📄 বাহরানের ফারআ যুদ্ধ
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কুরায়শের উদ্দেশ্যে যুদ্ধে রওনা হলেন। আর মদীনা শরীফে ইন উন্মু মাকতুম (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করে গেলেন। এ তথ্য ইন হিশামের।
ইবন ইসহাক বলেন: রওনা হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বাহরান পৌঁছলেন। বাহরান হলো ফুরু জনপদের পাশে হিজাজ অঞ্চলের একটি খনি। সেখানে তিনি রবিউস সানী ও জুমাদাল উলা অবস্থান করে মদীনা শরীফে প্রত্যাবর্তন করলেন। সেখানে তিনি কোন প্রকার যুদ্ধের সম্মুখীন হননি।
📄 কা'ব ইব্ন আশরাফের কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন : কা'ব ইবন আশরাফ ছিল বনূ নযীরের ইয়াহুদী । সে ছিল একজন কবি । রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিন্দা করে এবং তার বিরুদ্ধে কুরায়শদেরকে উৎসাহিত করে সে কবিতা রচনা করত । ইয়াহুদী ও কুরায়শদের মধ্যকার সে চুক্তি ভংগ হয়েছিল , সে সম্পর্কে সে কবিতা রচনা করে এবং বদরের যুদ্ধে নিহত কুরায়শদের প্রতি শোক প্রকাশ করে । সে তাঁর কবিতায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে কুরায়শদেরকে উৎসাহিত করতে থাকে । এরপর সে মক্কায় গিয়ে তাদের কাছে কুরায়শদের নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করতে থাকে । এ সম্পর্কে সে কবিতা রচনা করে এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিন্দা করে ।
ইবন হিশাম বলেন : কা'ব ইবন আশরাফ বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পর মক্কায় যায় এবং কুরায়শদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য উৎসাহিত করে । সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিন্দা করে এবং কুরায়শদের নিহতদের জন্য কবিতা রচনা করে ।
তার কয়েকটি কবিতা এখানে উল্লেখ করা হলো :
আমি দেখেছি আল্লাহর পথে যারা নিহত হয়েছে , আর তাদের প্রতি শোক প্রকাশ করা ছাড়া আমাদের কিছুই করণীয় নাই । আমাদের জন্য কোন সম্মান নেই এবং আমাদের জন্য নেই কোন সম্মানজনক ও গৌরবজনক ব্যবস্থা । মক্কার উন্মুক্ত উপত্যকা ও কাবাঘরে তাদের লাশগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে । তাদের মৃত্যু দুঃখ-বেদনার কারণ হয়েছে । সমস্ত ভূমিতে এ মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়ে গেছে ।
আমাদের মধ্য থেকে যারা নিহত হয়েছে , তাদের জন্য আমি কাঁদছি না , কেননা , তারা ছিল সম্মানিত । আমি তো তাদের জন্য কাঁদি , যারা হয়েছে পরাজিত । যারা নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে ।
📄 হুয়াইসার ইসলাম গ্রহণ
তাদেরকে দেওয়া লোকদের মধ্যে ইয়াহুদীদের কা'ব ইবন ইয়াহুযাও ছিল। সে ছিল বনূ কুরায়যার উঁচু মর্যাদাসম্পন্ন একজন। তাকে মুহায়্যসা ইবন মাসউদ (রা) ও আবূ বুরদা ইব্ন নাইয়ার (রা)-এর হাতে সমর্পণ করলেন। আবূ বুরদা (রা) হলো: যাকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) কুরবানীর জন্য এক বছরের বকরী যবাই করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি বললেন:
لِيَضْرِبْهُ مُحَيَّصَةٌ وَلِيُذَفِّفَ عَلَيْهِ أَبُو بُرْدَةَ
মুহায়্যসা তার হত্যাকার্য আরম্ভ করবে এবং আবু বুরদা তা শেষ করবে।
তখন মুহায়্যসা (রা) তার উপর আঘাত করলেন, কিন্তু তাকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে পারলেন না। তখন আবূ বুরদা তার হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করলেন। এ সময় হুয়াইসা যিনি তখন কাফির ছিলেন, নিজ ভাই মুহায়্যসাকে বললেন: তুমি কা'ব ইব্ন ইয়াহুয়াকে হত্যা করলে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, হুয়াইসা বললেন: শোন হে! আল্লাহর কসম! তার সম্পদ দ্বারা তোমার পেটে বেশ কিছু চর্বি জমেছে। হে মুহায়্যসা! তুমি তো একটা অপদার্থ। তখন মুহায়্যসা (রা) তাকে বললেন: তাকে হত্যা করতে আমাকে এমন এক মহান ব্যক্তি নির্দেশ দিয়েছেন, যিনি তোমাকেও হত্যা করার নির্দেশ দিলে, আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করে ফেলব। মুহায়্যসা (রা)-এর এ কথায় তিনি অত্যন্ত অভিভূত হন এবং তার কাছ থেকে বিস্মিত হয়ে ফিরে যান। জনশ্রুতি এই যে, তিনি সারারাত অনিদ্রা অবস্থায় তার ভাইয়ের এ কথায় বিস্ময়বোধ করতে লাগলেন।
এরপর সকালবেলা বললেন আল্লাহ্র কসম! নিঃসন্দেহে এটাই সত্যধর্ম। অবশেষে তিনি নবী (সা)-এর দরবারে হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন। এ সম্পর্কেই মুহায়্যসা (রা) কিছু কবিতা রচনা করেন, যা আমি আগেই বর্ণনা করেছি।
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নাজরান থেকে ফিরে আসার পর, জুমাদাল উখরা, রজব, শাবান ও রমযান মাসে মদীনায় অবস্থান করেন। আর কুরায়শরা তাঁর বিরুদ্ধে তৃতীয় হিজরীর শাওয়াল মাসে উহুদের ময়দানে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
📄 বনূ কায়নুকার ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং শাওয়াল মাস পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন । তারপর বনূ কায়নুকার উপর যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন ।