📄 আলী (রা) কর্তৃক মুশরিক বাহিনীর অনুসরণ
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্ন আবু তালিব (রা)-কে নির্দেশ দিলেন: তাদের পিছু পিছু গিয়ে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য কর। যদি তুমি দেখ তারা অশ্বপাল এক পাশে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর নিজেরা উটে আরোহণ করেছে, তবে মনে করবে, তারা মক্কায় ফিরে যাচ্ছে। আর যদি তারা ঘোড়ায় আরোহণ করে, উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যায়, তবে মনে করবে, তারা মদীনার দিকে রওনা হয়েছে। ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন, যদি তারা মদীনা আক্রমণ করার ইচ্ছা করে, আমি নিজেই তাদের দিকে অগ্রসর হব এবং তাদের সাথে অবশ্যই যুদ্ধ করব।
আলী ইব্ন আবু তালিব (রা) বলেন: আমি তাদের অনুসরণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম যে, তারা তাদের ঘোড়াগুলো একপাশে রেখে, নিজেরা উটের উপর আরোহণ করেছে এবং মক্কার দিকে রওনা হয়েছে।
📄 শহীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর
এবার মুসলমানরা নিশ্চিন্ত হয়ে তাদের শহীদদের খোঁজ-খবর নিতে লাগলেন। ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বনূ নাজ্জারের লোক মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবদুর রহমান ইব্ন আবূ সা'সাআ মাযিনী, বর্ণনা করেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: কে আছ, যে আমার পক্ষ থেকে দেখে আসবে সা'দ ইব্ন্ন রাবী'আর কি অবস্থা? সে কি জীবিতদের মাঝে, না মৃতদের মাঝে? জনৈক আনসার সাহাবী বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমি দেখে আসি, সা'দ কি হালে আছে। তিনি গিয়ে তাঁকে নিহতদের মাঝে আহত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তখনও তাঁর দেহে জীবনের স্পন্দন ছিল। তিনি বলেন: আমি সা'দ (রা)-কে বললাম: রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দেখতে বলেছেন: তুমি কি জীবিতদের মাঝে, না মৃতদের মাঝে। তখন সা'দ (রা) বললেন: আমি মৃতদের মাঝে, আমার সময় আর বেশী বাকী নেই। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আমার সালাম পৌঁছিয়ে বলবে: সা'দ ইবন রাবী'আ আপনাকে বলছে:
جَزَاكَ اللهُ عَنَّا خَيْرَ مَا جَزَى نَبِيًّا عَنْ أُمَّتِهِ
আল্লাহ্ নবীদেরকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে যে প্রতিদান দিয়েছিলেন, আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দিন।
আর তোমার কওমকেও আমার সালাম পৌঁছাবে এবং তাদের বলবে: সা'দ ইবন রাবী'আ তোমাদের বলছে, তোমাদের চোখের পলক অবশিষ্ট থাকাকালে যদি তোমাদের নবীর কোন কষ্ট হয়, তবে আল্লাহর সামনে তোমরা কোন ওযর পেশ করতে পারবে না। আনসার সাহাবী আরও বলেন: আমি তাঁর ইন্তিকাল না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কাছেই অপেক্ষা করতে থাকলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে সব খবর জানালাম।
📄 সা'দ ইবন রাবী'আ (রা)-এর মরতবা
ইব্ন হিশাম বলেন: আমার কাছে আবূ বকর যুবায়রী বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর কাছে জনৈক ব্যক্তি প্রবেশ করলো। এসময় তিনি সা'দ ইব্ন রাবী'আ (রা)-এর ছোট একটি মেয়েকে কোলে নিয়ে চুমু খাচ্ছিলেন। ঐ ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: এ মেয়েটি কে? আবূ বকর (রা) জবাব দিলেন: আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি সা'দ ইব্ন রাবী'আ (রা)-এর মেয়ে। বায়আতে আকাবার দিন তিনি প্রতিনিধি দলের অন্যতম ছিলেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন।
📄 হামযা (রা)-এর শাহাদতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হুমকি
ইবন ইসহাক বলেন: আমি এ তথ্য পেয়েছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব (রা)-কে তালাশ করতে বেরিয়ে তাঁকে 'বাতনে ওয়াদীতে পেলেন। দেখলেন, বুক ফেড়ে কলিজা বের করা হয়েছে এবং তাঁর নাক ও কান কাটা হয়েছে। ইবন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্ন্ন জা'ফর ইব্ন্ন যুবায়র আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) এই দৃশ্য দেখে বললেন: সুফিয়া দুঃখ পাবে এবং আমার পর এক প্রথা জারী হয়ে যাবে, যদি আমি এ আশংকা না করতাম তবে আমি হামযা (রা)-কে এভাবেই ছেড়ে যেতাম, আর সে হিংস্র জন্তু ও পাখির খোরাক হতো। যদি কোনদিন আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে কুরায়শের উপর বিজয় লাভ করার সুযোগ দান করেন, তবে আমি তাদের মধ্য থেকে অন্তত ত্রিশ জনের মুছলাহ করব।
হামযা (রা)-এর সংগে এ আচরণকারীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দুঃখ ও ক্রোধ দেখে মুসলমানরা বললেন: আল্লাহ্র কসম! যদি তিনি কোনদিন আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করেন, তবে আমরা তাদের এমন মুছালাহ করব যে, আরবের বুকে এমন মুছলাহ কেউ করেনি।
ইবন হিশাম বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) হামযা (রা)-এর পাশে দাঁড়িয়ে বললেন: আপনার কারণে আমার উপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে, এরূপ বিপদ ভবিষ্যতে আর কোন দিন আসবে না। এ স্থানের চাইতে অধিক ঘূর্ণিত কোন স্থানে আমি কখনো দাঁড়াইনি। এরপর তিনি বললেন: জিবরাঈল (আ) আমার কাছে এসে সংবাদ দিয়েছেন যে, সপ্ত আকাশের অধিবাসীদের মাঝে হামযা (রা) সম্পর্কে এরূপ লেখা হয়ে গেছে:
حَمْزَةُ ابْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ، أَسَدَ اللَّهِ وَ أَسَدُ رَسُولِهِ -
হামযা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব আল্লাহ্র সিংহ, আল্লাহ্র রাসূলের সিংহ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম, হামযা (রা) ও আবু সালামা ইব্ন আবদুল আসাদ, এঁরা তিনজন দুধভাই ছিলেন। এঁদের তিনজনকে আবু লাহাবের বাঁদী (সুয়ায়বা) দুধ পান করিয়েছিলেন।