📄 উম্মু আম্মারা (রা)-এর বাহাদুরী
ইব্ন হিশাম বলেন: উম্মু আম্মারা নাসীবা বিন্ত কা'ব মাযিনী (রা) উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্পর্কে সাঈদ ইব্ন আবূ যায়দ আনসারী বলেন যে, উম্মু সা'দ বিন্ত সা'দ ইব্ন রাবী বলতেন: আমি উম্মু আম্মারার কাছে গিয়ে বললাম খালা, আপনার অবস্থা বলুন? তিনি বললেন: আমি দিনের প্রথমাংশে বেরিয়ে পড়ি এবং লোকেদের কাজ-কর্ম দেখতে থাকি এ সময় আমার সাথে পানির মশক ছিল। এইভাবে ধীরে ধীরে আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌছে গেলাম। তখন তিনি তাঁর সংগীদের মাঝে ছিলেন, আর বিজয় ও আল্লাহ্র মদদ তখন মুসলমানদের পক্ষেই ছিল। কিন্তু যখন যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল এবং মুসলমানরা পরাজিত হতে লাগল, তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (রা)-এর কাছে গিয়ে সরাসরি কাফিরদের মুকাবিলা করতে লাগলাম, তরবারি দিয়ে তাঁকে হিফাযত করতে লাগলাম এবং ধনুক থেকে তীর নিক্ষেপ করতে লাগলাম। এমন কি আমার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল।
উম্মু সা'দ আরও বলেন আমি লক্ষ্য করলাম, তাঁর কাঁধে একটি গভীর ক্ষত রয়েছে। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনাকে এ আঘাত কে করেছে? তিনি জবাব দিলেন: ইব্ন কামিআ। আল্লাহ্ তাকে অপদস্থ করুন! লোকেরা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে ছেড়ে ইতস্তত ছুটাছুটি করতে লাগলো, তখন ইব্ন কামিআ অগ্রসর হয়ে বলছিল, মুহাম্মদকে দেখিয়ে দাও। সে যদি আজ বেঁচে যায়, তবে আমার রক্ষা নেই। ইব্ন কামিআর এ কথা শুনে আমি, মুসআব ইবন উমায়ের ও আরও কিছু লোক যারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে ছিলেন, তাকে প্রতিহত করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। ঐ সময় ইব্ন কামিআ আমাকে এই আঘাতটি করে, আমিও তাকে তরবারি দ্বারা কয়েকটি আঘাত করি, কিন্তু আল্লাহর দশমন দু'টি লোহ বর্ম পরিহিত ছিল। তাই তার গায়ে আঘাত লাগেনি।
📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হিফাযতে আবূ দুজানা ও সা'দ ইব্ন আবূ ওয়াক্কাস (রা)-এর ভূমিকা
ইব্ন ইসহাক বলেন আর দুজানা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উপর উপুড় হয়ে পড়ে ঢালের মত হয়ে যান এবং তীরের পর তীর পিঠে পেতে নিতে থাকেন; এবং তাঁর পিঠে অসংখ্য তীরের আঘাত লাগে। সা'দ ইব্ন আবু ওয়াক্কাস (রা)ও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হিফাযতের জন্য তীর নিক্ষেপ করতে থাকেন। তিনি বলেন: আমি লক্ষ্য করলাম রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে এই বলে তীর দিচ্ছিলেন : ارم فداك أبي وأمى আমার পিতামাতা তোমার উপর উৎসর্গ, তীর নিক্ষেপ করে যাও।
এমনকি তিনি আমাকে এমন একটি তীর দিলেন, যার ফলক ছিল না। তবুও তিনি বললেন: নাও এটাকেও নিক্ষেপ কর।
📄 কাতাদা (রা) এবং তাঁর চোখ প্রসংগে
ইব্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্ন্ন আমর ইব্ন্ন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ধনুক থেকে নিক্ষেপ করছিলেন, এমন কি ধনুকের এক পাশ ফেটে গেল। কাতাদা ইব্ন নু'মান (রা) তা নিয়ে নিলেন এবং তা তার হাতেই ছিল, সেদিন কাতাদা ইব্ন নু'মান (রা)-এর চোখে আঘাত লাগে, যার ফলে তাঁ চোখ বেরিয়ে এসে গালের উপর ঝুলে পড়ে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্ন আমর ইব্ন কাতাদা (রা) আরও বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর চোখটি নিজ পবিত্র হাত দিয়ে স্বস্থানে বসিয়ে দিলেন; ফলে তাঁর এ চোখটি আগের চাইতে অধিক দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ও সুন্দর হয়ে গেল।
📄 আনাস ইব্ন নযর (রা)-এর রাসূলপ্রীতি
ইবন ইসহাক বলেন: কাসিম ইব্ন আবদুর রহমান ইবন রাফি' (বনী 'আদী ইব্ নাজ্জারের লোক) আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, আনাস ইব্ন নযর (রা) যিনি আনাস ইব্ন মালিক (রা)-এর চাচা ছিলেন, উমর ইবন খাত্তাব ও তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা)-এর কাছে পৌঁছলেন। সেখানে আরও কিছু মুহাজির ও আনসার সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। সকলেই হাতের উপর হাত রেখে বসে ছিলেন। তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: আপনারা এখানে কেন বসে আছেন? তারা জবাব দিলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তো শহীদ হয়ে গিয়েছেন। একথা শুনে তিনি তাদের বললেন: তবে তাঁর অবর্তমানে তোমরা এ জীবন দিয়ে কি করবে? ওঠো, যে উদ্দেশ্যে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (সা) জীবন উৎসর্গ করেছেন, তোমরাও সে উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করো। এরপর আনাস ইব্ন নযর (রা) কাফিরদের দিকে অগ্রসর হলেন এবং লড়াই করতে করতে শহীদ হয়ে গেলেন।