📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুনাফিক অবস্থায় কুষমানের মৃত্যু

📄 মুনাফিক অবস্থায় কুষমানের মৃত্যু


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না যে, সে কোন গোত্রের। তার নাম ছিল কুযমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলতেন : انه لمن أهل النار সে তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
উহুদের যুদ্ধ কুযমান বেশ উদ্যমের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সে একাই সাত/আট জন মুশরিককে হত্যা করে। সে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলো। অবশেষে সে নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়, যার কারণে উঠতে পারছিল না। তাকে উঠিয়ে বনূ যাফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানরা বলতে লাগলেন কুযমান আজ তোমার পরীক্ষা, হয়ে গিয়েছে। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল: আমাকে কিসের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি তো নিছক আমার কওমের মর্যাদা রক্ষার্থে লড়েছি। অন্যথায় কখনো আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম না। এরপর যখন তার জখমের যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন সে তৃণীর থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো।

ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না যে, সে কোন গোত্রের। তার নাম ছিল কুযমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলতেন : انه لمن أهل النار সে তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
উহুদের যুদ্ধ কুযমান বেশ উদ্যমের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সে একাই সাত/আট জন মুশরিককে হত্যা করে। সে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলো। অবশেষে সে নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়, যার কারণে উঠতে পারছিল না। তাকে উঠিয়ে বনূ যাফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানরা বলতে লাগলেন কুযমান আজ তোমার পরীক্ষা, হয়ে গিয়েছে। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল: আমাকে কিসের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি তো নিছক আমার কওমের মর্যাদা রক্ষার্থে লড়েছি। অন্যথায় কখনো আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম না। এরপর যখন তার জখমের যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন সে তৃণীর থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুখায়রীকের ঘটনা সম্পর্কে

📄 মুখায়রীকের ঘটনা সম্পর্কে


ইবন ইসহাক বলেন: উহুদের নিহতদের মধ্যে মুখায়রীক নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে ছিল বনূ ছা'লাবা ইব্‌ন ফিতুয়নের লোক। সে উহুদ যুদ্ধের দিন ইয়াহুদীদের লক্ষ্য করে বলল: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! আল্লাহ্র কসম! তোমরা জানো যে, মুহাম্মদ (সা)-এর সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। তারা বললো আজ তো শনিবার। মুখায়রীক বলল শনিবার বলতে তোমাদের কিছুই নেই। এরপর মুখায়রীক তার আসবাবপত্র ও তরবারি নিয়ে বলল: যদি আমি নিহত হয়ে যাই, তবে আমার সম্পদ মুহাম্মদ (সা)-এর। তিনি তা যেভাবে চান সেভাবে ব্যবহার করবেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে তাঁর সংগে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলো এবং নিহত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমার জানামতে মুখায়রীক একজন ভাল ইয়াহুদী ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: হারিস ইন্ন সুওয়াইদ ইব্‌ন সামিত নামে এক মুনাফিকও উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে বের হয়। যখন উভয় দল মুখোমুখি হল, তখন হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়ার বালাভী ও বনু যুবায়আর জনৈক কায়স ইব্‌ন যায়দের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং উভয়কে হত্যা করলো। তারপর সে মক্কায় গিয়ে কুরায়শদের সাথে মিলে গেল। জনশ্রুতি এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাকে হাতের নাগালে পেলে হত্যা করে ফেলবে। কিন্তু তিনি তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হলেন না। সে মক্কায় ছিল। এরপর সে তার ভাই জুল্লাস ইন্ন সুওয়াইদের কাছে তাওবার আবেদন করে পাঠালো যেন সে নিজ কওমের লোকেদের কাছে ফিরে আসতে পারে। ইবন ইসহাক বলেন: আমি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর যে বর্ণনা পেয়েছি, সে মতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَ هُمُ الْبَيِّنَتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِيهِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
কিভাবে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করবেন ঐ সম্প্রদায়কে যারা কুফরি করেছে তাদের ঈমান আনয়নের পর এবং এই সাক্ষ্যদানের পর যে, রাসূল সত্য, আর তাদের কাছে এসেছে নিদর্শনাদি, আর আল্লাহ্ তো যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না (৩: ৮৬)।
ইব্‌ন হিশাম বলেন, যাদের উপর আমার আস্থা রয়েছে এমন কিছু জ্ঞানী ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়াদকে হত্যা করে। সে কায়স ইব্‌ন যায়দকে হত্যা করেনি। এর প্রমাণ হলো, ইব্‌ন ইসহাক কায়স ইন্ন যায়দকে উহুদ যুদ্ধে নিহতদের তালিকায় উল্লেখ করেননি। আর হারিস মুজায্যারকে এজন্যই হত্যা করেছিল যে মুজায্যার তার পিতা সুওয়াইদকে আওস ও খাযরাজের মধ্যে সংঘটিত কোন এক যুদ্ধে হত্যা করেছিল। ইতিপূর্বে এই গ্রন্থের প্রথম দিকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাহাবাদের সংগে অবস্থানরত ছিলেন। এমন সময় হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মদীনার কোন এক বাগান থেকে বেরিয়ে এলো। তখন তার গায়ে দু'টি লাল রং এর কাপড় ছিল। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উসমান ইব্‌ন আফফান (রা)-কে অন্য বর্ণনা মতে, জনৈক আনসার সাহাবীকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: সুওয়াইদ ইব্‌ন সামিতকে মু'আয ইব্‌ন আফরা কোন প্রকার যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অতর্কিতভাবে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। এটি ছিল বু'আছ যুদ্ধের আগের ঘটনা।

ইবন ইসহাক বলেন: উহুদের নিহতদের মধ্যে মুখায়রীক নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে ছিল বনূ ছা'লাবা ইব্‌ন ফিতুয়নের লোক। সে উহুদ যুদ্ধের দিন ইয়াহুদীদের লক্ষ্য করে বলল: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! আল্লাহ্র কসম! তোমরা জানো যে, মুহাম্মদ (সা)-এর সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। তারা বললো আজ তো শনিবার। মুখায়রীক বলল শনিবার বলতে তোমাদের কিছুই নেই। এরপর মুখায়রীক তার আসবাবপত্র ও তরবারি নিয়ে বলল: যদি আমি নিহত হয়ে যাই, তবে আমার সম্পদ মুহাম্মদ (সা)-এর। তিনি তা যেভাবে চান সেভাবে ব্যবহার করবেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে তাঁর সংগে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলো এবং নিহত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমার জানামতে মুখায়রীক একজন ভাল ইয়াহুদী ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: হারিস ইন্ন সুওয়াইদ ইব্‌ন সামিত নামে এক মুনাফিকও উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে বের হয়। যখন উভয় দল মুখোমুখি হল, তখন হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়ার বালাভী ও বনু যুবায়আর জনৈক কায়স ইব্‌ন যায়দের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং উভয়কে হত্যা করলো। তারপর সে মক্কায় গিয়ে কুরায়শদের সাথে মিলে গেল। জনশ্রুতি এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাকে হাতের নাগালে পেলে হত্যা করে ফেলবে। কিন্তু তিনি তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হলেন না। সে মক্কায় ছিল। এরপর সে তার ভাই জুল্লাস ইন্ন সুওয়াইদের কাছে তাওবার আবেদন করে পাঠালো যেন সে নিজ কওমের লোকেদের কাছে ফিরে আসতে পারে। ইবন ইসহাক বলেন: আমি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর যে বর্ণনা পেয়েছি, সে মতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَ هُمُ الْبَيِّنَتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِيهِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
কিভাবে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করবেন ঐ সম্প্রদায়কে যারা কুফরি করেছে তাদের ঈমান আনয়নের পর এবং এই সাক্ষ্যদানের পর যে, রাসূল সত্য, আর তাদের কাছে এসেছে নিদর্শনাদি, আর আল্লাহ্ তো যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না (৩: ৮৬)।
ইব্‌ন হিশাম বলেন, যাদের উপর আমার আস্থা রয়েছে এমন কিছু জ্ঞানী ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়াদকে হত্যা করে। সে কায়স ইব্‌ন যায়দকে হত্যা করেনি। এর প্রমাণ হলো, ইব্‌ন ইসহাক কায়স ইন্ন যায়দকে উহুদ যুদ্ধে নিহতদের তালিকায় উল্লেখ করেননি। আর হারিস মুজায্যারকে এজন্যই হত্যা করেছিল যে মুজায্যার তার পিতা সুওয়াইদকে আওস ও খাযরাজের মধ্যে সংঘটিত কোন এক যুদ্ধে হত্যা করেছিল। ইতিপূর্বে এই গ্রন্থের প্রথম দিকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাহাবাদের সংগে অবস্থানরত ছিলেন। এমন সময় হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মদীনার কোন এক বাগান থেকে বেরিয়ে এলো। তখন তার গায়ে দু'টি লাল রং এর কাপড় ছিল। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উসমান ইব্‌ন আফফান (রা)-কে অন্য বর্ণনা মতে, জনৈক আনসার সাহাবীকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: সুওয়াইদ ইব্‌ন সামিতকে মু'আয ইব্‌ন আফরা কোন প্রকার যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অতর্কিতভাবে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। এটি ছিল বু'আছ যুদ্ধের আগের ঘটনা।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উসায়রাম (রা) শহীদ হওয়া সম্পর্কে

📄 উসায়রাম (রা) শহীদ হওয়া সম্পর্কে


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হুসায়ন ইবন আবদুর রহমান ইব্‌ন আমর ইবন সা'দ ইব্‌ন মু'আয ইব্‌ন আবু আহমদের আযাদকৃত গোলাম আবু সুফিয়ান সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: তিনি লোকদের জিজ্ঞাস করতেন: আচ্ছা আমাকে এমন একজন লোকের কথা বলতো, যে জান্নাতে প্রবেশ করলো, অথচ সে কোনদিন সালাত আদায় করিনি।
লোকেরা বলতে না পারলে, তারা তাকেই জিজ্ঞাসা করত, আপনিই বলুন, তিনি কে? আবু হুরায়রা (রা) বলতেন তিনি হলেন, বনু আবদুল আশহালের উসায়রাম আমর ইব্‌ন সাবিত ইব্‌ন ওয়াকাশ।
(ইন্ন ইসহাক বলেন,) হুসায়ন বলেন: আমি মাহমূদ ইব্‌ন আসাদকে জিজ্ঞাসা করলাম, উসায়রামের ঘটনাটি কি ছিল তিনি বললেন, উসায়রাম নিজ কওমের সামনে ইসলামকে অস্বীকার করত। কিন্তু যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উহুদ যুদ্ধের জন্য বের হলেন, তখন তার ইসলামের প্রতি আগ্রহ জন্মালো এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর তরবারি হাতে নিয়ে মুসলমানদের সাথে শামিল হয়ে গেলেন এবং লড়তে থাকলেন; এমন কি জখম তাকে অসহায় করে দিল। বনু আবদুল আশহালের লোকেরা যখন যুদ্ধের ময়দানে তাদের নিহতদের খুঁজতে গিয়ে তাকে দেখতে পেল, তখন তারা বললেন: এ যে উসায়রাম? সে এখানে কি করে এলো? আমরা তো তাকে এ বিষয়ে অস্বীকারকারী অবস্থায় ছেড়ে এসেছি, তারপর তারা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করলেন:
কি হে আমর, এখানে কি করে এলে? তোমার কওমের প্রতি দরদী হয়ে, না ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে? তিনি জবাব দিলেন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং ইসলাম গ্রহণ করেছি। তারপর আমি তরবারি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যুদ্ধে শরীক হয়েছি এবং লড়তে লড়তে এই অবস্থায় পৌঁছেছি। একথা বলার পরই তিনি তাদের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করলেন, তখন তিনি বললেন : انْهُ لِمَنْ أَهْلِ الْجَنَّة অর্থাৎ সে নিঃসন্দেহে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।

ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হুসায়ন ইবন আবদুর রহমান ইব্‌ন আমর ইবন সা'দ ইব্‌ন মু'আয ইব্‌ন আবু আহমদের আযাদকৃত গোলাম আবু সুফিয়ান সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: তিনি লোকদের জিজ্ঞাস করতেন: আচ্ছা আমাকে এমন একজন লোকের কথা বলতো, যে জান্নাতে প্রবেশ করলো, অথচ সে কোনদিন সালাত আদায় করিনি।
লোকেরা বলতে না পারলে, তারা তাকেই জিজ্ঞাসা করত, আপনিই বলুন, তিনি কে? আবু হুরায়রা (রা) বলতেন তিনি হলেন, বনু আবদুল আশহালের উসায়রাম আমর ইব্‌ন সাবিত ইব্‌ন ওয়াকাশ।
(ইন্ন ইসহাক বলেন,) হুসায়ন বলেন: আমি মাহমূদ ইব্‌ন আসাদকে জিজ্ঞাসা করলাম, উসায়রামের ঘটনাটি কি ছিল তিনি বললেন, উসায়রাম নিজ কওমের সামনে ইসলামকে অস্বীকার করত। কিন্তু যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উহুদ যুদ্ধের জন্য বের হলেন, তখন তার ইসলামের প্রতি আগ্রহ জন্মালো এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর তরবারি হাতে নিয়ে মুসলমানদের সাথে শামিল হয়ে গেলেন এবং লড়তে থাকলেন; এমন কি জখম তাকে অসহায় করে দিল। বনু আবদুল আশহালের লোকেরা যখন যুদ্ধের ময়দানে তাদের নিহতদের খুঁজতে গিয়ে তাকে দেখতে পেল, তখন তারা বললেন: এ যে উসায়রাম? সে এখানে কি করে এলো? আমরা তো তাকে এ বিষয়ে অস্বীকারকারী অবস্থায় ছেড়ে এসেছি, তারপর তারা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করলেন:
কি হে আমর, এখানে কি করে এলে? তোমার কওমের প্রতি দরদী হয়ে, না ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে? তিনি জবাব দিলেন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং ইসলাম গ্রহণ করেছি। তারপর আমি তরবারি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যুদ্ধে শরীক হয়েছি এবং লড়তে লড়তে এই অবস্থায় পৌঁছেছি। একথা বলার পরই তিনি তাদের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করলেন, তখন তিনি বললেন : انْهُ لِمَنْ أَهْلِ الْجَنَّة অর্থাৎ সে নিঃসন্দেহে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আমর ইব্‌ন জামূহ (রা)-এর শাহাদত প্রসংগে

📄 আমর ইব্‌ন জামূহ (রা)-এর শাহাদত প্রসংগে


ইবন ইসহাক বলেন: আমার পিতা ইসহাক ইবন ইয়াসার বনূ সালামার কিছু প্রবীণ লোক থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমর ইব্‌ন জামূহ (রা) খুবই খোঁড়া ছিলেন। তাঁর সিংহের মত সাহসী চারজন ছেলে ছিল। তাঁরা সব যুদ্ধেই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে উপস্থিত থাকতেন। উহুদ যুদ্ধে তাঁরা তাঁদের পিতাকে যুদ্ধে যেতে বারণ করতে চাইলেন এবং বললেন: আপনাকে তো আল্লাহ্ তা'আলা অক্ষম করেছেন। আমর ইব্‌ন জামূহ (রা) ছেলেদের এই কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে গিয়ে আরয করলেন: আমার ছেলেরা খোঁড়া হওয়ার কারণে আমাকে আপনার সংগে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে বারণ করছে। আল্লাহ্র কসম! আমার আকাঙ্ক্ষা, আমি এই খোঁড়া পা নিয়েই জান্নাতের ভূমিতে বিচরণ করব। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তোমাকে আল্লাহ্ তা'আলা অপারগ করেছেন; সুতরাং তোমার উপর জিহাদ ফরয নয়। আর তিনি তাঁর ছেলেদেরকে বললেন: তোমাদের জন্যও তাকে বাঁধা দেওয়া ঠিক নয়। হতে পারে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে শাহাদত নসীব করবেন। পরিশেষে আমর ইবন জামূহ (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়লেন এবং উহুদের ময়দানে শহীদ হয়ে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে সালিহ্ ইব্‌ন কায়সান বর্ণনা করেছেন যে, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সহাবীদের মধ্যে যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন, হিন্দা বিন্ত উতবা ও তার সঙ্গিনীরা তাঁদের নাক-কান কাটতে লাগলো। এমন কি হিন্দা পুরুষদের কর্তিত নাক-কানগুলো দিয়ে পায়ের নুপুর, গলার হার বানাল; আর নিজের গলার হার, কানের দুল ও পায়ের নুপুর খুলে যুবায়র ইবন মুতঈমের গোলাম ওয়াহশীকে দিয়ে দিল। হিন্দা হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব (রা)-এর কলিজা ছিঁড়ে চিবাতে ও গিলতে চেষ্টা করলো কিন্তু গিলতে না পেরে তা থু করে ফেলে দিল। এরপর সে উঁচু একটি পাথরে চড়ে চীৎকার করে এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল:
نحن جزیناکم بیوم بدر * والحرب بعبد الحرب ذات سعر
ما كان عن عتبة لي من صبر * ولا أخي وعمه وبكرى
شفيت نفسی و قضیت نذری * شفيت وحشی غلیل صدری
فشكر وحشی علی عمری * حتى ترم اعظمی فی قبری
আজ আমরা বদর যুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়ে নিয়েছি। আর প্রথম যুদ্ধের পর দ্বিতীয় যুদ্ধ আরো উত্তেজনা পূর্ণ হয়ে থাকে।
উতবার বেদনা বরদাশত করা না আমার পক্ষে সম্ভব ছিল, না আমার ভাইয়ের পক্ষে, আর না ছিল সম্ভব উতবার চাচা ও আমার প্রথম সন্তানের পক্ষে।
আমি আমার প্রাণ জুড়িয়েছি, আমি আমার মান্নত পূরণ করেছি। হে ওয়াহশী! তুমি আমার মনের দাহ নির্বাপিত করেছো।
সুতরাং আমি আজীবন ওয়াহশীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো, যতদিন না আমার হাঁড় কবরে জীর্ণ হয়ে যায়।
উপরোক্ত কবিতার জবাবে হিন্দা বিন্ত আছাছাহ ইব্‌ন আব্বাদ ইবন মুত্তালিব বলেন:
خزيت في بدر وبعد بدر * يا بنت وقاع عظيم الكفر
صبحك الله غداة الفجر * ملها شميين الطوال الزهر
بكل قطاع حسام يفرى * حمزة ليثي وعلى صقرى
إذ رام شيب وأبوك غدرى * فخضبا منه ضواحي النجر
وندرك السوء فشر نذر
হে লঞ্ছিত, পতিত ও কট্টর কাফিরের মেয়ে! বদর যুদ্ধেও তুমি অপদস্থ হয়েছো, আর বদরের পরেও।
আল্লাহ্ করুন, সকাল সকালেই কর্তনশীল তরবারিসহ দীর্ঘকায় বিশিষ্ট সুন্দর সুন্দর হাশিমীদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ ঘটুক।
হামযা হলেন আমার সিংহ, আর আলী হলেন আমার বাজপাখী।
যখন শায়বা আর তোমার বাপ আমার সাথে গাদ্দারী করেছে, তখন হামযা ও আলী তাদের বক্ষের বাইরের অংশগুলোকে রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছে।
তোমার এ মন্দ প্রতিজ্ঞা, অত্যন্ত ঘৃণিত প্রতিজ্ঞা।
ইবন হিশাম বলেন: আমি এ কবিতাগুলোর তিনটি পংক্তি ছেড়ে দিয়েছি। কেননা তাতে মন্দ গালি-গালাজ বলেছে:
ইবন ইসহাক বলেন: হিন্দা বিন্ত উতবা এ সময় এ পংক্তিগুলোও আবৃত্তি করেছিল:
حتى بقرت بطنة عن الكبد
من لدعة الحزن الشديد المعتمد
تقدم إقداماً عليكم كا لأسد * * *
شفيت من حمزة نفسي بأحد
أذهب عنى ذاك ماكنت أجد
والحرب تعلوكم بشؤبوب بسرد
উহুদের মাঠে হামযাকে নিহত করে আমার কলিজা ঠাণ্ডা করেছি এবং তার পেট ফেড়ে তাঁর কলিজা পর্যন্ত বের করে নিয়েছি।
এর দ্বারা এক কঠিন জীবননাশক মর্মপীড়ার সেই ধড়ফড়ানি শেষ হয়ে গিয়েছে, যা আমি আমার বক্ষে অনুভব করছিলাম।
এ যুদ্ধ তোমাদের উপর শিলাবৃষ্টির ন্যায় উছলিয়ে পড়ছিল এবং তা রক্ত পিপাসু সিংহের ন্যায় তোমাদের উপর চড়াও হচ্ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে সালিহ্ ইব্‌ন কায়সান বর্ণনা করেন যে, আমি শুনেছি উমর ইবন খাত্তাব (রা) হাসান ইন্ন সাবিত (রা)-কে লক্ষ্য করে বলেন: হে ইব্‌ন ফরীআ: (ইন্ন হিশাম বলেন: ফরীআ হলেন খালিদ ইব্‌ন খুনায়সের কন্যা। আর খুনায়স হলো: হারিসা ইব্‌ লাওযান ইব্‌ন আব্দ ওদ্দ ইব্‌ন যায়দ ইবন সা'লাবা ইন্ন খায়রাজ ইব্‌ন সাঈদা ইব্‌ন কা'ব ইবন খায়রাজের ছেলে)।
যদি শুনতে হিন্দা বিন্ত উতবার উক্তি এবং দেখতে তার সেই দম্ভ যা সে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কবিতা পড়ে এবং হামযা (রা)-এর সাথে তার আচরণের কথা উল্লেখ করে দেখাচ্ছিল। হাসান ইবন সাবিত (রা) তাঁকে বললেন: আল্লাহ্র কসম! আমার চোখের সামনে সেই বর্শাটি এখনো ভাসছে যা তখন পড়ছিল, তখন আমি উঁচু স্থানে বসা ছিলাম। আমি ভাবতে লাগলাম, আল্লাহর কসম! এই হাতিয়ার তো আরবদের হাতিয়ার নয়। এই বর্শাই হামযা (রা)-এর উপর পড়েছিল, কিন্তু তখন আমি বুঝতে পারিনি। কিন্তু তবুও হিন্দার এই কথা: "নাও, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট" আমি শুনেছিলাম।
বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর ইবন খাত্তাব (রা) হাসান ইবন সাবিত (রা)-কে হিন্দার কিছু কবিতা ও শুনালেন। তখন হাসান ইবন সাবিত (রা) এই পংক্তিটি আবৃতি করলেন:
اشرت لكاع وكان عادتها * لؤما إذا اشرت مع الكفر
অপদার্থ মহিলা দর্প দেখাচ্ছে। তার এ স্বভাব অত্যন্ত ঘৃণ্য যে কাফির হয়েও সে দর্প দেখাচ্ছে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এই পংক্তিটি তাঁর দীর্ঘ কবিতার অংশ বিশেষ, যা আমি এখানে ছেড়ে দিয়েছি। আরও কিছু কবিতা ছেড়ে দিয়েছি, যার শেষ অক্ষর দাল (১) ও যাল (১)। কেননা এগুলোতে তিনি মন্দ গালি গালাজ করেছেন।

ইবন ইসহাক বলেন: আমার পিতা ইসহাক ইবন ইয়াসার বনূ সালামার কিছু প্রবীণ লোক থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমর ইব্‌ন জামূহ (রা) খুবই খোঁড়া ছিলেন। তাঁর সিংহের মত সাহসী চারজন ছেলে ছিল। তাঁরা সব যুদ্ধেই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে উপস্থিত থাকতেন। উহুদ যুদ্ধে তাঁরা তাঁদের পিতাকে যুদ্ধে যেতে বারণ করতে চাইলেন এবং বললেন: আপনাকে তো আল্লাহ্ তা'আলা অক্ষম করেছেন। আমর ইব্‌ন জামূহ (রা) ছেলেদের এই কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে গিয়ে আরয করলেন: আমার ছেলেরা খোঁড়া হওয়ার কারণে আমাকে আপনার সংগে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে বারণ করছে। আল্লাহ্র কসম! আমার আকাঙ্ক্ষা, আমি এই খোঁড়া পা নিয়েই জান্নাতের ভূমিতে বিচরণ করব। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তোমাকে আল্লাহ্ তা'আলা অপারগ করেছেন; সুতরাং তোমার উপর জিহাদ ফরয নয়। আর তিনি তাঁর ছেলেদেরকে বললেন: তোমাদের জন্যও তাকে বাঁধা দেওয়া ঠিক নয়। হতে পারে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে শাহাদত নসীব করবেন। পরিশেষে আমর ইবন জামূহ (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়লেন এবং উহুদের ময়দানে শহীদ হয়ে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে সালিহ্ ইব্‌ন কায়সান বর্ণনা করেছেন যে, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সহাবীদের মধ্যে যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন, হিন্দা বিন্ত উতবা ও তার সঙ্গিনীরা তাঁদের নাক-কান কাটতে লাগলো। এমন কি হিন্দা পুরুষদের কর্তিত নাক-কানগুলো দিয়ে পায়ের নুপুর, গলার হার বানাল; আর নিজের গলার হার, কানের দুল ও পায়ের নুপুর খুলে যুবায়র ইবন মুতঈমের গোলাম ওয়াহশীকে দিয়ে দিল। হিন্দা হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব (রা)-এর কলিজা ছিঁড়ে চিবাতে ও গিলতে চেষ্টা করলো কিন্তু গিলতে না পেরে তা থু করে ফেলে দিল। এরপর সে উঁচু একটি পাথরে চড়ে চীৎকার করে এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল:
نحن جزیناکم بیوم بدر * والحرب بعبد الحرب ذات سعر
ما كان عن عتبة لي من صبر * ولا أخي وعمه وبكرى
شفيت نفسی و قضیت نذری * شفيت وحشی غلیل صدری
فشكر وحشی علی عمری * حتى ترم اعظمی فی قبری
আজ আমরা বদর যুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়ে নিয়েছি। আর প্রথম যুদ্ধের পর দ্বিতীয় যুদ্ধ আরো উত্তেজনা পূর্ণ হয়ে থাকে।
উতবার বেদনা বরদাশত করা না আমার পক্ষে সম্ভব ছিল, না আমার ভাইয়ের পক্ষে, আর না ছিল সম্ভব উতবার চাচা ও আমার প্রথম সন্তানের পক্ষে।
আমি আমার প্রাণ জুড়িয়েছি, আমি আমার মান্নত পূরণ করেছি। হে ওয়াহশী! তুমি আমার মনের দাহ নির্বাপিত করেছো।
সুতরাং আমি আজীবন ওয়াহশীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো, যতদিন না আমার হাঁড় কবরে জীর্ণ হয়ে যায়।
উপরোক্ত কবিতার জবাবে হিন্দা বিন্ত আছাছাহ ইব্‌ন আব্বাদ ইবন মুত্তালিব বলেন:
خزيت في بدر وبعد بدر * يا بنت وقاع عظيم الكفر
صبحك الله غداة الفجر * ملها شميين الطوال الزهر
بكل قطاع حسام يفرى * حمزة ليثي وعلى صقرى
إذ رام شيب وأبوك غدرى * فخضبا منه ضواحي النجر
وندرك السوء فشر نذر
হে লঞ্ছিত, পতিত ও কট্টর কাফিরের মেয়ে! বদর যুদ্ধেও তুমি অপদস্থ হয়েছো, আর বদরের পরেও।
আল্লাহ্ করুন, সকাল সকালেই কর্তনশীল তরবারিসহ দীর্ঘকায় বিশিষ্ট সুন্দর সুন্দর হাশিমীদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ ঘটুক।
হামযা হলেন আমার সিংহ, আর আলী হলেন আমার বাজপাখী।
যখন শায়বা আর তোমার বাপ আমার সাথে গাদ্দারী করেছে, তখন হামযা ও আলী তাদের বক্ষের বাইরের অংশগুলোকে রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছে।
তোমার এ মন্দ প্রতিজ্ঞা, অত্যন্ত ঘৃণিত প্রতিজ্ঞা।
ইবন হিশাম বলেন: আমি এ কবিতাগুলোর তিনটি পংক্তি ছেড়ে দিয়েছি। কেননা তাতে মন্দ গালি-গালাজ বলেছে:
ইবন ইসহাক বলেন: হিন্দা বিন্ত উতবা এ সময় এ পংক্তিগুলোও আবৃত্তি করেছিল:
حتى بقرت بطنة عن الكبد
من لدعة الحزن الشديد المعتمد
تقدم إقداماً عليكم كا لأسد * * *
شفيت من حمزة نفسي بأحد
أذهب عنى ذاك ماكنت أجد
والحرب تعلوكم بشؤبوب بسرد
উহুদের মাঠে হামযাকে নিহত করে আমার কলিজা ঠাণ্ডা করেছি এবং তার পেট ফেড়ে তাঁর কলিজা পর্যন্ত বের করে নিয়েছি।
এর দ্বারা এক কঠিন জীবননাশক মর্মপীড়ার সেই ধড়ফড়ানি শেষ হয়ে গিয়েছে, যা আমি আমার বক্ষে অনুভব করছিলাম।
এ যুদ্ধ তোমাদের উপর শিলাবৃষ্টির ন্যায় উছলিয়ে পড়ছিল এবং তা রক্ত পিপাসু সিংহের ন্যায় তোমাদের উপর চড়াও হচ্ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে সালিহ্ ইব্‌ন কায়সান বর্ণনা করেন যে, আমি শুনেছি উমর ইবন খাত্তাব (রা) হাসান ইন্ন সাবিত (রা)-কে লক্ষ্য করে বলেন: হে ইব্‌ন ফরীআ: (ইন্ন হিশাম বলেন: ফরীআ হলেন খালিদ ইব্‌ন খুনায়সের কন্যা। আর খুনায়স হলো: হারিসা ইব্‌ লাওযান ইব্‌ন আব্দ ওদ্দ ইব্‌ন যায়দ ইবন সা'লাবা ইন্ন খায়রাজ ইব্‌ন সাঈদা ইব্‌ন কা'ব ইবন খায়রাজের ছেলে)।
যদি শুনতে হিন্দা বিন্ত উতবার উক্তি এবং দেখতে তার সেই দম্ভ যা সে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কবিতা পড়ে এবং হামযা (রা)-এর সাথে তার আচরণের কথা উল্লেখ করে দেখাচ্ছিল। হাসান ইবন সাবিত (রা) তাঁকে বললেন: আল্লাহ্র কসম! আমার চোখের সামনে সেই বর্শাটি এখনো ভাসছে যা তখন পড়ছিল, তখন আমি উঁচু স্থানে বসা ছিলাম। আমি ভাবতে লাগলাম, আল্লাহর কসম! এই হাতিয়ার তো আরবদের হাতিয়ার নয়। এই বর্শাই হামযা (রা)-এর উপর পড়েছিল, কিন্তু তখন আমি বুঝতে পারিনি। কিন্তু তবুও হিন্দার এই কথা: "নাও, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট" আমি শুনেছিলাম।
বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর ইবন খাত্তাব (রা) হাসান ইবন সাবিত (রা)-কে হিন্দার কিছু কবিতা ও শুনালেন। তখন হাসান ইবন সাবিত (রা) এই পংক্তিটি আবৃতি করলেন:
اشرت لكاع وكان عادتها * لؤما إذا اشرت مع الكفر
অপদার্থ মহিলা দর্প দেখাচ্ছে। তার এ স্বভাব অত্যন্ত ঘৃণ্য যে কাফির হয়েও সে দর্প দেখাচ্ছে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এই পংক্তিটি তাঁর দীর্ঘ কবিতার অংশ বিশেষ, যা আমি এখানে ছেড়ে দিয়েছি। আরও কিছু কবিতা ছেড়ে দিয়েছি, যার শেষ অক্ষর দাল (১) ও যাল (১)। কেননা এগুলোতে তিনি মন্দ গালি গালাজ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00