📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উবায় ইব্‌ন খালফের হত্যা

📄 উবায় ইব্‌ন খালফের হত্যা


ইবন ইসহাক আরও বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) যখন ঘাটির উপর উঠলেন, তখন সেখানে উবায় ইব্‌ন খালাফ তাঁর সন্ধান পেয়ে পৌঁছে গেল এবং বলল: হে মুহাম্মদ! তুমি বেঁচে গেলে আমার রক্ষা নেই। তখন মুসলমানরা জিজ্ঞাসা করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমরা কেউ কি তার দিকে অগ্রসর হব? তিনি বললেন: তাকে ছেড়ে দাও। এরপর সে যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে গেল, তখন তিনি হারিস ইন্ন সাম্মা থেকে বর্শা নিলেন। (ইবন ইসহাক বলেন,) আমি জানতে পেরেছি, অনেকের বক্তব্য এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাম্মা থেকে বর্শাটি নিয়ে তা এমন জোরে ঝাড়া দিলেন যে, আমরা এমনভাবে ছিটকে পড়লাম, যেমন ভীমরুলের ঝাঁক উটের তাড়া খেয়ে, উটের পিঠ থেকে উড়ে যায়। ইব্‌ন হিশাম বলেন : الشعراء অর্থ দংশনকারী মাছি।
তারপর রাসূলুল্লাহ (সা) উবায় ইব্‌ন খাল্ফের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার ঘাড়ের উপর এমন জোরে বর্শার আঘাত হানলেন, যার ফলে সে ঘোড়ার উপর থেকে ছিটকে পড়লো এবং কয়েকবার গড়াগড়ি খেল।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে সালিহ্ ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন আবদুর রহমান ইন্ন আওফ বর্ণনা করেছেন যে, উবায় ইব্‌ন খাল্ফ মক্কায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে বলতেন: হে মুহাম্মদ! আমার একটি আশ্রয়স্থল রয়েছে। তা হলো একটি ঘোড়া, যাকে আমি দৈনিক এক ফরক (প্রায় ৫ সের) দানা আহার দেই। তার উপর আরোহণ করে আমি তোমাকে হত্যা করব।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) জবাবে বলতেন: ইন্‌শাআল্লাহ আমিই তোমাকে হত্যা করব। তাই উবায় ইব্‌ন খালফ যখন কুরায়শদের মাঝে ফিরে এলো, তখন তার ঘাড়ে সামান্য মাত্র আঘাত লেগেছিল, যার কারণে রগে রক্ত জমে গিয়েছিল। সে বলতে লাগল আল্লাহ্র কসম! মুহাম্মদ আমাকে খুন করেছে। কুরায়শরা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল: আল্লাহ্র কসম! তুমি অনর্থক মন খারাপ করছো। তোমার তো তেমন কিছু হয়নি। উবায় ইব্‌ন খাল্ফ বলল: মুহাম্মদ আমাকে মক্কা থাকতেই বলেছিল: আমি তোমাকে হত্যা করব। তাই আল্লাহ্র কসম! সে আমার উপর শুধু থুথু ফেললেও আমি মরে যেতাম। এরপর কুরায়শরা তাকে নিয়ে মক্কায় ফেরার পথে, 'সারিফ' নামক স্থানে পৌঁছলে আল্লাহর দুশমন মারা যায়।
ইবন ইসহাক বলেন: এ সম্পর্কে হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা)-এই কবিতা রচনা করেন:
أبي يوم يارزه الرسول وتوعده وأنت به جهول
أمية إذ يغوث يا عقيل أبا جهل ، لأ مهما الهبول
بأسر القوم ، اسرته فليل * * * * *
لقد ورث الضلالة عن أبيه
أتيت اليه تحمل رم عظم
وقد قتلت بنو الجار منكم
وتب اينا ربيعة اذا أطاعا
وافلت حارث لما شغلنا
তার পিতার উত্তরাধিকার সূত্রেই উবায় ইব্‌ন খাল্‌ল্ফ গুমরাহী পেয়েছিল। আর সে উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে মুকাবিলার জন্য এগিয়ে এসেছিল।
হে উবায় ইব্‌ন খাল্ফ! তুমি তোমার ধ্বংসশীল হাড় নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দিকে এগিয়ে আসছিলে, আর তুমি তাঁর আসল পরিচয় না জেনে তাকে হুমকি দিচ্ছিলে।
বনূ নাজ্জার তোমাদের মধ্য থেকে উমাইয়াকে এমনভাবে হত্যা করেছে যে, সে হে আকীল! হে আকীল! বরে ফরিয়াদ করছিল!
রাবীআর পুত্রদ্বয় আবূ জাহলের আনুগত্য করে ধ্বংস হলো, আর এখন তাদের মা ধ্বংস হোক।
আমরা বন্দীদের গ্রেফতার করায় ব্যস্ত ছিলাম, এ সুযোগে হারিস উধাও হয়ে গেল; আর তার গোত্র পর্যুদস্ত হয়ে গিয়েছিল।
ইব্‌ন হিশাম বলেন : أسرته এর অর্থ قبيلته অর্থাৎ তার গোত্র। হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা) এ সম্পর্কে আরও বলেন:
ألا من مبلغ عنى أبيا
تمنى بالضلالة من بعيد
تمنيك الأماني من بعيد
فقد لا قتك طعنة ذي حفاظ
له فضل على الاحياء طراً * * * * *
لقد ألقيت في سحق السعير
وتقسم أن قدرت مع النذور
وقول الكفر يرجع في غرور
كريم البيت ليس بذي فجور
إذا نابت ملمات الأمور
এমন কেউ আছে কি, যে উবায় ইব্‌ন খাল্ফের কাছে আমার পক্ষ থেকে এই বার্তা পৌছে দেবে যে, তোমাকে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তুমি দীর্ঘদিন যাবত ভ্রান্ত আশা করছিলে, আর সেই সাথে কসমও খাচ্ছিলে যে, তুমি অবশ্যই সফলকাম হবে।
তুমি অত্যন্ত দুরাশা করছিলে, অথচ কুফর সুলভ উক্তির ফলাফল নিছক আত্মপ্রবঞ্চনা বৈ কিছুই নয়।
তাই তোমার উপর এমন এক মহান ব্যক্তিত্বের বর্শা বিদ্ধ হলো; যিনি মর্যাদাশীল, নেতৃস্থানীয়, অভিজাত পরিবারের লোক। যিনি মর্যাদাহীন অনাচারী নন।
কঠিন বিপদ-আপদের সময়ে সকল মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব বজায় থাকে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পার্বত্য ঘাঁটিতে উপনীত হওয়া প্রসংগে

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পার্বত্য ঘাঁটিতে উপনীত হওয়া প্রসংগে


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (স) যখন পার্বত্য ঘাঁটিতে উপনীত হলেন, তখন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) পানির সন্ধানে বের হয়ে উহুদের পাশ্ববর্তী মিহরাস জলাশয় থেকে তাঁর ঢাল ভরে পানি নিয়ে এলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে পান করার জন্য তা পেশ করলেন। তিনি তাতে দুর্গন্ধ অনুভব করে অপছন্দ করলেন, তা পান করলেন না, বরং তা দিয়ে তাঁর পবিত্র চেহারার রক্ত ধৌত করলেন। আর তিনি তাঁর মাথায় এ পানি ঢালার সময় বলতে লাগলেন: সে ব্যক্তির উপর আল্লাহ্র গযব খুবই কঠোর, যে তাঁর নবীর চেহারা রক্তে রঞ্জিত করেছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সা'দ ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাসের ঈমানী জযাব

📄 সা'দ ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাসের ঈমানী জযাব


আমার কাছে সালিহ্ ইব্‌ন্ন কায়সান জনৈক ব্যক্তির সুত্রে সা'দ ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: আল্লাহ্র কসম! আমার অন্তরে কোন মানুষকে হত্যা করার তীব্র ইচ্ছা কখনো জন্মেনি, যতটা আমার ভাই উতবাকে হত্যা করার ব্যাপারে জন্মেছিল। যদিও আমি জানতাম যে, এ কারণে আমি আমার সম্প্রদায়ের কাছে ঘৃণিত হয়ে যাব। কিন্তু আমার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ ইরশাদই যথেষ্ট যে, সে ব্যক্তির উপর আল্লাহর গযব খুবই কঠোর, যে তাঁর রাসূলের চেহারা রক্তে রঞ্জিত করেছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের পশ্চদ্ধাবন প্রসংগে

📄 কুরায়শদের পশ্চদ্ধাবন প্রসংগে


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথীদের সংগে ঘাঁটিতে ছিলেন, এমন সময় কুরায়শের কিছু লোক পাহাড়ের চূড়ায় আক্রমণের উদ্দেশ্যে উঠে গেল।
ইবন হিশামের বর্ণনা মতে, এ দলের দলপতি ছিলেন খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ।
ইন্ন ইসহাক বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: اللَّهُمَّ إِنَّهُ لَا يَنْبَغِي لَهُمْ أَنْ يُعْلُونَا
হে আল্লাহ্! তাদের জন্য আমাদের উপর চড়াও হওয়া উচিত হবে না। অবশেষে উমর (রা)-সহ মুহাজিরদের একটি দল তীব্র মুকাবিলা করে তাদের পাহাড় থেকে নামিয়ে দেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00