বলেন: لادا অর্থ বিতণ্ডাপ্রবণ, তর্ক-বিতর্কে যে অনমনীয়। এর বহুবচন' কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : وَتُنْذَرَبَه قَوْمًا لدا অর্থাৎ তুমি এর দ্বারা বিতণ্ডাপ্রবণ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার (১৯: ৯৭)।
মুহাল্লাল ইবন রাবী'আ তাগলিবী, যার আসল নাম ইমরাউল কায়স, কারও মতে 'আদী ইবন রাবী'আ তিনি তার একটি গীতি কবিতায় বলেন:
ان تحت الاحجار حدا ولينا * وخصيما الد ذا معلاق
পাথরের নীচে আছে তীক্ষ্ণতা ও নম্রতা, আর আছে বিতণ্ডাপ্রবণ প্রতিপক্ষ, যে দলীল প্রমাণে বিরোধীকে ঘায়েল করে।
এ কবিতাটির অপর এক বর্ণনায় امعلاق; এর স্থলে زامغلاق বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিতণ্ডাপ্রবণ।
ইব্ন ইসহাক বলেন, এরপর আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ الْفَسَادَ
"যখন সে প্রস্থান করে (অর্থাৎ তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায়) তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত্র ও জীব-জন্তুর বংশ নিপাতের চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহ্ অশান্তি পছন্দ করেন না (অর্থাৎ তার কর্মকাণ্ড আল্লাহ্ ভালবাসেন না এবং তা তাঁর মনঃপূত নয়) (২: ২০৫)।
وَإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللَّهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالْإِثْمِ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ وَلِبِئْسَ الْمِهَادُ ، وَمِنَ النَّاسِ مَن يُشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرَضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُفٌ بِالْعِبَادِ .
যখন তাকে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপানুষ্ঠানে লিপ্ত করে। সুতরাং জাহান্নামই তার জন্য যোগ্য। নিশ্চায়ই তা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল। আর মানুষের মধ্যে অনেকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভার্থে আত্ম-বিক্রয় করে থাকে। আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র অর্থাৎ তারা আল্লাহ্র পথে জিহাদ করে এবং তাঁর হক আদায়ে যত্নবান থেকে নিজেদেরকে তাঁর কাছে বিক্রয় করে দিয়েছে। পরিশেষে তারা এভাবে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। এর দ্বারা রাজী'র ঘটনায় শাহাদত প্রাপ্ত সাহাবা-ই কিরামকে বোঝান হয়েছে (২: ২০৬-২০৭)।
ইব্ন হিশাম বলেন : بشرى نفسه অর্থ আত্ম-বিক্রয় করে। شروا অর্থাৎ তারা বিক্রয় করল। যায়দ ইবন রাবী'আ ইন্ন মুফাররিগ হিময়ারী বলেন:
وشريت بردا ليتني * من بعد برد كنت هامه
আমি বুরদাকে বিক্রয় করে ফেললাম। হায়, বুরদা চলে যাওয়ার পর আমি যদি হামাহ (পাখী) হয়ে যেতাম।
এটা যায়দের একটি শোকগাথার অংশ বিশেষ। বুরদা ছিল তার গোলাম, যাকে সে বিক্রয় করেছিল।
شری শব্দটি ক্রয় করা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। কবি বলেন,
فقلت لها لا تجزعي ام مالك * على ابنيك ان عبد لئيم شراهما
আমি তাকে বললাম, হে উম্মু মালিক, তুমি তোমার পুত্রদ্বয়ের জন্য অস্থির হয়ো না; যদিও কোন ইতর লোক তাদের কিনে থাকে।
📄 রাজী'র হৃদয়বিদারক ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন: এ ঘটনায় আবৃত্ত কবিতাবলী নিম্নে উদ্ধৃত করা গেল। খুবায়ব (রা) যখন শুনলেন, কাফিররা তাকে শূলবিদ্ধ করতে সমবেত হয়েছে, তখন তিনি আবৃত্তি করেন:
لقد جمع الاحزاب حولى والبوا * قبائلهم واستجمعوا كل مجمع
আমার পাশে সম্প্রদায়গুলো সমবেত হয়েছে। তারা তাদের সকল গোত্রকে এখানে জমায়েত করেছে।
كلهم مبدى العداوة جاهد * على لأني في وثاق بمضيع
তারা সকলে আমার প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করছে, করছে নির্যাতন, আমি যে তাদের যজ্ঞস্থলে বন্দী।
وقد جمعوا ابناء هم ونساءهم * وقربت من جدع طويل ممنع
তারা তাদের সন্তান-সন্ততি ও নারীদেরও জমায়েত করেছে এবং আমাকে (শূলে চড়ানোর জন্য) দীর্ঘ, মজবুত ডালের নিকটবর্তী করা হয়েছে।
الى الله اشكو غرهتي ثم كرهتي * وما ارصد الاحزاب لي عند مصرعي
আমার অসহায়ত্ব ও বিপদের ফরিয়াদ শুধু আল্লাহকেই জানাই, আর শত্রুদল এ যজ্ঞস্থলে আমার জন্য যে আয়োজন করেছে তারও।
فذا العرش صبرني على ما يراد بي * فقد بضعوا لحمى وقد يأس مطمعي
হে আরশের অধিপতি! আমার প্রতি তাদের যে অভিপ্রায়, তাতে আমার ধৈর্যের ক্ষমতা দিন। তারাতো আমার গোশতকে টুকরো টুকরো করার ইরাদা করেছে, এখন আমার জীবনের আশা নিরাশায় রূপান্তরিত হয়েছে।
وذاك في ذات الا له وان يشأ * يبارك على اوصال شلو ممزع
আর এ সব তো আল্লাহ্রই উদ্দেশ্যে, তিনি চাইলে আমার ছিন্ন ভিন্ন দেহেও বরকত দিতে পারেন।
وقد خيروني الكفر والموت دونه * وقد هملت عيناي من غير مجزع
তারা আমাকে কুফ্রী কিংবা মৃত্যু-এর যে কোন একটি বেছে নিতে বলেছে। আর আমার দু'চোখ অশ্রু বহাচ্ছে, তবে তা মৃত্যুর ভয়ে না (বরং আল্লাহ্র ভয়ে)।
ومابي حذار الموت اني لميت * ولكن حذارى جحم نار ملفع
আমি মৃত্যুকে ভয় করি না, আমি তো একদিন মরবই আমি তো জাহান্নামের লেলিহান আগুনকে ভয় করি, যা আচ্ছন্ন করবে।
فوالله ما ارجو اذام مسلما * علی ای جنب كان في الله مصرعي
আল্লাহ্র কসম! আমি কিছুই পরওয়া করি না, যখন আমি মুসলিম হিসেবেই মারা যাচ্ছি। যে দিকেই মুখ করে থাকি না কেন, আল্লাহরই উদ্দেশ্যে আমার এ মরণ।
فلست بمبد للعدو تخشعا * ولا جزعا اني الى الله مرجعی
আমি শত্রুর সামনে কোন ধরনের দুর্বলতা ও অস্থিরতা প্রকাশকারী নই, নিশ্চয়ই আল্লাহরই কাছে আমার প্রত্যাবর্তন।
ইব্ন হিশাম বলেন: কাব্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ অবশ্য এ কবিতাকে খুবায়ব (রা)-এর বলে স্বীকার করেন না।
ইবন ইসহাক বলেন: এ ঘটনায় আবৃত্ত কবিতাবলী নিম্নে উদ্ধৃত করা গেল। খুবায়ব (রা) যখন শুনলেন, কাফিররা তাকে শূলবিদ্ধ করতে সমবেত হয়েছে, তখন তিনি আবৃত্তি করেন:
لقد جمع الاحزاب حولى والبوا * قبائلهم واستجمعوا كل مجمع
আমার পাশে সম্প্রদায়গুলো সমবেত হয়েছে। তারা তাদের সকল গোত্রকে এখানে জমায়েত করেছে।
كلهم مبدى العداوة جاهد * على لأني في وثاق بمضيع
তারা সকলে আমার প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করছে, করছে নির্যাতন, আমি যে তাদের যজ্ঞস্থলে বন্দী।
وقد جمعوا ابناء هم ونساءهم * وقربت من جدع طويل ممنع
তারা তাদের সন্তান-সন্ততি ও নারীদেরও জমায়েত করেছে এবং আমাকে (শূলে চড়ানোর জন্য) দীর্ঘ, মজবুত ডালের নিকটবর্তী করা হয়েছে।
الى الله اشكو غرهتي ثم كرهتي * وما ارصد الاحزاب لي عند مصرعي
আমার অসহায়ত্ব ও বিপদের ফরিয়াদ শুধু আল্লাহকেই জানাই, আর শত্রুদল এ যজ্ঞস্থলে আমার জন্য যে আয়োজন করেছে তারও।
فذا العرش صبرني على ما يراد بي * فقد بضعوا لحمى وقد يأس مطمعي
হে আরশের অধিপতি! আমার প্রতি তাদের যে অভিপ্রায়, তাতে আমার ধৈর্যের ক্ষমতা দিন। তারাতো আমার গোশতকে টুকরো টুকরো করার ইরাদা করেছে, এখন আমার জীবনের আশা নিরাশায় রূপান্তরিত হয়েছে।
وذاك في ذات الا له وان يشأ * يبارك على اوصال شلو ممزع
আর এ সব তো আল্লাহ্রই উদ্দেশ্যে, তিনি চাইলে আমার ছিন্ন ভিন্ন দেহেও বরকত দিতে পারেন।
وقد خيروني الكفر والموت دونه * وقد هملت عيناي من غير مجزع
তারা আমাকে কুফ্রী কিংবা মৃত্যু-এর যে কোন একটি বেছে নিতে বলেছে। আর আমার দু'চোখ অশ্রু বহাচ্ছে, তবে তা মৃত্যুর ভয়ে না (বরং আল্লাহ্র ভয়ে)।
ومابي حذار الموت اني لميت * ولكن حذارى جحم نار ملفع
আমি মৃত্যুকে ভয় করি না, আমি তো একদিন মরবই আমি তো জাহান্নামের লেলিহান আগুনকে ভয় করি, যা আচ্ছন্ন করবে।
فوالله ما ارجو اذام مسلما * علی ای جنب كان في الله مصرعي
আল্লাহ্র কসম! আমি কিছুই পরওয়া করি না, যখন আমি মুসলিম হিসেবেই মারা যাচ্ছি। যে দিকেই মুখ করে থাকি না কেন, আল্লাহরই উদ্দেশ্যে আমার এ মরণ।
فلست بمبد للعدو تخشعا * ولا جزعا اني الى الله مرجعی
আমি শত্রুর সামনে কোন ধরনের দুর্বলতা ও অস্থিরতা প্রকাশকারী নই, নিশ্চয়ই আল্লাহরই কাছে আমার প্রত্যাবর্তন।
ইব্ন হিশাম বলেন: কাব্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ অবশ্য এ কবিতাকে খুবায়ব (রা)-এর বলে স্বীকার করেন না।