📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কা'ব ইব্‌ন আশরাফের নিহত হওয়ার ঘটনা

📄 কা'ব ইব্‌ন আশরাফের নিহত হওয়ার ঘটনা


ইবন ইসহাক বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন কা'ব ইবন আশরাফের ধৃষ্টতা প্রত্যক্ষ করলেন , তখন তিনি বললেন :
কা'ব ইবন আশরাফকে দমন করার জন্য কে প্রস্তুত আছে ? সে তো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে ।
তখন মুহাম্মদ ইবন মাসলামা ইবন সালামা আনসারী ( রা ) দাঁড়ালেন এবং বললেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আপনি কি চান আমি তাকে হত্যা করি ? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : হ্যাঁ । মুহাম্মদ ইবন মাসলামা বললেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! এ জন্য আমাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে । রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : তুমি তা করতে পার ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসারদের অভিসন্ধি

📄 আনসারদের অভিসন্ধি


ইবন ইসহাক বলেন : এরপর মুহাম্মদ ইবন মাসলামা ( রা ) তার দুধ ভাই আবূ নায়েলা সালিক ইবন সালামা আনসারী ( রা ) -এর নিকট উপস্থিত হলেন । তিনি তাকে কা'ব ইবন আশরাফের কাছে তার কথাগুলো বলতে বললেন । আবূ নায়েলা কা'বের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তার সাথে কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনা করলেন । আবূ নায়েলা ছিলেন কা'বের দুধ ভাই । এক সময় তিনি বললেন : এই লোকটির ( অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ) আগমনের পর আমাদের উপর নানা বিপদ-আপদ এসে পড়েছে । আরব জাতি তাকে নানাভাবে প্রতিহত করতে চেষ্টা করছে । আমরাও এখন তার প্রতি বিরক্ত হয়ে গেছি । সে আমাদের উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করছে । তাই এখন আমরা কী করব , ভেবে দেখ ।
কা'ব ইবন আশরাফ বলল : আমাদের তো এখন এ ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে ।
আবূ নায়েলা বললেন : আমরা আমাদের উপর আসা এসব বিপদ-আপদ নিয়ে আলোচনা করার জন্য আপনার নিকট এসেছিলাম । আমাদের কিছু খাদ্য শস্যের প্রয়োজন , যদি আপনার নিকট কিছু থাকে , তা হলে তা দ্বারা আমাদের সাহায্য করতে পারেন ।
কা'ব ইবন আশরাফ বলল : হ্যাঁ , অবশ্যই আমি তোমাদের সাহায্য করব , তবে এজন্য তোমরা আমার নিকট কিছু জামানত রেখে যাও ।
আবূ নায়েলা বললেন : আমাদের নিকট কী জামানত রাখতে বলবেন ?
কা'ব বলল : তোমাদের নারী ।
আবূ নায়েলা বললেন : তোমার নিকট আমাদের নারীদের জামানত রাখব ? তুমি তো আরবের সবচেয়ে রূপবান পুরুষ ।
কা'ব বলল : তা হলে তোমাদের সন্তান ।
আবূ নায়েলা বললেন : আমাদের সন্তানদের তোমার নিকট রেখে যাব ? তারা তো সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকবে । যদি তুমি তাদের মার , তাহলে তারা আমাদের প্রতি অভিসম্পাত করবে । এমন অবস্থায় যখন তারা তোমার কাছে যাবে , তখন তারা তোমাকে গালি দেবে ।
কা'ব বলল : তা হলে তোমাদের নিকট কী জামানত রাখব ?
আবূ নায়েলা বললেন : আমরা তোমার নিকট আমাদের তরবারি রেখে যাব ।
কা'ব বলল : হ্যাঁ , এটাই উপযুক্ত জামানত ।
আবূ নায়েলা কা'বকে জামানত রাখার জন্য তরবারি দিয়ে দিলেন । তাদের উদ্দেশ্য ছিল কা'বের নিকট থেকে তরবারি নিয়ে যাওয়া । আবূ নায়েলা বলেন : তিনি কা'বের নিকট হতে বের হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাকে সব কিছু খুলে বললেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : তোমরা তা কর ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুহায়্যসা ও হুয়াইসার ঘটনা

📄 মুহায়্যসা ও হুয়াইসার ঘটনা


ইবন ইসহাক বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন:
تو مُ ظَفِرْتُمْ بِهِ مِنْ رِجَالٍ يَهُودَ فَاقْتُلُوهُ
তোমরা ইয়াহুদীদের যাকেই পারে, তাকে হত্যা করবে। এ নির্দেশ পেয়ে মুহায়াসা ইব্‌ন মাসউদ, ইব্‌ন সুনায়নার উপর আক্রমণ করেন।
ইবন হিশাম তার নাম মাহীসা বলেছেন। অনেকের মতে মুহায়্যসা ইবন মাসউদ (ইবন কা'ব) ইব্‌ন আমির ইব্‌ন 'আদী ইবন মাজদা'আ ইবন হারিসা ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন খাযরাজ ইব্‌ন আমর ইবন মালিক ইব্‌ন আওস।
ইবন হিশাম আরো বলেন: অনেকে ইব্‌ন সুনায়নার স্থলে ইব্‌ন শুনায়না বলেছেন। ইব্‌ন সুনায়নী ছিল একজন ইয়াহুদী ব্যবসায়ী। তাদের সাথে তার মেলামেশা ও লেনদেন ছিল। মুহায়্যসা (রা) তাকে হত্যা করেন। মুহায়্যসা (রা)-এর ভাই হুয়াইসা তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি এবং তিনি ছিলেন মুহায়্যসা (রা)-এর বড় ভাই। হত্যাকাণ্ডের পর হুয়াইসা (রা) তার ভাইকে মারধর করে বলতে লাগলেন: হে আল্লাহর দুশমন! তুমি তাকে হত্যা করে ফেললে। আল্লাহ্র কসম! তার মাল দ্বারা কিছু হলেও তোমার পেটে চর্বি জন্মেছে। তখন মুহায়্যসা (রা) বলেন, আমি তাকে বললাম : আল্লাহর কসম! তাকে হত্যা করার নির্দেশ আমাকে এমন এক ব্যক্তি দিয়েছেন, যদি তিনি তোমাকেও হত্যা করার নির্দেশ দেন, তবে আমি তোমাকেও হত্যা করে ফেলবো। একথা শুনে প্রথমবারের মত হুয়াইসার অন্তরে ইসলামের প্রতি আসক্তি সৃষ্টি হলো। তখন তিনি বললেন: যদি মুহাম্মদ (সা) তোমাকে আমার হত্যার নির্দেশ দিতেন, তবে কি তুমি আমাকে হত্যা করতে? মুহায়্যসা (রা) বললেন: অবশ্যই! আল্লাহর কসম! যদি তিনি আমাকে তোমার হত্যা করার জন্য নির্দেশ দিতেন, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করতাম। একথা শুনে হুয়াইসা বলেন: আল্লাহ্র কসম! যে দীন তোমাকে এ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে তা নি:সন্দেহে এক বিস্ময়ের বিষয়। এরপর হুয়াইসা ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এ বর্ণনা আমাকে বনু হারিসার জনৈক আযাদকৃত গোলাম শুনিয়েছেন। তিনি তা শুনেছেন মুহায়্যসা (রা)-এর কন্যা থেকে এবং তিনি তা শুনেছেন তাঁর পিতা মুহায়্যসা (রা) থেকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00