📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের মূর্খতা প্রসঙ্গে

📄 কুরায়শদের মূর্খতা প্রসঙ্গে


وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ
"তারা ষড়যন্ত্র করে এবং আল্লাহ্ও কৌশল করেন, আর আল্লাহই কৌশলীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।" (৮: ৩০)
অর্থাৎ আমি তাদের বিরুদ্ধে এমন সুন্দর ব্যবস্থা করলাম যে, আপনাকে তাদের থেকে মুক্ত করে দিলাম।
এরপর আল্লাহ্ কুরায়শদের মূর্খতার কথা এবং তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে দু'আ করার কথা উল্লেখ করে বলেন:
وَاذْ قَالُوا اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِكَ فَامْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِّنَ السَّمَاءِ
"স্মরণ কর, যখন তারা বলেছিল, 'হে আল্লাহ্! তা [যা মুহাম্মদ (সা) নিয়ে এসেছেন] যদি তোমার পক্ষ হতে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ কর।" অর্থাৎ যেমন তুমি ইতিপূর্বে কওমে লূতের উপর বর্ষণ করেছিলে,
أو ائْتِنَا بِعَذَاب اليم
"কিংবা আমাদের মর্মন্তুদ শাস্তি দাও।"
অর্থাৎ আমাদের উপর এমন কোন আযাব দাও, যা ইতিপূর্বে কাওমসমূহকে দিয়েছিলে। আর তারা বলল: আমরা আল্লাহ্র কাছে মাগফিরাত করতে থাকলে, তিনি আমাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না। কোন উম্মতের মাঝে তাদের নবী বর্তমান থাকাকালীন আল্লাহ্ তাদের উপর আযাব নাযিল করেন নি-যতক্ষণ না তাদের মাঝ থেকে তাঁকে সরিয়ে নিয়েছেন। এ কথা তারা তখন বলেছিল, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। আল্লাহ্ তাঁর নবীকে জানিয়ে দিচ্ছেন তাদের মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতার কথা এবং নিজেদের বিরুদ্ধে দু'আ করার কথা এবং সেই সাথে তাদের মন্দ আমলের পরিণতির কথা:
وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبُهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ -
“এবং আল্লাহ্ এমন নন যে, তাদের মাঝে আপনার বর্তমান থাকা সত্ত্বেও তাদের আযাব দেবেন এবং আল্লাহ্ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দেবেন।” (৮: ৩৩)
অর্থাৎ তাদের সে কথার দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, তারা বলত: আমরা মাগফিরাত কামনা করছি, আর মুহাম্মদ (সা)-ও আমাদের মাঝে আছেন।
এরপর আল্লাহ্ বলেন : وَمَا لَهُمْ أَلا يُعَذِّبُهُمُ اللَّهُ “এবং তাদের কীবা বলবার আছে যে, আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দেবেন না।"
(যদিও আপনি তাদের মাঝে উপস্থিত রয়েছেন এবং যদিও তারা ইস্তিগফার করছে, যেমন তারা বলে)।
وَهُمْ يُصَدُونَ عَنِ الْمَسْجِد الْحَرَامِ
"যখন তারা লোকদের মাসজিদুল হারাম হতে নিবৃত্ত করে?” অর্থাৎ আপনি ও আপনার অনুসারীদের।
وَمَا كَانُوا أَوْلِيَاءَ إِنْ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَّا الْمُتَّقُونَ -
"aunque তারা এর তত্ত্বাবধায়ক নয়, মুত্তাকীগণই এর তত্ত্বাবধায়ক।"
হারাম শরীফের যথাযথ সম্মান করে এবং এর কাছে উত্তমরূপে সালাত আদায় করে অর্থাৎ আপনি এবং যারা আপনার উপর ঈমান এনেছে।
ولكنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ - وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلا مُكَاءً وَتَصْدِيَةٌ
"কিন্তু তাদের অধিকাংশ এটা অবগত নয়। কা'বাগৃহের নিকট শুধু শিস ও করতালি দেওয়াই তাদের সালাত।” (৮: ৩৪)
অর্থাৎ যে সম্মানিত ঘর সম্পর্কে তাদেরও দাবি যে, তার কারণে নিরাপত্তা লাভ হয়।
ইবন হিশাম বলেন: مكاء অর্থ বাঁশী, تصدية অর্থ হাততালি দেওয়া।
আনতারা ইবন Amr (ইবন শাদ্দাদ) আব্বাসী বলেন:
"আর আমি কতক বিপক্ষকে এমনভাবে ধরাশায়ী করেছি যে, তাদের কণ্ঠনালি থেকে ঠোঁট-কাটা উটের মত শব্দ বের হচ্ছিল।"
অর্থাৎ বর্শার আঘাতে ক্ষতস্থান হতে বাঁশীর আওয়াযের মত রক্ত বের হওয়ার আওয়ায। এ পংক্তিটি তার একটি দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ।
তিরমাহ ইব্‌ন হাকীম তাঈ বলেন:
"যখনই সে (জংলী বকরী) 'শামام' নামক পাহাড়ের চূড়ায় বিচরণ করে, তখন সে মাঝে মাঝে শব্দ করে এবং কোন কোন সময় চুপ থাকে।"
এ লাইনটি তার একটি দীর্ঘ কবিতার অংশবেিশষ। অর্থাৎ যখন সে বকরী বিচরণের সময় পাথরের উপর সজোরে পা নিক্ষেপ করে এবং পরে থেমে যায়, তখন তার পায়ের শব্দ তোমার কাছে হাতের তালির মত মনে হবে।
ইবন ইসহাক বলেন: তাদের এ কাজে না আল্লাহ্ সন্তুষ্ট, না তা তাঁর কাছে পসন্দনীয়; আর না তিনি এ কাজ তাদের উপর ফরয করেছেন, না তাদের তা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ
"সুতরাং কুফরীর জন্য তোমরা শাস্তি ভোগ কর।" (৮: ৩৫) অর্থাৎ বদরের দিন তাদের উপর নিহত হওয়ার যে শাস্তি আপতিত হয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সূরা মুয্যাম্মিল ও বদর যুদ্ধের মধ্যে সময়ের ব্যবধান

📄 সূরা মুয্যাম্মিল ও বদর যুদ্ধের মধ্যে সময়ের ব্যবধান


ইবন ইসহাক বলেন: আমাকে ইয়াহইয়া ইব্‌ন আব্বাদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যুবায়র তার পিতার সূত্রে বলেছেন যে, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা) বলেন: أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُঢ় এবং এই সূরার নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হওয়ার পরপরই কুরায়শদের উপর আল্লাহর তরফ থেকে বদরে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। আয়াতটি হল: وَذَرْنِي وَالْمُكَذِّبِينَ أُولِى النَّعْمَةِ وَمَهْلَهُمْ قَلِيلاً - إِنَّ لَدَيْنَا أَنْكَالاً و جَحِيمًا - وَطَعَامًا ذَاغُصَّةٍ وعَذَابًا اليما
"ছেড়ে দাও আমাকে এবং বিলাস সামগ্রীর অধিকারী সত্য প্রত্যাখানকারীদের, আর কিছুকালের জন্য তাদের অবকাশ দাও, আমার নিকট আছে শৃংখল, প্রজ্জ্বলিত আগুন, আর আছে এমন খাদ্য, যা গলায় আটকে যায় এবং মর্মন্তুদ শাস্তি।" (৭৩: ১১-১৩)
ইন হিশام বলেন: انكال হল نكل -এর বহুবচন, অর্থ কড়া শৃংখল। রূবা ইব্‌ন আজ্জাজ বলেন: "অবাধ্যতার জন্য আমার শৃংখল তোমার জন্য যথেষ্ট।" এ লাইনটি তার একটি দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যারা আবু সুফইয়ানকে সাহায্য করেছিল তাদের প্রসঙ্গে

📄 যারা আবু সুফইয়ানকে সাহায্য করেছিল তাদের প্রসঙ্গে


ইবন ইসহাক বলেন: এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيَنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ - وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ .
"আল্লাহ্র পথ হতে লোককে নিবৃত্ত করার জন্য কাফিররা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে; এরপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে, তারপর তারা পরাভূত হবে এবং যারা কুফরী করে, তাদের জাহান্নামে একত্র করা হবে।" (৮: ৩৬)
অর্থাৎ যে দলটি আবূ সুফইয়ানের কাছে গেল এবং সেইসব কুরায়শের কাছে গেল, যাদের সেই ব্যবসায়ে পণ্য সামগ্রী ছিল, তারা তাদের কাছে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আর্থিক সাহায্য চাইল, তখন তারাও তাই করল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কাফিরদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ

📄 কাফিরদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ


ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আনফালে কাফিরদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন:

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ

“এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে, যতক্ষণ না ফিত্না দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।” (৮: ৩৯)

অর্থাৎ মু'মিনদের দীনে ইলাহী থেকে বিমুখ করার লক্ষ্যে নির্যাতন না করা হয়, আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশ একত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো শরীক না থাকে।

فَإِنِ انْتَهَوا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

“এবং যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা। আর যদি তারা মুখ ফিরায় (আপনার দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে কুফরীর উপর অটল থাকে), তবে জেনে রাখ যে, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক।” (৮: ৩৯-৪০)

যিনি বদরের দিন তাদের সংখ্যা গরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের সাহায্য করেছেন ও জয়ী করেছেন।

نِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ

“কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।” (৮:৪০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00