📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উহুদ যুদ্ধের দিনে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আহত হওয়া প্রসংগে

📄 উহুদ যুদ্ধের দিনে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আহত হওয়া প্রসংগে


ইবন ইসহাক বলেন: যখন মুসলমানগণ ছত্রভংগ হয়ে পড়েছিলেন, আর দুশমনরা তাদের উপর কঠিন আঘাত হানছিল, তখন ছিল মুসলমানদের অত্যন্ত দুর্যোগ ও কঠিন পরীক্ষার সময়। মুসলমানদের মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা যাকে চাচ্ছিলেন তাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করছিলেন। এরপর শত্রুদল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং তাঁর উপর পাথর বর্ষণ করতে আরম্ভ করলো। ফলে, তিনি একপাশে পড়ে গেলেন, তাঁর সামনের দাঁত ভেঙ্গে গেল, চেহারা মুবারক যখমী হলো এবং তাঁর ঠোঁটও কেটে গেল। যে ব্যক্তি তাঁকে আহত করেছিল, সে ছিল উতবা ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাস।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে হুমায়দ তাবীল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনের দাঁত ভেঙ্গে যায়। তাঁর পবিত্র চেহারাও যখমী হয়, মাথার যখম হতে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে এবং তিনি এই বলে রক্ত মুছতে থাকেন:
كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ خَضْبُوا وَجْهَ نَبِيِّهِمْ وَهُوَ يَدْعُوهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ -
ঐ জাতি কিভাবে সফলকাম হতে পারে যারা তাদের নবীর চেহারা রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছে। অথচ তিনি তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের দিকে আহ্বান করছেন।
এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন:
لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظُلِمُونَ .
"তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন কিংবা তাদের শাস্তি দিবেন-এই বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নাই; কারণ তারা তো যালিম" (৩: ১২৮)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আঘাত পর আঘাত

📄 আঘাত পর আঘাত


ইব্‌ন হিশাম বলেন: রুবায়হ ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌ন আবু সাঈদ খুদরী (রা) তার পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে এ তথ্য বর্ণনা করেছেন যে, উতবা ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস সেদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উপর পাথর নিক্ষেপ করে তার সামনের ডান দিকের নীচের দাঁত ভেঙ্গে দেয় এবং নীচের ঠোঁট যখমী করে দেয়, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন শিহাব যুহরী তার ললাট যখমী করে দেয়, আর ইব্‌ন কামিয়া তাঁর পবিত্র চেহারার উপরিঅংশ এমনভাবে আঘাত করে যে, তাঁর শিরস্ত্রাণের দু'টি কড়া মাথার ভিতরে ঢুকে যায় এবং তিনি একটি গর্তে পড়ে যান, এই গর্তটি আবু আমির নামক জনৈক ব্যক্তি খনন করেছিল, যাতে মুসলমানরা না জেনে তার মধ্যে পড়ে। এ সময় আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাত ধরেন, তালহা ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ (রা) তাঁকে ভর দিয়ে উঠান এবং সোজা দাঁড়া করিয়ে দেন। আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর পিতা মালিক ইবন সিনান (রা) তার চেহারা থেকে রক্ত চুষে গিলে ফেলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:
مَنْ مَسَّ دَمِي دَمَهُ لَمْ تُصِبْهُ النَّارُ
আমার রক্ত যার রক্তের সাথে মিশেছে, দোজখের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 জীবন্ত শহীদ

📄 জীবন্ত শহীদ


ইব্‌ন হিশাম বলেন, আবদুল আযীয ইব্‌ন মুহাম্মদ দারাওয়ারদী (র) বলেন, নবী করীম (সা) বলেছেন:
مَنْ أَحَبُّ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى شَهِيدٌ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ -
যে ব্যক্তি ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী শহীদকে দেখতে চায়, সে যেন তালহা ইব্‌ন উবায়দুল্লাহকে দেখে।
আবদুল আযীয দারাওয়ারদী আরও বর্ণনা করেছেন: ইসহাক ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন তালহা, ঈসা ইবন তালহা থেকে, তিনি আয়েশা (রা)-এর সূত্রে আবু বকর সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ উবায়দা ইব্‌ন জারাহ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চেহারা থেকে দু'টি কড়ার একটি টেনে বের করার সাথে সাথে তাঁর সামনের দিকে একটি দাঁত পড়ে যায়। তারপর তিনি অন্য কড়াটি বের করেন, তখন তার সামনের আরেকটি দাঁত পড়ে যায়। এভাবে তার দু'টি দাঁত পড়ে গিয়েছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাসান ইবন সাবিত (রা)-এর কবিতা

📄 হাসান ইবন সাবিত (রা)-এর কবিতা


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা) উতবা ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাসকে লক্ষ্য করে বলেন :
إِذَا الله جَازَى مُعْشَراً بِفِعَالِهِم * وَضَرَّهُمُ الرحمنُ رَبُّ الْمَشَارِقِ
فَاخْزَاكَ رَبِّى يَا عُتَيْبُ بْنَ مَالِكِ * وَلَقَاكَ قَبْلَ الْمَوْتِ اِحْدَى الصَّوَاعِقِ
بَسَطْتَ يَمِينَا لِلنَّبِىِّ تَعَمُّداً * فَأَدْمَيْتَ فَاَهُ، قَطَّعْتَ بِالْبَوَارِقِ
فَهَلَّا ذَكَرْتَ الله وَالْمَنْزِلَ الَّذِى * تَصِيرُ اِلَيْهِ عِنْدَ إِحْدَى الْبَوَائِقِ
যখন আল্লাহ্ তা'আলা কোন গুমরাহ শ্রেণীকে তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তির ফয়সালা শুনান এবং যখন মাশরিকের রব রহমান তাদের অনিষ্টের মধ্যে ফেলেন,
সে সময় হে উতবা ইব্‌ন মালিক! আমার রব তোমাকে দারুণভাবে লাঞ্ছিত করুন এবং মৃত্যুর আগেই তোমার কোন না কোন বজ্রাঘাতের সাথে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দিন।
স্বেচ্ছায় তুমি নবী (সা)-এর উপর হাত উঠিয়েছ এবং তার পবিত্র চেহারা রক্তাক্ত করেছ, আল্লাহ্ করুন! তোমার হাত যেন তরবারি দিয়ে টুকরা টুকরা করা হয়।
তোমার কি আল্লাহ্র এবং সেই স্থানের কথা স্মরণ হয়নি, যে দিকে তোমাকে এক কঠিন বিপদের মুহূর্তে ফিরে যেতে হবে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমি এই কবিতার দুটি লাইন ছেড়ে দিয়েছি, যাতে তিনি খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00