📄 জীবন্ত শহীদ
ইব্ন হিশাম বলেন, আবদুল আযীয ইব্ন মুহাম্মদ দারাওয়ারদী (র) বলেন, নবী করীম (সা) বলেছেন:
مَنْ أَحَبُّ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى شَهِيدٌ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ -
যে ব্যক্তি ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী শহীদকে দেখতে চায়, সে যেন তালহা ইব্ন উবায়দুল্লাহকে দেখে।
আবদুল আযীয দারাওয়ারদী আরও বর্ণনা করেছেন: ইসহাক ইব্ন ইয়াহ্ইয়া ইব্ন তালহা, ঈসা ইবন তালহা থেকে, তিনি আয়েশা (রা)-এর সূত্রে আবু বকর সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ উবায়দা ইব্ন জারাহ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চেহারা থেকে দু'টি কড়ার একটি টেনে বের করার সাথে সাথে তাঁর সামনের দিকে একটি দাঁত পড়ে যায়। তারপর তিনি অন্য কড়াটি বের করেন, তখন তার সামনের আরেকটি দাঁত পড়ে যায়। এভাবে তার দু'টি দাঁত পড়ে গিয়েছিল।
📄 হাসান ইবন সাবিত (রা)-এর কবিতা
ইব্ন ইসহাক বলেন: হাসান ইব্ন সাবিত (রা) উতবা ইব্ন আবূ ওয়াক্কাসকে লক্ষ্য করে বলেন :
إِذَا الله جَازَى مُعْشَراً بِفِعَالِهِم * وَضَرَّهُمُ الرحمنُ رَبُّ الْمَشَارِقِ
فَاخْزَاكَ رَبِّى يَا عُتَيْبُ بْنَ مَالِكِ * وَلَقَاكَ قَبْلَ الْمَوْتِ اِحْدَى الصَّوَاعِقِ
بَسَطْتَ يَمِينَا لِلنَّبِىِّ تَعَمُّداً * فَأَدْمَيْتَ فَاَهُ، قَطَّعْتَ بِالْبَوَارِقِ
فَهَلَّا ذَكَرْتَ الله وَالْمَنْزِلَ الَّذِى * تَصِيرُ اِلَيْهِ عِنْدَ إِحْدَى الْبَوَائِقِ
যখন আল্লাহ্ তা'আলা কোন গুমরাহ শ্রেণীকে তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তির ফয়সালা শুনান এবং যখন মাশরিকের রব রহমান তাদের অনিষ্টের মধ্যে ফেলেন,
সে সময় হে উতবা ইব্ন মালিক! আমার রব তোমাকে দারুণভাবে লাঞ্ছিত করুন এবং মৃত্যুর আগেই তোমার কোন না কোন বজ্রাঘাতের সাথে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দিন।
স্বেচ্ছায় তুমি নবী (সা)-এর উপর হাত উঠিয়েছ এবং তার পবিত্র চেহারা রক্তাক্ত করেছ, আল্লাহ্ করুন! তোমার হাত যেন তরবারি দিয়ে টুকরা টুকরা করা হয়।
তোমার কি আল্লাহ্র এবং সেই স্থানের কথা স্মরণ হয়নি, যে দিকে তোমাকে এক কঠিন বিপদের মুহূর্তে ফিরে যেতে হবে।
ইব্ন হিশাম বলেন: আমি এই কবিতার দুটি লাইন ছেড়ে দিয়েছি, যাতে তিনি খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছেন।
📄 ইবন সাকানের আত্মত্যাগ
ইব্ন ইসহাক বলেন: হুসায়ন ইব্ন আবদুর রহমান ইব্ন আমর ইব্ন সা'দ ইব্ন মাআয মাহমূদ ইব্ন আমর থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন শত্রুরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে ঘিরে ফেলে, তখন তিনি বলেন: কে আছো, যে আমার জন্য তার জীবন বিক্রি করবে? এ কথা শুনে যিয়াদ ইব্ন সাকান (কারো কারো মতে তিনি উমারা ইব্ন ইয়াযীদ ইব্ন সাকান) পাঁচজন আনসার সাহাবীকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে রক্ষা করতে গিয়ে একের পর এক শহীদ হয়ে যান। তাদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন যিয়াদ (রা) কিংবা আম্মারা (রা)। তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে থাকেন, যতক্ষণ না আঘাতে জর্জরিত হয়ে এক স্থান পড়ে যান। এরপর مسلمانوں একটি দল দাঁড়িয়ে যায় এবং কাফিরদের পিছু ধাওয়া করে রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে দূরে সরিয়ে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন : ادنوه منی তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এসো।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) যিয়াদ কিংবা আম্মারা (রা)-কে তাঁর পবিত্র উরুতে শুইয়ে দেন। এরপর তিনি তাঁর গণ্ডদেশ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর উরুতে থাকা অবস্থায় ইন্তিকাল করেন।
📄 উম্মু আম্মারা (রা)-এর বাহাদুরী
ইব্ন হিশাম বলেন: উম্মু আম্মারা নাসীবা বিন্ত কা'ব মাযিনী (রা) উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্পর্কে সাঈদ ইব্ন আবূ যায়দ আনসারী বলেন যে, উম্মু সা'দ বিন্ত সা'দ ইব্ন রাবী বলতেন: আমি উম্মু আম্মারার কাছে গিয়ে বললাম খালা, আপনার অবস্থা বলুন? তিনি বললেন: আমি দিনের প্রথমাংশে বেরিয়ে পড়ি এবং লোকেদের কাজ-কর্ম দেখতে থাকি এ সময় আমার সাথে পানির মশক ছিল। এইভাবে ধীরে ধীরে আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌছে গেলাম। তখন তিনি তাঁর সংগীদের মাঝে ছিলেন, আর বিজয় ও আল্লাহ্র মদদ তখন মুসলমানদের পক্ষেই ছিল। কিন্তু যখন যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল এবং মুসলমানরা পরাজিত হতে লাগল, তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (রা)-এর কাছে গিয়ে সরাসরি কাফিরদের মুকাবিলা করতে লাগলাম, তরবারি দিয়ে তাঁকে হিফাযত করতে লাগলাম এবং ধনুক থেকে তীর নিক্ষেপ করতে লাগলাম। এমন কি আমার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল।
উম্মু সা'দ আরও বলেন আমি লক্ষ্য করলাম, তাঁর কাঁধে একটি গভীর ক্ষত রয়েছে। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনাকে এ আঘাত কে করেছে? তিনি জবাব দিলেন: ইব্ন কামিআ। আল্লাহ্ তাকে অপদস্থ করুন! লোকেরা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে ছেড়ে ইতস্তত ছুটাছুটি করতে লাগলো, তখন ইব্ন কামিআ অগ্রসর হয়ে বলছিল, মুহাম্মদকে দেখিয়ে দাও। সে যদি আজ বেঁচে যায়, তবে আমার রক্ষা নেই। ইব্ন কামিআর এ কথা শুনে আমি, মুসআব ইবন উমায়ের ও আরও কিছু লোক যারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে ছিলেন, তাকে প্রতিহত করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। ঐ সময় ইব্ন কামিআ আমাকে এই আঘাতটি করে, আমিও তাকে তরবারি দ্বারা কয়েকটি আঘাত করি, কিন্তু আল্লাহর দশমন দু'টি লোহ বর্ম পরিহিত ছিল। তাই তার গায়ে আঘাত লাগেনি।