📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সূরা আনফাল অবতরণ

📄 সূরা আনফাল অবতরণ


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 গনীমতের মাল বন্টন সম্পর্কে যা নাযিল হয়

📄 গনীমতের মাল বন্টন সম্পর্কে যা নাযিল হয়


ইবন ইসহাক বলেন: যখন বদর যুদ্ধ শেষ হল, তখন এ সম্পর্কে আল্লাহ্ সম্পূর্ণ সূরা আনফাল নাযিল করেন। গনীমতের মাল নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়, সে সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়:
يَسْتَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ قُلِ الْأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ فَاتَّقُوا اللهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ -
"লোকে আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে, আপনি বলুন, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ্ এবং রাসূলের; সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। যদি তোমরা মু'মিন হও।" (৮: ১)
আমার কাছে যে তথ্য পৌছেছে, তা হল এই যে, উবাদা ইব্‌ন সামিত (রা)-কে সূরা আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন এ সূরাটি আমাদের বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। বদরের দিন যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিয়ে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিল এবং তা জটিল আকার ধারণ করল, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তা আমাদের হাত থেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাতে অর্পণ করলেন এবং তিনি তা আমাদের মাঝে সমানভাবে বন্টন করে দেন। আর এর মধ্যেই নিহিত ছিল আল্লাহর ভয় ও আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য, সেই সাথে পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের মুকাবিলা করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে সাহাবীদের বের-হওয়া সম্পর্কে যা নাযিল হয়

📄 কুরায়শদের মুকাবিলা করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে সাহাবীদের বের-হওয়া সম্পর্কে যা নাযিল হয়


এরপর তাদের অবস্থা এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে তাদের এই সময় বের হওয়ার কথা আল্লাহ্ উল্লেখ করেন, যখন তাঁরা জানতে পারলেন যে, কুরায়শরা তাঁদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছে, কিন্তু তাঁরা তো নিছক কাফেলার আশায়, গনীমতের মোহে বেরিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন:
كَمَا أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ لَكُرِهُونَ - يُجَادِلُونَكَ فِي الْحَقِّ بَعْدَ مَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُوْنَ إِلَى الْمَوْتِ وَهُمْ يَنْظُرُونَ -
"এটা এরূপ, যেমন আপনার প্রতিপালক আপনাকে ন্যায়ভাবে আপনার ঘর থেকে বের করেছিলেন অথচ বিশ্বাসীদের একদল এটা পসন্দ করেনি। সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরও তারা আপনার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয়; মনে হচ্ছিল তারা যেন মৃত্যুর দিকে চালিত হচ্ছে, আর তারা যেন তা প্রত্যক্ষ করছে।" (৮: ৫-৬)
অর্থাৎ যখন তাদের সামনে উল্লেখ করা হল যে, কুরায়শরা রওয়ানা হয়েছে, তখন তাদের সাথে মুকাবিলা করার ইচ্ছা না থাকার কারণে এবং কুরায়শদের রওয়ানা হওয়ার সংবাদ স্বীকার না করার কারণে, তাঁদের মধ্যে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।
وَإِذْ يَعِدُكُمُ اللهُ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ أَنَّهَا لَكُمْ وَتَوَدُّوْنَ أَنَّ غَيْرَ ذَاتِ الشَّوْكَةِ تَكُونُ لَكُمْ -
"স্মরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেন যে, দুই দলের একদল তোমাদের আয়ত্তাধীন হবে; অথচ তোমরা চাচ্ছিলে যে, নিরস্ত্র দলটি তোমাদের আয়ত্তাধীন হোক।" (৮: ৭)
অর্থাৎ বিনাযুদ্ধে গনীমত লাভ হোক।
وَيُرِيدُ اللهُ أَنْ يُحقِّ الْحَقِّ بِكَلِمَتِهِ وَيَقْطَعُ دَابِرَ الْكَفِرِينَ -
"আর আল্লাহ্ চাচ্ছিলেন যে, তিনি সত্যকে তাঁর বাণী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং কাফিরদের নির্মূল করেন।" অর্থাৎ বদর যুদ্ধের দিন কুরায়শ নেতাদের উপর যে বিপদ আপতিত হয়েছিল, এর মাধ্যমে।
اذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ
"স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে।"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুসলমানদের সুসংবাদ ও উৎসাহ প্রদান সম্পর্কে যা নাযিল হয়

📄 মুসলমানদের সুসংবাদ ও উৎসাহ প্রদান সম্পর্কে যা নাযিল হয়


অর্থাৎ যখন তাঁরা শত্রুপক্ষের সংখ্যাধিক্য এবং নিজেদের সংখ্যালঘুতা লক্ষ্য করে আল্লাহর কাছে দু'আ করেছিলেন।
فَاسْتَجَابَ لَكُمْ
“তখন তিনি তা কবুল করেছিলেন." অর্থাৎ তিনি তোমাদের ও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ কবুল করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন : اَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلْئِكَةِ مُرْدَفِيْنَ এবং বলেছিলেন, “আমি তোমাদের সাহায্য করব এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা, যারা একের পর এক আসবে." (৮ : ৯)
اذْ يُغَشِّيْكُمُ النُّعَاسَ اَمَنَةً مِّنْهُ
"স্মরণ কর, তিনি তাঁর পক্ষ হতে স্বস্তির জন্য তোমাদের তন্দ্রায় আছন্ন করেন." অর্থাৎ যখন তোমাদের উপর স্বস্তি নাযিল করা হয়, তখন তোমরা নির্ভয়ে শুয়ে পড়লে।
وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِّنَ السَّمَاءِ مَاءً
“এবং আকাশ হতে তোমাদের উপর বারি বর্ষণ করেন." অর্থাৎ সে রাতে তাঁদের উপর যে বৃষ্টি হয়েছিল, এর ফলে মুশারিকরা জলাশয়ে যেতে পারছিল না; পক্ষান্তরে مسلمانوں জন্য জলাশয়ে যাওয়ার পথ সহজ হয়ে যায়।
لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ وَيُذْهِبَ عَنْكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَنِ وَلِيَرْبِطَ عَلَى قُلُوبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ الْأَقْدَامَ
"তা দ্বারা তোমাদের পবিত্র করার জন্য, তোমাদের হতে শয়তানের কুমন্ত্রণা অপসারণের জন্য, তোমাদের হৃদয় দৃঢ় করার জন্য এবং তোমাদের পা স্থির রাখার জন্য।" (৮: ১১)। অর্থাৎ তোমাদের মনের শয়তানী ওয়াসওয়াসা দূর করার জন্য; কেননা শয়তান তাঁদের শত্রুর ভয় দেখিয়েছিল। আর তাদের নিমিত্তে যমীন মযবুত করে দেওয়ার জন্য, ফলে তারা পৌঁছে গেলেন তাদের গন্তব্যস্থানে, যেখানে শত্রু পক্ষ তাদের আগে পৌঁছে গিয়েছিল।
এরপর আল্লাহ্ বলেন:
إِذْ يُوحِى رَبُّكَ إِلَى الْمَلْئِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا سَأَلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوا فَوْقَ الْأَعْنَاقِ وَاضْرِبُوا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ شَاقُّوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَمَنْ يُشَاقِقِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ -
"স্মরণ কর, যখন তোমাদের প্রতিপালক ফেরেশতাগণের প্রতি প্রত্যাদেশ করেন, 'আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, সুতরাং মু'মিনগণকে অবিচলিত রাখ; যারা কুফরী করে, আমি তাদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করব; সুতরাং তাদের কাঁধে ও সর্বাঙ্গে আঘাত কর, তা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং কেউ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করলে আল্লাহ্ তো শাস্তিদানে কঠোর।" (৮: ১২-১৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00