📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবু উসামার কবিতা

📄 আবু উসামার কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: বনূ জুশাম ইব্‌ন মু'আবিয়া গোত্রীয় আবূ উসামা জুশামী বদরের যুদ্ধে নিহতদের জন্য শোকগাথা রচনা করে। তাতে তিনি কুরায়শদের যুদ্ধের জন্য উস্কানী দিয়েছেন:
يا راكباً نحو المدينة عاجلاً * بلغ لؤى إن عرضت وبينا
أن سوف تأتيكم كتائب جمة * فيها الكتائب والرماح وقينها
تدعو كنانة لا لؤى سواها * والخيل تعدوا بالكمأة رهينا
ماذا أردنا منكم إذ قلتم * لا تبرحوا حتى نرى ما فينا
ما إن رأيت ولا سمعت بمثله * يوماً أعق وأنكد الملقينا
كانت منايانا عواناً فيكم * ومناياكم بدراً لقتنا حينا
لما التقينا أدركت أوتارها * منا وقابل جمعنا المسنونا
يا لهف أمى من بيوت منكم * كانت سواعاً دونها تهدينا

ইবন ইসহাক বলেন: বনু মাখযূমের মিত্র আবু উসামা মু'আবিয়া ইব্‌ন যুহায়র ইবন কায়স ইবন হারিস ইবন সা'দ ইব্‌ন যুবায়'আহ ইব্‌ন মাযিন ইব্‌ন আলী ইন্ন জাশশ্ম ইন্ন মু'আবিয়া ইবন হিশামের বর্ণনামতে সে মুশরিক ছিল এবং হুরায়রা ইবন আবূ ওয়াহবের কাছ থেকে অতিক্রম করল, যখন তারা বদরের দিন পরাজিত হচ্ছিল হুবায়রা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল, তখন মু'আবিয়া উঠে লৌহবর্ম ফেলে দিল।...... তাকে উঠিয়ে চলে গেল। ইবন হিশাম বলেন: বদরের সাহাবীগণের সম্পর্কে এই কবিতাগুলো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

ولما ان رأيت القوم خفوا × وقد زالت نعامتهم لنفر

"যখন আমি দেখলাম এরা হালকা হয়ে গিয়েছে এবং পলায়ন করতে করতে তাদের পায়ের পাতা উঠে গিয়েছে।
আর কওমের সরদারকে চিতপাত করে এমনভাবে ছেড়ে দেয়া হয়েছে যে, তাদের উত্তম ব্যক্তিবর্গ দেবদেবীর নামে বলী দেয়া জন্তুর মত পড়ে রয়েছে।
আর নিকটতমরা মৃত্যুর সাথে আপস করে নিয়েছে-আর বদরের দিন মৃত্যু আমাদের বিপক্ষ হয়ে গেল। আমরা পথ থেকে ফিরে যাচ্ছিলাম, তারা আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল, তাদের সংখ্যাধিক্য সমুদ্রের সয়লাবের মত ছিল।
বক্তারা বলল, ইব্‌ন কায়স কে? তখন আমি বিনা গর্বে বললাম, আবু উসামা। (আমি বললাম যে) আমি জুশামী, আমি আমার বংশ পরিচয় পূর্ণ চেষ্টায় বলতে লাগলাম যাতে তারা আমাকে চিনে নেয়।
যদি তুমি কুরায়শের উচ্চ বংশের হয়ে থাক তবে আমি মু'আবিয়া ইন্ন বকর বংশীয়। মালিককে এই বার্তা পৌঁছে দাও যে, শত্রু যখন আমাদের উপর ছেয়ে গেল, তখন হে মালিক! তোমাকে সংবাদ পৌঁছানো হয়নি (যে, আমাদের পরিণতি কি হয়ে গিয়েছিল)।
তুমি তার কাছে পৌঁছলে আমাদের পক্ষ থেকে তাকে সংবাদ পৌঁছে দিও, তার নাম হল হুবায়রা আর সে ইল্ম ও সম্মানের অধিকারী।
সে যখন আমাকে উফায়দ নামক লোকটির কাছে আহবান করল, তখন আমি আক্রমণ করে বসলাম-আর আক্রমণ করতে আমার বুকে কোন প্রকার সংকীর্ণতা অনুভব করলাম না। সন্ধ্যাবেলা, যখন কোন অসহায় আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তির উপর আক্রমণ করা হয় না, আর না তাদের মাঝে কোন নি'য়ামতওয়ালার উপর, আর না শ্বশুরালয়ের আত্মীয়দের উপর। কাজেই হে বনূ লাবী (বনূ লুআঈ)! নিজ ভাইয়ের খবর নাও। আর হে উম্মু আমর! মালিকের খবর নাও।
আমি যদি না হতাম তবে কাল দাগবিশিষ্ট পা-ওয়ালী বাচ্চার মা (তার গোশত খাওয়ার জন্য) তার উপর এসে দাঁড়িয়ে যেত।
যে স্বহস্তে কবরের মাটি সরিয়ে দেয় আর তার চেহারায় যেন পাতিলের দাগ (কালি) লেগে রয়েছে।
সুতরাং আমি সেই মহান সত্তার কসম খাচ্ছি যিনি আমাকে লালন-পালন করে আসছেন এবং ঐসব দেবদেবীর কসম খাচ্ছি যেগুলো জামরার কাছে (বলী দেওয়া জন্তুর) রক্তে রঞ্জিত। অচিরেই যখন (পোশাক পরিবর্তন বা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের কারণে লোকদের) চামড়া চিতাবাঘের ন্যায় হয়ে যাবে, তখন তুমি দেখতে পাবে আমার ভদ্র ব্যবহার কেমন।

'তারজ' এলাকার জঙ্গলের কোন সাহসী সিংহ শক্ত ঘন জঙ্গলে সন্তান রাখার নয়। সে কুলাফ (এলাকার) জঙ্গলের এতটুকু সংরক্ষণ করেছে যে, কেউ তালাশ করে তার কাছেও যেতে পারবে না।
বালুকাময় পথে এমন লোকও অপারগ হয়ে যায় যারা অঙ্গীকার ও কসমের মাধ্যমে একে অপরের সাহায্য করা স্বীকার করে নিয়েছে। যারা যে কোন হুমকি সত্ত্বেও আক্রমণ করে। যে আমার থেকেও অনেক দ্রুত আক্রমণকারী, যখন আমি উত্তেজিত উট নিয়ে তার কাছে পৌঁছলাম। বর্ষার ন্যায় তীর দ্বারা যার অগ্রভাগ যেন অগ্নিশিখা।
কাল পিঠবিশিষ্ট ঢেকে ফেলে এমন' ঢাল দ্বারা, যা বলদের চামড়া নির্মিত আর হলুদ রংয়ে রঞ্জিত (যখন তার উপর তীর পড়ে) আর অত্যন্ত মযবৃত ছিল। শুত্র কূপের পানির ন্যায় তরবারি দ্বারা যার উপর 'ওমায়ের' শান দেওয়ার যন্ত্র দ্বারা অর্ধমাস তাতে মেহনত করেছিল।
এই তরবারিকে বহন করে আমি এমন দম্ভের সাথে বিচরণ করছিলাম যেমন বড় একটি সিংহ নিজ জঙ্গলে বিচরণ করছে।
আমাকে যুবক সা'দ বলছিল যে, আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চল। তখন আমি বললাম, সম্ভবত এটা বিশ্বাসঘাতকতার ভূমিকা।
আর আমি বললাম, হে আবূ আদী! তাদের প্রাচীরের কাছে যেয়ো না। আজ যদি তুমি আমার কথা মেনে নাও, তবে তো ভাল, অন্যথায়- তাদের ব্যবহার অনেকটা যেন 'ফারওয়াহ'র মত (তোমার সাথেও তাই ঘটবে)। সে যখন তাদের কাছে এলো, পাকানো রশি দ্বারা তার কাঁধ বেঁধে দেয়া হল।

ইবন হিশাম বলেন: আবূ মিহরাজ খালাফ আমাকে এ কবিতাটি এভাবে শুনিয়েছেন:

نصد عن الطريق وادركونا * كان سراعهم تيار بحر

"আমরা পথ থেকে ফিরে যাচ্ছিলাম আর তারা আমাদেরকে পেয়ে বসল, তাদের এমন দ্রুতগতি ছিল যেন সমুদ্রের বড় তরঙ্গ।"

আর তার বক্তব্য ইন্ন ইসহাক ছাড়া অন্য কারো থেকে বর্ণিত। ইবন ইসহাক বলেন: আবূ উসামা এও বলেছে:

الا من مبلغ على رسولا × مغلغله يثبتها لطيف

"কেউ আছে কি-যে আমার পথ থেকে এক হৈ চৈ সৃষ্টিকারী পয়গাম পৌঁছে দেবে যার সত্যাসত্য নির্ণয় করবে বিচক্ষণ কোন ব্যক্তি।
বদরের দিন আমার মুকাবিলার খবর কি তুমি পাওনি? অথচ তোমার উভয় দিকে (এমন) হাত (যাতে তরবারি) ঝলমল করছিল। অথচ কওমের সরদার এমনভাবে ধরাশায়ী হয়ে পড়েছিল যে, তার মস্তকটি যেন ভাঙ্গা হাঞ্জল ফল।

অথচ কওমের বিরোধিতার কারণে বদর উপত্যকায় তোমার উপর বিভিন্ন বিপদ এসে পড়েছিল।
সেই বিপদগুলো থেকে আমার দৃঢ়তা, সুদৃঢ় তদবীর আর আল্লাহর সাহায্য তাকে বাঁচিয়ে নিয়েছে।
আর 'আবওয়া' নামক জায়গায় আমার একা ফিরে আসায় তাকে বাঁচিয়ে নিয়েছে। যখন তোমার কাছে শত্রুদল দাঁড়িয়েছিল।
আর যে তোমার ইচ্ছা করেছিল (তোমার উপর আক্রমণ করতে চেয়েছিল) তুমি তার মুকাবিলার অপারগ আর 'কুরাশ' এলাকায় আহত, রক্তঝরা অবস্থায় পড়েছিলে।
আর আমার কোন কঠিন মুহূর্তে আমার কোন অসহায় বন্ধু যদি থাকত।
আর এমন সময় কোন ভাই না মিত্র নিজ আওয়ায আমাকে শুনতে দিত, যদিও আমার জীবন আমার কাছে অনেক প্রিয়।
কিন্তু আমি (তার ডাকে) সাড়া দিতাম, (তার) কঠিন পরিস্থিতির সুরাহা করতাম, আর (নিজেকে তাতে) সঁপে দিতাম। যখন (অন্যদের) ঠোঁট আর নাক সংকুচিত হয়ে যেত।
আর আমি কোন বিপক্ষকে এমন করে দিয়েছি যে, সে নিজ হাতের সাহায্যে খুব কষ্টে উঠত। (তার অবস্থা এমন হয়ে এগিয়েছিল) যেন একটি ভগ্ন ডালা।
যখন লোকেরা পরস্পরে মিলে গেল, তখন আমি (বর্শা দ্বারা) কঠিন হামলা করে তার নিকটে গেলাম যে প্রচুর রক্ত প্রবাহিত করত যে, ফিনকি মেরে তার রগ থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল।
এই ছিল বদরের দিন আমার কৃতিত্ব, আর তার পূর্বে ছিলাম সবার সাথে অমায়িক এবং অপমানজনক কাজ থেকে বিরত।
দুর্দিনে আমি তোমাদের সাহায্যকারী যেমন তোমরা জানতে, আর আমার (আপাদ মস্তক) যুদ্ধে লিপ্ত, আওয়ায সর্বদা থাকে।
আর তোমাদের জন্য রাতের অন্ধকারে লোকের ভীড়ে অগ্রগামী হতে ভীতু নই। কঠিন শীতে আমি (পানিতে) ডুব দেই। যখন কুকুরকে বৃষ্টিজনিত শীত আশ্রয় নিতে বাধ্য করে।

ইব্‌ন হিশাম বলেন: কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় আবু উসামার লাম-অন্ত একটি কাসীদা আমি ছেড়ে দিয়েছি, যাতে প্রথম ও দ্বিতীয় পংক্তি ছাড়া কোথাও বদরের উল্লেখ নেই।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হিন্দ বিন্ত উতবার কবিতা

📄 হিন্দ বিন্ত উতবার কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: হিন্দ বিন্ত 'উতবা ইব্‌ন্ন রবী'আ বদরের দিন তার পিতার মৃত্যুতে এই শোকগাথা আবৃত্তি করে:

اعينى جودا بدمع سرب × على خير خندف لم ينقلب

“হে আমার চক্ষুদ্বয়! প্রবাহিত অশ্রু-দ্বারা বনূ খিনদিফের উত্তম ব্যক্তির উপর উদার হও, যে ফিরে আসেনি।
তার দলকে বনু হাশিম আর বনূ আবদুল মুত্তালিব সকালবেলা এজন্য ডেকেছে- যে, তাকে তরবারির ধারের স্বাদ আস্বাদন করাবে এবং তার ধ্বংস হওয়ার পর, পুনরায় তাকে তার এক চুমুক পান করাবে।
তারা তাকে এইভাবে টেনে নিচ্ছিল যে, তার চেহারায় ছিল মাটির ধূলা এবং সে ছিল বিবস্ত্র; এবং তার সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল।
অথচ সে ছিল আমাদের জন্য মযবৃত পাহাড় (আশ্রয়স্থল), সুদর্শন এবং পরম উপকারী। কিন্তু বুরাই নামের ব্যক্তিটির কি অবস্থা ছিল-সেটা আমার জানার ব্যাপার নয়। সে তো এই পরিমাণ কল্যাণ হাসিল করেছিল যা তার প্রতিদানের জন্য যথেষ্ট ছিল।"

হিন্দ এই কবিতাও বলে:

يريب علينا دهرنا فیسوء ناويابي فما ناتي بشئ نغالبه

"আমাদের কাল আমাদের জন্য অশুভ পরিণতি নিয়ে এলে তা আমাদের কাছে খারাপ মনে হয়।
আর সে আমাদের এছাড়া অন্য অবস্থায় রাখতে চায় না; এমতাবস্থায় আমরা কি এমন কোন পন্থা অবলম্বন করতে পারি না, যাতে আমরা তার উপর জয়ী হতে পারি?
লুআঈ ইব্‌ন গালিবের এমন ব্যক্তিটির নিহত হওয়ার পরও কি কেউ নিজের বা নিজের কোন আপনজনের মৃত্যুতে ভীত হবে?
শোন! একদিন এমনও হয়েছে যে, আমার কাছ থেকে এমন এক দানশীল ব্যক্তিকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার দয়া-দাক্ষিণ্য দিবারাত্রি অব্যাহত ছিল।
হে আবু সুফইয়ান! আমার পক্ষ থেকে মালিককে এই বার্তা পৌঁছে দাও। আর তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে আমিও অচিরেই তার কাছে অভিযোগ করব..
কেননা হারব এমন ব্যক্তি ছিল, যে যুদ্ধকে উদ্দীপ্ত করত। আর ব্যাপার এই যে, প্রত্যেক লোকেরই কোন না কোন অভিভাবক রয়েছে, সে তার কাছেই নিজ দাবি পেশ করে।"

ইব্‌ন হিশাম বলেন: কোন কোন কবিতা বিশেষজ্ঞ এই কবিতাগুলো হিন্দের রচিত বলে অস্বীকার করেছেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হিনদের দ্বিতীয় শোকগাথা

📄 হিনদের দ্বিতীয় শোকগাথা


ইবন ইসহাক বলেন: হিন্দ আরও বলে:

الله عينا من راي × هلكاكهلك رجاليه

"যে ব্যক্তির চোখ এমন ধ্বংস দেখেছে, যেমন ধ্বংস আমার লোকদের হয়েছে, আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।'
হে অনেক ক্রন্দনকারী পুরুষ ও ক্রন্দনকারিণী মহিলা! যারা আগামীকাল বিপদে পড়ে আমার জন্যও কাঁদবে, (তোমরা শোন): সেই চীৎকারের দিন সকালে এই কূপ (ভর্তি হওয়ার) দিন কতজন যে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
যারা দুর্ভিক্ষের সময় বর্ষণমুখর মেঘ ছিল, যখন তারকারাশি নিষ্প্রভ হয়ে ডুবে যাচ্ছিল। যে ঘটনা আমি প্রত্যক্ষ করছি, আমি এর-ই আশংকা করছিলাম। আমার আশংকা আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
যে-ঘটনা আমি দেখছি, আমি এর-ই আশংকা করছিলাম। আজ তো আমি পাগল হয়ে গেছি।
হে মহিলারা শোন! তোমরাই তো আগামীকাল বলবে: আফসোস মু'আবিয়ার মায়ের জন্য।"

ইব্‌ন হিশাম বলেন: কতক কবিতা বিষেশজ্ঞ এই কবিতাগুলো হিন্দ বিনত 'উতবার রচিত বলে স্বীকার করেননি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সফিয়্যা বিন্ত মুসাফিরের শোকগাথা

📄 সফিয়্যা বিন্ত মুসাফিরের শোকগাথা


ইবন ইসহাক বলেন: সুফিয়্যা বিন্ত মুসাফির ইবন আবূ আমর ইবন উমাইয়া ইবন শাম্দ ইব্‌ন আব্দ মানাফ কূপে ফেলে দেওয়া ঐসব কুরায়শের মৃত্যুতে এই কবিতা বলে, যাদের উপর বদরের দিন মুসীবত নাযিল হয়েছিল:

يا من لعين قذاها عائر الرمد × حد النهار وقرن الشمس لم يقد

"সেই চোখের ফরিয়াদ শোনার কি কেউ আছে, যার খড়কুটা, দিনের শেষভাগেও চোখের যখম হয়ে দাঁড়িয়েছে; আর তা সূর্যের সামান্য আলোও সহ্য করতে পারেনি। আমি সংবাদ পেয়েছি যে, মৃত্যু সম্ভ্রান্ত সরদারদের বিশেষ সময়ে একত্র করেছে।

আরোহীরা তাদের লোকদের নিয়ে ভেগে গেল, আর সেদিন সকালে কোন মা তার বাচ্চার দিকে ফিরেও তাকায়নি।
হে সুফিয়্যা, উঠ! তাদের আত্মীয়তার কথা ভুলে যেও না। যদি তুমি কাঁদ, তাহলে দূর থেকে কেঁদো না।
তারা ছিল ঘরের ছাদের খুঁটি স্বরূপ, তা ভেঙ্গে গেলে তার উপরের অংশ খুঁটিশূন্য হয়ে গেল।"

ইব্‌ন হিশাম বলেন: 'তারা ছিল ঘরের ছাদের খুঁটি'-যে কবিতায় রয়েছে, তা আমি কতক কবিতা বিশেষজ্ঞের কাছে পেয়েছি।

ইবন ইসহাক বলেন: সুফিয়্যা বিন্ত মুসাফির আরো বলেছে:

الا يا من لعين للتبكي دمعها فان

"এমন চক্ষু যার অশ্রু নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, তার ফরিয়াদ শোনার কেউ আছে কি? যে চক্ষুর অবস্থা এমন, যেমন কূপ থেকে হাউযে পানি বাহকের দু'টি বালতি, যা বাগান এবং হাউযের মাঝে পানি সরবরাহ করছে। নখর ও দাঁতবিশিষ্ট জঙ্গলের সিংহকে তুমি কি মনে করেছ? সে দু'টি অল্প বয়সী সিংহের বাপ, আক্রমণে পারদর্শী, কঠিন পাকড়াওকারী, অভুক্ত। সে. সিংহ আমার বন্ধুর মত, তার ফিরে আসায় মানুষের চেহারা খুশিতে ঝলমল করে উঠল।

যার হাতে রয়েছে ইস্পাতের তৈরি শুভ্র-শানিত তরবারি। (হে আমার বন্ধু!) তুমি বর্শা দিয়ে মারাত্মক যখম করে দাও, যা থেকে তপ্ত শোণিত প্রবাহিত হয়।"

ইব্‌ন হিশাম বলেন: কোন কোন বর্ণনায় আছে, শেষোক্ত পাঁচটি পংক্তি প্রথম দুটি পংক্তি থেকে আলাদা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00