📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে হামরাউল আসাদ নামক স্থানে গিয়েছিল

📄 যাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে হামরাউল আসাদ নামক স্থানে গিয়েছিল


ইব্ন ইসহাক বলেন: الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ
জখম হওয়ার পর যারা আল্লাহ্ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে (৩: ১৭২)।
অর্থাৎ ঐসব মু'মিন যারা উহুদের যুদ্ধের পরের দিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সংগে জখমের ব্যথা-যন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও হামরাউল আসাদে গিয়েছিল।
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا مِنْهُمْ وَاتَّقَوْا أَجْرٌ عَظِيمُ الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيْمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ .
তাদের মধ্যে যারা সৎকার্য করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে চলে, তাদের জন্য মহাপুরস্কার রয়েছে। এদেরকে লোকেরা বলেছিল: তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে; সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় কর। কিন্তু এটা তাদের ঈমান দৃঢ়তর করেছিল এবং তারা বলেছিল; আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্মবিধায়ক (৩: ১৭২-১৭৩)।
মুসলমানদের যারা এ জাতীয় কথা বলেছিল তারা হলো: আবদুল কায়িসের কিছু লোক, যারা আবু সুফিয়ানের সাথে আলোচনা করার পর মুসলমানদের বলেছিল যে, আবু সুফিয়ান ও অন্যান্যরা প্রচুর সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছে। তারা পুনরায় তোমাদের উপর আক্রমণ করবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَانْقَلَبُوا بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ لَّمْ يَمْسَسْهُمْ سُوءُ وَاتَّبَعُوا رِضْوَانَ اللَّهِ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ.
তারপর তারা আল্লাহর অবদান ও অনুগ্রহসহ ফিরে এসেছিল, কোন অনিষ্ট তাদের স্পর্শ করেনি এবং আল্লাহ্ যাতে রাযী, তারা তারই অনুসরণ করেছিল এবং আল্লাহ্ মহা-অনুগ্রহশীল (৩: ১৭৪)।
কেননা, তিনি তাদেরকে শত্রুর সাথে পুনরায় সংঘর্ষ হওয়া থেকে হিফাযত করেন।
إِنَّمَا ذَلِكُمُ الشَّيْطَنُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءَ فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُوْنِ إِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِينَ .
শয়তানই তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায় সুতরাং যদি তোমরা মু'মিন হও, তবে তোমরা তাদের ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর (৩: ১৭৫)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দুঃখিত না হওয়া প্রসংগে

📄 দুঃখিত না হওয়া প্রসংগে


وَلَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُوعُنَ فِي الْكُفْرِ أَنَّهُمْ لَنْ يَضُرُّوا اللَّهَ شَيْئًا يُرِيدُ اللَّهُ أَلَا يَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّا فِي الْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ إِنَّ الَّذِينَ اشْتَرَوا الكُفْرَ بِالْإِيْمَانِ لَنْ يَضُرُّ واللَّهَ شَيْئًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ. وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ خَيْرٌ لِّأَنْفُسِهِمْ إِنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ لِيَزْدَادُوا إِثْمًا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ مَا كَانَ اللَّهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتَّى يَمِيرَ الْخَبِيْتَ مِنَ الطَّيِّبِ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلَكِنَّ اللهَ يَجْتَبِي مِنْ رَّسُلِهِ مَنْ يَشَاءُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَإِنْ تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌ .
যারা কুফরীতে ত্বরিতগতি, তাদের আচরণ যেন তোমাকে দুঃখ না দেয় (অর্থাৎ মুনাফিকরা) তারা কখনও আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ্ আখিরাতে তাদের কোন অংশ দিবার ইচ্ছা করেন না। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে। যারা ঈমানের বিনিময়ে কুফরী ক্রয় করেছে, তারা কখনও আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। কাফিররা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি অবকাশ দেই তাদের মঙ্গলের জন্য; আমি অবকাশ দিয়ে থাকি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রয়েছে। অসৎকে সৎ হতে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা (অর্থাৎ কাফির মুনাফিক), যে অবস্থায় রয়েছো, আল্লাহ্ মু'মিনদের সেই অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না। অদৃশ্যের সম্পর্কে তোমাদেরকে আল্লাহ্ অবহিত করার নন (অর্থাৎ ঐ ব্যাপারে, যাতে আল্লাহ্ তোমাদের পরীক্ষা করতে চান, যাতে তোমরা বেঁচে থাকো)। তবে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান আনো, তোমরা ঈমান আনলে ও তাকওয়া অবলম্বন করে চললে (অর্থাৎ বিরত হয়ে তওবা করলে) তোমাদের জন্য মহাপুরষ্কার রয়েছে (৩: ১৭৬-১৭৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00