📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আসওয়াদ ইব্‌ন আবদুল আসাদ মাখযুমীর হত্যা

📄 আসওয়াদ ইব্‌ন আবদুল আসাদ মাখযুমীর হত্যা


উত্ত্বা যখন আবূ জাহেলের এ উক্তি শুনল যে, 'উদ্বার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তখন সে বলল: অচিরেই সে ভীরু জানতে পারবে, আমার মাথা খারাপ হয়েছে, না তার মাথা খারাপ হয়েছে। এরপর উত্ত্বা তার মাথার পরিধানের জন্য লৌহ শিরস্ত্রাণ খোঁজ করল। কিন্তু তার মাথা বড় ছিল। গোটা সেনাদলের মধ্যে খোঁজ করে তার মাথায় পরিধানের মত কোন লৌহ শিরস্ত্রাণ পাওয়া গেল না। ফলে সে তার মাথায় চাদর বেঁধে নিল।
ইবন ইসহাক বলেন: আসওয়াদ ইব্‌ন আবদুল আসাদ মাখযূমী ছিল কুরায়শ বংশের একজন দুশ্চরিত্র ও গুন্ডা স্বভাবের লোক। সে বের হয়ে বলল: আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই مسلمانوں হাওয থেকে পানি পান করব, কিংবা তা ভেঙে ফেলব। আর প্রয়োজন হলে এর জন্য মারাও যাব। এই বলে সে ময়দানে নামলে হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তলিব (রা) তার দিকে অগ্রসর হলেন। যখন তারা মুখোমুখি হল, তখন হামযা (রা) আসওয়াদের পায়ে তরবারির আঘাত হানলেন। এতে তার পা কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। এ সময় সে হাওযের কাছেই ছিল। সে চিৎ হয়ে পড়ে গেল এবং তার পা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল। এরপর সে হামাগুড়ি দিয়ে হাওযের দিকে এগুলো এবং নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করার জন্য হাওযের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল। হামযা (রা) তার পশ্চাদ্ধাবন করলেন এবং হাওযের মধ্যেই তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য উদ্বার আহবান

📄 দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য উদ্বার আহবান


এরপর ময়দানে অবতীর্ণ হল উত্ত্বা ইব্‌ন রবী'আ। তার ভাই শায়বা ও ছেলে ওয়ালীদ তার সঙ্গে এল। কুরায়ש বাহিনীর ব্যূহ ছেড়ে সামনে গিয়ে সে হুংকার ছেড়ে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আহবান জানালে আনসারদের মধ্য হতে তিনজন যুবক-আওফ ও মুআববিয ইবন হারিস এবং আবদুল্লাহ ইব্‌ন রওয়াহা তাদের মুকাবিলায় এগিয়ে গেলেন। কুরায়ש যোদ্ধারা জিজ্ঞেস করল: তোমরা কারা? তাঁরা বললেন: আমরা আনসার। তারা বলল: তোমাদের দিয়ে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। তারপর তাদের একজন চিৎকার করে বলল: হে মুহাম্মদ, আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যারা আমাদের সমকক্ষ, তাদেরকে পাঠাও। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) উবায়দা ইবন হারিস, হামযা ও আলী (রা)-কে তাদের মুকাবিলায় যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তারা গিয়ে নিজ নিজ পরিচয় দিলে প্রতিপক্ষ খুশি হয়ে বলল ঠিক আছে। এবার মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিপক্ষ মিলে গেছে। মুসলিম বাহিনীর মধ্যে সব চাইতে বয়স্ক মুজাহিদ উবায়দা উত্তা ইব্‌ন রবী'আর বিরুদ্ধে, হামযা শায়বার বিরুদ্ধে এবং আলী ওয়ালীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দিলেন। হামযা শায়বাকে এবং আলী ওয়ালীদকে পাল্টা আঘাত হানার সুযোগই দিলেন না। প্রথম আঘাতেই তাদের হত্যা করলেন। আর উবায়দা ও উত্ত্বা উভয়ে একটি করে আঘাত বিনিময় করে, একে অপরকে আহত করলেন। হামযা ও আলী দ্রুত ছুটে গিয়ে নিজ নিজ তরবারির আঘাতে উত্তাকে হত্যা করলেন। এরপর তারা উবায়দাকে কাঁধে তুলে নিয়ে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে পৌছে দিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কর্তৃক ইব্‌ন্ন গাযীয়াকে গুঁতা দেওয়া

📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কর্তৃক ইব্‌ন্ন গাযীয়াকে গুঁতা দেওয়া


ইবন ইসহাক বলেন: এরপর উভয় পক্ষের সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হল এবং একদল অপর দলের নিকটবর্তী হল। ইতিপূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাহাবীদের এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাঁর হুকুম না পাওয়া পর্যন্ত তারা যেন আক্রমণ না করেন। তিনি এও বলেন: কুরায়ש পক্ষ তোমাদের ঘিরে ফেললে তীর নিক্ষেপ করে তাদেরকে হাটিয়ে দিও। রাসূলুল্লাহ্ (সা) এ সময় মুসলিম বাহিনীকে সারিবদ্ধ করে আবু বকর সিদ্দীকসহ তাঁর তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। আর বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল হিজরী দ্বিতীয় সনের ১৭ই রমযান জুমু'আর দিন সকাল বেলা, মুতাবিক ১৩ই মার্চ, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে।
ইবন ইসহাক বলেন: বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর সাহাবীদের কাতার ঠিক করেন। এ সময় তাঁর হাতে একটি তীর ছিল, যা দিয়ে তিনি কাতার ঠিক করছিলেন। যখন তিনি আদী ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের মিত্র, সাওয়াদ ইব্‌ন গাযীয়ার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন সে তার কাতার থেকে সামনে এসেছিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তীর দিয়ে তার পেটে গুঁতা দিয়ে বললেন: হে সাওয়াদ! তুমি কাতারে ঠিক হয়ে দাঁড়াও।
তখন সাওয়াদ (রা) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি আমাকে কষ্ট দিলেন? অথচ আল্লাহ্ আপনাকে সত্য ও ন্যায়সহ প্রেরণ করেছেন? আপনি আমাকে এর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ দিন। এ সময় রাসূলাল্লাহ্ (সা) তাঁর পবিত্র পেটের কাপড় সরিয়ে নিলেন এবং তাঁকে প্রতিশোধ নিতে বললেন। তখন সাওয়াদ নবী (সা)-কে জড়িয়ে ধরে তাঁর পেটে চুমা খেলেন। তখন রাসূলাল্লাহ্ (সা) তাকে জিজ্ঞেস করেন: হে সাওয়াদ! তুমি কেন এরূপ করলে? সাওয়াদ বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সা)! আমাদের সামনে যে ভয়াবহ অবস্থা। তাতো আপনি দেখছেন। তাই আমার মনে এরূপ আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয় যে, জীবনের এ শেষ মুহূর্তে আমার শরীর আপনার পবিত্র শরীরের স্পর্শে ধন্য হোক।
এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) কাতার ঠিক করে তাঁর তাঁবুতে ফিরে গেলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আবু বকর সিদ্দীক (রা) ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এ সময় তিনি আল্লাহর কাছে প্রতিশ্রুত সাহায্যপ্রাপ্তির জন্য দু'আ করছিলেন। তিনি বলছিলেন: ইয়া আল্লাহ্! আজ যদি আপনি এ দলকে ধ্বংস করেন, তা হলে আপনার ইবাদত করার জন্য পৃথিবীতে কেউ থাকবে না। এ সময় আবূ বকর (রা) বললেন: হে আল্লাহর নবী! আপনি কম দু'আ করুন। কারণ আল্লাহ্ আপনাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা তিনি অবশ্যই পূরণ করবেন।
এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর তাঁবুর মধ্যে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এরপর তিনি জাগ্রত হয়ে বলেন: "হে আবুবকর। সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহর সাহায্য এসে গেছে। এই তো জিবরীল, তিনি ঘোড়ার লাগাম ধরে আছেন, আর তাঁর ঘোড়ার সামনের দাঁতগুলো ধূলাময়লাযুক্ত।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00