📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কোমল স্বভাব সম্পর্কে
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نُفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِهِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكَّلِينَ
আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলে। যদি তুমি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতে তবে তারা তোমার আশপাশ হতে সরে পড়ত। সুতরাং তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। এরপর তুমি কোন সংকল্প করলে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করবে; যারা নির্ভর করে আল্লাহ্ তাদের ভালবাসেন (৩: ১৫৯)।
এখানে আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদের সাথে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নম্র স্বভাবের ও ধৈর্য-সহ্যের কথা উল্লেখ করেছেন কেননা, তারা হলো দুর্বল। আল্লাহ্ কর্তৃক ফরযকৃত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যে ত্রুটি হওয়ামাত্রই কঠোরতা অবলম্বন করা হলে তারা তা বরদাশত করতে সক্ষম হতো না। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলছেন, فَاعْفُ عَنْهُمْ তুমি তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা কর। وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ অর্থাৎ তাদের মধ্যে যারা মু'মিন, তাদের দ্বারা যখন কোন গুনাহ্ হয়ে যায় তখন তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর وَشَاوِرُهُمْ فِي الْأَمْرِ এবং কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। যাতে একথা তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, তুমি তাদের কথা শোন এবং তাদের সাহায্য গ্রহণ কর; যদিও তাদের পরামর্শ ও সাহায্য নেয়ার তোমার কোন প্রয়োজন নেই, তবে তুমি দীনের ব্যাপারে তাদের মন জয় করার জন্যই এরূপ করবে।
📄 আল্লাহর উপর ভরসা করা
فَاذَا عَزَمْتَ অর্থাৎ যখন তুমি কোন বিষয়ে সংকল্প করবে, অর্থাৎ যদি এমন কোন বিষয়ের দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর যা তোমার কাছে আমার পক্ষ থেকে (ওহীর মাধ্যমে) এসেছে, কিংবা তার সম্পর্ক দীনের ব্যাপারে শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের সাথে হোক এবং এ জিহাদ ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের কোন বিকল্প কিছুই থাকে না; তখন তুমি আমার নির্দেশে তা সম্পন্ন কর, চাই এতে কেউ তোমার পক্ষে থাকুক বা বিপক্ষে যাক। فَتَوَكَّلْ عَلَى الله আর তুমি আল্লাহর উপর নির্ভর করবে এবং বান্দাদের কথার প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে আল্লাহকেই সন্তুষ্ট রাখবে। إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِّينَ যারা নির্ভর করে, আল্লাহ্ তাদের ভালবাসেন।
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۖ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ ۗ
আল্লাহ্ তোমাদের সাহায্য করলে তোমাদের উপর জয়ী হবার কেউই থাকবে না। আর তিনি তোমাদের সাহায্য না করলে, তিনি ছাড়া কে এমন আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে? (৩: ১৬০)।
সুতরাং মানুষের জন্য আমার আহকামকে উপেক্ষা করো না বরং মানুষের কথাকে আমার নির্দেশের সামনে সম্পূর্ণ বর্জন কর। وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ আর মু'মিনদের উচিত মানুষের উপর নয়; বরং আল্লাহ্র উপর ভরসা করা।
📄 নবী (সা)-এর বিশেষ মর্যাদা
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَغُلَّ ۚ وَمَن يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ .
অন্যায়ভাবে কোন বস্তু গোপন করবে, এটা নবীর পক্ষে অসম্ভব এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করলে, যা সে অন্যায়ভাবে গোপন করবে, কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে। এরপর প্রত্যেককে যা সে অর্জন করেছে তা পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না (৩: ১৬১)।
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা নবীকে যে নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেন, তা লোকেদের ভয়ে কিংবা পার্থিব মোহে পড়ে লোকের থেকে গোপন করা তাঁর জন্য সম্ভব নয়। এমনটি যে করবে, কিয়ামতের দিন তার সামনে তা প্রকাশ পেয়ে যাবে, যা সে করবে। তারপর সে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে, এ ব্যাপারে তার প্রতি কোন প্রকার অবিচার কিংবা বাড়াবাড়ি করা হবে না।
أَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَ اللَّهِ كَمَنْ بَاءَ بَسَخَطَ مِّنَ اللَّهِ وَمَاؤُهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ .
আল্লাহ্ যাতে রাযী, যে তারই অনুসরণ করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মত যে আল্লাহ্র ক্রোধের পাত্র হয়েছে এবং জাহান্নامই যার আবাস? আর তা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল (৩: ১৬২)।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষের শত্রুতা কিংবা মিত্রতার প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ না করে একমাত্র আল্লাহকেই সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করে, তার মরতবা নিঃসন্দেহে ঐ ব্যক্তির থেকে অনেক বেশী, যে মানুষের সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য করে এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কোন পরওয়া করে না। যার কারণে সে আল্লাহ্ তা'আলার ক্রোধের যোগ্য হয়। এরা উভয়ে বরাবর হতে পারে না।
هُمْ دَرَجَتْ عِندَ الله وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ .
আল্লাহ্র নিকট তারা বিভিন্ন স্তরের; তারা যা করে আল্লাহ্ তার সম্যক-দ্রষ্টা। (৩: ১৬৩)।
অর্থাৎ প্রত্যেকের জন্য তার আমল মুতাবিক জান্নাত ও জাহান্নামে একটি স্তর নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ্র কাছে গোপন নয় কে বাধ্য আর কে অবাধ্য।
📄 মুসলমানদের উপর আল্লাহ্র অনুগ্রহ
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذَا بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الكتب وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَّلٍ مُّبِينٍ.
তাদের নিজেদের মধ্য হতে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করে আল্লাহ্ মু'মিনদের প্রতি অবশ্য অনুগ্রহ করেছেন; সে তাঁর আয়াত তাদের নিকট আবৃত্তি করে, তাদেরকে পরিশোধন করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়, যদিও তারা তো পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিল (৩: ১৬৪)।
অর্থাৎ হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের উপর এটা আল্লাহর বড় অনুগ্রহ যে, তোমাদের মধ্য হতে তিনি রাসূল প্রেরণ করেছেন, যাতে তোমরা যে নতুন নতুন বিষয় সৃষ্টি করে রেখেছিলে এবং তোমাদের যা আমল ছিল, সে ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহ্ আয়াতসমূহ শুনাবেন। আর তোমাদের ভাল মন্দের শিক্ষা দিবেন। যাতে তোমরা ভালকে চিনে তার উপর আমল করতে পার এবং মন্দকে চিনে তা থেকে বাঁচতে পার। আর সে তোমাদের খবর দেবে যে, যখন তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করবে এখন তোমরা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করবে, এতে তোমাদের মাঝে আনুগত্যের আগ্রহ আরও তীব্র হবে। আর আল্লাহ্ যে সব বিষয়ে অসন্তুষ্ট হন, তা থেকে বেঁচে তার অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে পারবে এবং এভাবে তোমরা জান্নাতের সওয়াব লাভ করতে পারবে। এর পূর্বে তোমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে অর্থাৎ জাহিলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলে। ভাল-মন্দের পার্থক্য করার যোগ্যতা তোমাদের ছিল না। ভাল কথা শুনার ব্যাপারে তোমরা বধির, হক কথা বলার ব্যাপারে বোবা এবং সৎপথ দেখার ব্যাপারে অন্ধ ছিলে।