📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়াহশী প্রসংগে

📄 ওয়াহশী প্রসংগে


জুবায়র ইবন মুতঈমের ওয়াহশী নামে এক হাবশী গোলাম ছিল। সে হাবশীদের মত বর্শা নিক্ষেপে পারদর্শী ছিল। তার লক্ষ্য খুব কমই ভ্রষ্ট হতো। জুবায়র তার গোলামকে বলল: তুমিও সকলের সাথে যুদ্ধে চলো। যদি তুমি আমার চাচা তু'মা ইব্‌ন 'আদীর হত্যার প্রতিশোধে মুহাম্মদের চাচা হামযাকে হত্যা করতে পার, তবে তুমি আমার পক্ষ হতে আযাদ হয়ে যাবে।
কুরায়শ তাদের অনুসারী ও তাদের সাথে যোগদানকারী বনু কিনানা ও তিহামার লোকদের নিয়ে অস্ত্র-শস্ত্রসহ পূর্ণ সাজ-সজ্জায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রণাঙ্গনের দিকে বেরিয়ে পড়ল। আর কেউ যাতে পলায়ন না করে, সেই সাথে নিজেদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টি হয়, সে জন্য তারা নিজেদের মহিলাদেরকে হাওদায় বসিয়ে সাথে নিয়ে নিল।
কুরায়শদের সেনাপতি আবু সুফিয়ান হিন্দা বিন্ত উতবাকে সাথে নিল। অনুরূপভাবে ইকরামা ইব্‌ন আবু জাহল, উম্মু হাকীম বিন্ত হারিস ইন হিশাম ইব্‌ন মুগীরাকে, হারিস ইন হিশাম ইব্‌ন মুগীরা ফাতিমা বিন্ত উয়ালীদ ইব্‌ন মুগীরাকে ও সাফওয়ান ইবন উমাইয়া বুরযা বিন্ত মাসউদ ইবন উমর ইবন উমায়ের সাকাফীকে সাথে নিয়ে নিল। বুরযা ছিল আবদুল্লাহ্ ইবন সাফওয়ান ইবন উমাইয়ার মা।
ইবন হিশাম বলেন: মতান্তরে তার নাম রুকাইয়া।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: আর আমর ইবন 'আস রায়তা বিন্ত মুনাব্বিহ ইব্‌ন হাজ্জাজকে। রায়তা ছিল আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমরের মা। অনুরূপভাবে তালহা ইব্‌ন আবূ তালহা সুলাফা বিন্ত সা'দ ইব্‌ন শুহায়দ আনসারীকে সাথে নিল।
আবূ তালহা হল আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবদুল উয্যা ইবন উসমান ইব্‌ন আবদুদ্দার এর কুনিয়াত আর সুলাফা হল তালহার ছেলে মুসাফি', জুল্লাস ও কিলাবের মা। তাদের পিতাসহ তারা সকলে উহুদে নিহত হয়। বনু মালিক ইব্‌ন হিসল গোত্রের খুন্নাস বিন্ত মালিক ইব্‌ন মাযরাব নামক জনৈক মহিলা তার ছেলে আবু আযীয ইবন উমায়েরসহ যুদ্ধে বেরিয়েছিল। সে মাসআব ইবন উমায়েরেরও মা ছিল। অনুরূপভাবে আমরা বিন্ত আলকামা এ অভিযানে অংশগ্রহণ করে। সে ছিল বনু হারিস ইব্‌ন আব্দ মানাত ইবন কিনানার একজন মহিলা।
হিন্দ বিন্ত উতবা যখনই ওয়াহশীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করত, কিংবা ওয়াহশী যখন তার পাশে আসত, তখন সে তাকে বলত: হে আবু দাসমা, আমার কলিজা শীতল কর। আবূ দাসমা ছিল ওয়াহশীর কুনিয়াত। মোটকথা, তারা যুদ্ধের জন্য রওনা হয়ে সেখানে পৌঁছে আয়নায়ন পর্বতে আস্তানা গাড়ল, যা মদীনার বিপরীত দিকে কানাত উপত্যকার পাশে বতনে সাবখার নিম্নভূমিতে অবস্থিত ছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর স্বপ্ন এবং সাহাবীদের সংগে তার পরামর্শ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর স্বপ্ন এবং সাহাবীদের সংগে তার পরামর্শ


বর্ণনাকারী বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) কুরায়শদের অবস্থা শুনলেন, আর মুসলমানরা তাদের স্থানে অবতরণ করলেন, তখন তিনি মুসলমানদের লক্ষ্য করে বললেন: আল্লাহর কসম! আমি একটি আজব স্বপ্ন দেখেছি। আমি একটি গাভী দেখলাম, আর দেখলাম আমার তরবারির ধারে ভঙ্গুরতা পড়ে গেছে, আর দেখলাম আমার হাত একটি মজবুত লৌহবর্মে ঢুকিয়ে দিয়েছি। আমার ধারণা, এর দ্বারা মদীনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমাকে কতক জ্ঞানী ব্যক্তি একথা শুনিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন : رایت بقراً لى تذبح অর্থাৎ আমি দেখলাম, আমার কিছু গাভী যবাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও ইরশাদ করেন: গাভী দ্বারা উদ্দেশ্য আমার কিছু সাহাবী, যারা নিহত হবে। আর তরবারিতে করাতের দাঁত দ্বারা উদ্দেশ্য আমার বংশের এক ব্যক্তি, যে নিহত হবে।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: যদি তোমরা মনে কর যে, আমরা মদীনাতে অবস্থান করি, আর কুরায়শরা যেখানে ছাউনি গেড়েছে, তারা সেখানেই থাক; তবে এটা তাদের জন্য খুবই খারাপ হবে, আর তোমাদের জন্য ভাল হবে। কেননা, যদি তারা সেখানেই থাকে, তবে তারা অত্যন্ত ভুল জায়গায় থাকবে। আর যদি তারা মদীনায় এসে আমাদের উপর আক্রমণ করে, তবে আমরা সকলে সেখানে থেকে তাদের বিরুদ্ধে লড়ব। রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনা থেকে বের হওয়া সমীচীন মনে করছিলেন না। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইবন সালূল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে সম্পূর্ণ একমত ছিল। সে জোরালোভাবে মদীনায় অবস্থান করা ও বাইরে বেরিয়ে আক্রমণ না করার প্রতি তাকীদ করছিল। কিন্তু কিছু সংখ্যক মুসলমান যারা বদরে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হননি এবং পরবর্তীতে যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা উহুদ ও অন্যান্য যুদ্ধে শহীদ হওয়ার মর্যাদা দান করেন, তারা জোর দাবি করে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বাইরে বেরিয়ে দুশমনদের সাথে যুদ্ধ করার সুযোগ আমাদেরকে দিন, যাতে তারা এ ধারণা করতে না পারে যে, আমাদের মধ্যে কোন প্রকার কাপুরুষতা ও দুর্বলতা রয়েছে।
আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় (তার কথা খণ্ডন করে) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! মদীনায়ই অবস্থান করুন, তাদের দিকে বের হবেন না। আল্লাহর কসম! যখনই আমরা মদীনা থেকে কোন শত্রুকে লক্ষ্য করে বের হয়েছি, তখনই আমরা পরাভূত হয়েছি। আর যখনই মদীনায় তারা আমাদের উপর চড়াও হয়েছে, তখন তারা পরাস্ত হয়েছে। সুতরাং ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)। কুরায়শদের তাদের অবস্থায় ছেড়ে দিন। যদি তারা স্বস্থানেই ছাউনি গেড়ে বসে থাকে তবে সে স্থান হবে তাদের জন্য নিকৃষ্ট জেলখানা স্বরূপ। আর যদি তারা মদীনায় প্রবেশ করে, তবে পুরুষেরা তাদের সাথে তুমুল মুকাবিলা করবে, আর মহিলা ও শিশুরা ছাদের উপর থেকে তাদের উপর প্রস্তর নিক্ষেপ করবে। আর যদি তারা ফিরে যায়, তবে যেমন এসেছিল তেমনি বিফল হয়ে ফিরে যাবে।
কিন্তু যারা বের হয়ে শত্রুর মুকাবিলা করতে আগ্রহী ছিলেন, তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বারবার আব্দার করতে লাগলেন। ফলে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ঘরে প্রবেশ করলেন এবং লৌহবর্ম পরিধান করে বেরিয়ে আসলেন। এ ঘটনা ঘটেছিল শুক্রবার জুমাআর সালাত আদায়ের পর। ঐ দিনই বনু নাজ্জারের আনসার সাহাবী মালিক ইবন আমর (রা)-এর ইন্তিকাল হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সর্বপ্রথম তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন, তারপর দুশমনদের উপর হামলা করার উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে বেরিয়ে পড়লেন। তখন লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ কষ্ট দেয়ার কারণে লজ্জাবোধ করতে লাগলেন। তারা বলতে লাগলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে অনর্থ কষ্টে ফেলে দিলাম, এটা আমাদের জন্য সমীচীন ছিল না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাঁদের কাছে বেরিয়ে এলেন, তখন তারা আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমরা শুধু শুধু আপনাকে কষ্টে ফেলে দিলাম। এটা আমাদের জন্য মোটেই সমীচীন হয়নি। আপনি ইচ্ছা করলে এখানেই অবস্থান করুন, আপনার যাওয়ার দরকার নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: কোন নবীর জন্য শোভা পায় না একবার লৌহবর্ম পরিধান করার পর যুদ্ধ না করে তা খুলে ফেলা।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুনাফিকদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া

📄 মুনাফিকদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া


মোটকথা, রাসূলুল্লাহ্ (সা) এক হাজার সাহাবীর একটি দল সংগে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। ইবন হিশাম বলেন: এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইবন উম্মু মাকতুমকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: যখন মুসলিম সৈন্যদল মদীনা ও উহুদের মধ্যবর্তী 'শাওত' নামক স্থানে পৌঁছলো, তখন আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় ইব্‌ন সালূল এক-তৃতীয়াংশ লোক নিয়ে ফিরে গেল এবং বলতে লাগল রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের কথা শুনলেন, আমার কথা শুনলেন না। হে লোক সকল! আমার বুঝে আসছে না, এখানে নিজেকে ধ্বংস করার কি অর্থ, মোটকথা সে তার দলের যে সব লোকদের অন্তরে কপটতা ও সংশয় ছিল, তাদেরকে নিয়ে ফিরে গেল।
বনূ সালামার লোক আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইবন হারাম তাঁদের পিছু পিছু গিয়ে বললেন: হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তোমরা তোমাদের নিজ সম্প্রদায় ও নবীকে শত্রুর মুখোমুখি রেখে এভাবে চলে যেও না। জবাবে তারা বলল যদি জানতাম, তোমরা যুদ্ধের সম্মুখীন হবে, তবে তোমাদেরকে শত্রুর হাতে সমর্পণ করতাম না। কিন্তু আমাদের ধারণায় যুদ্ধ ঘটবে না। যখন মুনাফিকরা তাঁর কথা মানল না এবং ফিরে যেতেই চাইলো, তখন তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন: হে আল্লাহ্ দুশমনেরা! আল্লাহ্ তোমাদেরকে নিজ রহমত থেকে দূরে রাখুন। অচিরেই আল্লাহ্ তাঁর নবীকে তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবেন।
ইবন হিশাম বলেন: যিয়াদ ছাড়া সকলেই মুহাম্মদ ইব্‌ন ইসহাক সূত্রে যুহরী থেকে বর্ণনা করেন-যে, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে আনসার সাহাবিগণ বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমরা আমাদের ইয়াহুদী মিত্রদের সাহায্য নিব কি? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমাদের জন্য তাদের সাহায্যের কোন প্রয়োজন নেই।
যিয়াদ বলেন: মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আমার কাছে বলেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) অগ্রসর হয়ে বনু হারিসার হাররা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন একটি কাণ্ড ঘটল যে, জনৈক ব্যক্তির ঘোড়া মাছি তাড়ানোর জন্য সজোরে লেজ নাড়ল, আর তা যেয়ে তার তরবারির কজির উপর পড়লো; ফলে তরবারি খাপ থেকে বেরিয়ে আসলো।
ইবন হিশাম বলেন: অনেকে (سيف كلاب) এর স্থলে (كلاب سيف) বলেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুলক্ষণ নেওয়াকে পছন্দ করতেন, আর কুলক্ষণ নেওয়াকে অপছন্দ করতেন। তিনি তরবারির মালিককে বললেন: তরবারি খাপে ভরে নাও। আমার ধারণা, আজ তরবারি খাপ থেকে বের হবে।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাহাবাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন: কে আছো যে, আমাদেরকে শত্রুর কাছে এমন পথ ধরে নিয়ে যাবে, যা শত্রুর সামনে দিয়ে অতিক্রম করে না। আবু খায়ছামা বনু হারিসা ইবন হারিসের লোক বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমি নিয়ে যাব। এই কথা বলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বনু হারিসার হাররায় নিয়ে চললেন। পথে লোকদের বাগান ইত্যাদির কথাও আলোচনা করলেন। এক সময় তারা মিরবা' ইন্ন ফায়যা-এর বাগানের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সে মুনাফিক ছিল এবং অন্ধ ছিল। সে রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও মুসলমানদের আগমনের কথা অনুভব করে তাদের চেহারার উপর মুঠ ভরে ভরে মাটি ছুড়তে লাগল এবং বলতে লাগল: তুমি যদি আল্লাহর রাসূল হয়ে থাক, তবে তোমার আমার বাগানে আসার অনুমতি নেই। আরো বর্ণিত রয়েছে যে, সে হাতে মাটি নিয়ে বলতে লাগলেন: হে মুহাম্মদ, আল্লাহ্র কসম! যদি আমি জানতে সক্ষম হতাম যে, এই মাটি তুমি ছাড়া আর অন্য কারো চেহারায় লাগবে না, তবে অবশ্যই আমি তা তোমার চেহারার উপর ছুড়ে মারতাম। এ কথা শুনে সকলেই তাকে হত্যা করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সা) গিয়ে বললেন: তাকে হত্যা করো না। সে একই সাথে চক্ষু ও অন্তরের অন্ধ। কিন্তু সা'দ ইব্‌ন যায়দ, বনু আবদুল আশহালের লোক, রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিষেধ করার আগেই তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং ধনুক উঠিয়ে তার মাথায় নিক্ষেপ করে তাকে আহত করে দেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উহুদে শিবির স্থাপন

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উহুদে শিবির স্থাপন


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) অগ্রসর হয়ে উহুদের এক ঘাঁটিতে গিয়ে অবতরণ করলেন। স্থানটি ছিল পাহাড়ের পাশে উপত্যকার উঁচুতে, তিনি উট ও সৈন্য দলকে উহুদ পাহাড়ের দিকে রাখলেন এবং তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তোমাদের কেউ যেন যুদ্ধ না করে, যতক্ষণ না আমি তাকে এর নির্দেশ দেই। তখন কুরায়শরা নিজেদের উট ও ঘোড়া সমগাহ নামক স্থানের ক্ষেতে চরাচ্ছিল, যা মুসলমানদের মালিকানাধীন 'কানাত' উপত্যকার একটি অংশ। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যুদ্ধ করতে নিষেধ করলে জনৈক আনসার সাহাবী (রা) বললেন: বনূ কায়লাহ (অর্থাৎ আওস ও খাযরাজ)-এর ক্ষেতে পশু চরানো হচ্ছে অথচ আমরা এর প্রতিরোধে এখনো তরবারি হাতে নিলাম না।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে আরম্ভ করলেন, তাঁর সংগে তখন সাত শত লোক ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যুবায়র (রা), বনূ আমর ইব্‌ন আওফের লোককে তীরন্দাজদের দলপতি নিযুক্ত করলেন। তিনি তখন সাদা পোশাক পরিহিত ছিলেন। তীরন্দাজদের মোট সংখ্যা ছিল পঞ্চাশ, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন: তোমরা তীর দ্বারা অশ্বারোহীদেরকে প্রতিরোধ করবে, যাতে শত্রুদল পিছন দিক থেকে আমাদের উপর আক্রমণ না করতে পারে। যুদ্ধের পরিস্থিতি আমাদের অনুকূল কিংবা প্রতিকূল যাই হোক না কেন, তোমরা তোমাদের স্থানে অটল থাকবে। তোমাদের ঐ দিক থেকে আমাদের উপর যেন কোন আক্রমণ না হয়। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেদিন দু'টি লৌহবর্ম পরিহিত ছিলেন। তিনি মুস'আব ইবন উমায়ের এর হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করলেন। তিনি ছিলেন বনূ আবদুদ্দারের লোক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00