📄 হিন্দ বিন্ত উতবার কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন: হিন্দ বিন্ত 'উতবা ইব্ন্ন রবী'আ বদরের দিন তার পিতার মৃত্যুতে এই শোকগাথা আবৃত্তি করে:
اعينى جودا بدمع سرب × على خير خندف لم ينقلب
“হে আমার চক্ষুদ্বয়! প্রবাহিত অশ্রু-দ্বারা বনূ খিনদিফের উত্তম ব্যক্তির উপর উদার হও, যে ফিরে আসেনি।
তার দলকে বনু হাশিম আর বনূ আবদুল মুত্তালিব সকালবেলা এজন্য ডেকেছে- যে, তাকে তরবারির ধারের স্বাদ আস্বাদন করাবে এবং তার ধ্বংস হওয়ার পর, পুনরায় তাকে তার এক চুমুক পান করাবে।
তারা তাকে এইভাবে টেনে নিচ্ছিল যে, তার চেহারায় ছিল মাটির ধূলা এবং সে ছিল বিবস্ত্র; এবং তার সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল।
অথচ সে ছিল আমাদের জন্য মযবৃত পাহাড় (আশ্রয়স্থল), সুদর্শন এবং পরম উপকারী। কিন্তু বুরাই নামের ব্যক্তিটির কি অবস্থা ছিল-সেটা আমার জানার ব্যাপার নয়। সে তো এই পরিমাণ কল্যাণ হাসিল করেছিল যা তার প্রতিদানের জন্য যথেষ্ট ছিল।"
হিন্দ এই কবিতাও বলে:
يريب علينا دهرنا فیسوء ناويابي فما ناتي بشئ نغالبه
"আমাদের কাল আমাদের জন্য অশুভ পরিণতি নিয়ে এলে তা আমাদের কাছে খারাপ মনে হয়।
আর সে আমাদের এছাড়া অন্য অবস্থায় রাখতে চায় না; এমতাবস্থায় আমরা কি এমন কোন পন্থা অবলম্বন করতে পারি না, যাতে আমরা তার উপর জয়ী হতে পারি?
লুআঈ ইব্ন গালিবের এমন ব্যক্তিটির নিহত হওয়ার পরও কি কেউ নিজের বা নিজের কোন আপনজনের মৃত্যুতে ভীত হবে?
শোন! একদিন এমনও হয়েছে যে, আমার কাছ থেকে এমন এক দানশীল ব্যক্তিকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার দয়া-দাক্ষিণ্য দিবারাত্রি অব্যাহত ছিল।
হে আবু সুফইয়ান! আমার পক্ষ থেকে মালিককে এই বার্তা পৌঁছে দাও। আর তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে আমিও অচিরেই তার কাছে অভিযোগ করব..
কেননা হারব এমন ব্যক্তি ছিল, যে যুদ্ধকে উদ্দীপ্ত করত। আর ব্যাপার এই যে, প্রত্যেক লোকেরই কোন না কোন অভিভাবক রয়েছে, সে তার কাছেই নিজ দাবি পেশ করে।"
ইব্ন হিশাম বলেন: কোন কোন কবিতা বিশেষজ্ঞ এই কবিতাগুলো হিন্দের রচিত বলে অস্বীকার করেছেন।
📄 হিনদের দ্বিতীয় শোকগাথা
ইবন ইসহাক বলেন: হিন্দ আরও বলে:
الله عينا من راي × هلكاكهلك رجاليه
"যে ব্যক্তির চোখ এমন ধ্বংস দেখেছে, যেমন ধ্বংস আমার লোকদের হয়েছে, আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।'
হে অনেক ক্রন্দনকারী পুরুষ ও ক্রন্দনকারিণী মহিলা! যারা আগামীকাল বিপদে পড়ে আমার জন্যও কাঁদবে, (তোমরা শোন): সেই চীৎকারের দিন সকালে এই কূপ (ভর্তি হওয়ার) দিন কতজন যে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
যারা দুর্ভিক্ষের সময় বর্ষণমুখর মেঘ ছিল, যখন তারকারাশি নিষ্প্রভ হয়ে ডুবে যাচ্ছিল। যে ঘটনা আমি প্রত্যক্ষ করছি, আমি এর-ই আশংকা করছিলাম। আমার আশংকা আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
যে-ঘটনা আমি দেখছি, আমি এর-ই আশংকা করছিলাম। আজ তো আমি পাগল হয়ে গেছি।
হে মহিলারা শোন! তোমরাই তো আগামীকাল বলবে: আফসোস মু'আবিয়ার মায়ের জন্য।"
ইব্ন হিশাম বলেন: কতক কবিতা বিষেশজ্ঞ এই কবিতাগুলো হিন্দ বিনত 'উতবার রচিত বলে স্বীকার করেননি।
📄 সফিয়্যা বিন্ত মুসাফিরের শোকগাথা
ইবন ইসহাক বলেন: সুফিয়্যা বিন্ত মুসাফির ইবন আবূ আমর ইবন উমাইয়া ইবন শাম্দ ইব্ন আব্দ মানাফ কূপে ফেলে দেওয়া ঐসব কুরায়শের মৃত্যুতে এই কবিতা বলে, যাদের উপর বদরের দিন মুসীবত নাযিল হয়েছিল:
يا من لعين قذاها عائر الرمد × حد النهار وقرن الشمس لم يقد
"সেই চোখের ফরিয়াদ শোনার কি কেউ আছে, যার খড়কুটা, দিনের শেষভাগেও চোখের যখম হয়ে দাঁড়িয়েছে; আর তা সূর্যের সামান্য আলোও সহ্য করতে পারেনি। আমি সংবাদ পেয়েছি যে, মৃত্যু সম্ভ্রান্ত সরদারদের বিশেষ সময়ে একত্র করেছে।
আরোহীরা তাদের লোকদের নিয়ে ভেগে গেল, আর সেদিন সকালে কোন মা তার বাচ্চার দিকে ফিরেও তাকায়নি।
হে সুফিয়্যা, উঠ! তাদের আত্মীয়তার কথা ভুলে যেও না। যদি তুমি কাঁদ, তাহলে দূর থেকে কেঁদো না।
তারা ছিল ঘরের ছাদের খুঁটি স্বরূপ, তা ভেঙ্গে গেলে তার উপরের অংশ খুঁটিশূন্য হয়ে গেল।"
ইব্ন হিশাম বলেন: 'তারা ছিল ঘরের ছাদের খুঁটি'-যে কবিতায় রয়েছে, তা আমি কতক কবিতা বিশেষজ্ঞের কাছে পেয়েছি।
ইবন ইসহাক বলেন: সুফিয়্যা বিন্ত মুসাফির আরো বলেছে:
الا يا من لعين للتبكي دمعها فان
"এমন চক্ষু যার অশ্রু নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, তার ফরিয়াদ শোনার কেউ আছে কি? যে চক্ষুর অবস্থা এমন, যেমন কূপ থেকে হাউযে পানি বাহকের দু'টি বালতি, যা বাগান এবং হাউযের মাঝে পানি সরবরাহ করছে। নখর ও দাঁতবিশিষ্ট জঙ্গলের সিংহকে তুমি কি মনে করেছ? সে দু'টি অল্প বয়সী সিংহের বাপ, আক্রমণে পারদর্শী, কঠিন পাকড়াওকারী, অভুক্ত। সে. সিংহ আমার বন্ধুর মত, তার ফিরে আসায় মানুষের চেহারা খুশিতে ঝলমল করে উঠল।
যার হাতে রয়েছে ইস্পাতের তৈরি শুভ্র-শানিত তরবারি। (হে আমার বন্ধু!) তুমি বর্শা দিয়ে মারাত্মক যখম করে দাও, যা থেকে তপ্ত শোণিত প্রবাহিত হয়।"
ইব্ন হিশাম বলেন: কোন কোন বর্ণনায় আছে, শেষোক্ত পাঁচটি পংক্তি প্রথম দুটি পংক্তি থেকে আলাদা।
📄 হিন্দ বিন্ত উসাসার শোকগাথা
ইবন ইসহাক বলেন: হিন্দ বিন্ত উসাসা ইব্ন আব্বাদ ইবন মুত্তালিব, 'উবায়দা ইব্ন হারিস ইবন মুত্তালিবের মৃত্যুতে নিম্নোক্ত শোকগাথা আবৃত্তি করে:
لقد ضمن الصفراء مجد او سوددا × وحلما اصيلا وافر اللب ولعقل
"সফ্রা এলাকাটি বুযুর্গী নেতৃত্ব, উত্তম সহনশীলতা, বিবেক-বুদ্ধির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিজের মধ্যে রেখেছে।
(সে) উবায়দাকে (নিজের মাঝে রেখেছে), সুতরাং মুসাফির মেহমান এবং সেইসব বিধবার জন্য, যারা (তার কাছে) বিপদে এসে থাকত; তুমি তার উপর ক্রন্দন কর; যিনি ছিলেন গাছের একটি ডালার ন্যায়।
আর তুমি তার উপর ক্রন্দন কর সেসব লোকের জন্য, যারা প্রত্যেক শীতের মৌসুমে দুর্ভিক্ষের কারণে আকাশের কিনারা লাল হয়ে যাওয়ার সময় তার কাছে আসত।
...আর তুমি ইয়াতীমদের জন্য ক্রন্দন কর, যখন ঝড়-ঝঞ্ঝা আসত, তখন এরা তার কাছেই আশ্রয় নিত। আর ডেগের নীচে আগুন জ্বালানোর জন্য ক্রন্দন কর, যা দীর্ঘদিন ধরে টগবগ করে ফুটত। যদি আগুন নিভে যেত, তবে তিনি সে আগুনকে মোটা মোটা কাঠের দ্বারা জ্বালিয়ে দিতেন।
(উপরোক্ত আসবাবপত্র) রাতে আগমনকারী বা আপ্যায়নের প্রত্যাশী বা পথ হারিয়ে যাওয়া লোকের জন্য হত, যারা ধীরে ধীরে কুকুরের আওয়ায় শুনে তার কাছে গিয়ে হাযির হত।"
ইবন হিশাম বলেন: অধিকাংশ কবিতা বিশেষজ্ঞ এ কবিতাগুলো হিন্দের রচিত বলে স্বীকৃতি দেননি।