📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আল্লাহ্র রাস্তায় জীবনদান সম্পর্কে

📄 আল্লাহ্র রাস্তায় জীবনদান সম্পর্কে


অর্থাৎ সে সব মুনাফিকের মত হয়ো না, যারা তাদের ভাইদের আল্লাহ্ পথে জিহাদ করতে এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী সফর করতে বাধা প্রদান করে এবং তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে কিংবা নিহত হলে বলে যে, 'এরা আমাদের কথা মানলে মৃত্যুবরণ করত না নিহতও হতো না।
لِيَجْعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ حَسْرَةً فِي قُلُوبِهِمْ
ফলে আল্লাহ্ এটাই তাদের মনস্তাপে পরিণত করেন (৩: ১৫৬)। তাদের প্রতিপালকের প্রতি তাদের বিশ্বাস গৌণ হওয়ার কারণে তারা এরূপ করে।
وَاللَّهُ يُحْي وَيُمِيتُ
আল্লাহই জীবনদান করেন এবং মৃত্যু ঘটান।
তিনি নিজ কুদরতে তার মৃত্যুর সময় থেকে যতটুকু ইচ্ছা বিলম্বিত করেন, আর যতটুকু ইচ্ছা তরান্বিত করেন।
وَلَئِن قُتِلْتُمْ فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ مُتُمْ لَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللهِ وَرَحْمَةٌ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ
তোমরা আল্লাহ্র পথে নিহত হলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে, যা তারা জমা করে আল্লাহর ক্ষমা এবং দয়া অবশ্য তা অপেক্ষা শ্রেয় (৩: ১৫৭)।
অর্থাৎ মৃত্যু তো অবধারিত, এ থেকে কেউ-ই রেহাই পাবে না। সুতরাং আল্লাহর পথের মৃত্যু ঐ দুনিয়া থেকে উত্তম, যা সঞ্চয় করার জন্য এই মুনাফিকরা জিহাদে অংশ গ্রহণ করা থেকে পেছনে থাকে এবং মৃত্যুকে ভয় করে। কেননা, তারা মরে গেলে কিংবা নিহত হলে দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে বঞ্চিত হবে। এদের আখিরাতের কোন চিন্তা নেই।
وَلَئِن مُّتُّمْ أَوْ قُتِلْتُمْ لَا إِلَى اللَّهِ تُحْشَرُونَ .
এবং তোমাদের মৃত্যু হলে অথবা তোমরা নিহত হলে আল্লাহরই নিকট তোমাদের একত্র করা হবে (৩: ১৫৮)।
অর্থাৎ সর্বাবস্থায়ই যখন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে, তখন দুনিয়ার চাকচিক্যে তোমাদের ধোঁকায় পড়া উচিত নয়। আর তোমাদের নিকট জিহাদ এবং জিহাদে শরীক হওয়ার কারণে আল্লাহ্ যে সাওয়াবের প্রতি তোমাদের উৎসাহিত করেছেন, তার প্রতি তোমাদের আগ্রহশীল হওয়া উচিত।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কোমল স্বভাব সম্পর্কে

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কোমল স্বভাব সম্পর্কে


فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نُفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِهِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكَّلِينَ
আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলে। যদি তুমি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতে তবে তারা তোমার আশপাশ হতে সরে পড়ত। সুতরাং তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। এরপর তুমি কোন সংকল্প করলে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করবে; যারা নির্ভর করে আল্লাহ্ তাদের ভালবাসেন (৩: ১৫৯)।
এখানে আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদের সাথে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নম্র স্বভাবের ও ধৈর্য-সহ্যের কথা উল্লেখ করেছেন কেননা, তারা হলো দুর্বল। আল্লাহ্ কর্তৃক ফরযকৃত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যে ত্রুটি হওয়ামাত্রই কঠোরতা অবলম্বন করা হলে তারা তা বরদাশত করতে সক্ষম হতো না। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলছেন, فَاعْفُ عَنْهُمْ তুমি তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা কর। وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ অর্থাৎ তাদের মধ্যে যারা মু'মিন, তাদের দ্বারা যখন কোন গুনাহ্ হয়ে যায় তখন তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর وَشَاوِرُهُمْ فِي الْأَمْرِ এবং কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। যাতে একথা তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, তুমি তাদের কথা শোন এবং তাদের সাহায্য গ্রহণ কর; যদিও তাদের পরামর্শ ও সাহায্য নেয়ার তোমার কোন প্রয়োজন নেই, তবে তুমি দীনের ব্যাপারে তাদের মন জয় করার জন্যই এরূপ করবে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আল্লাহর উপর ভরসা করা

📄 আল্লাহর উপর ভরসা করা


فَاذَا عَزَمْتَ অর্থাৎ যখন তুমি কোন বিষয়ে সংকল্প করবে, অর্থাৎ যদি এমন কোন বিষয়ের দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর যা তোমার কাছে আমার পক্ষ থেকে (ওহীর মাধ্যমে) এসেছে, কিংবা তার সম্পর্ক দীনের ব্যাপারে শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের সাথে হোক এবং এ জিহাদ ছাড়া উদ্দেশ্য সাধনের কোন বিকল্প কিছুই থাকে না; তখন তুমি আমার নির্দেশে তা সম্পন্ন কর, চাই এতে কেউ তোমার পক্ষে থাকুক বা বিপক্ষে যাক। فَتَوَكَّلْ عَلَى الله আর তুমি আল্লাহর উপর নির্ভর করবে এবং বান্দাদের কথার প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে আল্লাহকেই সন্তুষ্ট রাখবে। إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِّينَ যারা নির্ভর করে, আল্লাহ্ তাদের ভালবাসেন।
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۖ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ ۗ
আল্লাহ্ তোমাদের সাহায্য করলে তোমাদের উপর জয়ী হবার কেউই থাকবে না। আর তিনি তোমাদের সাহায্য না করলে, তিনি ছাড়া কে এমন আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে? (৩: ১৬০)।
সুতরাং মানুষের জন্য আমার আহকামকে উপেক্ষা করো না বরং মানুষের কথাকে আমার নির্দেশের সামনে সম্পূর্ণ বর্জন কর। وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ আর মু'মিনদের উচিত মানুষের উপর নয়; বরং আল্লাহ্র উপর ভরসা করা।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নবী (সা)-এর বিশেষ মর্যাদা

📄 নবী (সা)-এর বিশেষ মর্যাদা


এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَغُلَّ ۚ وَمَن يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ .
অন্যায়ভাবে কোন বস্তু গোপন করবে, এটা নবীর পক্ষে অসম্ভব এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করলে, যা সে অন্যায়ভাবে গোপন করবে, কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে। এরপর প্রত্যেককে যা সে অর্জন করেছে তা পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না (৩: ১৬১)।
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা নবীকে যে নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেন, তা লোকেদের ভয়ে কিংবা পার্থিব মোহে পড়ে লোকের থেকে গোপন করা তাঁর জন্য সম্ভব নয়। এমনটি যে করবে, কিয়ামতের দিন তার সামনে তা প্রকাশ পেয়ে যাবে, যা সে করবে। তারপর সে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে, এ ব্যাপারে তার প্রতি কোন প্রকার অবিচার কিংবা বাড়াবাড়ি করা হবে না।
أَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَ اللَّهِ كَمَنْ بَاءَ بَسَخَطَ مِّنَ اللَّهِ وَمَاؤُهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ .
আল্লাহ্ যাতে রাযী, যে তারই অনুসরণ করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মত যে আল্লাহ্র ক্রোধের পাত্র হয়েছে এবং জাহান্নامই যার আবাস? আর তা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল (৩: ১৬২)।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষের শত্রুতা কিংবা মিত্রতার প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ না করে একমাত্র আল্লাহকেই সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করে, তার মরতবা নিঃসন্দেহে ঐ ব্যক্তির থেকে অনেক বেশী, যে মানুষের সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য করে এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কোন পরওয়া করে না। যার কারণে সে আল্লাহ্ তা'আলার ক্রোধের যোগ্য হয়। এরা উভয়ে বরাবর হতে পারে না।
هُمْ دَرَجَتْ عِندَ الله وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ .
আল্লাহ্র নিকট তারা বিভিন্ন স্তরের; তারা যা করে আল্লাহ্ তার সম্যক-দ্রষ্টা। (৩: ১৬৩)।
অর্থাৎ প্রত্যেকের জন্য তার আমল মুতাবিক জান্নাত ও জাহান্নামে একটি স্তর নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ্র কাছে গোপন নয় কে বাধ্য আর কে অবাধ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00