📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সুফিয়া (রা)-এর দুঃখ বেদনা

📄 সুফিয়া (রা)-এর দুঃখ বেদনা


ইবন ইসহাক বলেন: আমি এ তথ্য পেয়েছি যে, সুফিয়া বিন্ত আবদুল মুত্তালিব হামযা (রা)-কে দেখার জন্য অগ্রসর হলেন, তিনি পিতা-মাতা উভয় দিক থেকে তাঁর আপন ভাই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর ছেলে যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম (রা)-কে বললেন: তুমি সুফিয়াকে গিয়ে বাঁধা দাও। তাঁর ভাইয়ের এ দুরাবস্থা যেন তিনি না দেখেন। যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম (রা) তাঁকে গিয়ে বললেন: আম্মা! রাসূলুল্লাহ্ (সা) আপনাকে ফিরে যেতে বলেছেন। সুফিয়া (রা) জিজ্ঞাসা করলেন: কেন? শুনেছি আমার ভাই (হামযা)-এর মুছলাহ করা হয়েছে। এসব আল্লাহ্ পথে হয়েছে। যা কিছু ঘটেছে আল্লাহ্ আমাদেরকে তার উপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক দান করেছেন। আল্লাহ্ চাহে ত আমি সওয়াবের আশা করবো এবং ধৈর্যধারণ করবো।
যুবায়র (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে এ খবর তাঁকে জানালেন। তখন তিনি বললেন: আচ্ছা তাকে আসতে দাও। সুফিয়া (রা) এসে তাঁকে দেখলেন এবং তার জানাযার সালাত আদায় করলেন; আর اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّآ اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পড়ে তাঁর মাগফিরাতের জন্য দু'আ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) নির্দেশে তাঁকে দাফন করা হলো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 শহীদদের দাফন প্রসংগে

📄 শহীদদের দাফন প্রসংগে


ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহ্শের লোকেরা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহ্শ (রা)-কে হামযা (রা)-এর সংগে একই কবরে দাফন করেন। তিনি ছিলেন উমায়মা বিন্ত আবদুল মুত্তালিবের ছেলে, (আর উমায়মা ছিলেন হামযা (রা)-এর বোন, এই হিসাবে) হামযা (রা) ছিলেন তাঁর মামা। হামযা (রা)-এর মত আবদুল্লাহ (রা)-কেও মুছলাহ করা হয়েছিল। তবে তাঁর পেট ফেড়ে কলিজা বের করা হয়নি। আমি এই বর্ণনা আবদুল্লাহ্ (রা)-এর পরিবারস্থ লোক ছাড়া আর কারো কাছে শুনিনি।
ইন্ন ইসহাক বলেন: মুসলমানরা কতক শহীদকে বহন করে নিয়ে মদীনায় দাফন করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) অবশিষ্ট লাশ মদীনায় নিয়ে যেতে নিষেধ করে বলেন: তারা যেখানে শহীদ হয়েছে সেখানেই তাদের দাফন কর।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্‌ন মুসলিম যুহরী, বনূ যুহার মিত্র আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন ছা'লাবা ইব্‌ন সুআইর উযরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উহুদের শহীদদের লক্ষ্য করে বললেন: আমি এদের সকলের ব্যাপারে সাক্ষী। নিঃসন্দেহে আল্লাহর পথে যে আহত হয় আল্লাহ্ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, তার জখম থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে, যার রং হবে রক্তের কিন্তু ঘ্রাণ হবে মিশকের। তোমরা লক্ষ্য কর, এদের মধ্যে কে অধিক কুরআন হিফ্যকারী। তাকে সকলের আগে কবরে রাখো। তাঁরা একই কবরে দু'জন, তিনজন করে দাফন করতে লাগলেন।
ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার চাচা মূসা ইব্‌ন ইয়াসার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রা)-কে বলতে শুনেছেন যে, আবুল কাসিম (সা) বলেছেন: আল্লাহর পথে যে কোন ব্যক্তি আহত হয়, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, তার যখম থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে। যার রং হবে রক্তেরই কিন্তু ঘ্রাণ হবে মিশকের।
ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার আব্বা ইসহাক ইব্‌ন ইয়াসার বনূ সালামার কতক শায়েখের কাছ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেদিন শহীদদের দাফন করার নির্দেশ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, আমার ইবন জামূহ ও আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইবন হারামের প্রতি লক্ষ্য রাখ। দুনিয়াতে এদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিল আন্তরকিতাপূর্ণ। সুতরাং এদের একই কবরে দাফন কর।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হামনা (রা)-এর শোক

📄 হামনা (রা)-এর শোক


ইবন ইসহাক বলেন: আমি এ তথ্য পেয়েছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় ফিরার পথে হামনা বিন্ত জাহ্শ নাম্নী এক মহিলা তাঁর সংগে সাক্ষাৎ করলেন। লোকেরা তাঁকে তাঁর ভাই এর মৃত্যুর সংবাদ শোনালো। তখন তিনি إِنَّا لِلَّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ পড়ে তাঁর জন্য মাগফিরাত চাইলেন। তারপর তাঁকে তাঁর মামা হামযা (রা)-এর মৃত্যুর সংবাদ শুনানো হলো। তখনও তিনি إِنَّا لِلَّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ পড়ে তাঁর জন্য ইস্তিগফার করলেন। তারপর তাঁর স্বামী মুস'আব ইবন উমায়ের (রা)-এর মৃত্যুর সংবাদ শুনানো হলো তখন তিনি চীৎকার করে কাঁদতে আরম্ভ করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে ভাই ও মামার মৃত্যু সংবাদে অবিচলিত এবং স্বামীর মৃত্যু সংবাদে চীৎকার করতে দেখে বললেন: মহিলাদের অন্তরে তাদের স্বামীদের জন্য বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসার মহিলাদের বিলাপ

📄 আনসার মহিলাদের বিলাপ


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনূ আবদুল আশহাল ও বনূ যাফারের জনৈক আনসার সাহাবীর ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মহিলাদেরকে তাঁদের শহীদদের জন্য বিলাপ করতে শুনলেন। তখন তাঁর চক্ষু থেকেও অশ্রু ঝরে পড়লো। এ সময় তিনি বললেন: হামযার জন্য ক্রন্দন করার মত কেউ নেই। তখন সা'দ ইব্‌ন মু'আয ও উসায়দ ইবন হুযায়র (রা) বনূ আবদুল আশহালের ঘরে গিয়ে তাদের মহিলাদের বললেন: তোমরা গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চাচার জন্য বিলাপ কর।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হাকীম ইব্‌ন হাকীম আব্বাদ ইবন হুনায়ফ সূত্রে বন্ আবদুল আশহালের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা (রা)-এর জন্য মহিলাদের ক্রন্দনের শব্দ শুনতে পেয়ে বেরিয়ে এলেন। তারা মসজিদের দরজাতেই বিলাপ করছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের বললেন: আল্লাহ্ তোমাদের উপর রহম করুন, তোমরা ফিরে যাও। তোমরা তোমাদের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা দানের যথেষ্ট হক আদায় করেছো।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: সেই দিন থেকেই বিলাপ করতে নিষেধ করা হয়।
ইব্‌ন হিশام বলেন: আমার কাছে আবু উবায়দা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মহিলাদের ক্রন্দনের শব্দ শনতে পেয়ে বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আনসারদের উপর রহম করুন, তাদের পক্ষ হতে সমবেদনা প্রকাশের সদাচার পূর্ব থেকেই চলে আসছে। এখন তাদের ফিরে যেতে বল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00