📄 দীনারী মহিলার ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আবদুল ওয়াহিদ ইব্ন আওন ইসমাঈল ইব্ন মুহাম্মদ সূত্রে সা'দ ইব্ন আবু ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনূ দীনারের জনৈকা মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ মহিলার স্বামী ভাই ও বাপ সব-উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন। যখন তাঁকে এদের সকলের মৃত্যু সংবাদ শুনানো হলো তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) কি অবস্থায় আছেন? সাহাবায়ে কিরাম (রা) বললেন: হে আমুকের মা! তিনি আল্লাহর মেহেরবানীতে ভাল আছেন, যেমন তুমি চাও। মহিলা বললেন: আমাকে দেখিয়ে দাও। আমি স্বচক্ষে তাঁকে দেখব। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) দিকে ইংগিত করে দেখিয়ে দেয়া হলো। তখন তিনি বলেন: كُلُّ مُصِيبَةٍ بَعْدَكَ جَلَلٌ
"আপনার বর্তমানে সব বিপদই তুচ্ছ।"
ইব্ন হিশাম বলেন: الجلل অর্থ অত্যন্ত নগন্য ও অনেক বড় উভয় অর্থেই ব্যবহার হয়, তবে এখানে অত্যন্ত তুচ্ছ অর্থই ব্যবহৃত হয়েছে। ইমরাউল কায়স অত্যন্ত তুচ্ছ অর্থে নিম্নোক্ত পংক্তিতে এ শব্দটি ব্যবহার করেছেন:
لقتل بني أسد ربهم * ألا كل شيء سواه جلل
বনূ আসাদের আপন বাদশাহকে হত্যা করা ছাড়া, তাদের অন্য সব অপরাধই তুচ্ছ।
ইব্ন হিশাম বলেন: তবে অন্য কবি অর্থাৎ হারিসা ইব্ন ওয়ালাহ জারমী তার নিম্নোক্ত পংক্তিতে এ শব্দটি 'অনেক বড়' অর্থেই ব্যবহার করেছে।
ولئن عفوت لأعفون جللاً * ولئن سطوت لأوهنن عظمي
যদি আমি ক্ষমা করি তবে বড় অপরাধই ক্ষমা করবো। আর যদি প্রতিপত্তি বিস্তার করি, তবে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো।
📄 তরবারি ধোয়া প্রসংগে
ইব্ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) ঘরে ফিরে তাঁর মেয়ে ফাতিমা (রা)-কে নিজ তরবারি দিয়ে বললেন: নেও মা, এর রক্তগুলো ধুয়ে ফেল। আল্লাহর কসম! আজ এটি আমার সাথে বেশ বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছে। আলী (রা)ও নিজ তরবারি তাঁকে দিয়ে বললেন: এই তরবারিটিও ধুয়ে ফেল। আল্লাহ্র শপথ। আজ এটি আমার সাথে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছে। একথার প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: যদি তুমি যুদ্ধে সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাক, তবে তোমার সাথে সাহল ইব্ন হুসায়ফ এবং আবূ দুজানাও সত্যনিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে।
ইব্ন হিশাম বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর তরবারির নাম ছিল যুলফিকার। ইব্ন হিশাম বলেন: আমার কাছে জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, ইব্ন আবু নুজায়েহ বলেছেন, উহুদ যুদ্ধে জনৈক ব্যক্তি ঘোষণা দিলেন যে,
لا سَيْفَ إِلَّا ذُو الْفَقَارُ وَلَا فَتَى إِلَّا عَلَى
যুলফিকারই তো একমাত্র তরবারি, আর আলী (রা)-ই একমাত্র যুবক।
ইব্ন হিশাম বলেন: আমার কাছে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-কে বলেন: মুশরিকরা আমাদের আর এ ধরনের বিপর্যয়ে ফেলতে পারবে না, যতদিন না আল্লাহ্ তাদের উপর আমাদের বিজয়ী করেন।
ইব্ন ইসহাক বলেন: উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি শনিবার।
📄 হামরাউল আসাদের যুদ্ধ
ইব্ন ইসহাক বলেন: তার পরের দিন অর্থাৎ রবিবার ১৬ই শাওয়াল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পক্ষ থেকে শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য জনৈক ঘোষণাকারী লোকদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিলেন। তিনি এরূপ ঘোষণাও করলেন, যে যাঁরা গতকল্য আমাদের সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল, শুধু তারাই যেন আজ আমাদের সংগে বের হয়। এই ঘোষণা শুনে জারিব ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমর ইব্ন হারাম (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হাযির হয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার আব্বা আমাকে আমার সাত বোনের দেখাশুনার জন্য রেখে যান এবং বলেন: দেখ বৎস! আমার জন্য এবং তোমার জন্য সমীচীন হবে না যে, এই মহিলাদের কোন পুরুষ ছাড়া এভাবে ছেড়ে যাই। আর তুমি এমন নও যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে জিহাদে অংশ গ্রহণ করার ব্যাপারে আমি নিজের উপর তোমাকে অগ্রাধিকার দিব। সুতরাং তুমি বোনদের দেখাশুনার জন্য থেকে যাও। তাই আমি তাদের সাথে রয়ে গিয়েছিলাম। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার অনুমতি দিয়ে দিলেন। অনুমতি পেয়ে তিনি তাঁর সংগে বের হলেন।
📄 মুসলমানদের মধ্যে জিহাদের উদ্দীপনা
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়েছিলেন শুধুমাত্র শত্রুদেরকে ভয় দেখানোর জন্য এবং তাদের জানিয়ে দেওয়ার জন্য যে, তিনি তাদের খোঁজে বের হয়েছেন, যাতে তারা বুঝে নেয় যে, তাঁদের শক্তি এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। উহুদ যুদ্ধে প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার কারণে তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় দুর্বল হয়ে পড়েননি।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইব্ন খারিজা ইব্ন যায়দ ইব্ন সাবিত; আয়েশা বিন্ত উসমানের আযাদকৃত গোলাম আবূ সায়েব (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বন্ আশহালের জনৈক সাহাবী উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে শরীক ছিলেন। তিনি বলেন: আমি এবং আমার ভাই উভয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে উহুদ যুদ্ধে শরীক ছিলাম এবং আহত হয়ে ফিরলাম। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পক্ষ থেকে শত্রুর খোঁজে বের হওয়ার নির্দেশ হলো, তখন আমি আমার ভাইকে বললাম কিংবা ভাই আমাকে বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা থেকে আমরা কি মাহরুম থেকে যাব? আল্লাহ্র কসম! এখন আমাদের এমন কোন বাহনও নেই, যাতে আমরা আরোহণ করতে পারি, আর আমরা উভয়ে মারাত্মকভাবে আহত। এরপর আমরা উভয়েই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে বের হয়ে পড়লাম। ভাইয়ের তুলনায় আমি কিছুটা কম আহত ছিলাম। ভাই (তিনি) কাবু হয়ে পড়লে, আমি তাকে উঠিয়ে নিতাম এবং সকলের পিছু পিছু চলতাম আর কিছুক্ষণ তিনি পায়ে হাঁটতেন। এভাবে আমরা মুসলমানদের সাথে গন্তব্যস্থানে পৌঁছে গেলাম।