📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসার মহিলাদের বিলাপ

📄 আনসার মহিলাদের বিলাপ


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনূ আবদুল আশহাল ও বনূ যাফারের জনৈক আনসার সাহাবীর ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মহিলাদেরকে তাঁদের শহীদদের জন্য বিলাপ করতে শুনলেন। তখন তাঁর চক্ষু থেকেও অশ্রু ঝরে পড়লো। এ সময় তিনি বললেন: হামযার জন্য ক্রন্দন করার মত কেউ নেই। তখন সা'দ ইব্‌ন মু'আয ও উসায়দ ইবন হুযায়র (রা) বনূ আবদুল আশহালের ঘরে গিয়ে তাদের মহিলাদের বললেন: তোমরা গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চাচার জন্য বিলাপ কর।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হাকীম ইব্‌ন হাকীম আব্বাদ ইবন হুনায়ফ সূত্রে বন্ আবদুল আশহালের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা (রা)-এর জন্য মহিলাদের ক্রন্দনের শব্দ শুনতে পেয়ে বেরিয়ে এলেন। তারা মসজিদের দরজাতেই বিলাপ করছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বললেন: আল্লাহ্ তোমাদের উপর রহম করুন, তোমরা ফিরে যাও। তোমরা তোমাদের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা দানের যথেষ্ট হক আদায় করেছো।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: সেই দিন থেকেই বিলাপ করতে নিষেধ করা হয়।
ইব্‌ন হিশام বলেন: আমার কাছে আবু উবায়দা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মহিলাদের ক্রন্দনের শব্দ শনতে পেয়ে বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আনসারদের উপর রহম করুন, তাদের পক্ষ হতে সমবেদনা প্রকাশের সদাচার পূর্ব থেকেই চলে আসছে। এখন তাদের ফিরে যেতে বল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দীনারী মহিলার ঘটনা

📄 দীনারী মহিলার ঘটনা


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আবদুল ওয়াহিদ ইব্‌ন আওন ইসমাঈল ইব্‌ন মুহাম্মদ সূত্রে সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনূ দীনারের জনৈকা মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ মহিলার স্বামী ভাই ও বাপ সব-উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন। যখন তাঁকে এদের সকলের মৃত্যু সংবাদ শুনানো হলো তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) কি অবস্থায় আছেন? সাহাবায়ে কিরাম (রা) বললেন: হে আমুকের মা! তিনি আল্লাহর মেহেরবানীতে ভাল আছেন, যেমন তুমি চাও। মহিলা বললেন: আমাকে দেখিয়ে দাও। আমি স্বচক্ষে তাঁকে দেখব। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) দিকে ইংগিত করে দেখিয়ে দেয়া হলো। তখন তিনি বলেন: كُلُّ مُصِيبَةٍ بَعْدَكَ جَلَلٌ
"আপনার বর্তমানে সব বিপদই তুচ্ছ।"
ইব্‌ন হিশাম বলেন: الجلل অর্থ অত্যন্ত নগন্য ও অনেক বড় উভয় অর্থেই ব্যবহার হয়, তবে এখানে অত্যন্ত তুচ্ছ অর্থই ব্যবহৃত হয়েছে। ইমরাউল কায়স অত্যন্ত তুচ্ছ অর্থে নিম্নোক্ত পংক্তিতে এ শব্দটি ব্যবহার করেছেন:
لقتل بني أسد ربهم * ألا كل شيء سواه جلل
বনূ আসাদের আপন বাদশাহকে হত্যা করা ছাড়া, তাদের অন্য সব অপরাধই তুচ্ছ।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: তবে অন্য কবি অর্থাৎ হারিসা ইব্‌ন ওয়ালাহ জারমী তার নিম্নোক্ত পংক্তিতে এ শব্দটি 'অনেক বড়' অর্থেই ব্যবহার করেছে।
ولئن عفوت لأعفون جللاً * ولئن سطوت لأوهنن عظمي
যদি আমি ক্ষমা করি তবে বড় অপরাধই ক্ষমা করবো। আর যদি প্রতিপত্তি বিস্তার করি, তবে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তরবারি ধোয়া প্রসংগে

📄 তরবারি ধোয়া প্রসংগে


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) ঘরে ফিরে তাঁর মেয়ে ফাতিমা (রা)-কে নিজ তরবারি দিয়ে বললেন: নেও মা, এর রক্তগুলো ধুয়ে ফেল। আল্লাহর কসম! আজ এটি আমার সাথে বেশ বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছে। আলী (রা)ও নিজ তরবারি তাঁকে দিয়ে বললেন: এই তরবারিটিও ধুয়ে ফেল। আল্লাহ্র শপথ। আজ এটি আমার সাথে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছে। একথার প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: যদি তুমি যুদ্ধে সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাক, তবে তোমার সাথে সাহল ইব্‌ন হুসায়ফ এবং আবূ দুজানাও সত্যনিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর তরবারির নাম ছিল যুলফিকার। ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমার কাছে জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, ইব্‌ন আবু নুজায়েহ বলেছেন, উহুদ যুদ্ধে জনৈক ব্যক্তি ঘোষণা দিলেন যে,
لا سَيْفَ إِلَّا ذُو الْفَقَارُ وَلَا فَتَى إِلَّا عَلَى
যুলফিকারই তো একমাত্র তরবারি, আর আলী (রা)-ই একমাত্র যুবক।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমার কাছে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা)-কে বলেন: মুশরিকরা আমাদের আর এ ধরনের বিপর্যয়ে ফেলতে পারবে না, যতদিন না আল্লাহ্ তাদের উপর আমাদের বিজয়ী করেন।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি শনিবার।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হামরাউল আসাদের যুদ্ধ

📄 হামরাউল আসাদের যুদ্ধ


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: তার পরের দিন অর্থাৎ রবিবার ১৬ই শাওয়াল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পক্ষ থেকে শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য জনৈক ঘোষণাকারী লোকদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিলেন। তিনি এরূপ ঘোষণাও করলেন, যে যাঁরা গতকল্য আমাদের সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল, শুধু তারাই যেন আজ আমাদের সংগে বের হয়। এই ঘোষণা শুনে জারিব ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হারাম (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হাযির হয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার আব্বা আমাকে আমার সাত বোনের দেখাশুনার জন্য রেখে যান এবং বলেন: দেখ বৎস! আমার জন্য এবং তোমার জন্য সমীচীন হবে না যে, এই মহিলাদের কোন পুরুষ ছাড়া এভাবে ছেড়ে যাই। আর তুমি এমন নও যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে জিহাদে অংশ গ্রহণ করার ব্যাপারে আমি নিজের উপর তোমাকে অগ্রাধিকার দিব। সুতরাং তুমি বোনদের দেখাশুনার জন্য থেকে যাও। তাই আমি তাদের সাথে রয়ে গিয়েছিলাম। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার অনুমতি দিয়ে দিলেন। অনুমতি পেয়ে তিনি তাঁর সংগে বের হলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00