📄 তালহা (রা) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাহায্যকরণ
ইন্ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) পাহাড়ের একটি টিলায় আরোহণ করতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু তিনি আহত হওয়ার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, এছাড়া তিনি দুটো লৌহ বর্ম পরিহিত ছিলেন, এ কারণে তিনি সেখানে আরোহণ করতে সক্ষম হলেন না। তখন তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা) এসে তাঁর কাছে বসে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ তাঁর সাহায্যে টিলার উপর চড়ে নিজেকে সামলে নিলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন : তালহা নিজের উপর জান্নাত ওয়াজিব করে নিয়েছে, যখন সে আল্লাহ্র রাসূলের জন্য এ খিদমতটি আঞ্জাম দিয়েছে।
এ তথ্য আমি পেয়েছি ইয়াহইয়া ইব্ন আব্বাদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন যুবায়র (রা) থেকে।
ইবন হিশাম বলেন : আমি ইকরামা (রা)-এর সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে এ তথ্য পেয়েছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা) সেদিন সেই ঘাঁটির ধাপে চড়তে পারেন নি।
ইবন হিশাম আরও বলেন : গুফরা (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম উমর বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উহুদ যুদ্ধের দিন আহত হওয়ার কারণে সালাত বসে পড়িয়েছিলেন। আর মুসলমানরাও তাঁর পিছনে বসেই সালাত আদায় করেছিলেন।
ইন্ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) পাহাড়ের একটি টিলায় আরোহণ করতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু তিনি আহত হওয়ার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, এছাড়া তিনি দুটো লৌহ বর্ম পরিহিত ছিলেন, এ কারণে তিনি সেখানে আরোহণ করতে সক্ষম হলেন না। তখন তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা) এসে তাঁর কাছে বসে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ তাঁর সাহায্যে টিলার উপর চড়ে নিজেকে সামলে নিলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন : তালহা নিজের উপর জান্নাত ওয়াজিব করে নিয়েছে, যখন সে আল্লাহ্র রাসূলের জন্য এ খিদমতটি আঞ্জাম দিয়েছে।
এ তথ্য আমি পেয়েছি ইয়াহইয়া ইব্ন আব্বাদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন যুবায়র (রা) থেকে।
ইবন হিশাম বলেন : আমি ইকরামা (রা)-এর সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে এ তথ্য পেয়েছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা) সেদিন সেই ঘাঁটির ধাপে চড়তে পারেন নি।
ইবন হিশাম আরও বলেন : গুফরা (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম উমর বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উহুদ যুদ্ধের দিন আহত হওয়ার কারণে সালাত বসে পড়িয়েছিলেন। আর মুসলমানরাও তাঁর পিছনে বসেই সালাত আদায় করেছিলেন।
📄 ইয়ামান ও ওয়াকাশ (রা)-এর নিহত হওয়া সম্পর্কে
ইবন ইসহাক বলেন : সেদিন মুসলমানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল, এমন কি অনেকে মুনাক্কা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, যা আওয়ায এলাকার কাছে ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার কাছে আসিম ইব্ন আমর ইব্ন কাতাদা মাহমূদ ইব্ন লবীদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন উহুদ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন, তখন হুসায়েল ইব্ন জাবির ওরফে ইয়ামান, হুযায়ফা ইব্ন ইয়ামানের পিতা ও সাবিত ইব্ন ওয়াকাশ (রা)-কে মহিলা ও শিশুদের সাথে গুহায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এঁরা দু'জন অত্যন্ত বৃদ্ধ ছিলেন। তাঁরা একে অপরকে বললেন : এরে হতভাগা ! কিসের অপেক্ষা করছো ? আল্লাহ্র কসম ! আমাদের দু'জনের কারোই বয়স এর চাইতে বেশি বাকী নেই, যতটুকু গাধার দু'বার পানি পান করার সময়ে হয়ে থাকে। আজ না হয় কাল আমরা মরে যাব। আমরা তরবারি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে মিলে যাচ্ছি না কেন ? তবেই তো আশা করা যায় যে, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন। এ কথা বলে উভয়ই তরবারি হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন এবং লোকদের মাঝে ঢুকে গেলেন। তাদের এ ব্যাপারে কেউই কিছু জানতো না। সাবিত ইব্ন ওয়াকাশ (রা)-কে তো মুশরিকরা শহীদ করলো। আর হুসায়েল ইব্ন জাবির (রা)-কে মুসলমানরা চিনতে না পারায়, তার উপর তরবারির আঘাত করে, ফলে তিনি মারা যান। তখন হুযায়ফা (রা) বলে উঠলেন : ইনি তো আমার আব্বা। মুসলমানরা বললেন। আল্লাহ্র কসম ! আমরা তো বুঝতে পারিনি। তাদের কথা সত্যই ছিল। তখন হুযায়ফা (রা) বললেন : আল্লাহ্ তা'আলা আপনাদের সকলকে ক্ষমা করুন, তিনি অত্যন্ত দয়াবান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার দিয়্যত (রক্তপণ) দিতে চাইলেন ; কিন্তু হুযায়ফা (রা) মুসলমানদের জন্য তা ক্ষমা করে দিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দৃষ্টিতে তাঁর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেল।
টিকাঃ
১. আওয়ায-মদীনার পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত একটি স্থানের নাম।
ইবন ইসহাক বলেন : সেদিন মুসলমানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল, এমন কি অনেকে মুনাক্কা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, যা আওয়ায এলাকার কাছে ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার কাছে আসিম ইব্ন আমর ইব্ন কাতাদা মাহমূদ ইব্ন লবীদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন উহুদ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন, তখন হুসায়েল ইব্ন জাবির ওরফে ইয়ামান, হুযায়ফা ইব্ন ইয়ামানের পিতা ও সাবিত ইব্ন ওয়াকাশ (রা)-কে মহিলা ও শিশুদের সাথে গুহায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এঁরা দু'জন অত্যন্ত বৃদ্ধ ছিলেন। তাঁরা একে অপরকে বললেন : এরে হতভাগা ! কিসের অপেক্ষা করছো ? আল্লাহ্র কসম ! আমাদের দু'জনের কারোই বয়স এর চাইতে বেশি বাকী নেই, যতটুকু গাধার দু'বার পানি পান করার সময়ে হয়ে থাকে। আজ না হয় কাল আমরা মরে যাব। আমরা তরবারি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে মিলে যাচ্ছি না কেন ? তবেই তো আশা করা যায় যে, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন। এ কথা বলে উভয়ই তরবারি হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন এবং লোকদের মাঝে ঢুকে গেলেন। তাদের এ ব্যাপারে কেউই কিছু জানতো না। সাবিত ইব্ন ওয়াকাশ (রা)-কে তো মুশরিকরা শহীদ করলো। আর হুসায়েল ইব্ন জাবির (রা)-কে মুসলমানরা চিনতে না পারায়, তার উপর তরবারির আঘাত করে, ফলে তিনি মারা যান। তখন হুযায়ফা (রা) বলে উঠলেন : ইনি তো আমার আব্বা। মুসলমানরা বললেন। আল্লাহ্র কসম ! আমরা তো বুঝতে পারিনি। তাদের কথা সত্যই ছিল। তখন হুযায়ফা (রা) বললেন : আল্লাহ্ তা'আলা আপনাদের সকলকে ক্ষমা করুন, তিনি অত্যন্ত দয়াবান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার দিয়্যত (রক্তপণ) দিতে চাইলেন ; কিন্তু হুযায়ফা (রা) মুসলমানদের জন্য তা ক্ষমা করে দিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দৃষ্টিতে তাঁর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেল।
টিকাঃ
১. আওয়ায-মদীনার পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত একটি স্থানের নাম।
📄 ইয়াযীদ (রা) ও তাঁর পিতা হাতিব প্রসংগে
ইব্ন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে হাতিব ইব্ন উমাইয়া ইব্ন রাফির ইয়াযীদ নামে এক ছেলে ছিলেন। উহুদ যুদ্ধে তিনি আহত হলেন। তাকে ঘরে আনা হলো। তখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। পরিবারস্থ সকলেই তাঁর চারিপাশে সমবেত হল। মুসলমান নরনারী সকলেই তাকে বলতে লাগলেন: হে হাতিব তনয়! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। হাতিব ছিল এক বৃদ্ধ ব্যক্তি। তার অন্তরে তখনও জাহিলিয়াত বর্তমান ছিল। তখন তার নিফাক তথা কপটতা প্রকাশ পেয়ে গেল। সে বলে উঠলো: তোমরা তাকে কিসের সুসংবাদ দিচ্ছ; হারমাল জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! তোমরা প্রতারণা করে এই তরুণের জীবন ধ্বংস করলে।
টিকাঃ
১. হারমাল হলো এমন একটি গাচের নাম, যার থেকে ছোট কাল দানা উৎপন্ন হয়। সাধারণত: এ গাছ কবরস্থানে জন্মে।
ইব্ন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুসলমানদের মধ্যে হাতিব ইব্ন উমাইয়া ইব্ন রাফির ইয়াযীদ নামে এক ছেলে ছিলেন। উহুদ যুদ্ধে তিনি আহত হলেন। তাকে ঘরে আনা হলো। তখন তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। পরিবারস্থ সকলেই তাঁর চারিপাশে সমবেত হল। মুসলমান নরনারী সকলেই তাকে বলতে লাগলেন: হে হাতিব তনয়! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। হাতিব ছিল এক বৃদ্ধ ব্যক্তি। তার অন্তরে তখনও জাহিলিয়াত বর্তমান ছিল। তখন তার নিফাক তথা কপটতা প্রকাশ পেয়ে গেল। সে বলে উঠলো: তোমরা তাকে কিসের সুসংবাদ দিচ্ছ; হারমাল জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! তোমরা প্রতারণা করে এই তরুণের জীবন ধ্বংস করলে।
টিকাঃ
১. হারমাল হলো এমন একটি গাচের নাম, যার থেকে ছোট কাল দানা উৎপন্ন হয়। সাধারণত: এ গাছ কবরস্থানে জন্মে।
📄 মুনাফিক অবস্থায় কুষমানের মৃত্যু
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্ন আমর ইব্ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না যে, সে কোন গোত্রের। তার নাম ছিল কুযমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলতেন : انه لمن أهل النار সে তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
উহুদের যুদ্ধ কুযমান বেশ উদ্যমের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সে একাই সাত/আট জন মুশরিককে হত্যা করে। সে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলো। অবশেষে সে নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়, যার কারণে উঠতে পারছিল না। তাকে উঠিয়ে বনূ যাফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানরা বলতে লাগলেন কুযমান আজ তোমার পরীক্ষা, হয়ে গিয়েছে। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল: আমাকে কিসের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি তো নিছক আমার কওমের মর্যাদা রক্ষার্থে লড়েছি। অন্যথায় কখনো আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম না। এরপর যখন তার জখমের যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন সে তৃণীর থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্ন আমর ইব্ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না যে, সে কোন গোত্রের। তার নাম ছিল কুযমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে তার সম্পর্কে আলোচনা হলে তিনি বলতেন : انه لمن أهل النار সে তো জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
উহুদের যুদ্ধ কুযমান বেশ উদ্যমের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এমনকি সে একাই সাত/আট জন মুশরিককে হত্যা করে। সে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলো। অবশেষে সে নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়, যার কারণে উঠতে পারছিল না। তাকে উঠিয়ে বনূ যাফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মুসলমানরা বলতে লাগলেন কুযমান আজ তোমার পরীক্ষা, হয়ে গিয়েছে। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল: আমাকে কিসের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি তো নিছক আমার কওমের মর্যাদা রক্ষার্থে লড়েছি। অন্যথায় কখনো আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম না। এরপর যখন তার জখমের যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন সে তৃণীর থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো।