📄 কাফিরদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে কাফিরদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন:
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
“এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে, যতক্ষণ না ফিত্না দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।” (৮: ৩৯)
অর্থাৎ মু'মিনদের দীনে ইলাহী থেকে বিমুখ করার লক্ষ্যে নির্যাতন না করা হয়, আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশ একত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো শরীক না থাকে।
فَإِنِ انْتَهَوا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
“এবং যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা। আর যদি তারা মুখ ফিরায় (আপনার দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে কুফরীর উপর অটল থাকে), তবে জেনে রাখ যে, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক।” (৮: ৩৯-৪০)
যিনি বদরের দিন তাদের সংখ্যা গরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের সাহায্য করেছেন ও জয়ী করেছেন।
نِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ
“কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।” (৮:৪০)
📄 গনীমতের মাল বন্টন প্রসঙ্গে
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে গনীমত বন্টনের পদ্ধতি শিক্ষা দেন। তিনি বলেন:
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُم مِّن شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ إِن كُنتُمْ آمَنتُم بِاللَّهِ وَمَا أَنزَلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“আরও জেনে রাখ যে, যুদ্ধে যা তোমরা লাভ কর তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ্, রাসূলের স্বজনদের, ইয়াতীমদের, দরিদ্রদের এবং পথচারীদের, যদি তোমরা ঈমান রাখ আল্লাহতে এবং তাতে যা আমি আমার বান্দার প্রতি মীমাংসার দিন অবতীর্ণ করেছিলাম, যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল এবং আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।” (৮: ৪১) অর্থাৎ যেদিন আমি নিজ কুদরতে হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছিলাম, যেদিন তোমাদের এবং তাদের দল মুখোমুখি হয়েছিল।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহ প্রসঙ্গে
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি নিজ অনুগ্রহ এবং তাঁর জন্য নিজ সূক্ষ্ম কৌশলের কথা বর্ণনা করে বলেন:
إِذْ يُرِيكَهُمُ اللَّهُ فِي مَنَامِكَ قَلِيلًا وَلَوْ أَرَاكَهُمْ كَثِيرًا لَّفَشِلْتُمْ وَلَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ سَلَّمَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
“স্মরণ করুন, আল্লাহ্ আপনাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে, তারা সংখ্যায় অল্প, যদি আপনাকে দেখাতেন যে, তারা সংখ্যায় অধিক, তবে তোমরা সাহস হারাতে এবং যুদ্ধ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ্ তোমাদের রক্ষা করেছেন এবং অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে তিনি বিশেষভাবে অবহিত।” (৮:৪৩)
অর্থাৎ আল্লাহ্ আপনাকে এ সম্পর্কে যা কিছু দেখিয়েছেন, এতে আপনার সাহাবীদের জন্য আল্লাহ্র তরফ থেকে এক বিরাট নি'য়ামত ছিল। যার মাধ্যমে তিনি তাদের শত্রুদের মুকাবিলায় সাহসী করে তোলেন এবং এভাবে তিনি তাদের থেকে দুর্বলতা দূর করে দেন, যার আশংকা আপনি তাদের ব্যাপারে করছিলেন। কেননা তাদের মধ্যে যে শক্তি সুপ্ত ছিল, তা তাঁর জানা ছিল।
📄 যুদ্ধের ব্যাপারে মুসলমানদের প্রতি আল্লাহ্র নসীহত
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে মুসলমানদের নসীহত করেছেন, বুঝিয়েছেন এবং যুদ্ধে যে পথ অবলম্বন করা উচিত তা তাঁদের বাতলে দিয়েছেন। আল্লাহ্ বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন কোন দলের সম্মুখীন হবে”—অর্থাৎ আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে— “তখন অবিচলিত থাকবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে”—অর্থাৎ সেই সত্তাকে স্মরণ করবে, যাঁর জন্য তোমরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছ, আর সেই অঙ্গীকার তোমরা পূরণ করবে, যে অঙ্গীকার তোমরা তাঁর সঙ্গে করেছ। এরপর আল্লাহ্ বলেন:
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
“আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে না (যদি কর, তবে তোমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হবে), করলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে; আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।” (৮: ৪৫-৪৬) অর্থাৎ তোমরা যদি এরূপ কর, তবে আমি তোমাদের সাথে রয়েছি। এরপর আল্লাহ্ বলেন:
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ خَرَجُوا مِن دِيَارِهِم بَطَرًا وَرِئَاءَ النَّاسِ
“আর তোমরা তাদের ন্যায় হবে না, যারা দম্ভভরে ও লোক দেখাবার জন্য স্বীয় গৃহ হতে বের হয়েছিল।” (৮:৪৭) অর্থাৎ তোমরা আবু জাহল ও তার সংগীদের মত হবে না, যারা বলেছিল, আমরা বদর পর্যন্ত না পৌঁছে ফিরে যাব না, সেখানে পশু বলি দেব, মদপান করব এবং মেয়েদের দ্বারা গান-বাজনা করাব। আরব বিশ্ব আমাদের এ খবর জানবে। অর্থাৎ তোমাদের কাজ যেন লোক দেখানো এবং প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে না হয়। অনুরূপভাবে কারো কাছ থেকে কিছু অর্জন করার উদ্দেশ্য যেন না হয়, বরং একমাত্র আল্লাহ্র জন্য নিজেদের নিয়্যতকে খালেস করে নেবে এবং তোমাদের যাবতীয় কাজ দীনের সাহায্য ও নবী করীম (সা)-এর সহযোগিতার উদ্দেশ্যে হবে। একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই যাবতীয় কাজ করবে, অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়। এরপর আল্লাহ্ বলেন:
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَّكُمْ
“স্মরণ কর, শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের দৃষ্টিতে শোভন করেছিল এবং বলেছিল, আজ মানুষের মাঝে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হবে না, আমি তোমাদের পাশেই থাকব।” (৮:৪৮)