📄 আবূ সুফিয়ানের কবিতা
ইব্ন ইসহাক বলেন: আবু সুফিয়ান ইবন হারব ফিরার সময় সাল্লাম ইব্ন মিশকামের অতিথির পরায়ণতা সম্পর্কে বলেন,
واني تخيرت المدينة واحدم لخلف فلم أندم ولم أتلوم . سقانی فروانی کمیتـا مــــدامـة على عجل منی سلام بن مشکم ولما تولى الجيش قلت ولم أكن لأفرحه أبشر بعز ومغنم تأمل فان القوم سر وانهم. صريح ليؤى لا شماطيط جرهم . وما كان ألا بعض ليلة راكب أتى شاعيا من غير خلة معدم
আমি মদীনায় মিত্রতার জন্য এক ব্যক্তিকে মনোনীত করলাম, এতে আমি লজ্জিত ও নিন্দিত হইনি।
সাল্লাম ইব্ন মিশকাম আমাকে লাল ও কালো মদ পান করালো, অথচ তখন আমার তাড়াহুড়া ছিল।
যখন তাকে সৈন্যদলের নেতৃত্ব দেয়া হলো। আমি বললাম, সম্মান ও গনীমতের সুসংবাদ গ্রহণ করো। অবশ্য তাকে অনর্থক খুশি করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।
এ কথা ভেবে নিও যে, এরা নির্ভেজাল বংশের লোক। খাঁটি লুআই এর সন্তান। জুরহুমের আজেবাজে লোক নয়।
ইব্ন মিশকামের সাথে আমার সাক্ষাৎ কোন এক আরোহীর রাত্রের সামান্য সময় অবস্থানের মত ছিল যে, নিছক খেতে এসেছে নিঃস্ব ব্যক্তির প্রয়োজন মিটানোর জন্য নয়।
📄 যী-আমরের যুদ্ধ
রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাবীক যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে যিলহাজ্জের অবশিষ্ট দিনগুলো অথবা প্রায় যিলহাজ্জের শেষ পর্যন্ত মদীনা শরীফে অথবা তার কাছাকাছি অবস্থান করেন। এরপর গাতফানের উদ্দেশ্যে নজদ এলাকায় যুদ্ধে রওনা হন। এ যুদ্ধের নাম যী-আমর যুদ্ধ। ইব্ন হিশামের বক্তব্য মতে তিনি মদীনা শরীফে উসমান ইব্ন আফফান (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর তিনি সম্পূর্ণ সফর মাস কিংবা সফরের প্রায় শেষ পর্যন্ত নজদেই অবস্থান করে মদীনা শরীফে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং কোন প্রকার সংঘর্ষের সম্মুখীন হননি। এরপর সম্পূর্ণ রবিউল আউয়াল মাস কিংবা রবিউল আউয়াল শেষ হওয়ার কয়েকদিন পূর্ব পর্যন্ত তিনি মদীনা শরীফে রয়ে গেলেন।
📄 যায়দ ইবন হারিসার বাহিনী
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর যায়দ ইবন হারিসা ( রা ) তাঁর বাহিনীসহ যাতুল-কারাদ নামক স্থানের উদ্দেশে যাত্রা করেন । এ যুদ্ধ ' কারাদার যুদ্ধ ' নামে পরিচিত । এটা বদর যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পরের কথা । যায়দ ইবন হারিসা যখন বাণিজ্যিক কাফেলার সঙ্গে যাতুল-কারাদ নামক স্থানে যান , তখন বনূ সা'লাবা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তাঁর উপর হামলা করে । তার নাম ছিল হিলাল ইবন হারিছ । সে তাঁর বাণিজ্যিক মালামাল লুঠ করে নেয় এবং তাঁর সংগীদেরকে হত্যা করে ।
📄 মায়মূনা বিন্ত আবদুল্লাহ্র কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন : মায়মূনা বিন্ত আবদুল্লাহ্ তাঁর পিতা আবদুল্লাহ্ ইবন মু'আফ্ফালকে হত্যা করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) কর্তৃক ইবন হারিসাকে প্রেরণ ও তাঁর কর্তৃক হিলাল ইবন হারিছকে হত্যা করা সম্পর্কে বলেন :
আমি তোমাকে স্মরণ করছি আর আমার উপর বর্ষিত হচ্ছে অশ্রুধারা । আমার চোখ দু'টি কখনও শুকায় না । অশ্রুধারা আমার মুখমণ্ডল ভাসিয়ে দিচ্ছে । এমন এক বর্ষণমুখর রাতেও আমি তোমাকে স্মরণ করছি ।
তুমি আমাদের নেতা ছিলে , আমাদের আশ্রয়স্থল ছিলে , যখন বর্ষণের ধারা অবিরত বর্ষিত হচ্ছিল , আর শিয়ালগুলো দৌড়াচ্ছিল ।
তুমি ছিলে আমাদের আশ্রয়স্থল যখন বর্ষণ আসতো , যখন আমরা থাকতাম বিপদগ্রস্ত ।
তুমি চলে গেলে আর তোমার জায়গায় তুমি কাউকে রেখে গেলে না । সে স্থান এখনও জনশূন্য । তোমার পরিত্যক্ত সম্পত্তি আমরা আর গ্রহণ করি না । তোমার পরে আর কেউ তার উত্তরাধিকারী হয়নি ।