📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের বিরোধিতা

📄 কুরায়শদের বিরোধিতা


বদরের যুদ্ধে যখন কুরায়শরা পরাজিত হল এবং তাদের পরাজিত দল মক্কায় ফিরে গেল, আর এদিকে আবু সুফিয়ান ইব্‌ন হারব ও তার বাণিজ্যিক কাফিলা নিয়ে মক্কায় ফিরে এল, তখন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ রাবী'আ, ইকরামা ইব্‌ন আবূ জাহল, সাফওয়ান ইব্‌ন উমাইয়া প্রমুখ কুরায়শের আরও কিছু ব্যক্তি, যাদের পিতা-পুত্র কিংবা ভাই বদরের দিন নিহত হয়েছিল, তারা আবু সুফিয়ান ও কুরায়শদের মধ্যে সেই কাফিলায় যাদের বাণিজ্যিক পণ্য ছিল, তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন:
'হে কুরায়শ সম্প্রদায়! মুহাম্মদ তোমাদের শিকড় শুদ্ধ উৎপাটন করে দিয়েছে, তোমাদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে হত্যা করেছে। সুতরাং তোমরা মুহাম্মদ (সা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ধন-সম্পদ দ্বারা আমাদের সাহায্য কর, যাতে আমরা তাদের থেকে আমাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছে, তাদের প্রতিশোধ নিতে পারি। তখন তাদের কথা মত কুরায়শরা তাই করল।
ইন্ন ইসহাক বলেন: কতক আলিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সম্পর্কেই নিম্নোক্ত আয়াতগুলো নাযিল হয়:
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ .
আল্লাহ্র পথ হতে লোককে নিবৃত্ত করার জন্য কাফিররা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে; এরপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে, তারপর তারা পরাভূত হবে এবং যারা কুফরী করে তাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে (৮: ৩৬)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের সংঘবদ্ধ হওয়া প্রসংগে

📄 কুরায়শদের সংঘবদ্ধ হওয়া প্রসংগে


আবু সুফিয়ান এবং বাণিজ্যিক কাফিলার উসকানিতে গোটা কুরায়শ সম্প্রদায় ও তাদের মিত্ররা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে কেবল ঐক্যবদ্ধই হল না বরং কিনানার গোত্রগুলো এবং তিহামার লোকেরা, যারা তাদের অনুগত ছিল, তারাও তাদের সহযোগিতার জন্য তৈরি হল:

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ উয্যা প্রসংগে

📄 আবূ উয্যা প্রসংগে


আবূ উয্যা আমর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ জুমাহী নামে এক ব্যক্তি ছিল, বদর যুদ্ধের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যার উপর অনুগ্রহ করেছিলেন। তার অনেক সন্তান-সন্ততি ছিল এবং সে অভাবী ছিল। সে বদর যুদ্ধে বন্দী হয়েছিল। সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে বলল: আপনি তো জানেন, আমার অনেক সন্তান-সন্ততি এবং আমি একজন অভাবী মানুষ। আপনি আমার উপর অনুগ্রহ করুন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার প্রতি দয়া পরবশ হয়ে, তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সাফওয়ান ইবন উমাইয়া তাকে বললেন: হে আবু উয্যা! তুমি তো কবি। তুমি তোমার কবিতা ও বাকশক্তি দিয়ে আমাদের সাহায্য কর এবং আমাদের সাথে যুদ্ধে চল। সে জবাব দিল: মুহাম্মদ (সা) বদর যুদ্ধে আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন, তাই আমি তাঁর বিরুদ্ধে কোন কিছু করতে প্রস্তুত নই।
তখন সাফওয়ান বললেন: আচ্ছা, সে কথা থাক, তুমি তো নিজের জীবন দিয়ে আমাদের সাহায্য করতে পার। আমি অংগীকার করছি, যদি তুমি নিরাপদে ফিরে আসতে পার, তবে আমি তোমাকে প্রচুর সম্পদ দিয়ে ধনী করে দিব। আর যদি তুমি যুদ্ধে মারা যাও, তবে আমি এ দায়িত্ব নিচ্ছি যে, তোমার মেয়েরা আমার মেয়েদের সাথে জীবন যাপন করবে এবং সুখে-দুঃখে তারা আমার মেয়েদের মতই থাকবে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ উয্যার অংগীকার ভংগ প্রসংগে

📄 আবূ উয্যার অংগীকার ভংগ প্রসংগে


আবূ উয্যা এতে সম্মত হয়ে গেল এবং তিহামার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল। সেখানে পৌঁছে সে বনু কিনানাকে যুদ্ধের জন্য আহবান জানিয়ে এই কবিতা বলল :
إيها بني عبد مناف الرزام * أنتم حماة وابو كم حام
لا تعدوني نصركم بعد العام * لا تسلموني لا يحل إسلام
হে অবিচল যোদ্ধা বনূ আব্দ মানাফ! তোমরা হলে গোত্র মার্যদা সংরক্ষণকারী, যেমন ছিল তোমাদের পিতৃ পুরুষেরা গোত্র মর্যাদা রক্ষাকারী (সুতরাং এ কঠিন পরিস্থিতিতে তোমরা আমাদের সাহায্য কর)।
এ বছরের পর আর আমাদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতির কোন প্রয়োজন নেই।
আমাদের শত্রুর হাতে ছেড়ে দিও না; কেননা, এরূপ করা আদৌ উচিত নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00