📄 যুদ্ধের ব্যাপারে মুসলমানদের প্রতি আল্লাহ্র নসীহত
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে মুসলমানদের নসীহত করেছেন, বুঝিয়েছেন এবং যুদ্ধে যে পথ অবলম্বন করা উচিত তা তাঁদের বাতলে দিয়েছেন। আল্লাহ্ বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন কোন দলের সম্মুখীন হবে”—অর্থাৎ আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে— “তখন অবিচলিত থাকবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে”—অর্থাৎ সেই সত্তাকে স্মরণ করবে, যাঁর জন্য তোমরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছ, আর সেই অঙ্গীকার তোমরা পূরণ করবে, যে অঙ্গীকার তোমরা তাঁর সঙ্গে করেছ। এরপর আল্লাহ্ বলেন:
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
“আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে না (যদি কর, তবে তোমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হবে), করলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে; আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।” (৮: ৪৫-৪৬) অর্থাৎ তোমরা যদি এরূপ কর, তবে আমি তোমাদের সাথে রয়েছি। এরপর আল্লাহ্ বলেন:
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ خَرَجُوا مِن دِيَارِهِم بَطَرًا وَرِئَاءَ النَّاسِ
“আর তোমরা তাদের ন্যায় হবে না, যারা দম্ভভরে ও লোক দেখাবার জন্য স্বীয় গৃহ হতে বের হয়েছিল।” (৮:৪৭) অর্থাৎ তোমরা আবু জাহল ও তার সংগীদের মত হবে না, যারা বলেছিল, আমরা বদর পর্যন্ত না পৌঁছে ফিরে যাব না, সেখানে পশু বলি দেব, মদপান করব এবং মেয়েদের দ্বারা গান-বাজনা করাব। আরব বিশ্ব আমাদের এ খবর জানবে। অর্থাৎ তোমাদের কাজ যেন লোক দেখানো এবং প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে না হয়। অনুরূপভাবে কারো কাছ থেকে কিছু অর্জন করার উদ্দেশ্য যেন না হয়, বরং একমাত্র আল্লাহ্র জন্য নিজেদের নিয়্যতকে খালেস করে নেবে এবং তোমাদের যাবতীয় কাজ দীনের সাহায্য ও নবী করীম (সা)-এর সহযোগিতার উদ্দেশ্যে হবে। একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই যাবতীয় কাজ করবে, অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়। এরপর আল্লাহ্ বলেন:
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَّكُمْ
“স্মরণ কর, শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের দৃষ্টিতে শোভন করেছিল এবং বলেছিল, আজ মানুষের মাঝে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হবে না, আমি তোমাদের পাশেই থাকব।” (৮:৪৮)
📄 বদরের বন্দী এবং গনীমতের মাল প্রসঙ্গে
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে শত্রুপক্ষকে বন্দী করে গনীমত হাসিল করার জন্য তাঁর রাসূলের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আর তাঁর পূর্বের কোন নবী শত্রুপক্ষ থেকে গনীমত অর্জন করে তা ভোগ করেন নি। ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আবূ জা'ফর মুহাম্মদ ইব্ন আলী ইবন হুসায়ন বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: আমাকে সাহায্য করা হয়েছে ত্রাসের মাধ্যমে, আর ভূ-পৃষ্ঠকে আমার জন্য সিজদার স্থান ও পবিত্র করা হয়েছে। আর আমাকে ব্যাপক অর্থবোধক কথা দান করা হয়েছে। আর আমার জন্য গনীমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, যা আমার পূর্বের কোন নবীর জন্য হালাল করা হয়নি। আমাকে শাফা'আতে কুরা দান করা হয়েছে। এই পাঁচটি বিষয় আমার পূর্বের কোন নবীকে দেওয়া হয়নি। ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ বলেন:
مَا كَانَ لِنَبِيٍّ (أَي قَبْلَكَ) أَن يَكُونَ لَهُ أَسْرَىٰ (مِنْ عَدُوِّهِ) حَتَّىٰ يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ
“দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর জন্য সংগত ছিল না-আপনার আগে।” (৮: ৬৭) (অর্থাৎ শত্রুদেরকে ব্যাপকভাবে হত্যা করে দেশ থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত।)
تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
“তোমরা কামনা কর পার্থিব সম্পদ।” অর্থাৎ লোকদের বন্দী করে মুক্তিপণ লাভ করার ইচ্ছা কর।
“এবং আল্লাহ্ চান পরলোকের কল্যাণ।” অর্থাৎ তিনি তাদের হত্যার মাধ্যমে ঐ দীনের বিজয় চান, যার বিনিময়ে আখিরাত হাসিল করা যেতে পারে।
📄 মুসলমানদের মধ্যে পরস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রসঙ্গে
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন। মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ধর্মীয় বন্ধন সৃষ্টি করেছেন। তদ্রূপ কাফিরদের মধ্যেও একে অপরের সাথে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন:
إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُن فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ
“যদি তোমরা তা না কর তবে দেশে ফিত্না ও মহা-বিপর্যয় দেখা দেবে।” (৮: ৭৩) অর্থাৎ মু'মিনরা মু'মিনদের ছেড়ে কোন কাফিরের সাথে বন্ধুও স্থাপন করবে না, যদিও সে তার নিকটাত্মীয় হয়। যদি তোমরা তা না কর, তবে দেশে ফিত্না ও মহা-বিপর্যয় দেখা দেবে। অর্থাৎ হক ও বাতিলের মধ্যে সংশয়ের সৃষ্টি হবে এবং মু'মিনকে ছেড়ে কাফিরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করার কারণে যমীনে ফিত্না-ফাসাদের সৃষ্টি হবে।
এরপর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সৃষ্টি করার পর মীরাসকে আত্মীয়েরই হক হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন।