📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 আবু সুফিয়ানের পয়গাম

📄 আবু সুফিয়ানের পয়গাম


আবু সুফিয়ানের কাছ দিয়ে আবদুল কায়সের একটি দল অতিক্রম করল, সে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: কোথায় যাচ্ছ? তারা জবাব দিল মদীনার দিকে। আবু সুফিয়ান পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: কেন? তারা জবাব দিল : নিছক ঘুরাফিরার উদ্দেশ্যে। আবু সুফিয়ানে বললেন: তোমরা কি আমার পক্ষ থেকে মুহাম্মদকে একটা পয়গাম পৌঁছে দিবে, যা আমি তোমাদের মাধ্যমে পৌঁছাতে চাই? যদি তোমরা তা কর, তবে এর বিনিময়ে আমি তোমাদের উকাযে পৌঁছার পর কিসমিস দিব।
তারা বলল: আচ্ছা, ঠিক আছে। তখন আবু সুফিয়ান বলল: তাঁর সংগে তোমাদের সাক্ষাৎ হলে বলবে যে, আমরা তাঁর এবং তাঁর অবশিষ্ট লোকদের মূলোৎপাটনের উদ্দেশ্যে পুনরায় তাদের দিকে ফিরে আসার জন্য বদ্ধপরিকর হয়েছি। এই আরোহী দল হামরাউল আসাদে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে আবূ সুফিয়ানের এ পয়গাম পৌঁছে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন:
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
"আল্লাহ্-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম সাহায্যকারী।"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 সাফওয়ান ইবন উমাইয়ার পরামর্শ

📄 সাফওয়ান ইবন উমাইয়ার পরামর্শ


ইব্‌ন হিশাম বলেন, আমাদের কাছে আবু উবায়দা বর্ণনা করেছেন যে, যখন আবু সুফিয়ান ইন্ন হাব উহুদ যুদ্ধ থেকে ফিরে যাচ্ছিল, তখন সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অবশিষ্ট সাথীদের মূলোৎপাটনের উদ্দেশ্যে পুনরায় মদীনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলো। কিন্তু তখন সাফওয়ান ইবন উমাইয়া ইব্‌ন খালাফ তাদেরকে বলল তোমরা এমনটি করো না। মুসলমানরা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে আছে। আমাদের ভয় হচ্ছে যে, তাদের এবারকার লড়াই আগের চাইতে ভিন্ন ধরনের হবে। সুতরাং তোমরা ফিরে যাও। তার এ কথায় কুরায়শরা ফিরে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) এ সংবাদ পেয়ে বললেন:
والذي نفسي بيده ، لقد سومت لهم حجارة ، لوصبحوا بها لكانوا كامس الذاهب
ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার জীবন। আল্লাহ্র পক্ষ থেকে শাস্তি স্বরূপ তাদের জন্য পাথর চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছিল। যদি সকালে তারা সেই পাথরগুলোর সম্মুখীন হতো, তবে তারা গতকালের মত নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 আবূ উয্যার হত্যা

📄 আবূ উয্যার হত্যা


আবূ উবায়দা বলেন: মদীনায় ফেরার পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা) ঐ এলাকাতে মু'আবিয়া ইব্‌ন মুগীরা ইব্‌ন আবুল 'আস ইব্‌ন উমাইয়া ইবন আব্দ শাম্সকে গ্রেফতার করলেন, যে ছিল আবদুল মালিক ইব্‌ন মারওয়ানের নানা অর্থাৎ তার মা আয়েশা-এর পিতা। আর গ্রেফতার করলেন আবূ উয্যা জুমহীকে ইতিপূর্বে আবূ উয্যাকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বদর যুদ্ধে গ্রেফতার করেছিলেন। কিন্তু কোন পণ ছাড়াই তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন সে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা করে দিন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আল্লাহ্র কসম! এখন তুমি মক্কায় গিয়ে একথা গর্ব করে বলতে পারবে না যে, আমি মুহাম্মদ (সা)-কে দুবার ধোঁকা দিয়েছি। একথা বলে তিনি যুবায়র (রা)-কে নির্দেশ দিলেন, হে যুবায়র, তার শিরশ্ছেদ কর। নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করলেন।
ইন্ন হিশাম বলেন: সাঈদ ইব্‌ন মুসায়্যিবের সূত্রে আমার কাছে এই তথ্য পৌঁছেছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) এ সময় বলেছিলেন:
إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يُلْدَعُ مِنْ جُحْرٍ مَرَّتَيْنِ ، إِضْرِبْ عُنَقَهُ بِاعَاصِمُ ابْنِ ثَابِتَ
মু'মিনের জন্য এক গর্তে থেকে দু'বার দংশিত হওয়া সমীচীন নয়, হে আসিম ইব্‌ন সাবিত! তার শিরশ্ছেদ কর। এ নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 মা'আবিয়া ইব্‌ন মুগীরার হত্যা

📄 মা'আবিয়া ইব্‌ন মুগীরার হত্যা


ইবন হিশাম বলেন: কথিত আছে, যায়দ ইব্‌ন হারিসা ও আম্মার ইবন ইয়াসার (রা) হামরাউল আসাদ থেকে ফিরার পর মু'আবিয়া ইন্ন মুগীরাকে হত্যা করেন। মু'আবিয়া উসমান ইন্ন আফফান (রা)-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। উসমান (রা) তার নিরাপত্তার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আবেদন করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন, যে, তিনদিন পর যদি তাকে পাওয়া যায়, তবে তাকে হত্যা করা হবে। কিন্তু সে তিনদিন পরেও সেখানেই লুকিয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) যায়দ ও আম্মার (রা)-কে ডেকে বললেন: তোমরা মু'আবিয়াকে অমুক জায়গায় পাবে। তাঁরা তাকে সেখানে পেয়ে হত্যা করলো।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية