📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হামযা (রা)-এর শাহাদতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হুমকি

📄 হামযা (রা)-এর শাহাদতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হুমকি


ইবন ইসহাক বলেন: আমি এ তথ্য পেয়েছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব (রা)-কে তালাশ করতে বেরিয়ে তাঁকে 'বাতনে ওয়াদীতে পেলেন। দেখলেন, বুক ফেড়ে কলিজা বের করা হয়েছে এবং তাঁর নাক ও কান কাটা হয়েছে। ইবন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্‌ন্ন জা'ফর ইব্‌ন্ন যুবায়র আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) এই দৃশ্য দেখে বললেন: সুফিয়া দুঃখ পাবে এবং আমার পর এক প্রথা জারী হয়ে যাবে, যদি আমি এ আশংকা না করতাম তবে আমি হামযা (রা)-কে এভাবেই ছেড়ে যেতাম, আর সে হিংস্র জন্তু ও পাখির খোরাক হতো। যদি কোনদিন আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে কুরায়শের উপর বিজয় লাভ করার সুযোগ দান করেন, তবে আমি তাদের মধ্য থেকে অন্তত ত্রিশ জনের মুছলাহ করব।
হামযা (রা)-এর সংগে এ আচরণকারীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দুঃখ ও ক্রোধ দেখে মুসলমানরা বললেন: আল্লাহ্র কসম! যদি তিনি কোনদিন আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করেন, তবে আমরা তাদের এমন মুছালাহ করব যে, আরবের বুকে এমন মুছলাহ কেউ করেনি।
ইবন হিশাম বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা (রা)-এর পাশে দাঁড়িয়ে বললেন: আপনার কারণে আমার উপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে, এরূপ বিপদ ভবিষ্যতে আর কোন দিন আসবে না। এ স্থানের চাইতে অধিক ঘূর্ণিত কোন স্থানে আমি কখনো দাঁড়াইনি। এরপর তিনি বললেন: জিবরাঈল (আ) আমার কাছে এসে সংবাদ দিয়েছেন যে, সপ্ত আকাশের অধিবাসীদের মাঝে হামযা (রা) সম্পর্কে এরূপ লেখা হয়ে গেছে:
حَمْزَةُ ابْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ، أَسَدَ اللَّهِ وَ أَسَدُ رَسُولِهِ -
হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব আল্লাহ্র সিংহ, আল্লাহ্র রাসূলের সিংহ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম, হামযা (রা) ও আবু সালামা ইব্‌ন আবদুল আসাদ, এঁরা তিনজন দুধভাই ছিলেন। এঁদের তিনজনকে আবু লাহাবের বাঁদী (সুয়ায়বা) দুধ পান করিয়েছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরআন আয়াত নাযিল হওয়া এবং সবরের নির্দেশ

📄 কুরআন আয়াত নাযিল হওয়া এবং সবরের নির্দেশ


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বুরায়দা ইব্‌ন সুফিয়ান ইব্‌ন ফারওয়া আসলামী মুহাম্মদ ইব্‌ন কা'ব কুরাযীসহ অন্যান্য আরও কিছু লোক থেকে, যাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই, ইব্‌ন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, মুছলাহ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ও সাহাবাদের এ উক্তির প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন:
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ ، وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ - وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلا بِاللهِ ، وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ ، وَلَاتَكُ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ .
যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর; তবে ঠিক ততখানি করবে, যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে; তবে তোমরা ধৈর্যধারণ করলে ধৈর্যশীলদের জন্য তাই উত্তম। ধৈর্যধারণ কর, তোমার ধৈর্য তো হবে আল্লাহরই সাহায্যে। তাদের কারণে দুঃখ করো না এবং তাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ো না (১৬: ১২৬-১২৭)।
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ (সা) ক্ষমা করে দিয়ে ধৈর্যধারণ করেন এবং মুছলাহ করতে নিষেধ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হুমায়দ তাবীল হাসান সূত্রে সামুরা ইবন জুনদুব (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) কোন জায়গায় অবস্থান করে, আমাদেরকে দান খয়রাতের নির্দেশ এবং মুছলাহ সম্পর্কে বারণ না করা পর্যন্ত, সে স্থান ত্যাগ করতেন না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 শহীদদের জানাযার সালাত আদায় প্রসংগে

📄 শহীদদের জানাযার সালাত আদায় প্রসংগে


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: যার বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই, এমন এক ব্যক্তি আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিছের আযাদকৃত গোলাম মিকসাম সূত্রে ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশে হামযা (রা)-কে একটি চাদরে মুড়িয়ে দেওয়া হলো। তারপর তিনি তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি সাতটি তাকবীর বললেন। তারপর অন্যান্য শহীদদের এনে একের পর এক হামযা (রা)-এর পাশে রাখা হলো, আর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদের জানাযার সালাত আদায় করতে থাকলেন। সাথে হামযা (রা)-এর জানাযার সালাতও আদায় হতে লাগলো। এভাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা (রা)-এর উপর বাহাত্তরবার জানাযার সালাত আদায় করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সুফিয়া (রা)-এর দুঃখ বেদনা

📄 সুফিয়া (রা)-এর দুঃখ বেদনা


ইবন ইসহাক বলেন: আমি এ তথ্য পেয়েছি যে, সুফিয়া বিন্ত আবদুল মুত্তালিব হামযা (রা)-কে দেখার জন্য অগ্রসর হলেন, তিনি পিতা-মাতা উভয় দিক থেকে তাঁর আপন ভাই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর ছেলে যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম (রা)-কে বললেন: তুমি সুফিয়াকে গিয়ে বাঁধা দাও। তাঁর ভাইয়ের এ দুরাবস্থা যেন তিনি না দেখেন। যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম (রা) তাঁকে গিয়ে বললেন: আম্মা! রাসূলুল্লাহ্ (সা) আপনাকে ফিরে যেতে বলেছেন। সুফিয়া (রা) জিজ্ঞাসা করলেন: কেন? শুনেছি আমার ভাই (হামযা)-এর মুছলাহ করা হয়েছে। এসব আল্লাহ্ পথে হয়েছে। যা কিছু ঘটেছে আল্লাহ্ আমাদেরকে তার উপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক দান করেছেন। আল্লাহ্ চাহে ত আমি সওয়াবের আশা করবো এবং ধৈর্যধারণ করবো।
যুবায়র (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে এ খবর তাঁকে জানালেন। তখন তিনি বললেন: আচ্ছা তাকে আসতে দাও। সুফিয়া (রা) এসে তাঁকে দেখলেন এবং তার জানাযার সালাত আদায় করলেন; আর اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّآ اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পড়ে তাঁর মাগফিরাতের জন্য দু'আ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) নির্দেশে তাঁকে দাফন করা হলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00