📄 কুরআন আয়াত নাযিল হওয়া এবং সবরের নির্দেশ
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বুরায়দা ইব্ন সুফিয়ান ইব্ন ফারওয়া আসলামী মুহাম্মদ ইব্ন কা'ব কুরাযীসহ অন্যান্য আরও কিছু লোক থেকে, যাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই, ইব্ন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, মুছলাহ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ও সাহাবাদের এ উক্তির প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন:
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ ، وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ - وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلا بِاللهِ ، وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ ، وَلَاتَكُ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ .
যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর; তবে ঠিক ততখানি করবে, যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে; তবে তোমরা ধৈর্যধারণ করলে ধৈর্যশীলদের জন্য তাই উত্তম। ধৈর্যধারণ কর, তোমার ধৈর্য তো হবে আল্লাহরই সাহায্যে। তাদের কারণে দুঃখ করো না এবং তাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ো না (১৬: ১২৬-১২৭)।
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ (সা) ক্ষমা করে দিয়ে ধৈর্যধারণ করেন এবং মুছলাহ করতে নিষেধ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হুমায়দ তাবীল হাসান সূত্রে সামুরা ইবন জুনদুব (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) কোন জায়গায় অবস্থান করে, আমাদেরকে দান খয়রাতের নির্দেশ এবং মুছলাহ সম্পর্কে বারণ না করা পর্যন্ত, সে স্থান ত্যাগ করতেন না।
📄 শহীদদের জানাযার সালাত আদায় প্রসংগে
ইব্ন ইসহাক বলেন: যার বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই, এমন এক ব্যক্তি আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিছের আযাদকৃত গোলাম মিকসাম সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশে হামযা (রা)-কে একটি চাদরে মুড়িয়ে দেওয়া হলো। তারপর তিনি তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি সাতটি তাকবীর বললেন। তারপর অন্যান্য শহীদদের এনে একের পর এক হামযা (রা)-এর পাশে রাখা হলো, আর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদের জানাযার সালাত আদায় করতে থাকলেন। সাথে হামযা (রা)-এর জানাযার সালাতও আদায় হতে লাগলো। এভাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা (রা)-এর উপর বাহাত্তরবার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
📄 সুফিয়া (রা)-এর দুঃখ বেদনা
ইবন ইসহাক বলেন: আমি এ তথ্য পেয়েছি যে, সুফিয়া বিন্ত আবদুল মুত্তালিব হামযা (রা)-কে দেখার জন্য অগ্রসর হলেন, তিনি পিতা-মাতা উভয় দিক থেকে তাঁর আপন ভাই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর ছেলে যুবায়র ইব্ন আওয়াম (রা)-কে বললেন: তুমি সুফিয়াকে গিয়ে বাঁধা দাও। তাঁর ভাইয়ের এ দুরাবস্থা যেন তিনি না দেখেন। যুবায়র ইব্ন আওয়াম (রা) তাঁকে গিয়ে বললেন: আম্মা! রাসূলুল্লাহ্ (সা) আপনাকে ফিরে যেতে বলেছেন। সুফিয়া (রা) জিজ্ঞাসা করলেন: কেন? শুনেছি আমার ভাই (হামযা)-এর মুছলাহ করা হয়েছে। এসব আল্লাহ্ পথে হয়েছে। যা কিছু ঘটেছে আল্লাহ্ আমাদেরকে তার উপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক দান করেছেন। আল্লাহ্ চাহে ত আমি সওয়াবের আশা করবো এবং ধৈর্যধারণ করবো।
যুবায়র (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে এ খবর তাঁকে জানালেন। তখন তিনি বললেন: আচ্ছা তাকে আসতে দাও। সুফিয়া (রা) এসে তাঁকে দেখলেন এবং তার জানাযার সালাত আদায় করলেন; আর اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّآ اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পড়ে তাঁর মাগফিরাতের জন্য দু'আ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) নির্দেশে তাঁকে দাফন করা হলো।
📄 শহীদদের দাফন প্রসংগে
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাহ্শের লোকেরা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাহ্শ (রা)-কে হামযা (রা)-এর সংগে একই কবরে দাফন করেন। তিনি ছিলেন উমায়মা বিন্ত আবদুল মুত্তালিবের ছেলে, (আর উমায়মা ছিলেন হামযা (রা)-এর বোন, এই হিসাবে) হামযা (রা) ছিলেন তাঁর মামা। হামযা (রা)-এর মত আবদুল্লাহ (রা)-কেও মুছলাহ করা হয়েছিল। তবে তাঁর পেট ফেড়ে কলিজা বের করা হয়নি। আমি এই বর্ণনা আবদুল্লাহ্ (রা)-এর পরিবারস্থ লোক ছাড়া আর কারো কাছে শুনিনি।
ইন্ন ইসহাক বলেন: মুসলমানরা কতক শহীদকে বহন করে নিয়ে মদীনায় দাফন করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) অবশিষ্ট লাশ মদীনায় নিয়ে যেতে নিষেধ করে বলেন: তারা যেখানে শহীদ হয়েছে সেখানেই তাদের দাফন কর।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন মুসলিম যুহরী, বনূ যুহার মিত্র আবদুল্লাহ্ ইব্ন ছা'লাবা ইব্ন সুআইর উযরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উহুদের শহীদদের লক্ষ্য করে বললেন: আমি এদের সকলের ব্যাপারে সাক্ষী। নিঃসন্দেহে আল্লাহর পথে যে আহত হয় আল্লাহ্ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, তার জখম থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে, যার রং হবে রক্তের কিন্তু ঘ্রাণ হবে মিশকের। তোমরা লক্ষ্য কর, এদের মধ্যে কে অধিক কুরআন হিফ্যকারী। তাকে সকলের আগে কবরে রাখো। তাঁরা একই কবরে দু'জন, তিনজন করে দাফন করতে লাগলেন।
ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার চাচা মূসা ইব্ন ইয়াসার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রা)-কে বলতে শুনেছেন যে, আবুল কাসিম (সা) বলেছেন: আল্লাহর পথে যে কোন ব্যক্তি আহত হয়, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, তার যখম থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে। যার রং হবে রক্তেরই কিন্তু ঘ্রাণ হবে মিশকের।
ইন্ন ইসহাক বলেন: আমার আব্বা ইসহাক ইব্ন ইয়াসার বনূ সালামার কতক শায়েখের কাছ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেদিন শহীদদের দাফন করার নির্দেশ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, আমার ইবন জামূহ ও আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমর ইবন হারামের প্রতি লক্ষ্য রাখ। দুনিয়াতে এদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিল আন্তরকিতাপূর্ণ। সুতরাং এদের একই কবরে দাফন কর।