📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উমর ইবন খাত্তাব (রা) ও আবু সুফিয়ান

📄 উমর ইবন খাত্তাব (রা) ও আবু সুফিয়ান


যুদ্ধ শেষে আবু সুফিয়ান যখন ফেরার ইচ্ছা করলো, তখন সে পাহাড়ের উপর চড়ে চীৎকার করে (নিজেকে সম্বোধন করে) বলতে লাগলেন:
আবু সুফিয়ান! কাজের কাজ করলে? যুদ্ধে আবর্তন বিবর্তন ঘটেই। এক যুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধের প্রতিশোধ হয়ে যায়।
أعل هبل
হে হুবাল! তোমার ধর্মের জয় হোক। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন, উঠ, তার জবাব দাও এবং বল:
الله أعلى وأجل
لاسواء قتلانا في الجنة وقتلاكم في النار
আল্লাহ্ই শ্রেষ্ঠ ও মহান। আমরা আর তোমরা সমান নই। আমাদের নিহতরা জান্নাতে আর তোমাদের নিহতরা জাহান্নামে।
এ জবাব শুনে আবু সুফিয়ান বললেন: হে উমর এদিকে এসো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর (রা)-কে বললেন: তুমি তার কাছে যাও এবং দেখ তার কি হয়েছে। উমর (রা) তার কাছে গেলে আবু সুফিয়ান তাঁকে বললেন: আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, হে উমর! বলতো আমরা কি মুহাম্মাদ (সা)-কে হত্যা করেছি? উমর (রা) জবাব দিলেন: মোটেই নয়। তিনি তো এখনও তোমার সব কথা শুনছেন। আবু সুফিয়ান বললেন: তোমাকে আমি ইব্‌ন কামিআ থেকে অধিক সত্যবাদি, বিশ্বস্ত মনে করি। সে তো বলছিল, আমি মুহাম্মদ (সা)-কে হত্যা করে ফেলেছি।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: ইব্‌ন কামিআর নাম ছিল আবদুল্লাহ্।

যুদ্ধ শেষে আবু সুফিয়ান যখন ফেরার ইচ্ছা করলো, তখন সে পাহাড়ের উপর চড়ে চীৎকার করে (নিজেকে সম্বোধন করে) বলতে লাগলেন:
আবু সুফিয়ান! কাজের কাজ করলে? যুদ্ধে আবর্তন বিবর্তন ঘটেই। এক যুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধের প্রতিশোধ হয়ে যায়।
أعل هبل
হে হুবাল! তোমার ধর্মের জয় হোক। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন, উঠ, তার জবাব দাও এবং বল:
الله أعلى وأجل
لاسواء قتلانا في الجنة وقتلاكم في النار
আল্লাহ্ই শ্রেষ্ঠ ও মহান। আমরা আর তোমরা সমান নই। আমাদের নিহতরা জান্নাতে আর তোমাদের নিহতরা জাহান্নামে।
এ জবাব শুনে আবু সুফিয়ান বললেন: হে উমর এদিকে এসো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর (রা)-কে বললেন: তুমি তার কাছে যাও এবং দেখ তার কি হয়েছে। উমর (রা) তার কাছে গেলে আবু সুফিয়ান তাঁকে বললেন: আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, হে উমর! বলতো আমরা কি মুহাম্মাদ (সা)-কে হত্যা করেছি? উমর (রা) জবাব দিলেন: মোটেই নয়। তিনি তো এখনও তোমার সব কথা শুনছেন। আবু সুফিয়ান বললেন: তোমাকে আমি ইব্‌ন কামিআ থেকে অধিক সত্যবাদি, বিশ্বস্ত মনে করি। সে তো বলছিল, আমি মুহাম্মদ (সা)-কে হত্যা করে ফেলেছি।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: ইব্‌ন কামিআর নাম ছিল আবদুল্লাহ্।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবু সুফিয়ানের হুমকি

📄 আবু সুফিয়ানের হুমকি


ইবন ইসহাক বলেন: এরপর আবু সুফিয়ান ঘোষণা করলেন: হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের নিহতদের কতকের মুছলা করা হয়েছে, (নাক, কান কেটে দেওয়া হয়েছে)। কিন্তু আল্লাহ্র কসম! আমি এতে সন্তুষ্টও নই এবং অসন্তুষ্টও নই। আমি এ ব্যাপারে নির্দেশও দেইনি, এ থেকে নিষেধও করিনি।
আবু সুফিয়ান তার সঙ্গীদের নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বললেন: আগামী বছর বদর প্রান্তরে তোমাদের সাথে আমাদের আবার যুদ্ধ হবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) জনৈক সাহাবীকে বললেন: বল, ঠিক আছে। তোমাদের ও আমাদের মাঝে এই কথা রইলো।

ইবন ইসহাক বলেন: এরপর আবু সুফিয়ান ঘোষণা করলেন: হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের নিহতদের কতকের মুছলা করা হয়েছে, (নাক, কান কেটে দেওয়া হয়েছে)। কিন্তু আল্লাহ্র কসম! আমি এতে সন্তুষ্টও নই এবং অসন্তুষ্টও নই। আমি এ ব্যাপারে নির্দেশও দেইনি, এ থেকে নিষেধও করিনি।
আবু সুফিয়ান তার সঙ্গীদের নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বললেন: আগামী বছর বদর প্রান্তরে তোমাদের সাথে আমাদের আবার যুদ্ধ হবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) জনৈক সাহাবীকে বললেন: বল, ঠিক আছে। তোমাদের ও আমাদের মাঝে এই কথা রইলো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আলী (রা) কর্তৃক মুশরিক বাহিনীর অনুসরণ

📄 আলী (রা) কর্তৃক মুশরিক বাহিনীর অনুসরণ


এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা)-কে নির্দেশ দিলেন: তাদের পিছু পিছু গিয়ে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য কর। যদি তুমি দেখ তারা অশ্বপাল এক পাশে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর নিজেরা উটে আরোহণ করেছে, তবে মনে করবে, তারা মক্কায় ফিরে যাচ্ছে। আর যদি তারা ঘোড়ায় আরোহণ করে, উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যায়, তবে মনে করবে, তারা মদীনার দিকে রওনা হয়েছে। ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন, যদি তারা মদীনা আক্রমণ করার ইচ্ছা করে, আমি নিজেই তাদের দিকে অগ্রসর হব এবং তাদের সাথে অবশ্যই যুদ্ধ করব।
আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা) বলেন: আমি তাদের অনুসরণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম যে, তারা তাদের ঘোড়াগুলো একপাশে রেখে, নিজেরা উটের উপর আরোহণ করেছে এবং মক্কার দিকে রওনা হয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 শহীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর

📄 শহীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর


এবার মুসলমানরা নিশ্চিন্ত হয়ে তাদের শহীদদের খোঁজ-খবর নিতে লাগলেন। ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বনূ নাজ্জারের লোক মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌ন আবূ সা'সাআ মাযিনী, বর্ণনা করেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: কে আছ, যে আমার পক্ষ থেকে দেখে আসবে সা'দ ইব্‌ন্ন রাবী'আর কি অবস্থা? সে কি জীবিতদের মাঝে, না মৃতদের মাঝে? জনৈক আনসার সাহাবী বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমি দেখে আসি, সা'দ কি হালে আছে। তিনি গিয়ে তাঁকে নিহতদের মাঝে আহত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তখনও তাঁর দেহে জীবনের স্পন্দন ছিল। তিনি বলেন: আমি সা'দ (রা)-কে বললাম: রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দেখতে বলেছেন: তুমি কি জীবিতদের মাঝে, না মৃতদের মাঝে। তখন সা'দ (রা) বললেন: আমি মৃতদের মাঝে, আমার সময় আর বেশী বাকী নেই। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আমার সালাম পৌঁছিয়ে বলবে: সা'দ ইবন রাবী'আ আপনাকে বলছে:
جَزَاكَ اللهُ عَنَّا خَيْرَ مَا جَزَى نَبِيًّا عَنْ أُمَّتِهِ
আল্লাহ্ নবীদেরকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে যে প্রতিদান দিয়েছিলেন, আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দিন।
আর তোমার কওমকেও আমার সালাম পৌঁছাবে এবং তাদের বলবে: সা'দ ইবন রাবী'আ তোমাদের বলছে, তোমাদের চোখের পলক অবশিষ্ট থাকাকালে যদি তোমাদের নবীর কোন কষ্ট হয়, তবে আল্লাহর সামনে তোমরা কোন ওযর পেশ করতে পারবে না। আনসার সাহাবী আরও বলেন: আমি তাঁর ইন্তিকাল না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কাছেই অপেক্ষা করতে থাকলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে সব খবর জানালাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00