📄 উমাইয়া ইব্ন খালফের হত্যা
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুর রহমান ইব্ন আওফ বলেন, উমাইয়া ইন্ন খাল্ল্ফ মক্কায় আমার বন্ধু ছিল। আমি মুসলমান হওয়ার পর যখন আমার আগের নাম আব্দ Amr বদলে আবদুর রহমান রাখলাম, তখন উমাইয়া আমাকে বলল তুমি তোমার বাপ-মার রাখা নামটা বাদ দিলে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। সে বললঃ আমি রহমানকে জানি না। কাজেই তুমি তোমার এমন একটা নাম রাখ, যে নামে আমি তোমাকে ডাকতে পারি। তোমার অবস্থা এই যে, আমি যদি তোমাকে তোমার আগের নামে ডাকি, তবে সে ডাকে তুমি সাড়া দাও না। আর আমার অবস্থা এই যে, তোমাকে আমি এমন নামে ডাকতে প্রস্তুত নই, যে নামের সাথে আমার পরিচয় নেই। আবদুর রহমান (রা) বলেনঃ বস্তুত সে যখন আমাকে আব্দ Amr বলে ডাকত, তখন সে ডাকে আমি সাড়া দিতাম না। এরপর আমি তাকে বললামঃ হে আবু আলী! তোমার পসন্দ মত একটা নাম নির্ধারণ করে নাও। তখন সে বললঃ তা হলে তোমার নাম হল-আব্দ ইলাহ। তখন আমি বললামঃ ঠিক আছে। এরপর আমি যখনই তার পাশ দিয়ে যেতাম, তখন সে বলত: হে আবদ ইলাহ্! আমি তার এ ডাকে সাড়া দিতাম এবং তার সাথে কথা বলতাম।
বদরের যুদ্ধের দিন আমি যখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন সে তার ছেলে আলী ইব্ন উমাইয়ার হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় আমার সঙ্গে কয়েকটি লৌহবর্ম ছিল, যা আমি নিহত শত্রুর থেকে পেয়েছিলাম। এগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় সে আমাকে দেখে আব্দ Amr বলে ডাক দিলে আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম না। এরপর সে আমাকে আব্দ ইলাহ্ বলে ডাকলে আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম। তখন সে আমাকে বললঃ তুমি আমার ব্যাপারে কি চিন্তা করছ? তোমার সঙ্গে যে বর্মগুলো আছে তার চাইতে আমি তোমার জন্য উত্তম না? আমি বললাম হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! এতো খুশির কথা। তখন বর্ম ফেলে দিয়ে উমাইয়া এবং তার ছেলের হাত ধরলাম। তখন সে বললঃ আজকের দিনের মত আর কোনদিন আমি দেখিনি। তোমাদের কি দুগ্ধবতী উটের প্রয়োজন নেই? আবদুর রহমান (রা) বলেনঃ এরপর আমি এদের দু'জনকে নিয়ে চললাম। এ সময় উমাইয়া ইব্ন খাল্ফ আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ ঐ ব্যক্তি কে, যে তার বুকে উটপাখির পালক লাগিয়ে রেখেছে? আমি বললামঃ তিনি হলেন হামযা ইব্ন আবদুর মুত্তালিব (রা)। তখন সে বললঃ এতো সেই ব্যক্তি, যে আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। আবদুর রহমান (রা) বলেনঃ আল্লাহ্র কসম! এরপর আমি তাদের উভয়কে যখন টেনে নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ বিলাল (রা) তাকে আমার সঙ্গে দেখলেন। আর এ ছিল সে ব্যক্তি, যে বিলাল (রা)-কে ইসলাম পরিত্যাগ করার জন্য বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত। তাকে মরুভূমিতে নিয়ে যেত এবং তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে বুকের উপর পাথর চাপা দিয়ে রেখে বলত: তুমি এ অবস্থায় থাকবে, নয় মুহাম্মদের দীন পরিত্যাগ করবে। এ সময় বিলাল (রা) 'আহাদ', 'আহাদ' বলতেন। যখন বিলাল (রা) তাকে দেখলেন, তখন তিনি বলে উঠলেনঃ এই তো কুফরীর মূল হোতা-উমাইয়া ইব্ন খালফ। সে বেঁচে গেলে আমার বাঁচা অর্থহীন। আবদুর রহমান ইব্ন আওফ বলেন, আমি বললামঃ হে বিলাল! তুমি আমার বন্দীদ্বয় সম্পর্কে এরূপ বলছ? তখন বিলাল (রা) বললেনঃ “সে বেঁচে গেলে আমার বাঁচার কোন অর্থ হয় না।”
এরপর বিলাল (রা) চিৎকার করে বললেনঃ হে আল্লাহ্র দীনের সাহায্যকারীরা! এই তো কুফরীর মূল নায়ক, উমাইয়া ইব্ন খাল্ফ সে বেঁচে গেলে আমার বাঁচা অর্থহীন। আবদুর রহমান (রা) বলেন: এরপর লোকেরা আমাদের ঘিরে ফেলল। আর আমি উমাইয়াকে বাঁচাবার চেষ্টা করছিলাম। ইতিমধ্যে একজন মুজাহিদ তার তরবারি বের করে উমাইয়ার ছেলের পায়ে আঘাত করলে সে পড়ে গেল। তা দেখে উমাইয়া এমন জোরে চিৎকার করল যে, আমি অমন চিৎকার আর কখনো শুনিনি। আমি বললাম: উমাইয়া তুমি নিজের চিন্তা কর। তোমার নিস্তার নেই। আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাকে রক্ষা করতে পারব না। অবশেষে লোকেরা তাদের উভয়কে তরবারির আঘাতে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। পরে আবদুর রহমান (রা) বলতেন: আল্লাহ্ বিলালের উপর রহম করুন। আমি বর্ম ফেলে দিয়ে যাকে গ্রেফতার করলাম, তাকে সে হত্যা করল।
📄 বদর যুদ্ধে ফেরেশতাদের উপস্থিতি
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর (রা) ইবন আব্বাস (রা) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বনু গিফারের এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, বদরের দিন আমি ও আমার এক চাচাতো ভাই বদরের পার্শ্ববর্তী একটি পাহাড়ে উঠে বদর যুদ্ধের দৃশ্য দেখছিলাম যে, কারা হারে ও কারা জেতে। তখনও আমরা ছিলাম মুশরিক। আমরা লুটেরাদের সাথী হয়ে লুটতরাজ করার অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা পাহাড়ে থাকা অবস্থায় এক টুকরো মেঘ আমাদের কাছে এল। আমরা সেই মেঘের ভেতর ঘোড়ার ডাক শুনতে পেলাম। আর জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম: হায়যুম! সামনে এগিয়ে যাও। এ সময় আমার চাচাতো ভাইয়ের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে মারা যায়। আমিও মরার উপক্রম হয়ে কোন রকমে বেঁচে যাই।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর বনূ সাঈদার জনৈক ব্যক্তি সূত্রে আমার কাছে আবু উসায়দ মালিক ইব্ন রবী'আ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি বলতেন: আজ যদি আমার দৃষ্টিশক্তি থাকত এবং আমি বদর প্রান্তরে থাকতাম, তাহলে আমি তোমাদের সেই গিরিপথটি দেখাতাম, যেখান থেকে ফেরেশতারা বেরিয়ে এসেছিল। এ ব্যাপারে আমার কোন সংশয় ও সন্দেহ নেই।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার পিতা ইসহাক ইব্ন ইয়াসার বনু মাযিন ইব্ন নাজ্জারের কতিপয় ব্যক্তির বরাতে আবূ দাউদ মাযিনী (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি বলেন: বদর যুদ্ধের দিন আমি এক মুশরিককে হত্যা করার জন্য তাকে ধাওয়া-করলাম। হঠাৎ দেখলাম যে, আমার তরবারির আঘাত তার শরীরে লাগার আগেই, ধড় থেকে তার মাথা পড়ে গেল। ফলে আমি স্পষ্টই বুঝতে পারলাম যে, আমি ছাড়া অন্য কেউ তাকে হত্যা করেছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিসের আযাদকৃত গোলাম মিকসাম থেকে জনৈক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বদর যুদ্ধের দিন ফেরেশতারা সাদা পাগড়ী এবং হুনায়ন যুদ্ধের দিন তাঁরা লাল পাগড়ী পরিহিত ছিলেন। আর তাদের পাগড়ীর পিছনের অংশ তাদের পিঠের উপর ঝুলে ছিল।
ইব্ন হিশام বলেন: আমার কাছে জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা) বলেছেন: পাগড়ী হল আরবদের তাজ। আর বদর যুদ্ধের দিন ফেরেশতারা সাদা পাগড়ী পরিহিত ছিলেন, যা তারা তাদের পিঠের দিকে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। তবে জিব্রীল (আ) হলুদ পাগড়ী পরে ছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মিকসাম সূত্রে ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে জনৈক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ফেরেশতারা বদর ছাড়া অন্য কোন যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন নি। তবে তারা অন্যান্য যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও সাহায্যকারী হিসাবে অংশ গ্রহণ করতেন। তাঁরা কাউকে হত্যা করতেন না।
টিকা:
১. হায়যুম হল-জিব্রীল (আ)-এর ঘোড়ার নাম।
📄 আবু জাহলের হত্যা
ইবন ইসহাক বলেন: বদর যুদ্ধের দিন আবু জাহল যুদ্ধ করতে করতে এবং যুদ্ধ উন্মাদনা সৃষ্টিকারী এ কবিতা আবৃত্তি করতে করতে সামনে এগিয়ে আসে:
(কবিতা) “যে যুদ্ধে বারবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, এরূপ যুদ্ধও আমার থেকে প্রতিশোধ নিতে পারে না। আমি দু'বছর বয়সের যুবক পুরুষ উটের মত শক্তিশালী, আর আমার মাতা আমাকে এ ধরনের কাজের জন্যই জন্ম দিয়েছে।"
ইবন হিশাম বলেন: বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবীদের মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল: আহাদ, আহাদ, অর্থাৎ আল্লাহ্ এক, আল্লাহ্ এক।
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন দুশমনদের মুকাবিলা থেকে মুক্ত হলেন, তখন তিনি নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আবু জাহল ইব্ন হিশামকে অনুসন্ধান করতে বললেন। যুদ্ধের ময়দানে যে মুসলিম সৈনিকের সাথে সর্বপ্রথম আবু জাহলের সাক্ষাৎহয়, তিনি হলেন বনূ সালামার মু'আয ইব্ন Amr ইবন জামূহ। তিনি বলেন, আবু জাহলের যখন খোঁজাখুঁজি হচ্ছিল, তখন আমি শুনলাম, সে একটি ঝোপের ভেতরে লুকিয়ে আছে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, যেভাবেই হোক তাকে খুঁজে বের করব-ই। আমি যখন তার কাছে পৌঁছলাম, তখন তার উপর আক্রমণ চালিয়ে তার পা কেটে ফেললাম। তখন তার ছেলে ইকরামা আমাকে আঘাত করে আমার হাত কেটে ফেলল হাতখানা কেবল চামড়ার সাথে ঝুলছিল। এতে আমার যুদ্ধ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। অগত্যা ঝুলন্ত হাতখানা পা দিয়ে চেপে ধরে টান দিয়ে ছিড়ে ফেললাম। ইবন ইসহাক বলেন: এই বীর মুহাজিদ উসমান (রা)-এর যুগ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
মুআয বলেন: এরপর মুয়াওয়ায ইব্ন আফরা এসে আর এক আঘাত করে আবূ জাহলকে ধরাশায়ী করল। মুয়াওয়ায (রা) পরে লড়াই করে বদরেই শহীদ হন। আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) বলেন: আমি যখন আবু জাহলকে ময়দানে শায়িত দেখলাম, তখনো সে বেঁচে ছিল। সে ইতিপূর্বে আমাকে মক্কায় অপদস্থ করেছিল। আমি তার ঘাড়ে পা দিয়ে চেপে ধরলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর দুশমন! আল্লাহ্ তোকে অপদস্থ করেছেন তো? সে বলল, যাকে তোমরা প্রায় হত্যা করেছ, তার আর অপদস্থ হবার প্রশ্ন উঠে নাকি? আমাকে বল, আজ কাদের জয় হচ্ছে? আমি বললাম "জয় হচ্ছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের।" ইব্ন্ন ইসহাক বলেন: ইব্ন মাসউদ (রা) বলতেন: আবু জাহল মৃত্যুর পূর্বে আমাকে বলেছিলেন, হে মেষের রাখাল! তুই অনেক দুর্লভ মর্যাদা লাভ করেছিস। তিনি বলেন: তারপর আমি তার মাথা কেটে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এই যে আল্লাহ্র দুশমন আবূ জাহলের মাথা। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: সত্যি নাকি? আমি বললাম: আল্লাহ্র কসম! সত্যি তাই। এরপর তার মাথাটা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে রেখে দিলাম। তিনি তা দেখে আল্লাহ্র প্রশংসা ও শোকর করলেন।
ইব্ন হিশام বলেন: উমর ইবন খাত্তাব (রা) একবার সাঈদ ইব্ন আস (রা)-কে বললেন, যখন তিনি তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন: "মনে হয়, তোমার মনে এরূপ ধারণা বিদ্যমান যে, আমি তোমার পিতা আসকে হত্যা করেছি। যদি তা করে থাকতাম, তবে সে জন্য তোমার কাছে কোনরূপ ওযর পেশ করতাম না। আসলে আমি আমার মামা 'আস ইব্ন মুগীরাকে হত্যা করেছিলাম। তোমার আব্বাও আমার সামনে পড়েছিল। তবে সে ক্ষিপ্ত ষাঁড়ের মত আমার দিকে এগিয়ে আসায় আমি দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ি। এরপর তাকে তার চাচাতো ভাই আলী (রা) হত্যা করেন।
📄 উকাশা ইব্ন মিহসানের ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন: উকাশা ইব্ন মিহসান ইব্ন হারসান আসাদী বদরের দিন যুদ্ধ করতে করতে তাঁর তরবারি তাঁর হাতে ভেঙ্গে যায়। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে চলে আসলে তিনি তাকে একটি গাছের শেকড় দিয়ে বললেন: যাও, এটি দিয়ে যুদ্ধ কর। উকাশা সেটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হাত থেকে নিয়ে যেই নাড়া দিলেন, অমনি তা একটি চকচকে ধারালো লম্বা তরবারিতে পরিণত হল। मुसलमानों পরিপূর্ণ বিজয় হওয়া পর্যন্ত তিনি সেই তরবারি দিয়ে যুদ্ধ চালালেন। ঐ তরবারিটার নাম দেওয়া হয়েছিল 'আল-আওন' অর্থাৎ সাহায্য। এই তরবারি নিয়ে উকাশা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আবূ বকর (রা)-এর খিলাফত আমলে মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদে অংশ নিয়ে তিনি তুলায়হা ইব্ খুয়ায়লিদ আসাদীর হাতে শহীদ হন। এ সময়ও সে তরবারিটি তাঁর কাছে ছিল। তুলায়হা এ সম্পর্কে বলে:
"ঐ লোকদের সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি, যখন তোমরা তাদের হত্যা করছ? যদিও তারা ইসলাম কবুল করেনি, তবুও কি তারা মানুষ (বাহাদুর) নয়? যদি তারা মহিলা হত, অথবা তাদের সংখ্যা দশের কম হত, তবে তারা বিষাদগ্রস্ত হত (কিন্তু ব্যাপারটি তো এরূপ নয়)। কাজেই, তোমরা আমার পুত্র হিবালকে হত্যা করে বিনা প্রতিশোধে কখনো যেতে পারবে না। আমি আমার হামালা নাম্নী-ঘোটকীর বৃক্ষকে এ ধরনের লোকদের মুকাবিলার জন্য অনেক কষ্ট দিয়েছি। নিঃসন্দেহে এ ঘোটকী অস্ত্রসজ্জিত নেতাদের বারবার মুকাবিলার জন্য আহবান করে। কোনদিন তাকে তুমি পোশাকের মাঝে নিরাপদ, আবার কোনদিন তাকে পোশাকবিহীন অবস্থায় দেখতে পাবে। সেই সন্ধ্যার কথা স্মরণ কর, যখন আমি ইব্ন আকরাম এবং উকাশা গানামীকে যুদ্ধের ময়দানে হত্যা করেছিলাম।
ইবন ইসহাক বলেন: বদর যুদ্ধের পর এক পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমার উম্মত থেকে সত্তর হাজার লোক কিয়ামতের দিন পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে বেহেস্তে যাবে। তখন উকাশা বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি দু'আ করুন, যেন আল্লাহ্ আমাকে এঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তুমি তাদেরই একজন। অথবা তিনি বলেছিলেন: ইয়া আল্লাহ্! আপনি একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। এ কথা শুনে জনৈক আনসারী সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার জন্যও আল্লাহ্ কাছে দু'আ করুন, যেন তিনি আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমার আগে উকাশা এ সম্মান অর্জন করেছে এবং এই দু'আ কার্যকর হয়েছে।
আর একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আরবের শ্রেষ্ঠ ঘোড় সওয়ার যোদ্ধা আমাদের কাছে রয়েছে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! সেই লোকটি কে? তিনি বললেন: উকাশা ইব্ন মিহসান। এ সময় উকাশার সগোত্রীয় সাহাবী যিরার ইব্ন আযওয়ার আসাদী বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এই ব্যক্তি তো আমাদের গোত্রের লোক। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: সে তোমাদের নয়; বরং মৈত্রী সূত্রে সে আমাদের লোক।
ইবন হিশাম বলেন: যুদ্ধের ময়দানে আবু বকর (রা) তাঁর ছেলে আবদুর রহমানকে ডেকে বলেন: “ওহে দূরাত্মা, আমার জিনিসপত্র কোথায়?" সেদিন আবদুর রহমান মুশরিকদের সাথে যুদ্ধে এসেছিল। আবদুর রহমান বলে: তেজী ঘোড়া, হাতিয়ার এবং বিভ্রান্ত বৃদ্ধদের হত্যাকারী তরবারি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।