📄 যারা আবু সুফইয়ানকে সাহায্য করেছিল তাদের প্রসঙ্গে
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيَنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ - وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ .
"আল্লাহ্র পথ হতে লোককে নিবৃত্ত করার জন্য কাফিররা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে; এরপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে, তারপর তারা পরাভূত হবে এবং যারা কুফরী করে, তাদের জাহান্নামে একত্র করা হবে।" (৮: ৩৬)
অর্থাৎ যে দলটি আবূ সুফইয়ানের কাছে গেল এবং সেইসব কুরায়শের কাছে গেল, যাদের সেই ব্যবসায়ে পণ্য সামগ্রী ছিল, তারা তাদের কাছে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আর্থিক সাহায্য চাইল, তখন তারাও তাই করল।
📄 কাফিরদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে কাফিরদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন:
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
“এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে, যতক্ষণ না ফিত্না দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।” (৮: ৩৯)
অর্থাৎ মু'মিনদের দীনে ইলাহী থেকে বিমুখ করার লক্ষ্যে নির্যাতন না করা হয়, আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশ একত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো শরীক না থাকে।
فَإِنِ انْتَهَوا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
“এবং যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা। আর যদি তারা মুখ ফিরায় (আপনার দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে কুফরীর উপর অটল থাকে), তবে জেনে রাখ যে, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক।” (৮: ৩৯-৪০)
যিনি বদরের দিন তাদের সংখ্যা গরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের সাহায্য করেছেন ও জয়ী করেছেন।
نِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ
“কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।” (৮:৪০)
📄 গনীমতের মাল বন্টন প্রসঙ্গে
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে গনীমত বন্টনের পদ্ধতি শিক্ষা দেন। তিনি বলেন:
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُم مِّن شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ إِن كُنتُمْ آمَنتُم بِاللَّهِ وَمَا أَنزَلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“আরও জেনে রাখ যে, যুদ্ধে যা তোমরা লাভ কর তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ্, রাসূলের স্বজনদের, ইয়াতীমদের, দরিদ্রদের এবং পথচারীদের, যদি তোমরা ঈমান রাখ আল্লাহতে এবং তাতে যা আমি আমার বান্দার প্রতি মীমাংসার দিন অবতীর্ণ করেছিলাম, যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল এবং আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।” (৮: ৪১) অর্থাৎ যেদিন আমি নিজ কুদরতে হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছিলাম, যেদিন তোমাদের এবং তাদের দল মুখোমুখি হয়েছিল।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহ প্রসঙ্গে
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি নিজ অনুগ্রহ এবং তাঁর জন্য নিজ সূক্ষ্ম কৌশলের কথা বর্ণনা করে বলেন:
إِذْ يُرِيكَهُمُ اللَّهُ فِي مَنَامِكَ قَلِيلًا وَلَوْ أَرَاكَهُمْ كَثِيرًا لَّفَشِلْتُمْ وَلَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ سَلَّمَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
“স্মরণ করুন, আল্লাহ্ আপনাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে, তারা সংখ্যায় অল্প, যদি আপনাকে দেখাতেন যে, তারা সংখ্যায় অধিক, তবে তোমরা সাহস হারাতে এবং যুদ্ধ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ্ তোমাদের রক্ষা করেছেন এবং অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে তিনি বিশেষভাবে অবহিত।” (৮:৪৩)
অর্থাৎ আল্লাহ্ আপনাকে এ সম্পর্কে যা কিছু দেখিয়েছেন, এতে আপনার সাহাবীদের জন্য আল্লাহ্র তরফ থেকে এক বিরাট নি'য়ামত ছিল। যার মাধ্যমে তিনি তাদের শত্রুদের মুকাবিলায় সাহসী করে তোলেন এবং এভাবে তিনি তাদের থেকে দুর্বলতা দূর করে দেন, যার আশংকা আপনি তাদের ব্যাপারে করছিলেন। কেননা তাদের মধ্যে যে শক্তি সুপ্ত ছিল, তা তাঁর জানা ছিল।