📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ উয্যার হত্যা

📄 আবূ উয্যার হত্যা


আবূ উবায়দা বলেন: মদীনায় ফেরার পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা) ঐ এলাকাতে মু'আবিয়া ইব্‌ন মুগীরা ইব্‌ন আবুল 'আস ইব্‌ন উমাইয়া ইবন আব্দ শাম্সকে গ্রেফতার করলেন, যে ছিল আবদুল মালিক ইব্‌ন মারওয়ানের নানা অর্থাৎ তার মা আয়েশা-এর পিতা। আর গ্রেফতার করলেন আবূ উয্যা জুমহীকে ইতিপূর্বে আবূ উয্যাকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বদর যুদ্ধে গ্রেফতার করেছিলেন। কিন্তু কোন পণ ছাড়াই তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন সে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা করে দিন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আল্লাহ্র কসম! এখন তুমি মক্কায় গিয়ে একথা গর্ব করে বলতে পারবে না যে, আমি মুহাম্মদ (সা)-কে দুবার ধোঁকা দিয়েছি। একথা বলে তিনি যুবায়র (রা)-কে নির্দেশ দিলেন, হে যুবায়র, তার শিরশ্ছেদ কর। নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করলেন।
ইন্ন হিশাম বলেন: সাঈদ ইব্‌ন মুসায়্যিবের সূত্রে আমার কাছে এই তথ্য পৌঁছেছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) এ সময় বলেছিলেন:
إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يُلْدَعُ مِنْ جُحْرٍ مَرَّتَيْنِ ، إِضْرِبْ عُنَقَهُ بِاعَاصِمُ ابْنِ ثَابِتَ
মু'মিনের জন্য এক গর্তে থেকে দু'বার দংশিত হওয়া সমীচীন নয়, হে আসিম ইব্‌ন সাবিত! তার শিরশ্ছেদ কর। এ নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মা'আবিয়া ইব্‌ন মুগীরার হত্যা

📄 মা'আবিয়া ইব্‌ন মুগীরার হত্যা


ইবন হিশাম বলেন: কথিত আছে, যায়দ ইব্‌ন হারিসা ও আম্মার ইবন ইয়াসার (রা) হামরাউল আসাদ থেকে ফিরার পর মু'আবিয়া ইন্ন মুগীরাকে হত্যা করেন। মু'আবিয়া উসমান ইন্ন আফফান (রা)-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। উসমান (রা) তার নিরাপত্তার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আবেদন করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন, যে, তিনদিন পর যদি তাকে পাওয়া যায়, তবে তাকে হত্যা করা হবে। কিন্তু সে তিনদিন পরেও সেখানেই লুকিয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) যায়দ ও আম্মার (রা)-কে ডেকে বললেন: তোমরা মু'আবিয়াকে অমুক জায়গায় পাবে। তাঁরা তাকে সেখানে পেয়ে হত্যা করলো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়ের অবস্থা

📄 আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়ের অবস্থা


ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে ইন্ন শিহাব যুহরী বর্ণনা করেছেন যে, মদীনায় আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইন্ন সালূলের ব্যক্তিগত ও গোত্রগত এক বিশেষ মর্যাদা ছিল। সেই সুবাদে তার জন্য মসজিদে একটি জায়গা নির্ধারিত ছিল। সেখানে সে বিনা বাধায় দাঁড়িয়ে জুমাআর সালাত আদায় করত। জুমাআর দিন যখন রাসূলুল্লাহ (সা) খুতবার জন্য মিম্বরে বসতেন, তখন সে দাঁড়িয়ে সকলকে লক্ষ্য করে বলত:
হে লোক সকল! এই তো তোমাদের মাঝে আল্লাহ্র রাসূল। আল্লাহ্ তাঁর মাধ্যমে তোমাদের ইজ্জত-সম্মান দান করেছেন। সুতরাং তোমরা তাঁর সাহায্য সহায়তা কর, তাঁর হাতকে শক্তিশালী কর। তাঁর নির্দেশ শোন এবং তাঁর অনুসরণ কর। এরপর সে বসে যেত, তারপর সে উহুদ যুদ্ধে যখন এ কাণ্ড ঘটাল যে, সে তার কিছু লোক নিয়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরে এলো। উহুদের যুদ্ধ শেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় ফিরে এলেন, তখন সে আগের অভ্যাস মত দাঁড়িয়ে আগের মত ঘোষণা দিতে চাইলো। তখন মুসলমানরা তাকে বাঁধা দিয়ে চারদিক থেকে তার কাপড় টেনে ধরে বললেন: হে আল্লাহর দুশমন! বস। তুমি এখানে কিছু বলার যোগ্য নও। উহুদ যুদ্ধে যা করার তা করেছো।
তখন আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় লোকদের ডিংগিয়ে এই বলতে বলতে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল: আল্লাহর কসম! আমি যেন কোন খারাপ কথা বলে ফেলেছি। আমিতো তাঁর বিষয়টি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়েছিলাম, এ সময় মসজিদের দরজায় তার সাথে জনৈক আনসার সাহাবীর সাক্ষাৎ হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: রে হতভাগা! তোমার কি হয়েছে? সে বললো আমিতো তাঁর বিষয়টি শক্তিশালি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাঁর কিছু সংগী আমার সাথে দুর্ব্যবহার করলো। আমি যেন কোন খারাপ কথা বলে ফেলেছি। আমি তো তাঁর বিষয়টি শক্তিশালী করতে চেয়েছিলাম। তিনি বললেন: রে হতভাগা! তুমি ফিরে যাও। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার ক্ষমার জন্য আল্লাহ্র কাছে দু'আ করবেন। সে বললেন: আমি চাইনা যে, তিনি আমার জন্য ইস্তিগফার করুন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের অগ্নি-পরীক্ষা

📄 উহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের অগ্নি-পরীক্ষা


ইবন ইসহাক বলেন: উহুদের দিনটি ছিল বিপদ ও মুসীবতের দিন, পরীক্ষার দিন। আল্লাহ্ তা'আলা এর দ্বারা মুসলমানদের পরীক্ষা করেন এবং মুনাফিকদের শাস্তি দেন, যারা মুখে ঈমানদার বলে প্রকাশ করতো, কিন্তু তাদের অন্তরে কুফর লুকায়িত ছিল। সেইসাথে সেদিন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের মধ্যে থেকে যাদের প্রতি তিনি অনুগ্রহ করার ইচ্ছা করেন, তাঁদের তিনি শাহাদাত দ্বারা সম্মানিত করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00