📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য উদ্বার আহবান

📄 দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য উদ্বার আহবান


এরপর ময়দানে অবতীর্ণ হল উত্ত্বা ইব্‌ন রবী'আ। তার ভাই শায়বা ও ছেলে ওয়ালীদ তার সঙ্গে এল। কুরায়ש বাহিনীর ব্যূহ ছেড়ে সামনে গিয়ে সে হুংকার ছেড়ে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আহবান জানালে আনসারদের মধ্য হতে তিনজন যুবক-আওফ ও মুআববিয ইবন হারিস এবং আবদুল্লাহ ইব্‌ন রওয়াহা তাদের মুকাবিলায় এগিয়ে গেলেন। কুরায়ש যোদ্ধারা জিজ্ঞেস করল: তোমরা কারা? তাঁরা বললেন: আমরা আনসার। তারা বলল: তোমাদের দিয়ে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। তারপর তাদের একজন চিৎকার করে বলল: হে মুহাম্মদ, আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যারা আমাদের সমকক্ষ, তাদেরকে পাঠাও। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উবায়দা ইবন হারিস, হামযা ও আলী (রা)-কে তাদের মুকাবিলায় যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তারা গিয়ে নিজ নিজ পরিচয় দিলে প্রতিপক্ষ খুশি হয়ে বলল ঠিক আছে। এবার মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিপক্ষ মিলে গেছে। মুসলিম বাহিনীর মধ্যে সব চাইতে বয়স্ক মুজাহিদ উবায়দা উত্তা ইব্‌ন রবী'আর বিরুদ্ধে, হামযা শায়বার বিরুদ্ধে এবং আলী ওয়ালীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দিলেন। হামযা শায়বাকে এবং আলী ওয়ালীদকে পাল্টা আঘাত হানার সুযোগই দিলেন না। প্রথম আঘাতেই তাদের হত্যা করলেন। আর উবায়দা ও উত্ত্বা উভয়ে একটি করে আঘাত বিনিময় করে, একে অপরকে আহত করলেন। হামযা ও আলী দ্রুত ছুটে গিয়ে নিজ নিজ তরবারির আঘাতে উত্তাকে হত্যা করলেন। এরপর তারা উবায়দাকে কাঁধে তুলে নিয়ে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে পৌছে দিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কর্তৃক ইব্‌ন্ন গাযীয়াকে গুঁতা দেওয়া

📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কর্তৃক ইব্‌ন্ন গাযীয়াকে গুঁতা দেওয়া


ইবন ইসহাক বলেন: এরপর উভয় পক্ষের সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হল এবং একদল অপর দলের নিকটবর্তী হল। ইতিপূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাহাবীদের এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাঁর হুকুম না পাওয়া পর্যন্ত তারা যেন আক্রমণ না করেন। তিনি এও বলেন: কুরায়ש পক্ষ তোমাদের ঘিরে ফেললে তীর নিক্ষেপ করে তাদেরকে হাটিয়ে দিও। রাসূলুল্লাহ্ (সা) এ সময় মুসলিম বাহিনীকে সারিবদ্ধ করে আবু বকর সিদ্দীকসহ তাঁর তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। আর বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল হিজরী দ্বিতীয় সনের ১৭ই রমযান জুমু'আর দিন সকাল বেলা, মুতাবিক ১৩ই মার্চ, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে।
ইবন ইসহাক বলেন: বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর সাহাবীদের কাতার ঠিক করেন। এ সময় তাঁর হাতে একটি তীর ছিল, যা দিয়ে তিনি কাতার ঠিক করছিলেন। যখন তিনি আদী ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের মিত্র, সাওয়াদ ইব্‌ন গাযীয়ার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন সে তার কাতার থেকে সামনে এসেছিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তীর দিয়ে তার পেটে গুঁতা দিয়ে বললেন: হে সাওয়াদ! তুমি কাতারে ঠিক হয়ে দাঁড়াও।
তখন সাওয়াদ (রা) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি আমাকে কষ্ট দিলেন? অথচ আল্লাহ্ আপনাকে সত্য ও ন্যায়সহ প্রেরণ করেছেন? আপনি আমাকে এর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ দিন। এ সময় রাসূলাল্লাহ্ (সা) তাঁর পবিত্র পেটের কাপড় সরিয়ে নিলেন এবং তাঁকে প্রতিশোধ নিতে বললেন। তখন সাওয়াদ নবী (সা)-কে জড়িয়ে ধরে তাঁর পেটে চুমা খেলেন। তখন রাসূলাল্লাহ্ (সা) তাকে জিজ্ঞেস করেন: হে সাওয়াদ! তুমি কেন এরূপ করলে? সাওয়াদ বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সা)! আমাদের সামনে যে ভয়াবহ অবস্থা। তাতো আপনি দেখছেন। তাই আমার মনে এরূপ আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয় যে, জীবনের এ শেষ মুহূর্তে আমার শরীর আপনার পবিত্র শরীরের স্পর্শে ধন্য হোক।
এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) কাতার ঠিক করে তাঁর তাঁবুতে ফিরে গেলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আবু বকর সিদ্দীক (রা) ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এ সময় তিনি আল্লাহর কাছে প্রতিশ্রুত সাহায্যপ্রাপ্তির জন্য দু'আ করছিলেন। তিনি বলছিলেন: ইয়া আল্লাহ্! আজ যদি আপনি এ দলকে ধ্বংস করেন, তা হলে আপনার ইবাদত করার জন্য পৃথিবীতে কেউ থাকবে না। এ সময় আবূ বকর (রা) বললেন: হে আল্লাহর নবী! আপনি কম দু'আ করুন। কারণ আল্লাহ্ আপনাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা তিনি অবশ্যই পূরণ করবেন।
এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর তাঁবুর মধ্যে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এরপর তিনি জাগ্রত হয়ে বলেন: "হে আবুবকর। সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহর সাহায্য এসে গেছে। এই তো জিবরীল, তিনি ঘোড়ার লাগাম ধরে আছেন, আর তাঁর ঘোড়ার সামনের দাঁতগুলো ধূলাময়লাযুক্ত।"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুসলমানদের মধ্যে প্রথম শহীদ

📄 মুসলমানদের মধ্যে প্রথম শহীদ


ইবন ইসহাক বলেন: এ সময় কাফিরদের পক্ষ থেকে একটি তীর এসে উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম ‘মিহজা’-এর শরীরে বিদ্ধ হয়। ফলে তিনি শহীদ হন। ইনি হলেন বদর যুদ্ধে مسلمانوں মধ্যে প্রথম শহীদ। এরপর আদী ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের হারিসা ইব্‌ন সুরাকা নামক সাহাবীর প্রতি তীর নিক্ষিপ্ত হয়। এ সময় তিনি হাওযে পানি পান করছিলেন। নিক্ষিপ্ত তীর তাঁর গলায় বিদ্ধ হলে তিনিও শহীদ হন।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মুহাহিদ বাহিনীর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁদের যুদ্ধের জন্য অনুপ্রাণিত করে বললেন: "ঐ মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মদের জীবন! আজ যে ব্যক্তি কাফিরদের বিরুদ্ধে সবরের সঙ্গে, সাওয়াবের প্রত্যাশায় যুদ্ধ করবে এবং সামনে অগ্রসব হবে, কোন অবস্থায় পিছু হটবে না, এমতাবস্থায় যদি সে শহীদ হয়, তবে আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" এ সময় সালামা গোত্রের উমর ইবন হুমাম (রা) হাতে কয়েকটি খোরমা নিয়ে খাচ্ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কথা শুনেই বললেন: বাহ্! বাহ! আমি দেখছি যে, আমার এবং জান্নাতের মাঝে এতটুকু ব্যবধান রয়েছে যে, আমি কাফিরদের হাতে শহীদ হয়ে যাই।
রাবী বলেন: এই বলেই তিনি তাঁর হাত থেকে খোরমাগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তরবারি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন এবং শহীদ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: যুদ্ধের ময়দানে এক পর্যায়ে আওফ ইন্ন হারিস (রা) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আল্লাহ্ তাঁর বান্দার উপর কোন্ কাজে বেশি খুশি হন? তিনি বললেন: যখন সে বর্মহীন হয়ে তার দুশমনদের উপর সর্বাত্মকভাবে আক্রমণ করে। এ কথা শুনে তিনি নিজের শরীর থেকে বর্ম খুলে ফেলে দিলেন; এরপর তাঁর তরবারি নিয়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: দুই পক্ষে যখন ঘোরতর যুদ্ধ শুরু হল, তখন আবু জাহল এইরূপ দু'আ করল: “হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছে এবং এক অজানা ধর্ম নিয়ে এসেছে, তাকে তুমি আজ সকালে ধ্বংস করে দাও." এভাবে সে নিজেই নিজের ধ্বংসের দরজা উন্মোচন করে।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) এক মুঠ কাঁকর হাতে কুরায়শদের প্রতি মুখ করে "তাদের মুখ বিকৃত হয়ে যাক" বলে তাদের প্রতি তা নিক্ষেপ করলেন।
এরপর তিনি সাহাবীদের প্রতি নির্দেশ দিলেন: জোর হামলা চালাও। অল্পক্ষণের মধ্যেই কুরায়শ বাহিনীর চরম পরাজয় ঘটল। আল্লাহ্ مسلمانوں হাতে বড় বড় কুরায়ש নেতাকে হত্যা করালেন এবং তাদের অনেক নেতাকে বন্দী করালেন। যখন মুসলিম মুজাহিদরা কাফিরদের বন্দী করছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সা'দ ইব্‌ন মুআয (রা) একদল আনসার সাহাবী নিয়ে তার তাঁবুর সামনে তলোয়ার হাতে পাহারা দিচ্ছিলেন, যাতে শত্রুরা তাঁর উপর হামলা না করতে পারে। মুসলিম মুজাহিদুদের কাফিরদের বন্দী করতে দেখে সা'দ ইব্‌ন মুআয (রা)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টি ফুটে উঠল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন: হে সা'দ! আল্লাহর কসম! আমার মনে হচ্ছে, মুসলিম মুজাহিদদের এ কাজে তুমি খুশি নও? তিনি বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আজ মুশরিকদের খতম করার প্রথম সুযোগ আল্লাহ্ দিয়েছিলেন। আজ ওদের বন্দী করার চেয়ে বেশি করে হত্যা করাই ছিল আমার কাছে পসন্দনীয় কাজ।
ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, এ দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর সাহাবীদের বলেছিলেন: আমি জানি যে, বনু হাশিমসহ আর কিছু লোককে কুরায়ש নেতারা জোর-জবরদস্তি করে যুদ্ধে নিয়ে এসেছে। আমাদের সাথে যুদ্ধ করার কোন প্রয়োজন তারা অনুভব করে না। কাজেই বনু হাশিমের কেউ তোমাদের সামনে পড়লে তাকে হত্যা করো না। আবুল বুহতারী ইব্‌ন হিশাম ইবন হারিস ইব্‌ন আসাদ-কে কেউ পেলে হত্যা করো না। কেননা তাকে জবরদস্তিভাবে যুদ্ধে আনা হয়েছে। আর আব্বাস ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব কারো সামনে পড়লে তাকেও হত্যা করো না। কেননা তাকেও জোর করে যুদ্ধে আনা হয়েছে। এ কথা শুনে মুসলিম বাহিনীর আবু হুযায়ফা (রা) বললেন: আমরা আমাদের বাপ, ভাই, পুত্র ও আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করব, আর আব্বাসকে কেন ছেড়ে দেব? আল্লাহর কসম! আমার সামনে পড়লে আমি তাকে তরবারি দিয়ে আঘাত করবই। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌছুলে তিনি উমর (রা)-কে বললেন: ওহে আবূ হাম্স! আল্লাহ্র রাসূলের চাচার উপর কি তরবারি চালানো যায়? উমর (রা) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তরবারি দিয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দেই। আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চিত যে, আবূ হুযায়ফা মুনাফিক হয়ে গেছে। এ ঘটনার জন্য পরবর্তীকালে আবু হুযায়ফা প্রায়ই আফসোস করে বলতেন: বদর যুদ্ধের দিন আমার ঐ কথাটা বলার জন্য কি শাস্তি হয়, তাই ভেবে আমি শংকিত। শাহাদাত লাভের দ্বারা এর কাফ্ফ্ফারা না হওয়া পর্যন্ত আমার এ ভীতি দূর হবে না। পরবর্তীকালে ইয়ামামার যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবুল বুহতারীকে হত্যা করতে নিষেধ করেছিলেন, তার কারণ এই যে, সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মক্কায় থাকাকালে তাঁর বিরোধিতায় অন্যদের তুলনায় অধিক সংযত ছিল। সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে কষ্ট দিত না। আর তার থেকে এমন কোন কাজ প্রকাশ পায়নি, যা রাসূলুল্লাহ্ (সা) অপসন্দ করতেন। আর বনু হাশিম ও বনূ মুত্তালিবকে আবূ তালিবের গিরিসংকটে অন্তরীণ রেখে যে নির্দেশনামা কুরায়শ নেতারা জারী করেছিল, সে নির্দেশনামা ছিন্নকারী নেতাদের মধ্যে আবুল বুহ্তারী ছিল অন্যতম। এরপর মুজাযযার ইব্‌ন যিয়াদ বালাবী (রা) নামক এক মুসলিম যোদ্ধার সংগে রণাঙ্গণে আবুল বৃহত্তারীর সাক্ষাৎ হল। তিনি আবুল বুহ্তারীকে বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমাকে হত্যা করতে আমাদের নিষেধ করেছেন। তখন আবুল বুহাবীর সাথে তার এক বন্ধুও ছিল। সেও মক্কা থেকে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে একই উটের পিঠে চড়ে বদরের ময়দানে এসেছিল। তার নাম ছিল জুনাদা ইব্‌ন মুলায়হা। তখন আবুল বুহ্তারী বলল: আর আমার বন্ধুর কি হবে? মুজাযযার (রা) তাকে বললেন: আল্লাহ্র কসম! আমরা তোমার বন্ধুকে কিছুতেই ছাড়ব না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) শুধু তোমাকে ছাড়তে বলেছেন। তখন আবুল বুত্তারী বলল: আল্লাহ্র কসম! তা হলে আমরা দু'জনই মরব। নচেৎ মক্কার মহিলারা বলবে যে, আমি বাঁচার লোভে নিজের সহযোদ্ধা বন্ধুকে অসহায় ছেড়ে দিয়েছি। এরপর যখন মুজাযযার (রা) আবুল বুহ্তারীকে মুকাবিলার জন্য আহ্বান করল এবং যুদ্ধ ছাড়া বিকল্প আর কিছুই রইল না, তখন আবুল বুহারী রণ-উদ্দীপক কবিতার অংশ আবৃত্তি করল: একজন সম্ভ্রান্ত মহিলার সন্তান কখনো তার বন্ধুকে অসহায়ভাবে তার শত্রুর হাতে সমর্পণ করবে না; হয় সে নিজে মারা যাবে, নয়তো তার বন্ধুর জন্য বাঁচার কোন পথ বের করবে। এরপর মুজাযযার (রা) এবং আবুল বুত্তারীর মধ্যে লড়াই হলে মুজাযযার (রা) তাকে হত্যা করেন।
মুজায্যার (রা) আবুল বুহত্তারীর হত্যা সম্পর্কে বলেন (কবিতা): "যদি তুমি আমার বংশ সম্পর্কে না জান বা ভুলে থাক, তবে তুমি আমার বংশ সম্পর্কে ভালভাবে জেনে রাখ যে, আমি বালাবী সম্প্রদায়ের লোক। যারা ইয়াযানে তৈরি তীর দ্বারা যুদ্ধ করে থাকে এবং প্রতিপক্ষের নেতারা পরাভূত না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের উপর আঘাত হানতে থাকে। বৃহত্তারীর সন্তানদের ইয়াতীম হওয়ার সংবাদ জানিয়ে দাও কিংবা আমার সন্তানদের এ ধরনের সুসংবাদ শুনিয়ে দাও। আমি সেই ব্যক্তি, যার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, আমার আসল বংশ হল-বালাবী গোত্র। আমি তীর দিয়ে ততক্ষণ যুদ্ধ করি, যতক্ষণ না তা বাঁকা হয়ে যায়। আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রাচ্যের তৈরি তরবারি দিয়ে হত্যা করি। আর আমি মৃত্যুর জন্য ঐ উষ্ট্রীর মত ছটফট করি, যার স্তনে দুধ জমাট বেঁধে গেছে। তুমি মুজায্যার-কে বেহুদা কথা বলতে দেখবে না (অর্থাৎ আমি যা বলি, তা বাস্তবে করে থাকি)।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর মুজায্যার (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে বললেন: "ঐ যাতের কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি তাকে বন্দী করে আপনার কাছে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে শ্রেয় মনে করে। ফলে আমি তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হই এবং তাকে হত্যা করি।"
ইব্‌ন হিশামে বলেন: আবুল বুহ্তারীর নাম হল- 'আস ইব্‌ন হিশাম ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন আসাদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00