📄 ইয়াযীদ (রা) ও তাঁর পিতা হাতিব প্রসংগে
ইব্ন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে হাতিব ইব্ন উমাইয়া ইব্ন রাফির ইয়াযীদ নামে এক ছেলে ছিলেন। উহুদ যুদ্ধে তিনি আহত হলেন। তাকে ঘরে আনা হলো। তখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। পরিবারস্থ সকলেই তাঁর চারিপাশে সমবেত হল। মুসলমান নরনারী সকলেই তাকে বলতে লাগলেন: হে হাতিব তনয়! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। হাতিব ছিল এক বৃদ্ধ ব্যক্তি। তার অন্তরে তখনও জাহিলিয়াত বর্তমান ছিল। তখন তার নিফাক তথা কপটতা প্রকাশ পেয়ে গেল। সে বলে উঠলো: তোমরা তাকে কিসের সুসংবাদ দিচ্ছ; হারমাল জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! তোমরা প্রতারণা করে এই তরুণের জীবন ধ্বংস করলে।
টিকাঃ
১. হারমাল হলো এমন একটি গাচের নাম, যার থেকে ছোট কাল দানা উৎপন্ন হয়। সাধারণত: এ গাছ কবরস্থানে জন্মে।
ইব্ন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে হাতিব ইব্ন উমাইয়া ইব্ন রাফির ইয়াযীদ নামে এক ছেলে ছিলেন। উহুদ যুদ্ধে তিনি আহত হলেন। তাকে ঘরে আনা হলো। তখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। পরিবারস্থ সকলেই তাঁর চারিপাশে সমবেত হল। মুসলমান নরনারী সকলেই তাকে বলতে লাগলেন: হে হাতিব তনয়! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। হাতিব ছিল এক বৃদ্ধ ব্যক্তি। তার অন্তরে তখনও জাহিলিয়াত বর্তমান ছিল। তখন তার নিফাক তথা কপটতা প্রকাশ পেয়ে গেল। সে বলে উঠলো: তোমরা তাকে কিসের সুসংবাদ দিচ্ছ; হারমাল জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! তোমরা প্রতারণা করে এই তরুণের জীবন ধ্বংস করলে।
টিকাঃ
১. হারমাল হলো এমন একটি গাচের নাম, যার থেকে ছোট কাল দানা উৎপন্ন হয়। সাধারণত: এ গাছ কবরস্থানে জন্মে।
📄 মুনাফিক অবস্থায় কুষমানের মৃত্যু
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্ন আমর ইব্ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না যে, সে কোন গোত্রের। তার নাম ছিল কুযমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলতেন : انه لمن أهل النار সে তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
উহুদের যুদ্ধ কুযমান বেশ উদ্যমের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সে একাই সাত/আট জন মুশরিককে হত্যা করে। সে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলো। অবশেষে সে নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়, যার কারণে উঠতে পারছিল না। তাকে উঠিয়ে বনূ যাফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানরা বলতে লাগলেন কুযমান আজ তোমার পরীক্ষা, হয়ে গিয়েছে। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল: আমাকে কিসের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি তো নিছক আমার কওমের মর্যাদা রক্ষার্থে লড়েছি। অন্যথায় কখনো আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম না। এরপর যখন তার জখমের যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন সে তৃণীর থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্ন আমর ইব্ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না যে, সে কোন গোত্রের। তার নাম ছিল কুযমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলতেন : انه لمن أهل النار সে তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
উহুদের যুদ্ধ কুযমান বেশ উদ্যমের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সে একাই সাত/আট জন মুশরিককে হত্যা করে। সে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলো। অবশেষে সে নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়, যার কারণে উঠতে পারছিল না। তাকে উঠিয়ে বনূ যাফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানরা বলতে লাগলেন কুযমান আজ তোমার পরীক্ষা, হয়ে গিয়েছে। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল: আমাকে কিসের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি তো নিছক আমার কওমের মর্যাদা রক্ষার্থে লড়েছি। অন্যথায় কখনো আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম না। এরপর যখন তার জখমের যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন সে তৃণীর থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো।
📄 মুখায়রীকের ঘটনা সম্পর্কে
ইবন ইসহাক বলেন: উহুদের নিহতদের মধ্যে মুখায়রীক নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে ছিল বনূ ছা'লাবা ইব্ন ফিতুয়নের লোক। সে উহুদ যুদ্ধের দিন ইয়াহুদীদের লক্ষ্য করে বলল: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! আল্লাহ্র কসম! তোমরা জানো যে, মুহাম্মদ (সা)-এর সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। তারা বললো আজ তো শনিবার। মুখায়রীক বলল শনিবার বলতে তোমাদের কিছুই নেই। এরপর মুখায়রীক তার আসবাবপত্র ও তরবারি নিয়ে বলল: যদি আমি নিহত হয়ে যাই, তবে আমার সম্পদ মুহাম্মদ (সা)-এর। তিনি তা যেভাবে চান সেভাবে ব্যবহার করবেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে তাঁর সংগে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলো এবং নিহত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমার জানামতে মুখায়রীক একজন ভাল ইয়াহুদী ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: হারিস ইন্ন সুওয়াইদ ইব্ন সামিত নামে এক মুনাফিকও উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে বের হয়। যখন উভয় দল মুখোমুখি হল, তখন হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়ার বালাভী ও বনু যুবায়আর জনৈক কায়স ইব্ন যায়দের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং উভয়কে হত্যা করলো। তারপর সে মক্কায় গিয়ে কুরায়শদের সাথে মিলে গেল। জনশ্রুতি এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর ইব্ন খাত্তাব (রা)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাকে হাতের নাগালে পেলে হত্যা করে ফেলবে। কিন্তু তিনি তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হলেন না। সে মক্কায় ছিল। এরপর সে তার ভাই জুল্লাস ইন্ন সুওয়াইদের কাছে তাওবার আবেদন করে পাঠালো যেন সে নিজ কওমের লোকেদের কাছে ফিরে আসতে পারে। ইবন ইসহাক বলেন: আমি আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা)-এর যে বর্ণনা পেয়েছি, সে মতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَ هُمُ الْبَيِّنَتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِيهِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
কিভাবে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করবেন ঐ সম্প্রদায়কে যারা কুফরি করেছে তাদের ঈমান আনয়নের পর এবং এই সাক্ষ্যদানের পর যে, রাসূল সত্য, আর তাদের কাছে এসেছে নিদর্শনাদি, আর আল্লাহ্ তো যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না (৩: ৮৬)।
ইব্ন হিশাম বলেন, যাদের উপর আমার আস্থা রয়েছে এমন কিছু জ্ঞানী ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়াদকে হত্যা করে। সে কায়স ইব্ন যায়দকে হত্যা করেনি। এর প্রমাণ হলো, ইব্ন ইসহাক কায়স ইন্ন যায়দকে উহুদ যুদ্ধে নিহতদের তালিকায় উল্লেখ করেননি। আর হারিস মুজায্যারকে এজন্যই হত্যা করেছিল যে মুজায্যার তার পিতা সুওয়াইদকে আওস ও খাযরাজের মধ্যে সংঘটিত কোন এক যুদ্ধে হত্যা করেছিল। ইতিপূর্বে এই গ্রন্থের প্রথম দিকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাহাবাদের সংগে অবস্থানরত ছিলেন। এমন সময় হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মদীনার কোন এক বাগান থেকে বেরিয়ে এলো। তখন তার গায়ে দু'টি লাল রং এর কাপড় ছিল। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উসমান ইব্ন আফফান (রা)-কে অন্য বর্ণনা মতে, জনৈক আনসার সাহাবীকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: সুওয়াইদ ইব্ন সামিতকে মু'আয ইব্ন আফরা কোন প্রকার যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অতর্কিতভাবে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। এটি ছিল বু'আছ যুদ্ধের আগের ঘটনা।
ইবন ইসহাক বলেন: উহুদের নিহতদের মধ্যে মুখায়রীক নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে ছিল বনূ ছা'লাবা ইব্ন ফিতুয়নের লোক। সে উহুদ যুদ্ধের দিন ইয়াহুদীদের লক্ষ্য করে বলল: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! আল্লাহ্র কসম! তোমরা জানো যে, মুহাম্মদ (সা)-এর সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। তারা বললো আজ তো শনিবার। মুখায়রীক বলল শনিবার বলতে তোমাদের কিছুই নেই। এরপর মুখায়রীক তার আসবাবপত্র ও তরবারি নিয়ে বলল: যদি আমি নিহত হয়ে যাই, তবে আমার সম্পদ মুহাম্মদ (সা)-এর। তিনি তা যেভাবে চান সেভাবে ব্যবহার করবেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে তাঁর সংগে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলো এবং নিহত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমার জানামতে মুখায়রীক একজন ভাল ইয়াহুদী ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: হারিস ইন্ন সুওয়াইদ ইব্ন সামিত নামে এক মুনাফিকও উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে বের হয়। যখন উভয় দল মুখোমুখি হল, তখন হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়ার বালাভী ও বনু যুবায়আর জনৈক কায়স ইব্ন যায়দের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং উভয়কে হত্যা করলো। তারপর সে মক্কায় গিয়ে কুরায়শদের সাথে মিলে গেল। জনশ্রুতি এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর ইব্ন খাত্তাব (রা)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাকে হাতের নাগালে পেলে হত্যা করে ফেলবে। কিন্তু তিনি তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হলেন না। সে মক্কায় ছিল। এরপর সে তার ভাই জুল্লাস ইন্ন সুওয়াইদের কাছে তাওবার আবেদন করে পাঠালো যেন সে নিজ কওমের লোকেদের কাছে ফিরে আসতে পারে। ইবন ইসহাক বলেন: আমি আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা)-এর যে বর্ণনা পেয়েছি, সে মতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَ هُمُ الْبَيِّنَتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِيهِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
কিভাবে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করবেন ঐ সম্প্রদায়কে যারা কুফরি করেছে তাদের ঈমান আনয়নের পর এবং এই সাক্ষ্যদানের পর যে, রাসূল সত্য, আর তাদের কাছে এসেছে নিদর্শনাদি, আর আল্লাহ্ তো যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না (৩: ৮৬)।
ইব্ন হিশাম বলেন, যাদের উপর আমার আস্থা রয়েছে এমন কিছু জ্ঞানী ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়াদকে হত্যা করে। সে কায়স ইব্ন যায়দকে হত্যা করেনি। এর প্রমাণ হলো, ইব্ন ইসহাক কায়স ইন্ন যায়দকে উহুদ যুদ্ধে নিহতদের তালিকায় উল্লেখ করেননি। আর হারিস মুজায্যারকে এজন্যই হত্যা করেছিল যে মুজায্যার তার পিতা সুওয়াইদকে আওস ও খাযরাজের মধ্যে সংঘটিত কোন এক যুদ্ধে হত্যা করেছিল। ইতিপূর্বে এই গ্রন্থের প্রথম দিকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাহাবাদের সংগে অবস্থানরত ছিলেন। এমন সময় হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মদীনার কোন এক বাগান থেকে বেরিয়ে এলো। তখন তার গায়ে দু'টি লাল রং এর কাপড় ছিল। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উসমান ইব্ন আফফান (রা)-কে অন্য বর্ণনা মতে, জনৈক আনসার সাহাবীকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: সুওয়াইদ ইব্ন সামিতকে মু'আয ইব্ন আফরা কোন প্রকার যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অতর্কিতভাবে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। এটি ছিল বু'আছ যুদ্ধের আগের ঘটনা।
📄 উসায়রাম (রা) শহীদ হওয়া সম্পর্কে
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হুসায়ন ইবন আবদুর রহমান ইব্ন আমর ইবন সা'দ ইব্ন মু'আয ইব্ন আবু আহমদের আযাদকৃত গোলাম আবু সুফিয়ান সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: তিনি লোকদের জিজ্ঞাস করতেন: আচ্ছা আমাকে এমন একজন লোকের কথা বলতো, যে জান্নাতে প্রবেশ করলো, অথচ সে কোনদিন সালাত আদায় করিনি।
লোকেরা বলতে না পারলে, তারা তাকেই জিজ্ঞাসা করত, আপনিই বলুন, তিনি কে? আবু হুরায়রা (রা) বলতেন তিনি হলেন, বনু আবদুল আশহালের উসায়রাম আমর ইব্ন সাবিত ইব্ন ওয়াকাশ।
(ইন্ন ইসহাক বলেন,) হুসায়ন বলেন: আমি মাহমূদ ইব্ন আসাদকে জিজ্ঞাসা করলাম, উসায়রামের ঘটনাটি কি ছিল তিনি বললেন, উসায়রাম নিজ কওমের সামনে ইসলামকে অস্বীকার করত। কিন্তু যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উহুদ যুদ্ধের জন্য বের হলেন, তখন তার ইসলামের প্রতি আগ্রহ জন্মালো এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর তরবারি হাতে নিয়ে মুসলমানদের সাথে শামিল হয়ে গেলেন এবং লড়তে থাকলেন; এমন কি জখম তাকে অসহায় করে দিল। বনু আবদুল আশহালের লোকেরা যখন যুদ্ধের ময়দানে তাদের নিহতদের খুঁজতে গিয়ে তাকে দেখতে পেল, তখন তারা বললেন: এ যে উসায়রাম? সে এখানে কি করে এলো? আমরা তো তাকে এ বিষয়ে অস্বীকারকারী অবস্থায় ছেড়ে এসেছি, তারপর তারা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করলেন:
কি হে আমর, এখানে কি করে এলে? তোমার কওমের প্রতি দরদী হয়ে, না ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে? তিনি জবাব দিলেন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং ইসলাম গ্রহণ করেছি। তারপর আমি তরবারি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যুদ্ধে শরীক হয়েছি এবং লড়তে লড়তে এই অবস্থায় পৌঁছেছি। একথা বলার পরই তিনি তাদের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করলেন, তখন তিনি বললেন : انْهُ لِمَنْ أَهْلِ الْجَنَّة অর্থাৎ সে নিঃসন্দেহে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হুসায়ন ইবন আবদুর রহমান ইব্ন আমর ইবন সা'দ ইব্ন মু'আয ইব্ন আবু আহমদের আযাদকৃত গোলাম আবু সুফিয়ান সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: তিনি লোকদের জিজ্ঞাস করতেন: আচ্ছা আমাকে এমন একজন লোকের কথা বলতো, যে জান্নাতে প্রবেশ করলো, অথচ সে কোনদিন সালাত আদায় করিনি।
লোকেরা বলতে না পারলে, তারা তাকেই জিজ্ঞাসা করত, আপনিই বলুন, তিনি কে? আবু হুরায়রা (রা) বলতেন তিনি হলেন, বনু আবদুল আশহালের উসায়রাম আমর ইব্ন সাবিত ইব্ন ওয়াকাশ।
(ইন্ন ইসহাক বলেন,) হুসায়ন বলেন: আমি মাহমূদ ইব্ন আসাদকে জিজ্ঞাসা করলাম, উসায়রামের ঘটনাটি কি ছিল তিনি বললেন, উসায়রাম নিজ কওমের সামনে ইসলামকে অস্বীকার করত। কিন্তু যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উহুদ যুদ্ধের জন্য বের হলেন, তখন তার ইসলামের প্রতি আগ্রহ জন্মালো এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর তরবারি হাতে নিয়ে মুসলমানদের সাথে শামিল হয়ে গেলেন এবং লড়তে থাকলেন; এমন কি জখম তাকে অসহায় করে দিল। বনু আবদুল আশহালের লোকেরা যখন যুদ্ধের ময়দানে তাদের নিহতদের খুঁজতে গিয়ে তাকে দেখতে পেল, তখন তারা বললেন: এ যে উসায়রাম? সে এখানে কি করে এলো? আমরা তো তাকে এ বিষয়ে অস্বীকারকারী অবস্থায় ছেড়ে এসেছি, তারপর তারা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করলেন:
কি হে আমর, এখানে কি করে এলে? তোমার কওমের প্রতি দরদী হয়ে, না ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে? তিনি জবাব দিলেন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং ইসলাম গ্রহণ করেছি। তারপর আমি তরবারি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যুদ্ধে শরীক হয়েছি এবং লড়তে লড়তে এই অবস্থায় পৌঁছেছি। একথা বলার পরই তিনি তাদের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করলেন, তখন তিনি বললেন : انْهُ لِمَنْ أَهْلِ الْجَنَّة অর্থাৎ সে নিঃসন্দেহে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।