📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হিফাযতে আবূ দুজানা ও সা'দ ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাস (রা)-এর ভূমিকা

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হিফাযতে আবূ দুজানা ও সা'দ ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাস (রা)-এর ভূমিকা


ইব্‌ন ইসহাক বলেন আর দুজানা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উপর উপুড় হয়ে পড়ে ঢালের মত হয়ে যান এবং তীরের পর তীর পিঠে পেতে নিতে থাকেন; এবং তাঁর পিঠে অসংখ্য তীরের আঘাত লাগে। সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস (রা)ও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হিফাযতের জন্য তীর নিক্ষেপ করতে থাকেন। তিনি বলেন: আমি লক্ষ্য করলাম রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে এই বলে তীর দিচ্ছিলেন : ارم فداك أبي وأمى আমার পিতামাতা তোমার উপর উৎসর্গ, তীর নিক্ষেপ করে যাও।
এমনকি তিনি আমাকে এমন একটি তীর দিলেন, যার ফলক ছিল না। তবুও তিনি বললেন: নাও এটাকেও নিক্ষেপ কর।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কাতাদা (রা) এবং তাঁর চোখ প্রসংগে

📄 কাতাদা (রা) এবং তাঁর চোখ প্রসংগে


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্‌ন্ন আমর ইব্‌ন্ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ধনুক থেকে নিক্ষেপ করছিলেন, এমন কি ধনুকের এক পাশ ফেটে গেল। কাতাদা ইব্‌ন নু'মান (রা) তা নিয়ে নিলেন এবং তা তার হাতেই ছিল, সেদিন কাতাদা ইব্‌ন নু'মান (রা)-এর চোখে আঘাত লাগে, যার ফলে তাঁ চোখ বেরিয়ে এসে গালের উপর ঝুলে পড়ে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) আরও বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর চোখটি নিজ পবিত্র হাত দিয়ে স্বস্থানে বসিয়ে দিলেন; ফলে তাঁর এ চোখটি আগের চাইতে অধিক দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ও সুন্দর হয়ে গেল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনাস ইব্‌ন নযর (রা)-এর রাসূলপ্রীতি

📄 আনাস ইব্‌ন নযর (রা)-এর রাসূলপ্রীতি


ইবন ইসহাক বলেন: কাসিম ইব্‌ন আবদুর রহমান ইবন রাফি' (বনী 'আদী ইব্‌ নাজ্জারের লোক) আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, আনাস ইব্‌ন নযর (রা) যিনি আনাস ইব্‌ন মালিক (রা)-এর চাচা ছিলেন, উমর ইবন খাত্তাব ও তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা)-এর কাছে পৌঁছলেন। সেখানে আরও কিছু মুহাজির ও আনসার সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। সকলেই হাতের উপর হাত রেখে বসে ছিলেন। তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: আপনারা এখানে কেন বসে আছেন? তারা জবাব দিলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তো শহীদ হয়ে গিয়েছেন। একথা শুনে তিনি তাদের বললেন: তবে তাঁর অবর্তমানে তোমরা এ জীবন দিয়ে কি করবে? ওঠো, যে উদ্দেশ্যে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (সা) জীবন উৎসর্গ করেছেন, তোমরাও সে উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করো। এরপর আনাস ইব্‌ন নযর (রা) কাফিরদের দিকে অগ্রসর হলেন এবং লড়াই করতে করতে শহীদ হয়ে গেলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুর রহমান ইবন আউফ (রা)-এর বীরত্ব

📄 আবদুর রহমান ইবন আউফ (রা)-এর বীরত্ব


ইবন ইসহাক বলেন: হুমায়দ তাবীল আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি সেদিন আনাস ইব্‌ন নযর (রা)-এর শরীরে তরবারির ৭০টি জখম দেখেছি। তাঁকে তাঁর বোন ছাড়া আর কেউ চিনতে পারেনি। তাঁর বোন তাঁকে তার আংগুল দেখে চেনেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমার কাছে কিছু সংখ্যক বিজ্ঞ আলিম বর্ণনা করেছেন যে, উহুদের যুদ্ধে আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা)-এর মুখে একটি পাথর লেগেছিল যার ফলে তাঁর সামনের একটা দাঁত ভেঙ্গে যায় এবং তাঁর দেহে বিশ বা তার চেয়েও অধিক আঘাত লাগে। কিছু আঘাত লেগেছিল তাঁর পায়ে, যার কারণে তিনি খোঁড়া হয়ে গিয়েছিলেন।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে ইব্‌ন শিহাব যুহরী বর্ণনা করেন যে, মুসলমানদের বিপর্যয় ও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিহত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে যাওয়ার পর যিনি সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খোঁজ পেয়েছিলেন তিনি হলেন কা'ব ইবন মালিক (রা)। তিনি বলেন: আমি শিরস্ত্রাণের নীচে থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উভয় চক্ষু ঝলমল করতে দেখে তাঁকে চিনে ফেললাম। তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে আহবান করতে লাগলাম হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য সুসংবাদ। এই তো রাসূলুল্লাহ্ (সা)। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে চুপ থাকতে ইংগিত করলেন।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: এরপর যখন মুসলমানরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে চিনতে পারলেন, তখন তিনি মুসলমানদের সাথে নিয়ে ঘাঁটির দিকে চলে গেলেন। এ সময় তাঁর সংগে ছিলেন আবূ বকর সিদ্দীক, উমর ইব্‌ন খাত্তাব, আলী ইব্‌ন আবূ তালিব, তালহা ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ্, যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম, হারিস ইন্ন সাম্মা (রা)-সহ আরও কিছু মুসলমান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00