📄 আমর ইবন 'আসের কবিতা
আমর ইবন 'আস উহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে বলেন:
যখন আমাদের উপর বিপদ আপতিত হয়, তখন আমরা শত্রুদের মুকাবিলায় অবিচল থাকি।
আমরা যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এমন, যারা ভয় পাই না। আমরা শত্রুদের উপর আঘাত হেনে বিজয় লাভ করি।
আমরা শত্রুদের উপর এমনভাবে আঘাত হেনেছি, যা থেকে তারা আর কখনো পরিত্রাণ পাবে না।
আমরা শত্রুদের মুকাবিলায় বীরত্ব দেখিয়েছি এবং তারা যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখন আমরা তাদের উপর আঘাত হেনে বিজয় লাভ করি।
📄 কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর জবাবে বলেন
কা'ব ইবন মালিক (রা) বলেন:
হে আবু সুফিয়ান! তোমাদের জন্য দুঃখ। তোমাদের পক্ষ থেকে যেসব মিথ্যাচার ও অসার বাক্য ছড়ানো হয়েছে, তা অত্যন্ত বাজে ও খারাপ।
তুমি তো এই আশা করেছ যে, আমরা লাঞ্ছিত হব, কিন্তু আমরা সম্মানিতই থাকব। আর তোমরা লাঞ্ছিতই থাকবে।
আমাদের তরবারিগুলি এমন, যেগুলির কারণে লাঞ্ছিত হওয়ার পর তোমরা তোমাদের ঘরে মুখ লুকিয়ে রাখবে, আর অপমানিত অবস্থায় তোমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে।
আমাদের এমন বীরযোদ্ধা ছিল, যারা কুরায়শদের উপর এমনভাবে আঘাত হেনেছে যে, তাদের মাথার উপর থেকে লোহার শিরস্ত্রাণ বিদীর্ণ হয়ে গেছে।
📄 হাসান ইব্ন সাবিত (রা)-এর কবিতা
হাসসান ইবন সাবিত (রা) উহুদ যুদ্ধে যাওয়াবাঁহী সাহাবীদের সংখ্যা উল্লেখ করে একটি কবিতা রচনা করেন। ইবন হিশাম বলেন : সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রচিত কবিতাসমূহের মাঝে তাঁর এ কবিতাটি সর্বোত্তম। কবিতাটি নিম্নরূপ :
مـنـع الـنـوم بـالعشاء الـهـمـوم * وخـيـال اذا تـغـور الـنـجـوم
রজনী শেষে যখন তারকারাজি অস্ত যাচ্ছিল, তখনও চিন্তা-ভাবনা নিদ্রাকে বিলুপ্ত করে দিল।
من حبيب اضاف قلبك منه * سقم فهو داخل مكتوم
এটা সেই প্রিয়জনের বিরহ যাতনায়, যার ভালবাসার ব্যাধি তোমার হৃদয়ের মাঝে ঠাঁই নিয়েছে, আর তা সেখানে লুকিয়ে আছে।
بالقومى هل يقتل المرء مثلى * واهن البطش والعظام سؤوم
হে আমার সম্প্রদায়! আমার মত ব্যক্তিকে কি কেউ হত্যা করতে পারে, যার ক্ষমতা অতি দুর্বল, অস্থিসার এবং যে অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়?
لويدب الحولي من ولد الذر * عليها لاندبتها الكلوم
যদি তার উপর দিয়ে হেঁটে যায় ক্ষুদ্র পিপঁড়ার বাচ্চা তাতেও তার দেহে অঙ্কিত হয় জখম-চিহ্ন।
شأنها العطر والفراش ويعلو * هالجين ولؤلؤ منظوم
তার (আমার প্রেমিকার) কাজ হলো—কেবল আতরের ঘ্রাণ নেওয়া, আর বিছানায় শোয়া তার দেহে শোভা পায় রূপোর গয়না, আর গলায় মণি-মুক্তার মালা।
لم تفتها ها شمس النهار بشئ * غير ان الشباب ليس يدوم
দিনের আলো তার সৌন্দর্যে কোন ঘাটতি আনেনি, কিন্তু তাতে কি, যৌবন কারও স্থায়ী হয় না।
إن خالى خطيب جابية الجو * لان عند النعمان حين يقوم
আমার মামা' যখন জাওলানের' ক্ষুদ্র জলাশয়ের পাশে নু'মানের কাছে দাঁড়ায়, তখন তিনি হৃদয়গ্রাহী বক্তৃতা দেন।
وانا الصقر عند باب ابن سلمی * یوم نعمان في الكبول سقيم
ইবন সালমার দরজায় আমরা সেদিন ছিলাম বাজপাখীর মত, যেদিন নু'মান ব্যাধিগ্রস্ত ছিল, বেড়ি-বাঁধনে আবদ্ধ।
وابی و واقد اطلقالي * يوم راحا و كبلهم مخطوم
উবায় ও ওয়াকিদ যেদিন তারা সেখানে গিয়েছিল, আমারই কারণে সে দিন তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল; আর আমার ভয়ে তাদের শিকল ছিন্ন হয়েছিল।
ورهنت اليدين عنهم جميعا * كل كف جزء لها مقسوم
তাদের সকলের পক্ষ হতে আমি আমার দু'হাত বন্ধক রেখেছিলাম। প্রত্যেক হাতকে তার নিজ-নিজ অংশে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছিল।
وسطت نسبتى الذوائب منهم * كل دار فيها اب لي عظيم
তাদের মধ্যে যারা উচ্চ বংশীয় তাদের সংগে আমার সম্পর্ক রয়েছে। তাদের প্রত্যেক পরিবারেই রয়েছেন আমার কোন না কোন মহান পূর্বপুরুষ।
وابي في سميحة القائل الفاصل * يوم التقت عليه الخصوم
সুমায়হার' পাশে আমার পিতা ছিলেন একজন চূড়ান্ত মীমাংসাকারী ব্যক্তি, যখন বিচার প্রার্থীরা তার শরণাপন্ন হয়েছিল।
تلك افعالنا وفعل الزبعرى * حامل في صديقه مذموم
এসব আমাদেরই গৌরবময় কীর্তি, আর যাব'আরীর কাজ-কর্ম ম্লান হয়ে গেছে, যা তার বন্ধুদের কাছেও নিন্দিত।
رب حلم اضاعه عدم الما * ل وجهل غطى عليه النعيم
বস্তুত অর্থাভাব বহু সহনশীলতার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। পক্ষান্তরে অনেক মূর্খতা হয় প্রাচুর্যে ভরপুর।
لا تسبنني فلست بسبى * ان سبى من الرجال الكريم
তুমি আমাকে গালি দিও না, আমাকে গালি দেওয়া তোমার মুখে শোভা পায় না। কেননা, আমার গাল-মন্দকারীরাও ভদ্রলোকদের অন্তর্ভুক্ত।
ما ابالی انب بالحزن تيس * ام الحاني بظهر غيب لثيم
আমার কোন পরওয়া নেই, তা টিলার উপর বসে কোন ব্যাঙ ডাকাডাকি করুক, কিংবা পশ্চাতে বসে কোন ইতর লোক কুৎসা রটাক।
ولى البأس منكم اذ رحلتم * اسرة من بنى قصى صميم
তোমরা কুসায়ই গোত্রের একটি অভিজাত পরিবার বটে, কিন্তু তোমরা যুদ্ধের জন্য যখন রওনা হয়েছিলে, তখনই বিপর্যয় তোমাদের সাথী হয়েছিল।
تسعة تحمل اللواء وطارت * في رعاع من القنا مخزوم
বনু মাখযূম দুর্বল বর্শাধারী একটি বাহিনী নিয়ে সামনে অগ্রসর হয়েছিল। তাদের মাঝে নয়জন ছিল পতাকাবাহী।
واقاموا حتى ابيحوا جميعا * في مقام وكلهم مذموم
بدم عانك وكان حفاظا * ان يقيموا ان الكريم كريم
তারা এখানে এসে অবস্থান গ্রহণ করল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সকলকে লাল রক্তে রঞ্জিত করে অত্যন্ত নিকৃষ্ট অবস্থায় বেওয়ারিশ লাশে পরিণত করা হল।
এস্থানে তারা প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল; বস্তুত শরীফ মানুষ শরীফসুলভ আচরণই করে থাকে
واقاموا حتى ازيروا شعوبا * والقنا في نحورهم محطوم
তারা এখানে এসে অবস্থান নিয়েছিল, যে কারণে তাদের বক্ষে বর্শা ভেঙে মৃত্যুর সাথে তাদের সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়া হয়।
وقريش تفر منا لواذا * ان يقيموا و خف منها الحلوم
আর কুরায়শদের অবস্থা এই ছিল যে, তারা দিশেহারা হয়ে প্রাণ বাঁচাবার জন্য পালাতে ছিল, সেখানে এক মুহূর্ত দেরী করার মত সাহস তাদের ছিল না।
لم تطق حمله العواتق منهم * انما يحمل اللواء النجوم
তাদের কাঁধে এ পতাকা বহনের ক্ষমতা ছিল না, বস্তুত পতাকা তো তারকারাই (অর্থাৎ মুসলমানরাই) বহন করতে পারে।
ইন হিশাম বলেন: হাসান ইব্ন সাবিত (রা) اﻟﻬﻤﻮﻡ ﺑﺎﻟﻌﺸﺎﺀ ﻣﻨﻊ ﺍﻟﻨﻮﻡশীর্ষক এ কবিতাটি রাত্রিকালে রচনা করেছিলেন। তাই গোত্রের লোকদের ডেকে এনে বলেছিলেন, আমার আশংকা হল যে, ভোর হওয়ার আগেই আমার মৃত্যু এসে যাবে, আর তোমরা এ কবিতাটি আমার থেকে বর্ণনা করতে পারবে না।
টিকাঃ
১. অর্থাৎ মাস্লামা ইব্ন মুখাল্লাদ ইব্ন সামিত।
২. 'জাওলার' শামের একটি জায়গার নাম।
১. সুমায়হা একটি কুয়ার নাম। মদীনায় অবস্থিত। আওস ও খাযরাজ গোত্রের সুদীর্ঘকালীন বিবাদের নিষ্পত্তি এ কুয়ার পাশেই হয়েছিল।
📄 হাজ্জাজ সুলামীর কবিতা
ইব্ন হিশাম বলেন: উহুদ যুদ্ধে আমীরুল মু'মিনীন আবুল হাসান আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা), তাল্হা ইব্ন আবূ তাল্হা ইব্ন আবদুল উয্যা ইবন উসমান ইব্ন আবদুদ্দারকে হত্যা করেছিলেন। উহুদ যুদ্ধে তুলায়হা ছিল মুশরিকদের ঝাণ্ডাবাহী। কবি হাজ্জাজ ইব্ন ইলাত সুলামী এ ঘটনার উল্লেখপূর্বক আলী (রা)-এর প্রশংসা করে একটি কবিতা রচনা করেন। কবিতাটি আবু উবায়দা আমার কাছে নিম্নরূপ বর্ণনা করেছেন:
اعنى ابن فاطمة المعم المخولا
تركت طلحة للجبين مجدلا
بالجراذ يهوون اخول احولا
*
*
* لله ای مذهب عن حرمة سبقت
يداك له بعاجل طعنة
وشددت شدة باسل فكثفتهم
আল্লাহ্র কসম! মান-সম্মান রক্ষায় সদা তৎপর কে জান? আমি বলছি, ফাতিমার পুত্রের' কথা, যেমন শরীফ তাঁর পিতৃকূল, তেমনি মাতুলগণও।
হে আলী! বর্শা নিক্ষেপে তোমার হাতের ক্ষীপ্রতা তুলায়হাকেও হার মানিয়েছে, আর তুমি তাকে অধোমুখে ভূপাতিত করেছ।
একজন প্রকৃত বীরের মত তুমি উহুদের রণক্ষেত্রে এমনই হামলা চালালে যাতে কাফিররা ঊর্ধ্বশ্বাসে পাহাড়ের দিকে দৌড়াল, (কিন্তু শেষ রক্ষা হল না), তারা একের পর এক নীচে পড়লো।
টিকাঃ
১. অর্থাৎ হযরত 'আলী (রা)। তাঁর মায়ের নাম ছিল ফাতিমা, যিনি হাশিমের পুত্র আসাদের কন্যা ছিলেন। এভাবে হযরত আলী (রা)-এর পিতা ও মাতা উভয়ে ছিলেন হাশিম গোত্রীয়। হাশিম গোত্রে এ মর্যাদা সর্ব প্রথম তিনিই লাভ করেন।