📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুক্তিপণ ছাড়াই যাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল

📄 মুক্তিপণ ছাড়াই যাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল


ইবন ইসহাক বলেন: বদরের বন্দীদের মধ্যে যাদের বিনা মুক্তিপণে অনুগ্রহ পূর্বক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাদের যে নাম আমাদের জানানো হয়েছে, তারা হল: বনু আব্দ শামস্ ইবন আবদ মানাফ-এর আবুল আস ইবন রবী' ইবন আবদুল উযযা ইবন আবদ শামস। যয়নব (রা) তাঁর মুক্তিপণ পাঠানোর পর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন।
বনু মাখযূম ইব্‌ন ইয়াকাযা-এর মুত্তালিব ইব্‌ন হানতাব ইবন হারিস ইবন উবায়দা ইব্‌ন Amr ইব্‌ন মাখযূম। তিনি হারিস ইন্ন খাযরাজ বংশীয় কয়েকজনের হাতে বন্দী ছিলেন। সুতরাং তাকে তাঁদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হলে তাঁরা তাকে মুক্ত করে দেন। এরপর তিনি তার সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হন।
ইবন হিশাম বলেন: তাকে বনূ নাজ্জারের লোক খালিদ ইব্‌ন যায়দ আবু আইয়ুব আনসারী (রা) বন্দী করেছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আর সায়ফী ইব্‌ন আবূ রিফা'আ ইব্‌ন আবিদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন Amr ইব্‌ন মাখযূম। তাকে তার গ্রেফতারকারীদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার মুক্তিপণ নিয়ে কেউ না আসায় তারা তাকে এই শর্তে মুক্তি দেন যে, সে ফিরে গিয়ে নিজেই মুক্তিপণ পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু সে কিছুই আদায় করেনি।
হাসান সাবিত (রা)-এ সর্ম্পকে বলেন: "অঙ্গীকার পুরা করার লোক সায়ফী নয়, সে তো ক্লান্ত শৃগালের মত কোন জলাশয়ের কাছে পড়ে আছে।"
ইবন হিশাম বলেন: এ কবিতাটি তার একটি দীর্ঘ কবিতায় অংশবিশেষ।
ইবন ইসহাক বলেন: আবূ ইয্যা Amr ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইবন উসমান ইব্‌ন উহায়ব ইব্‌ন হুযাফা ইব্‌ন জুমাহ্ ছিল অভাবী, অনেক কন্যা সন্তানের পিতা। সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তার দুরাবস্থার কথা বর্ণনা করে তাঁর করুণা চাইল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) এই শর্তে তার প্রতি অনুগ্রহ করলেন যে, তাঁর বিপক্ষে গিয়ে কাউকে সাহায্য করবে না। আবূ উয্যা স্বগোত্রীয় লোকদের কাছে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেন:
কেউ কি আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মদকে আমার এই বার্তা পৌঁছে দেবে যে, আপনি হক এবং আল্লাহ্ প্রশংসার অধিকারী।
আপনি সত্য ও সরল পথের দিকে আহবানকারী। আপনার সত্যতার প্রমাণে মহান আল্লাহ্ পক্ষ থেকে সাক্ষী রয়েছে।
মর্যাদায় আপনি এমন ব্যক্তি যে, আমাদের মাঝে অনেক উঁচু মর্যাদা হাসিল করে নিয়েছেন। যার স্তরগুলো অতিক্রম করা সহজ আবার কঠিনও।
আপনি এমন যে, যার সাথে আপনি যুদ্ধ করেন সে দুর্ভাগা শত্রু। আর যার সাথে আপনি সন্ধি করেন, সে সৌভাগ্যবান।
কিন্তু যখন আমাকে বদর ও বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন আমার হৃদয় অনুতাপ ও বেদনায় ভরে উঠে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুক্তিপণের পরিমাণ

📄 মুক্তিপণের পরিমাণ


ইবন হিশام বলেন: তখন মুশরিকদের মুক্তিপণ ছিল জনপ্রতি চার হাজার দিরহাম থেকে এক হাজার পর্যন্ত। কিন্তু যাদের কিছুই ছিল না, তাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (সা) অনুগ্রহ করেছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উমায়র ইব্‌ন ওয়াহবের ইসলাম গ্রহণ

📄 উমায়র ইব্‌ন ওয়াহবের ইসলাম গ্রহণ


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে হত্যার জন্য তাকে সাফওয়ানের প্রচারণা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে হত্যার জন্য তাকে সাফওয়ানের প্রচারণা


ইবন ইসহাক বলেন: আমাকে মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইবন যুবায়র, উরওয়া ইব্‌ন যুবায়রের সূত্রে এ তথ্য শুনিয়েছেন যে, বদরের যুদ্ধে কুরায়শদের বিপর্যস্ত হওয়ার কিছুদিন পর উমায়র ইব্‌ন ওয়াহব জুমাহ্ হাতীমের কাছে সাফওয়ান ইবন উমাইয়ার সাথে বসে। উমায়র ইব্‌ন ওয়াহব ছিল কুরায়শদের মধ্যে একজন দুষ্ট লোক। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মক্কায় অবস্থানকালে তাঁকে এবং তাঁর সাহাবীদেরকে যারা নির্যাতন করত, সে ছিল তাদের অন্যতম। তার ছেলে ওয়াহব ইবন উমায়রও বদরের বন্দীদের মধ্যে ছিল।
ইবন হিশাম বলেন: যুরায়ক গোত্রের রিফা'আ ইব্‌ন রাফি' (রা) তাকে বন্দী করেছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমাকে মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইন্ন যুবায়র, উরওয়া ইন্ন যুবায়র (রা) সূত্রে শুনিয়েছেন যে, তিনি বদরের গর্তে নিক্ষিপ্তদের মর্মান্তিক পরিণতির আলোচনা করলে সাওয়ান বলল: আল্লাহ্র শপথ! এদের নিহত হওয়ার পর বেঁচে থাকার কোন সার্থকতা নেই। উমায়র তাকে বলল: আল্লাহ্র শপথ! তুমি সত্যই বলেছ। আল্লাহ্র কসম! আমি যদি ঋণী না হতাম, যা আদায়ের কোন পথ আমার কাছে নেই, আর আমার সন্তানগুলো যদি না থাকত, যাদের আমার পর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা করছি, তবে আমি অবশ্যই গিয়ে মুহাম্মদকে হত্যা করে ফেলতাম। আরো কারণ হল আমার ছেলে তাদের হাতে বন্দী রয়েছে।
বর্ণনাকারী বলেন: সাফওয়ান সুযোগ বুঝে বলল: তোমার ঋণের দায়িত্ব আমার, আমি তা পরিশোধ করব। তোমার সন্তানরা আমার সন্তানদের সাথে থাকবে। যতদিন তারা বেঁচে থাকবে, আমি তাদের সাহায্য করব। এমনটি হবে না যে, কোন কিছু আমার রয়েছে আর তারা পায়নি। তখন উমায়র তাকে বলল: তবে তুমি আমাদের এ বিষয়টি গোপন রাখ। সাফওয়ান বলল: তাই করব।
বর্ণনাকারী বলেন: উমায়র তার তরবারি ধারালো ও বিষাক্ত করিয়ে নিল। তারপর মদীনায় গিয়ে পৌঁছল। উমর ইবন খাত্তাব (রা) তখন কয়েকজন মুসলমানের সাথে বদরের বিষয়েই আলোচনা করছিলেন। তাঁরা আলোচনা করছিলেন, আল্লাহ্ যে সম্মান مسلمانوں দিয়েছেন এবং তাদের শত্রুদের যে বিপর্যয় তাদের দেখিয়েছেন সে সম্পর্কে। এমন সময় উমর (রা) দেখতে পেলেন উমায়র ইব্‌ন ওয়াহব মসজিদের দরজায় তার উট বসিয়েছে এবং কাঁধে তার তরবারি। তখন উমর (রা) বললেন: এই যে আল্লাহ্র দুশমন কুকুর উমায়র ইব্‌ন ওয়াহব, আল্লাহর শপথ! সে কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়া আসেনি। সেইতো আমাদের মাঝে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল এবং বদর যুদ্ধে আমাদের সৈন্য সংখ্যার অনুমান করে কুরায়שদের জানিয়ে দিয়েছিল। এরপর উমর (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গিয়ে বললেন: হে আল্লাহর নবী! এই যে আল্লাহর দুশমন উমায়র ইব্‌ন ওয়াহব কাঁধে তরবারি ঝুলিয়ে এসেছে। নবী (সা) বললেন: তাকে আমার কাছে নিয়ে এস।
বর্ণনাকারী বলেন: উমর (রা) এসে তার তরবারি তার ঘাড়ের সাথে ধরে ফেললেন। আর তাঁর সাথী আনসারদের বললেন: তোমরা ভিতরে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে বস এবং তার ব্যাপারে সাবধান থেক। এ খবিসকে বিশ্বাস করা যায় না। তারপর তিনি তাকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে নিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাকে এ অবস্থায় দেখলেন যে, উমর (রা) ঘাড়েই তার তরবারি ধরে আছেন, তখন তিনি বললেন : ارسله يا عمر ادنا يا عمیر “হে উমর তাকে ছেড়ে দাও, হে উমায়র, আমার কাছে এস।" সে কাছে এল এবং বলল: انعموا صباحًا "সুখে থাকুন।” এটাই ছিল তাদের মধ্যে জাহিলী যুগে পরস্পরের প্রতি সম্ভাষণ।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: হে উমায়র! আল্লাহ্ আমাদের তোমার অভিবাদনের চেয়ে উত্তম অভিবাদন তথা সালাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন, যা জান্নাতবাসীদের অভিবাদন। সে বলল: আল্লাহ্র শপথ! হে মুহাম্মদ, আমি তা এখনই জানলাম।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তুমি কেন এসেছ? সে বলল: আমি আপনাদের হাতে আটকে পড়া এই বন্দীটির মুক্তির জন্য এসেছি। তার ব্যাপারে দয়া করুন। তখন নবী (সা) জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কাঁধে তরবারি কেন? সে বলল: আল্লাহ্ তরবারির অমঙ্গল করুন। তা আমাদের কিইবা কাজে এসেছে? তিনি বললেন: আমার কাছে সত্য করে বল, কেন এসেছ? সে বলল: আমি তো কেবল এজন্য এসেছি। তখন নবী (সা) বললেন: এরূপ মোটেই নয়, বরং তুমি আর সাফওয়ান ইবন উমায়া হাতীমের পাশে বসে (বদরের) গর্তে নিক্ষিপ্ত নিহত কুরায়শদের সম্পর্কে আলোচনা করছিলে। তুমি বলেছিলে, আমার ঋণের বোঝা এবং সন্তান- সন্তুতির ভরণ পোষণের দায়িত্ব না থাকলে আমি অবশ্যই বেরিয়ে গিয়ে মুহাম্মদকে হত্যা করতাম। তখন সাফওয়ান তোমার ঋণ ও সন্তান-সন্ততির দায়িত্ব এ শর্তে গ্রহণ করে নিল যে, তুমি আমাকে হত্যা করবে, অথচ আল্লাহ্ তোমার এবং তোমার ইচ্ছার মাঝে অন্তরায়। উমায়র বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আল্লাহ্র রাসূল। হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি আকাশের যেসব সংবাদ আমাদের কাছে পেশ করতেন এবং যে ওহী আপনার উপর অবতীর্ণ হত, আমরা এ যাবৎ তা অবিশ্বাস করে এসেছি। কিন্তু আমাদের এ বিষয়টিতে আমরা দু'জন ছাড়া আর কেউ ছিল না। কাজেই আল্লাহ্র কসম! আমি নিশ্চিত যে, এ সংবাদ আপনাকে আল্লাহ্ ছাড়া কেউ দেননি। সকল প্রশংসা সে আল্লাহর যিনি আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করলেন এবং আমাকে এই পথে পরিচালিত করেছেন। তারপর তিনি সত্যের সাক্ষ্য দেন।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : তোমরা তোমাদের ভাইকে দীনী শিক্ষা দাও, তাকে কুরআন পড়াও আর তার সৌজন্যে তার বন্দীকে মুক্তি দাও। তাঁরা তাই করলেন। এরপর তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এ যাবৎ আমি আল্লাহর নূর নির্বাপিত করার ব্যাপারে ছিলাম সচেষ্ট এবং আল্লাহ্র দীনের উপর যারা প্রতিষ্ঠিত, তাদের কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর ছিলাম, এখন আমার ইচ্ছা আমাকে অনুমতি দিন, মক্কায় গিয়ে তাদেরকে আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং ইসলামের দিকে দাওয়াত দেই। সম্ভবত আল্লাহ্ তাদেরকে হিদায়েত দান করবেন। অন্যথায় তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেব, যেমন কষ্ট দিতাম আপনার সাথীদেরকে তাদের দীনের ব্যাপারে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে অনুমতি দিলেন। অনুমতি পেয়ে তিনি মক্কার চলে গেলেন। এদিকে উমায়র যখন মক্কা থেকে বের হয়েছিল, তখন থেকেই সাফওয়ান বলে বেড়াচ্ছিল, হে লোক সকল! সু-সংবাদ গ্রহণ কর, কয়েকদিনের মধ্যেই এমন সংবাদ পাবে, যা তোমাদের বদরের বিপর্যয়ের কথা ভুলিয়ে দেবে। সে মদীনা থেকে আগত প্রতিটি কাফেলার কাছেই উমায়রের খোঁজ-খবর নিচ্ছিল। পরিশেষে এক আরোহী এসে তাকে উমায়রের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ দিল। তখন সে শপথ করল যে, সে তার সাথে কোনদিন কথা বলবে না, তার কোন উপকার করবে না।
ইবন ইসহাক বলেন: উমায়র (রা) মক্কায় এসে ইসলামের দাওয়াত দিতে লাগলেন। কেউ বিরোধিতা করলে তাকে কঠোর শাস্তি দিতেন। ফলে তাঁর হাতে অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: উমায়র ইব্‌ন ওয়াহব অথবা হারিস ইব্‌ন হিশাম দু'জনের যে কোন একজনের কথা আমাকে বলা হয়েছে, যিনি ইবলীসকে দেখেছিলেন। যখন সে বদরের দিন পশ্চাদপসরণ করছিল। তখন তিনি বলেন: হে সুরাকা! কোথায় যাচ্ছ। আল্লাহ্র দুশমন তখন পালিয়ে গেল। এ সময় আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَنُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَكُمْ -
"স্মরণ কর, শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের দৃষ্টিতে শোভন করেছিল এবং বলেছিল, আজ মানুষের মধ্যে কেউ তোমাদের উপর বিজয়ী হবে না। আমি তোমাদের পাশেই থাকব।" (৮:৪৮)
আল্লাহ্ তাদের কাছে ইবলীসের ধোঁকা দেওয়ার কথা এবং সে সময় তার সুরাকা ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন জু'শام-এর আকৃতি ধারণ করার কথা উল্লেখ করেন, আর যখন তারা আলোচনা করছিল সে বিপর্যয়ের কথা নিয়ে, যা ঘটেছিল তাদের ও বনু বকর ইব্‌ন মানাত ইবন কিনানার মাঝে সংঘটিত যুদ্ধের সময়।
আল্লাহ্ পাক বলেন: فَلَمَّا تَرَاءَتِ الْفِئَتْنِ "এরপর দু'দল যখন পরস্পরের সম্মুখীন হল", আল্লাহ্র দুশমন আল্লাহ্র সিপাহী ফেরেশতাদের দেখলে পেল, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের দ্বারা নিজ রাসূল ও মু'মিনদের তাদের শত্রুদের মুকাবিলায় শক্তিশালী করলেন।
نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِئُ مِنْكُمْ إِنِّي أَرَى مَالَا تَرَوْنَ -
"তখন সে সরে পড়ল ও বলল: তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক রইল না। তোমরা যা দেখতে পাওনা, আমি তা দেখি।"
আল্লাহর দুশমন সত্যিই বলেছে, সে এমন কিছু দেখেছিল যা তারা দেখতে পাচ্ছিল না। সে আরও বলল: إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ "আমি আল্লাহকে ভয় করি, আর আল্লাহ্ শাস্তি দানে কঠোর।" (৮: ৪৮)
রাবী বলেন: আমার কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা তাকে প্রত্যেক স্থানেই তাদের পরিচিত সুরাকার আকৃতিতে দেখতে পেত। এরপর বদরের দিন যখন উভয় দল মুখোমুখি হল, তখন সে পিছনের দিকে সরে পড়ল। মোটকথা সে তাদেরকে (যুদ্ধের ময়দান পর্যন্ত) এনে নিঃসঙ্গ ছেড়ে দিল।
ইবْن হিশাম বলেন : نكص অর্থ رجع (ফিরে গেল)। বনূ আসাদ ইব্‌ন Amr ইব্‌ন তামীমের আউস ইব্‌ন হাজার বলেন: "তোমরা পিছনের দিকে ফিরে গেলে, যেদিন বিপুল সংখ্যক সৈন্য নিয়ে এসেছিলে।" এই কবিতাটি তার একটি দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00