📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নবী (সা)-এর বিশেষ মর্যাদা

📄 নবী (সা)-এর বিশেষ মর্যাদা


এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَغُلَّ ۚ وَمَن يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ .
অন্যায়ভাবে কোন বস্তু গোপন করবে, এটা নবীর পক্ষে অসম্ভব এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করলে, যা সে অন্যায়ভাবে গোপন করবে, কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে। এরপর প্রত্যেককে যা সে অর্জন করেছে তা পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না (৩: ১৬১)।
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা নবীকে যে নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেন, তা লোকেদের ভয়ে কিংবা পার্থিব মোহে পড়ে লোকের থেকে গোপন করা তাঁর জন্য সম্ভব নয়। এমনটি যে করবে, কিয়ামতের দিন তার সামনে তা প্রকাশ পেয়ে যাবে, যা সে করবে। তারপর সে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে, এ ব্যাপারে তার প্রতি কোন প্রকার অবিচার কিংবা বাড়াবাড়ি করা হবে না।
أَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَ اللَّهِ كَمَنْ بَاءَ بَسَخَطَ مِّنَ اللَّهِ وَمَاؤُهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ .
আল্লাহ্ যাতে রাযী, যে তারই অনুসরণ করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মত যে আল্লাহ্র ক্রোধের পাত্র হয়েছে এবং জাহান্নامই যার আবাস? আর তা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল (৩: ১৬২)।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষের শত্রুতা কিংবা মিত্রতার প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ না করে একমাত্র আল্লাহকেই সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করে, তার মরতবা নিঃসন্দেহে ঐ ব্যক্তির থেকে অনেক বেশী, যে মানুষের সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য করে এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কোন পরওয়া করে না। যার কারণে সে আল্লাহ্ তা'আলার ক্রোধের যোগ্য হয়। এরা উভয়ে বরাবর হতে পারে না।
هُمْ دَرَجَتْ عِندَ الله وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ .
আল্লাহ্র নিকট তারা বিভিন্ন স্তরের; তারা যা করে আল্লাহ্ তার সম্যক-দ্রষ্টা। (৩: ১৬৩)।
অর্থাৎ প্রত্যেকের জন্য তার আমল মুতাবিক জান্নাত ও জাহান্নামে একটি স্তর নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ্র কাছে গোপন নয় কে বাধ্য আর কে অবাধ্য।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুসলমানদের উপর আল্লাহ্র অনুগ্রহ

📄 মুসলমানদের উপর আল্লাহ্র অনুগ্রহ


এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذَا بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الكتب وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَّلٍ مُّبِينٍ.
তাদের নিজেদের মধ্য হতে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করে আল্লাহ্ মু'মিনদের প্রতি অবশ্য অনুগ্রহ করেছেন; সে তাঁর আয়াত তাদের নিকট আবৃত্তি করে, তাদেরকে পরিশোধন করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়, যদিও তারা তো পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিল (৩: ১৬৪)।
অর্থাৎ হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের উপর এটা আল্লাহর বড় অনুগ্রহ যে, তোমাদের মধ্য হতে তিনি রাসূল প্রেরণ করেছেন, যাতে তোমরা যে নতুন নতুন বিষয় সৃষ্টি করে রেখেছিলে এবং তোমাদের যা আমল ছিল, সে ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহ্ আয়াতসমূহ শুনাবেন। আর তোমাদের ভাল মন্দের শিক্ষা দিবেন। যাতে তোমরা ভালকে চিনে তার উপর আমল করতে পার এবং মন্দকে চিনে তা থেকে বাঁচতে পার। আর সে তোমাদের খবর দেবে যে, যখন তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করবে এখন তোমরা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করবে, এতে তোমাদের মাঝে আনুগত্যের আগ্রহ আরও তীব্র হবে। আর আল্লাহ্ যে সব বিষয়ে অসন্তুষ্ট হন, তা থেকে বেঁচে তার অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে পারবে এবং এভাবে তোমরা জান্নাতের সওয়াব লাভ করতে পারবে। এর পূর্বে তোমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে অর্থাৎ জাহিলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলে। ভাল-মন্দের পার্থক্য করার যোগ্যতা তোমাদের ছিল না। ভাল কথা শুনার ব্যাপারে তোমরা বধির, হক কথা বলার ব্যাপারে বোবা এবং সৎপথ দেখার ব্যাপারে অন্ধ ছিলে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উহুদ যুদ্ধের বিপর্যয় প্রসংগে

📄 উহুদ যুদ্ধের বিপর্যয় প্রসংগে


তারপর আল্লাহ্ সে সব মুসীবতের কথা, যা মুসলমানদের উপর উহুদ যুদ্ধে আপতিত হয়েছিল, তার উল্লেখ করে বলেন: أوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُمْ مُثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّى هذا قُلْ هُوَ مِنْ عِндِ أَنْفُسِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
কি ব্যাপার। যখন তোমাদের উপর মুসীবত আসলো, তখন তোমরা বললেন, এটা কোত্থেকে আসলো? অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। বল, এটা তোমাদের নিজেদেরই নিকট হতো; আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান (৩: ১৬৫)।
অর্থাৎ তোমাদের ভুলের কারণেই যদি তোমাদের ভাইদের উপর কোন বিপদ আসে, তবে তাতে কি আসে যায়। এর পূর্বে বদর প্রান্তরে যে যুদ্ধ হয়েছিল, তাতে তোমরা তাদের কতল ও বন্দী করে তাদের উপর দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। তোমরা ভুলে গেলে তোমাদের গুনাহের কথা এবং তোমাদের নবী তোমাদের যে নির্দেশ দিয়েছিল, তোমরা তার বিরোধিতা করেছিলে, একথা কি তোমরা ভুলে গেলে?
إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা আপন বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিতে কিংবা ক্ষমা করতে পূর্ণ সক্ষম।
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَمَا أَصَابَكُمْ يَوْمَ التَقَى الْجَمْعَنِ فَبِإِذْنِ اللهِ وَلِيَعْلَمُ الْمُؤْمِنِينَ. وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ نَافَقُوا
যে দিন দু'দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল, সেদিন তোমাদের উপর যে বিপর্যয় ঘটেছিল, তা আল্লাহ্রই হুকুমে; এটা মু'মিনদেরকে জানবার জন্য এবং মুনাফিকদের জানবার জন্য (৩: ১৬৬-৬৭)।
অর্থাৎ যা তোমাদের এবং তোমাদের শত্রুপক্ষের মাঝে মুকাবিলার সময় ঘটেছিল তা আমার হুকুমেই ঘটেছিল। এ ঘটনা তখন ঘটেছিল, যখন তোমরা যা করার তা করলে আমার সাহায্য ও প্রতিশ্রুতি আসার পর, যাতে মু'মিন আর মুনাফিকের মাঝে পার্থক্য হয়ে যায়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুনাফিকদের অবস্থা

📄 মুনাফিকদের অবস্থা


এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالُوا قَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِدْفَعُوا قَالُوا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالَا لَا اتَّبَعْنَكُمْ .
এবং তাদের বলা হয়েছিল, 'এসো তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর অথবা প্রতিরোধ কর।' তারা বলেছিল, 'যদি জানতাম যে, যুদ্ধ হবে তবে নিশ্চিতভাবে তোমাদের অনুসরণ করতাম' (৩: ১৬৭)।
অর্থাৎ আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ও তার অনুচররা উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গ ছেড়ে ফিরে এসেছিল। তারা তখন বলেছিল, আমরা যদি জানতে পারতাম এবং আমাদের এ বিশ্বাস হত যে, নিশ্চিত যুদ্ধ সংঘটিত হবে, তবে আমরা তোমাদের সাথে অবশ্যই যেতাম এবং তোমাদের পক্ষ হয়ে লড়াই করতাম। কিন্তু, আমাদের ধারণা ছিল যুদ্ধ সংঘটিত হবে না। আল্লাহ্ তা'আলা মুনাফিকদের এ গোপন নিফাক স্পষ্টরূপে প্রকাশ করে দিয়ে বলেছেন:
هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِيْمَانِ يَقُولُونَ بِأَفْوَاهِهِمْ مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُونَ الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا قُلْ فَادْرَءُوا عَنْ أَنْفُسِكُمُ الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صدقين .
সেদিন তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরীর নিকটতর ছিল। যা তাদের অন্তরে নাই তারা তা মুখে বলে; তারা যা গোপন রাখে আল্লাহ্ তা বিশেষভাবে অবহিত। যারা ঘরে বসে রইলো এবং তাদের ভাইদের সম্বন্ধে বলল যে, তারা তাদের কথামত চললে নিহত হতো না, তাদের বল, 'যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে নিজেদের মৃত্যু হতে রক্ষা কর' (৩: ১৬৭-১৬৮)।
অর্থাৎ মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। যদি তোমরা তোমাদের থেকে মৃত্যুকে প্রতিহত করতে পার, তবে তা কর। জিহাদ থেকে ফিরে থাকাই ছিল, তাদের মূল লক্ষ্য। আর এর মূলে ছিল তাদের নিফাকী। দুনিয়াতে বেশী দিন বেঁচে থাকার লক্ষ্যে এবং মৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য তারা আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করাকে পরিত্যাগ করেছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00