📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়ামান ও ওয়াকাশ (রা)-এর নিহত হওয়া সম্পর্কে

📄 ইয়ামান ও ওয়াকাশ (রা)-এর নিহত হওয়া সম্পর্কে


ইবন ইসহাক বলেন : সেদিন মুসলমানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল, এমন কি অনেকে মুনাক্কা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, যা আওয়ায এলাকার কাছে ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার কাছে আসিম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কাতাদা মাহমূদ ইব্‌ন লবীদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন উহুদ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন, তখন হুসায়েল ইব্‌ন জাবির ওরফে ইয়ামান, হুযায়ফা ইব্‌ন ইয়ামানের পিতা ও সাবিত ইব্‌ন ওয়াকাশ (রা)-কে মহিলা ও শিশুদের সাথে গুহায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এঁরা দু'জন অত্যন্ত বৃদ্ধ ছিলেন। তাঁরা একে অপরকে বললেন : এরে হতভাগা ! কিসের অপেক্ষা করছো ? আল্লাহ্র কসম ! আমাদের দু'জনের কারোই বয়স এর চাইতে বেশি বাকী নেই, যতটুকু গাধার দু'বার পানি পান করার সময়ে হয়ে থাকে। আজ না হয় কাল আমরা মরে যাব। আমরা তরবারি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে মিলে যাচ্ছি না কেন ? তবেই তো আশা করা যায় যে, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন। এ কথা বলে উভয়ই তরবারি হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন এবং লোকদের মাঝে ঢুকে গেলেন। তাদের এ ব্যাপারে কেউই কিছু জানতো না। সাবিত ইব্‌ন ওয়াকাশ (রা)-কে তো মুশরিকরা শহীদ করলো। আর হুসায়েল ইব্‌ন জাবির (রা)-কে মুসলমানরা চিনতে না পারায়, তার উপর তরবারির আঘাত করে, ফলে তিনি মারা যান। তখন হুযায়ফা (রা) বলে উঠলেন : ইনি তো আমার আব্বা। মুসলমানরা বললেন। আল্লাহ্র কসম ! আমরা তো বুঝতে পারিনি। তাদের কথা সত্যই ছিল। তখন হুযায়ফা (রা) বললেন : আল্লাহ্ তা'আলা আপনাদের সকলকে ক্ষমা করুন, তিনি অত্যন্ত দয়াবান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার দিয়্যত (রক্তপণ) দিতে চাইলেন ; কিন্তু হুযায়ফা (রা) মুসলমানদের জন্য তা ক্ষমা করে দিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দৃষ্টিতে তাঁর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেল।

টিকাঃ
১. আওয়ায-মদীনার পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত একটি স্থানের নাম।

ইবন ইসহাক বলেন : সেদিন মুসলমানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল, এমন কি অনেকে মুনাক্কা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, যা আওয়ায এলাকার কাছে ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার কাছে আসিম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কাতাদা মাহমূদ ইব্‌ন লবীদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন উহুদ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন, তখন হুসায়েল ইব্‌ন জাবির ওরফে ইয়ামান, হুযায়ফা ইব্‌ন ইয়ামানের পিতা ও সাবিত ইব্‌ন ওয়াকাশ (রা)-কে মহিলা ও শিশুদের সাথে গুহায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এঁরা দু'জন অত্যন্ত বৃদ্ধ ছিলেন। তাঁরা একে অপরকে বললেন : এরে হতভাগা ! কিসের অপেক্ষা করছো ? আল্লাহ্র কসম ! আমাদের দু'জনের কারোই বয়স এর চাইতে বেশি বাকী নেই, যতটুকু গাধার দু'বার পানি পান করার সময়ে হয়ে থাকে। আজ না হয় কাল আমরা মরে যাব। আমরা তরবারি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে মিলে যাচ্ছি না কেন ? তবেই তো আশা করা যায় যে, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন। এ কথা বলে উভয়ই তরবারি হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন এবং লোকদের মাঝে ঢুকে গেলেন। তাদের এ ব্যাপারে কেউই কিছু জানতো না। সাবিত ইব্‌ন ওয়াকাশ (রা)-কে তো মুশরিকরা শহীদ করলো। আর হুসায়েল ইব্‌ন জাবির (রা)-কে মুসলমানরা চিনতে না পারায়, তার উপর তরবারির আঘাত করে, ফলে তিনি মারা যান। তখন হুযায়ফা (রা) বলে উঠলেন : ইনি তো আমার আব্বা। মুসলমানরা বললেন। আল্লাহ্র কসম ! আমরা তো বুঝতে পারিনি। তাদের কথা সত্যই ছিল। তখন হুযায়ফা (রা) বললেন : আল্লাহ্ তা'আলা আপনাদের সকলকে ক্ষমা করুন, তিনি অত্যন্ত দয়াবান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার দিয়্যত (রক্তপণ) দিতে চাইলেন ; কিন্তু হুযায়ফা (রা) মুসলমানদের জন্য তা ক্ষমা করে দিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দৃষ্টিতে তাঁর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেল।

টিকাঃ
১. আওয়ায-মদীনার পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত একটি স্থানের নাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াযীদ (রা) ও তাঁর পিতা হাতিব প্রসংগে

📄 ইয়াযীদ (রা) ও তাঁর পিতা হাতিব প্রসংগে


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্‌ন উমর ইব্‌ন কাতাদা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে হাতিব ইব্‌ন উমাইয়া ইব্‌ন রাফির ইয়াযীদ নামে এক ছেলে ছিলেন। উহুদ যুদ্ধে তিনি আহত হলেন। তাকে ঘরে আনা হলো। তখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। পরিবারস্থ সকলেই তাঁর চারিপাশে সমবেত হল। মুসলমান নরনারী সকলেই তাকে বলতে লাগলেন: হে হাতিব তনয়! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। হাতিব ছিল এক বৃদ্ধ ব্যক্তি। তার অন্তরে তখনও জাহিলিয়াত বর্তমান ছিল। তখন তার নিফাক তথা কপটতা প্রকাশ পেয়ে গেল। সে বলে উঠলো: তোমরা তাকে কিসের সুসংবাদ দিচ্ছ; হারমাল জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! তোমরা প্রতারণা করে এই তরুণের জীবন ধ্বংস করলে।

টিকাঃ
১. হারমাল হলো এমন একটি গাচের নাম, যার থেকে ছোট কাল দানা উৎপন্ন হয়। সাধারণত: এ গাছ কবরস্থানে জন্মে।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্‌ন উমর ইব্‌ন কাতাদা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে হাতিব ইব্‌ন উমাইয়া ইব্‌ন রাফির ইয়াযীদ নামে এক ছেলে ছিলেন। উহুদ যুদ্ধে তিনি আহত হলেন। তাকে ঘরে আনা হলো। তখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। পরিবারস্থ সকলেই তাঁর চারিপাশে সমবেত হল। মুসলমান নরনারী সকলেই তাকে বলতে লাগলেন: হে হাতিব তনয়! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। হাতিব ছিল এক বৃদ্ধ ব্যক্তি। তার অন্তরে তখনও জাহিলিয়াত বর্তমান ছিল। তখন তার নিফাক তথা কপটতা প্রকাশ পেয়ে গেল। সে বলে উঠলো: তোমরা তাকে কিসের সুসংবাদ দিচ্ছ; হারমাল জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! তোমরা প্রতারণা করে এই তরুণের জীবন ধ্বংস করলে।

টিকাঃ
১. হারমাল হলো এমন একটি গাচের নাম, যার থেকে ছোট কাল দানা উৎপন্ন হয়। সাধারণত: এ গাছ কবরস্থানে জন্মে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুনাফিক অবস্থায় কুষমানের মৃত্যু

📄 মুনাফিক অবস্থায় কুষমানের মৃত্যু


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না যে, সে কোন গোত্রের। তার নাম ছিল কুযমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলতেন : انه لمن أهل النار সে তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
উহুদের যুদ্ধ কুযমান বেশ উদ্যমের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সে একাই সাত/আট জন মুশরিককে হত্যা করে। সে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলো। অবশেষে সে নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়, যার কারণে উঠতে পারছিল না। তাকে উঠিয়ে বনূ যাফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানরা বলতে লাগলেন কুযমান আজ তোমার পরীক্ষা, হয়ে গিয়েছে। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল: আমাকে কিসের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি তো নিছক আমার কওমের মর্যাদা রক্ষার্থে লড়েছি। অন্যথায় কখনো আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম না। এরপর যখন তার জখমের যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন সে তৃণীর থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো।

ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না যে, সে কোন গোত্রের। তার নাম ছিল কুযমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলতেন : انه لمن أهل النار সে তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
উহুদের যুদ্ধ কুযমান বেশ উদ্যমের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সে একাই সাত/আট জন মুশরিককে হত্যা করে। সে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলো। অবশেষে সে নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়, যার কারণে উঠতে পারছিল না। তাকে উঠিয়ে বনূ যাফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানরা বলতে লাগলেন কুযমান আজ তোমার পরীক্ষা, হয়ে গিয়েছে। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল: আমাকে কিসের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি তো নিছক আমার কওমের মর্যাদা রক্ষার্থে লড়েছি। অন্যথায় কখনো আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম না। এরপর যখন তার জখমের যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন সে তৃণীর থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুখায়রীকের ঘটনা সম্পর্কে

📄 মুখায়রীকের ঘটনা সম্পর্কে


ইবন ইসহাক বলেন: উহুদের নিহতদের মধ্যে মুখায়রীক নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে ছিল বনূ ছা'লাবা ইব্‌ন ফিতুয়নের লোক। সে উহুদ যুদ্ধের দিন ইয়াহুদীদের লক্ষ্য করে বলল: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! আল্লাহ্র কসম! তোমরা জানো যে, মুহাম্মদ (সা)-এর সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। তারা বললো আজ তো শনিবার। মুখায়রীক বলল শনিবার বলতে তোমাদের কিছুই নেই। এরপর মুখায়রীক তার আসবাবপত্র ও তরবারি নিয়ে বলল: যদি আমি নিহত হয়ে যাই, তবে আমার সম্পদ মুহাম্মদ (সা)-এর। তিনি তা যেভাবে চান সেভাবে ব্যবহার করবেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে তাঁর সংগে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলো এবং নিহত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমার জানামতে মুখায়রীক একজন ভাল ইয়াহুদী ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: হারিস ইন্ন সুওয়াইদ ইব্‌ন সামিত নামে এক মুনাফিকও উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে বের হয়। যখন উভয় দল মুখোমুখি হল, তখন হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়ার বালাভী ও বনু যুবায়আর জনৈক কায়স ইব্‌ন যায়দের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং উভয়কে হত্যা করলো। তারপর সে মক্কায় গিয়ে কুরায়শদের সাথে মিলে গেল। জনশ্রুতি এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাকে হাতের নাগালে পেলে হত্যা করে ফেলবে। কিন্তু তিনি তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হলেন না। সে মক্কায় ছিল। এরপর সে তার ভাই জুল্লাস ইন্ন সুওয়াইদের কাছে তাওবার আবেদন করে পাঠালো যেন সে নিজ কওমের লোকেদের কাছে ফিরে আসতে পারে। ইবন ইসহাক বলেন: আমি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর যে বর্ণনা পেয়েছি, সে মতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَ هُمُ الْبَيِّنَتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِيهِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
কিভাবে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করবেন ঐ সম্প্রদায়কে যারা কুফরি করেছে তাদের ঈমান আনয়নের পর এবং এই সাক্ষ্যদানের পর যে, রাসূল সত্য, আর তাদের কাছে এসেছে নিদর্শনাদি, আর আল্লাহ্ তো যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না (৩: ৮৬)।
ইব্‌ন হিশাম বলেন, যাদের উপর আমার আস্থা রয়েছে এমন কিছু জ্ঞানী ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়াদকে হত্যা করে। সে কায়স ইব্‌ন যায়দকে হত্যা করেনি। এর প্রমাণ হলো, ইব্‌ন ইসহাক কায়স ইন্ন যায়দকে উহুদ যুদ্ধে নিহতদের তালিকায় উল্লেখ করেননি। আর হারিস মুজায্যারকে এজন্যই হত্যা করেছিল যে মুজায্যার তার পিতা সুওয়াইদকে আওস ও খাযরাজের মধ্যে সংঘটিত কোন এক যুদ্ধে হত্যা করেছিল। ইতিপূর্বে এই গ্রন্থের প্রথম দিকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাহাবাদের সংগে অবস্থানরত ছিলেন। এমন সময় হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মদীনার কোন এক বাগান থেকে বেরিয়ে এলো। তখন তার গায়ে দু'টি লাল রং এর কাপড় ছিল। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উসমান ইব্‌ন আফফান (রা)-কে অন্য বর্ণনা মতে, জনৈক আনসার সাহাবীকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: সুওয়াইদ ইব্‌ন সামিতকে মু'আয ইব্‌ন আফরা কোন প্রকার যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অতর্কিতভাবে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। এটি ছিল বু'আছ যুদ্ধের আগের ঘটনা।

ইবন ইসহাক বলেন: উহুদের নিহতদের মধ্যে মুখায়রীক নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে ছিল বনূ ছা'লাবা ইব্‌ন ফিতুয়নের লোক। সে উহুদ যুদ্ধের দিন ইয়াহুদীদের লক্ষ্য করে বলল: হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! আল্লাহ্র কসম! তোমরা জানো যে, মুহাম্মদ (সা)-এর সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। তারা বললো আজ তো শনিবার। মুখায়রীক বলল শনিবার বলতে তোমাদের কিছুই নেই। এরপর মুখায়রীক তার আসবাবপত্র ও তরবারি নিয়ে বলল: যদি আমি নিহত হয়ে যাই, তবে আমার সম্পদ মুহাম্মদ (সা)-এর। তিনি তা যেভাবে চান সেভাবে ব্যবহার করবেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে তাঁর সংগে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলো এবং নিহত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমার জানামতে মুখায়রীক একজন ভাল ইয়াহুদী ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: হারিস ইন্ন সুওয়াইদ ইব্‌ন সামিত নামে এক মুনাফিকও উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে বের হয়। যখন উভয় দল মুখোমুখি হল, তখন হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়ার বালাভী ও বনু যুবায়আর জনৈক কায়স ইব্‌ন যায়দের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং উভয়কে হত্যা করলো। তারপর সে মক্কায় গিয়ে কুরায়শদের সাথে মিলে গেল। জনশ্রুতি এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাকে হাতের নাগালে পেলে হত্যা করে ফেলবে। কিন্তু তিনি তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হলেন না। সে মক্কায় ছিল। এরপর সে তার ভাই জুল্লাস ইন্ন সুওয়াইদের কাছে তাওবার আবেদন করে পাঠালো যেন সে নিজ কওমের লোকেদের কাছে ফিরে আসতে পারে। ইবন ইসহাক বলেন: আমি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর যে বর্ণনা পেয়েছি, সে মতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيْمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَ هُمُ الْبَيِّنَتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِيهِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
কিভাবে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করবেন ঐ সম্প্রদায়কে যারা কুফরি করেছে তাদের ঈমান আনয়নের পর এবং এই সাক্ষ্যদানের পর যে, রাসূল সত্য, আর তাদের কাছে এসেছে নিদর্শনাদি, আর আল্লাহ্ তো যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না (৩: ৮৬)।
ইব্‌ন হিশাম বলেন, যাদের উপর আমার আস্থা রয়েছে এমন কিছু জ্ঞানী ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মুজায্যার ইন্ন যিয়াদকে হত্যা করে। সে কায়স ইব্‌ন যায়দকে হত্যা করেনি। এর প্রমাণ হলো, ইব্‌ন ইসহাক কায়স ইন্ন যায়দকে উহুদ যুদ্ধে নিহতদের তালিকায় উল্লেখ করেননি। আর হারিস মুজায্যারকে এজন্যই হত্যা করেছিল যে মুজায্যার তার পিতা সুওয়াইদকে আওস ও খাযরাজের মধ্যে সংঘটিত কোন এক যুদ্ধে হত্যা করেছিল। ইতিপূর্বে এই গ্রন্থের প্রথম দিকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাহাবাদের সংগে অবস্থানরত ছিলেন। এমন সময় হারিস ইন্ন সুওয়াইদ মদীনার কোন এক বাগান থেকে বেরিয়ে এলো। তখন তার গায়ে দু'টি লাল রং এর কাপড় ছিল। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সা) উসমান ইব্‌ন আফফান (রা)-কে অন্য বর্ণনা মতে, জনৈক আনসার সাহাবীকে তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি তার শিরশ্ছেদ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: সুওয়াইদ ইব্‌ন সামিতকে মু'আয ইব্‌ন আফরা কোন প্রকার যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অতর্কিতভাবে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। এটি ছিল বু'আছ যুদ্ধের আগের ঘটনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00